খেলাধুলা

‘দল নির্বাচন আমার হাতে নেই’, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জায়গা না পাওয়া শামি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৫, ২০২৫

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ সময়ের চোট কাটিয়ে ভারত জাতীয় দলে ফিরেছিলেন পেসার মোহাম্মদ শামি। এরপর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও তিনি খেলেছেন, যেখানে ৫ ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৯ উইকেট শিকার করেন। কিন্তু এরপর থেকেই তিনি দলের বাইরে রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া দুই ফরম্যাটের সিরিজেও জায়গা হয়নি তার।

 

দলে না থাকার বিষয়ে শামি বলেন,

 

“দল নির্বাচন আমার হাতে নেই। ফিটনেসের সমস্যা থাকলে আমি নিশ্চয়ই বাংলার হয়ে খেলতাম না। এসব নিয়ে কথা বলা বা বিতর্ক তৈরির দরকার নেই। যদি চার দিনের ম্যাচ খেলতে পারি, তবে ৫০ ওভারের ক্রিকেটও খেলতে পারি।”

 

ফিটনেস প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,

“ফিটনেসের আপডেট দেওয়া আমার দায়িত্ব নয়। আমার কাজ হলো এনসিএতে (সেন্টার অব এক্সিলেন্স) গিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া ও ম্যাচ খেলা। আপডেট দেওয়ার বিষয়টি তাদের, যারা সেটা প্রকাশ করে।”

 

দলে ফেরার আশায় শামি বলেন,

“আমার কাজ লড়াই চালিয়ে যাওয়া ও পারফর্ম করা। পারফর্ম করলে দলেরই লাভ। দল নির্বাচন আমার হাতে নেই। আমাকে যদি দলে না নেওয়া হয়, বাংলার হয়ে খেলব— এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। চোট নিয়ে খেলতে চাই না বা দলকে ভোগাতেও চাই না। অস্ত্রোপচারের পর শক্তভাবে ফিরতে চেয়েছিলাম, এখনও সেই চেষ্টা করছি। তারা (নির্বাচকরা) যখনই নিতে চাইবে, আমি প্রস্তুত।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে বদলি নেমেই ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন তাঁরা

ফুটবল ম্যাচে ভাগ্য গড়ে দিতে কতক্ষণ লাগে? মিকেল মেরিনোকে জিজ্ঞেস করলে বলবেন, কয়েকটা সেকেন্ডেই তো বদলে দেওয়া যায় ম্যাচ! এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের এই মিডফিল্ডারকে বেশির ভাগ সময় কাটাতে হচ্ছে ডাগআউটে। কিন্তু যখন দরকার, মাঠে নেমে ঠিকই গোল করে দিচ্ছেন। অবশ্য এই বিশ্বকাপটাই তো আসলে বদলিদের, বেঞ্চ থেকে এসে অনেকেই তো ব্যবধান এবার গড়ে দিয়েছেন!   মেরিনোর কথাটাই আগে বলতে হয়। শেষ ষোলোয় পর্তুগালের বিপক্ষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বদলি হয়ে নেমেছিলেন। খানিক পর তাঁর গোলেই বিদায় লেখা হয়ে যায় পর্তুগালের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচেও একই গল্প। আবার বদলি নামার পরই গোল, এবারও খেলা শেষের আগে। বিশ্বকাপের দুটি ভিন্ন নকআউট ম্যাচে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করা প্রথম খেলোয়াড়ও হয়ে গেলেন মেরিনো। অথচ দুই ম্যাচ মিলিয়ে তিনি মাঠে ছিলেন মাত্র ৯ মিনিটের কিছু বেশি সময়!   মেরিনোর মতো আরেকজনও এই বিশ্বকাপে বদলি নেমে নিয়মিত ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন—রোমেলু লুকাকু। নিউজিল্যান্ড, সেনেগাল ম্যাচের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও গোল পেয়েছেন বেলজিয়ামের এই স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে বদলি নেমে সব আসর মিলে করেছেন চার গোল, এখানে ক্যামেরুনের রজার মিলার সঙ্গে যুগ্মভাবে সেরা তিনি। সংখ্যাটা অবশ্য এবার আর বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই তাঁর, স্পেনের বিপক্ষে হেরে যে বিদায় নিতে হয়েছে বেলজিয়ামকে!   মেরিনো-লুকাকুই এই বিশ্বকাপে বদলিদের বিজ্ঞাপন, তবে গল্প আছে আরও। জার্মানির দেনিস উনদাভের কথা মনে করুন। আইভরিকোস্ট ম্যাচে জার্মানির হয়ে বদলি নেমেই দুই গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। জার্মানি শেষ ৩২-এই বিদায় নিয়েছে, তবে উনদাভ নিয়মিত একাদশে সুযোগ না পেয়েও করে ফেলেছেন তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট। এক বিশ্বকাপে বদলি নেমে গোলে এত বেশি অবদান এর আগে একজনেরই ছিল; ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের মিলারের।   এই বিশ্বকাপে যে বদলিরা ব্যবধান গড়ে দিচ্ছেন, সেটা বলে দিচ্ছে সংখ্যাই। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলা ৯৬টি ম্যাচে মোট ২৬৬টি গোলের ৫০টিই এসেছে বদলি খেলোয়াড়দের পা থেকে, যা কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মোট গোলের ১৮.৬ শতাংশ। বলতে পারেন, এক ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচজন বদলি নামানোর নিয়মটাও নিশ্চয়ই এই পরিসংখ্যানে বড় অবদান রাখছে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমে পরিশ্রান্ত কাউকে উঠিয়ে তাঁর বদলে তরতাজা কাউকে নামানোর ফায়দাও নিচ্ছে দলগুলো। যে কারণে এবার যোগ করা সময়ে গোল হচ্ছে বেশি, যার বেশির ভাগ করছেন বদলিরাই।   শুধু গোল করাতেই নয়, করানোতেও আছে বদলিদের অবদান। কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ড যখন খাবি খাচ্ছিল, তখন অ্যান্থনি গর্ডনের দুই অ্যাসিস্ট থেকে হ্যারি কেইনের জোড়া গোল ইংল্যান্ডকে দিয়েছে স্বস্তির উপলক্ষ। আবার বদলি নেমে বিশ্বকাপের একই ম্যাচে গোল, অ্যাসিস্ট, প্রতিপক্ষের বক্সে পাঁচটি স্পর্শ আর পাঁচটি ড্রিবল করা প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন সেনেগালের ইলমান এনদিয়ে। কীর্তিটা তিনি গড়েছেন ইরাকের বিপক্ষে।   বদলিরা সবাই যে ভালো করেছেন, তা নয় অবশ্য। মিসরের বিপক্ষে টাইব্রেকারের ঠিক আগে নিয়মিত গোলকিপার প্যাট্রিক বিচকে তুলে ম্যাট রায়ানকে নামিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া কোচ। কিন্তু ফাটকাটা কাজে আসেনি, মিসরই জিতে গেছে ওই ম্যাচে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের বিপক্ষে অতীত সাফল্যে আত্মবিশ্বাসী স্পেন কোচ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে আলোচিত সেই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি আর নেই

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ত্রয়ীদের কাতারে কি উঠে এলেন এমবাপ্পে-দেম্বেলে-ওলিসে?

