নেপালের পূর্বাঞ্চলে ইয়ালুং রি পর্বতে ভয়াবহ তুষারধসে সাতজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশি ও দুজন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ সদস্যের একটি দল ৫ হাজার ৬৩০ মিটার উচ্চতার ইয়ালুং রি পর্বতে উঠছিল, এমন সময় তুষারধস তাদের ওপর নেমে আসে। এতে সবাই বরফের নিচে চাপা পড়ে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা গ্যান কুমার মাহাতো বলেন, তুষারধসের খবর আমরা দেরিতে পাই এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে দ্রুত উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
নিহতদের মধ্যে তিনজন ফরাসি, একজন কানাডীয়, একজন ইতালীয় ও দুইজন নেপালি রয়েছেন। আহত চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে আরও চারজন নেপালি পর্বতারোহী এখনো নিখোঁজ।
টানা তুষারপাতের কারণে হেলিকপ্টার উড়তে না পারায় উদ্ধারকাজে বিলম্ব হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
নেপালে বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে আটটি অবস্থিত। প্রতি বছর শত শত অভিযাত্রী দেশটিতে যান। তবে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঠান্ডা ও অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে এ সময় অভিযানের ঝুঁকি বেশি থাকে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চানভিরাকুল। তার নেতৃত্বাধীন ভূমজাইথাই পার্টি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে স্থিতিশীল সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরে আনুতিন সীমান্ত সংঘাতকে কেন্দ্র করে আকস্মিক নির্বাচন ঘোষণা করেন। নির্বাচনের আগে তার দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, তবে প্রাথমিক ফলাফলে ৫০০ আসনের সংসদে ভূমজাইথাই পেয়েছে প্রায় ১৯২টি আসন। প্রগতিশীল পিপলস পার্টি পেয়েছে ১১৭টি এবং প্রভাবশালী পেউ থাই পার্টি ৭৪টি আসন। আনুতিন বলেন, “এই জয় শুধু ভূমজাইথাই নয়, এটি সকল থাই নাগরিকের জয়। আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে জনগণের সেবা করতে চাই।” পিপলস পার্টির নেতা নাত্থাফং রুয়াংপানিয়াওয়ুত স্বীকার করেন, তাদের দল জয়ের পথে নেই। তিনি জানান, তারা ভূমজাইথাই নেতৃত্বাধীন সরকারের অংশ হবে না এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জোটও গঠন করবে না। ভূমজাইথাই পার্টি জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা বিষয়কে সামনে রেখে প্রচারণা চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আনুতিনের বিজয় আসে জাতীয়তাবাদী ভোটারদের সমর্থন এবং গ্রামাঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রভাব কমানোর কৌশলের কারণে। নির্বাচনের সঙ্গে ভোটারদের কাছে গণভোটেও নতুন সংবিধান প্রণয়নের বিষয়ে মত চাওয়া হয়েছিল। নির্বাচনী কমিশনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় দুই-এক ব্যবধানে ভোটাররা নতুন সংবিধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। ২০১৭ সালে সামরিক প্রণীত সংবিধান অনির্বাচিত ও অগণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রভূত করেছিল। নতুন সংবিধান পাস হলে সরকার ও সংসদ সংসদে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে, তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আরও দুটি গণভোট প্রয়োজন হবে।
থাইল্যান্ডে জান্তা সরকার প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে নাকি নতুন সংবিধান রচিত হবে—সে বিষয়ে গতকাল রোববার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাররা গণভোটে নিজেদের মতামত জানানোর পাশাপাশি এদিন সাধারণ নির্বাচনেও ভোট দেন। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিল। ২০১৪ সালে শেষবার সেনা অভ্যুত্থানের পর থাইল্যান্ডে পাঁচ বছর জান্তা শাসন চলে। বর্তমান সংবিধান সে সময়ে রচিত। এ সংবিধানে এমন সব প্রতিষ্ঠানকে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা দেওয়া হয়, যেগুলো পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট দ্বারা মনোনীত। ২০১৯ সালে জান্তা সরকার বিদায় নেওয়ার পর দেশটিতে আর কোনো সরকার নিজেদের মেয়াদ পূরণ করতে পারেনি। ২০২৩ সালে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর গত দুই বছরে দেশটি তিনজন প্রধানমন্ত্রী দেখেছে। বহুদিন ধরেই থাইল্যান্ডের বর্তমান সংবিধান নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। দেশটিতে সর্বশেষ সেনা অভ্যুত্থানের পর ২০১৭ সালে এই সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। সমালোচকদের দাবি, জান্তা সরকার রচিত সংবিধানটি গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়েছে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল গত ডিসেম্বরে বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দেন এবং আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেন। ৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়। একই দিন সংবিধান প্রশ্নে গণভোটের আয়োজনও করা হয়। বলা হয়, একই দিনে গণভোট আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো খরচ কমানো এবং ভোটারদের জন্য ভোটদান আরও সহজ করা। এদিন ভোটাররা তিনটি করে ব্যালট পেপারে ভোট দেন। এখন যদি ‘না’ বিজয়ী হয়, তাহলে পার্লামেন্ট নতুন সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত শুরু করতে পারবে না, যতক্ষণ না পরবর্তী গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোটে অনুমোদন পাওয়া যায়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলেই নতুন সংবিধান রচনা করা যাবে, বিষয়টি এমন নয়। বরং এই গণভোট শুধু দীর্ঘ সংবিধান সংশোধন বা প্রণয়ন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।
ভারত ও মালয়েশিয়া প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, জ্বালানি এবং কৃষিখাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের বিদ্যমান ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। দু’দিনের সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সফরের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, যুব বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। দুই নেতা বাণিজ্য সহজীকরণ জোরদার এবং সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি ও শিল্প সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনা সম্প্রসারণে একমত হন। মালয়েশিয়া–ইন্ডিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং আসিয়ান–ইন্ডিয়া ট্রেড ইন গুডস অ্যাগ্রিমেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরে উভয় দেশের শিল্পখাতকে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের হিসাব ও নিষ্পত্তি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা গভীর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাণিজ্যে একে অপরের অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতি সম্মান রেখে কাজ করার কথা বলা হয়। এ সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী টেকসই পাম তেলের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদের সব রূপ ও প্রকাশকে দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানান এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। ২০২৫ সালে ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮.৫৯ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৭.৫ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ।