বিশ্ব

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। সামরিক উপগ্রহ, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ও যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি কক্ষপথে প্রতিপক্ষের মহাকাশ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ বা অচল করার সক্ষমতা নিয়েও দেশগুলো নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা কক্ষপথে ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, বেইজিং মহাকাশকে অস্ত্রায়িত করা কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণ বন্ধ করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

 

চীনের এই প্রতিক্রিয়ার সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্কের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কক্ষপথে মোতায়েন করা ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অস্ত্র প্রতিপক্ষের বৈরী কর্মকাণ্ড থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। তবে অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা, কার্যপদ্ধতি বা কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে, এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকারোক্তিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম মহাকাশে ওয়াশিংটনের সামরিক প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছে। চীনা সামরিক বিশ্লেষক সং ঝংপিংয়ের মতে, এত দিন মহাকাশে থাকা সম্পদ সুরক্ষিত রাখা এবং ভূমি থেকে প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতায় বাধা দেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব ছিল। কক্ষপথেই অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকৃতি সেই অবস্থান থেকে সরাসরি মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহারের দিকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা অন্য দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা বাড়াতে বাধ্য করতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সেসব নতুন সক্ষমতাকেই আবার নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে পারে, যা একটি ‘নিরাপত্তা দ্বন্দ্ব’ তৈরি করতে পারে।

 

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৬৭ সালে কার্যকর হওয়া ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী, পৃথিবীর কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্র বা অন্য কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপন করা নিষিদ্ধ। তবে প্রচলিত অস্ত্র বা উপগ্রহ অচল করার বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে চুক্তিটিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে সামরিক উপগ্রহ, যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা ক্রমেই কৌশলগত প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর রাশিয়াও মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেবে ইইউ

১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের জন্য অভিভাবকের নজরদারিতে সীমিত সুবিধার বিশেষ অ্যাকাউন্ট চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।   বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইয়েন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, কমিশন বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ‘কিডস অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনের প্রস্তাব দেবে।   ফন ডার লেইয়েন বলেন, ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। ১৫ বছরের কম বয়সীরা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা অভিভাবকের নজরদারিতে ‘মিনি অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করতে পারবে। এসব অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সুবিধা সীমিত থাকবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।   ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ নকশা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।   ফন ডার লেইয়েন বলেন, অতিরিক্ত ও আসক্তিকর ডিজিটাল ব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোরদের ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, অনলাইন হয়রানি ও আত্মক্ষতির মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব উদ্বেগ থেকেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিরাপদ কি না, তা প্রমাণের দায়িত্ব অভিভাবকদের ওপর না দিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্ল্যাটফর্মগুলোকেই প্রমাণ করতে হবে যে তাদের সেবা শিশুদের জন্য নিরাপদ।   ফন ডার লেইয়েন বলেন, শিশুদের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পৌঁছানোর পরিবেশ কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিষয়। শুধু শিশুরা কীভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, সেটি বিবেচনা করলেই হবে না।   তিনি বলেন, ইউরোপের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, নিয়ম নির্ধারণ করবে ইউরোপ।   ফন ডার লেইয়েন জানান, আসক্তিকর ডিজিটাল নকশা শুধু শিশুদের নয়, প্রাপ্তবয়স্কদেরও প্রভাবিত করছে। এ কারণে শরৎকালে আরও বিস্তৃত একটি ‘ডিজিটাল ফেয়ারনেস অ্যাক্ট’ প্রস্তাব করার পরিকল্পনা রয়েছে।   সূত্র: ইয়ানি শাফাক, আনাদোলু এজেন্সি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

ট্রাম্পের ছেলেদের সমর্থিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ড্রোন পাচ্ছে পাকিস্তান