ছবি: সংগৃহীত
তানজিদ ৯৪, স্বস্তির জয় বাংলাদেশের

ম্যাচের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যায় অনেক আগেই। তানজিদ হাসান সেঞ্চুরি করতে পারেন কি না, সেটি নিয়েই সবার আগ্রহ তখন বেশি। জয়ের জন্য প্রয়োজন তিন রান, সেঞ্চুরি ছুঁতে তার চাই ছয়। আর্নেস্ট মাসুকুর গুড লেংথে পিচ করা ডেলিভারি উড়িয়ে মারলেন বাঁহাতি ওপেনার, কিন্তু টাইমিং হলো না ঠিকমতো। লং-অনে জায়গায় দাঁড়িয়ে সহজ ক্যাচ মুঠোয় জমালেন ব্র্যাড ইভান্স। হতাশায় মাঠ ছাড়লেন তানজিদ।   জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ দলের হতাশার আঁধার অবশ্য একটু কাটল। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।   হারারেতে শনিবার বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে শরিফুল ইসলাম। আগের ম্যাচে ৫০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা পেসার এবার ৪৪ রানে শিকার করেন ৪ উইকেট। জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে যায় ১৯৯ রানে।   প্রথম দুই ম্যাচে বাজে ব্যাটিংয়ে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ এবার লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৩৬ ওভারেই।   ১৫১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে কাজটা সহজ করে দেন তানজিদ ও সৌম্য সরকার। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৮২ বলে ৬৯ রান করেন সৌম্য।   আট চার ও তিন ছক্কায় ১০১ বলে ৯৪ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ তানজিদ। ইনিংসটির পথে তিনবার অবশ্য জীবন পান তিনি।   এবারের জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের প্রথম জয় এটি। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর, প্রথম দুই ওয়ানডেতেও তেতো অভিজ্ঞতা হয় সফরকারীদের। বিশেষ করে, প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ১৪১ রানের জবাবে দল গুটিয়ে যায় স্রেফ ১১৬ রানে। পরের ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৫ উইকেটে ২০৭ রানের শক্ত অবস্থানে ২৩৪ রানে অলআউট হয় তারা।   শেষ ম্যাচে তিন পেসার রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে বিশ্রাম দেয় জিম্বাবুয়ে। রান তাড়ায় দুই রকম ব্যাটিংয়ের পথ বেছে নেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। আগের দুই ম্যাচে দুই অঙ্কে যেতে ব্যর্থ সৌম্য এগোন সাবধানী ব্যাটিংয়ে। আক্রমণ শুরু করেন তানজিদ। দ্বিতীয় ওভারে মাসুকুর তিন বলের মধ্যে একটি করে ছক্কা ও চার মারেন তিনি।   ২৭ ও ৩৭ রানে জীবন পেয়ে ৪৯ বলে সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ।   সৌম্যর রান ছিল একপর্যায়ে ৫৫ বলে ৩৩। পরের ৯ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা মেরে তিনি পঞ্চাশে পা রাখেন ৬৪ বলে। ওয়ানডেতে ছয় ইনিংস পর পঞ্চাশ ছুঁতে পারলেন তিনি।   তানজিদ আরেক দফায় বেঁচে যান ৬০ রানে। সৌম্যকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম দেড়শ ছোঁয়া জুটি ভাঙেন তানাকা শিভাঙ্গা।   তিন নম্বরে নেমে শিভাঙ্গার পরের ওভারে তিনটি চার মারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়েলসলি মাধেভেরেকে পরপর চার ও ছক্কার পর, ওয়েলিংটন মাসাকাদজার তিন বলের মধ্যে চার ও ছক্কায় নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে যান তানজিদ।   কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পাওয়া হলো না তার অল্পের জন্য। একই ওভারে শূন্য রানে ফেরেন তাওহিদ হৃদয়। নইলে জয়ের ব্যবধান হতে পারত আরও বড়।   ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে এ দিন টস জিতে বোলিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ। নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেনের জায়গায় একাদশে সুযোগ পান মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও তানভির ইসলাম।   নতুন বলে দারুণ বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল। বেশ কয়েকবার অল্পের জন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের কানা ছোঁয়নি বল। ষষ্ঠ ওভারে মেলে সাফল্য। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন কারানকে বোল্ড করে দেন শরিফুল।   পরের ওভারে ব্রায়ান বেনেটকে বিদায় করেন তাসকিন। ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় শিকার ধরেন শরিফুল।   ত্রয়োদশ ওভারে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও মাধেভেরে। ৫১ রানের জুটি গড়েন দুজন।   দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে ফিরেই কাইয়াকে (৬৭ বলে ২৫) ফিরিয়ে ইনিংসের একমাত্র পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি ভাঙেন তাসকিন। সিকান্দার রাজাকে বিদায় করেন তানভির। জিম্বাবুয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ১১ রান করতে খেলেন ২৫ বল।   শরিফুল পরের ওভারে ক্লাইভ মাডান্ডেকে ফেরালে ১০৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে তাদের দুইশর কাছে যেতে পারার কৃতিত্ব মাধেভেরে ও ইভান্সের।   পাঁচ চার ও এক ছক্কায় ৭৪ বলে ৭৫ রান করেন মাধেভেরে। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেওয়া ইভান্স ৪৩ বলে করেন ৫০ রান। জিম্বাবুয়ের বাকি ৯ ব্যাটসম্যান মিলে ১৭২ বলে করতে পারেন ৬১ রান।   পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নেমে আঁটসাঁট বোলিংয়ে একটি উইকেট নেন সাইফ উদ্দিন।   এখন বুলাওয়ায়োতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল। আগামী বুধবার হবে প্রথম ম্যাচ।   সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে: ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ (বেনেট ৬, কারান ২, কাইয়া ২৫, আরভিন ৫, মাধেভেরে ৭৫, রাজা ১১, মাডান্ডে ১, ইভান্স ৫০, মাসুকু ২, শিভাঙ্গা ২*; তাসকিন ১০-৪-৩২-২, শরিফুল ১০-১-৪৪-৪, সাইফ ৯.১-১-৩১-১, তানভির ১০-০-৩৭-২, মিরাজ ৭-০-৪২-০, সৌম‍্য ২-১-৯-০) বাংলাদেশ: ৩৬ ওভারে ২০০/৩ (তানজিদ ৯৪, সৌম‍্য ৬৯, শান্ত ১৮*, হৃদয় ০, সোহান ০*; ইভান্স ৭-২-৩৬-০, মাসুকু ৬-১-৩৩-২, শিভাঙ্গা ৭-০-৩৪-১, রাজা ৬-০-২৮-০, বেনেট ৩-০-২২-০, মাসাকাদজা ৪-০-২৮-০, মাধেভেরে ৩-০-১৭-০) ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী জিম্বাবুয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান ম্যান অব দা সিরিজ: ব্র্যাড ইভান্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অ্যালকোহল ও জুয়ার প্রচার থেকে দূরে এমবাপে, নীতিগত অবস্থানেই অনড় ফরাসি তারকা