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল দেশে পৌঁছেছে

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বিশ্ববাজার থেকে উধাও ৩ কোটি ৬০ লাখ টন এলএনজি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ-সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বাজার থেকে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হাওয়া হয়ে গেছে, যা পৌঁছাতে পারেনি ক্রেতাদের হাতে। এই ঘাটতির পরিমাণ ২০২৫ সালে পুরো আফ্রিকা মহাদেশের মোট রপ্তানির (৩ কোটি ৯৮ লাখ টন) প্রায় সমান। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত 'গ্যাসটেক' সম্মেলনে বৈশ্বিক জ্বালানি জায়ান্ট ‘শেল’ এই হিসাব প্রকাশ করেছে।   সংঘাতের কারণে বিশ্ব এলএনজি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ব্যবহার করতে পারছে না কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বিশ্বব্যাপী এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সরবরাহে এমন বড় ধাক্কায় এশিয়ার স্পট মার্কেটে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম ১০ ডলার থেকে একলাফে বেড়ে প্রায় ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।   হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা না থাকায় বর্তমানে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের চোখ এখন আফ্রিকার দিকে। এর ফলে নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মিশর, নিরক্ষীয় গিনি ও মোজাম্বিকের মতো আফ্রিকান রপ্তানিকারক দেশগুলো বাণিজ্যিকভাবে বড় সুবিধার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিশ্ববাজারে গ্যাস পাঠানো এবং ইউরোপে সরাসরি পাইপলাইন সুবিধা থাকা তাদের বড় প্রাপ্তি।   তবে বাজারে চড়া দাম থাকলেও আফ্রিকান দেশগুলো রাতারাতি মধ্যপ্রাচ্যের এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। ইন্টারন্যাশনাল গ্যাস ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আফ্রিকার শীর্ষ দুই রপ্তানিকারক নাইজেরিয়া (১ কোটি ৪৮ লাখ টন) ও আলজেরিয়া (৯৭ লাখ টন) মিলে মোট ২ কোটি ৪৫ লাখ টন এলএনজি রপ্তানি করেছিল, যা বর্তমান ৩ কোটি ৬০ লাখ টনের ঘাটতির তুলনায় বেশ কম। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, জরাজীর্ণ অবকাঠামো, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ এবং উৎপাদনে সীমাবদ্ধতার কারণে তারা দ্রুত সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম নয়।   আফ্রিকার বেশ কিছু মেগা প্রজেক্ট এখনো প্রক্রিয়াধীন। যেমন—নাইজেরিয়া এলএনজির ১ হাজার কোটি ডলারের ‘ট্রেন-৭’ প্রজেক্ট চালুর লক্ষ্য ২০২৭ সালের শেষে, যা বাস্তবায়িত হলে তাদের উৎপাদন ২ কোটি ২০ লাখ টন থেকে বেড়ে ৩ কোটি টনে পৌঁছাবে। এছাড়া সেনেগাল, মৌরিতানিয়া ও মোজাম্বিকের নতুন প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে অবদান রাখলেও বর্তমানে কাতারের বিকল্প হওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব।   স্বল্পমেয়াদে আফ্রিকান দেশগুলোর জন্য বড় সুযোগ হলো—অচুক্তিবদ্ধ কার্গোগুলো চড়া দামে বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা তুলে নেওয়া। শেলের ধারণা, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ববাজারে ১৫ থেকে ২০ কোটি টন নতুন এলএনজি যুক্ত হবে। তবে তত দিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে গ্যাসের বাজার চড়া থাকবে এবং দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে আফ্রিকান সরবরাহকারীরা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি; সংগৃহীত

মিয়ানমার জান্তাকে ডেটা সরবরাহ: টেলিনরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

সৌদি-হুতি সংঘাতের জেরে মক্কায় প্রথমবার আকাশ হামলার সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের কাছে ৬০ হাজার ধ্বংসাত্মক বোমা বিক্রির প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলা: ৩৭০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভবন, সামরিক যান এবং উড়োজাহাজ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।      সিবিএস নিউজ প্রকাশিত নতুন কিছু ছবি ও প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে। সামরিক নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা এই ছবিগুলো সরবরাহ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেই সত্য মার্কিন জনগণের কাছে গোপন রাখা হচ্ছে।       সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে একটি বোয়িং ই-থ্রি সেন্ট্রি বিমানের অংশবিশেষ পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ার ছবি সামনে এসেছে। এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়েও মার্কিন সেনা ও সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে।        পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬০টি বিমানও রয়েছে।        কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে এই হামলা চালিয়েছে ইরান।      তবে এ বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে এক সেনাসদস্য জানিয়েছেন, তারা ঘাঁটিগুলো রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং কেবল ধ্বংসলীলা দেখছেন।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলি বিমান হামলায় হামাস কমান্ডার নায়েল আতিয়াহ নিহত

পবিত্র মক্কা লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা, ‘রেড লাইন’ অতিক্রম : সৌদি আরব

সংগৃহীত ছবি

পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের ভুলে অবস্থান শনাক্ত, গ্রেপ্তার মাদক কারবারি

0 Comments