ছবি: সংগৃহীত

নাটকীয় জয়ে স্বস্তি এমআই নিউইয়র্কের, ব্যাটে-বলে ছাপ রাখতে পারেননি সাকিব

ছবি: সংগৃহীত

রোনালদো ও কর্ণ: সংগ্রাম, সম্মান এবং অপূর্ণতার দুই কিংবদন্তি

ছবি: সংগৃহীত
এমবাপে বনাম চেলেস্তে আমারিলা: মাঠের লড়াই এবার আদালতে

চলতি বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফ্রান্স বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচের পর ফরাসি মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপেকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছিলেন প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্তে আমারিলা। তবে, নিজের ভুল স্বীকার করা তো দূরের কথা, উল্টো এখন এমবাপের বিরুদ্ধেই মানহানি ও অপবাদের অভিযোগে আইনি লড়াইয়ের হুমকি দিয়ে বসলেন এই ‘সসি’ নারী সিনেটর!   আমারিলার আইনজীবী গুইলার্মো দুয়ার্তে কাকাভেলোস ফরাসি দৈনিক লা প্যারিসিয়ানকে জানিয়েছেন, এমবাপে তাঁর মক্কেলের মন্তব্যের যে প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তার ওপর ভিত্তি করে প্যারাগুয়ের আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। কাকাভেলোস বেশ চনমনে গলায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি প্যারাগুয়ের আদালত এই অভিযোগ গ্রহণ করে, তবে এমবাপের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে; যা ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত পূরণ করার জন্য যথেষ্ট!   এই পুরো আইনি নাটকের সূত্রপাত মূলত আমারিলার বর্ণবাদী মন্তব্যের পর এমবাপের কড়া জবাবকে কেন্দ্র করে। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড এমবাপের ফরাসি জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করার পর, এমবাপে এই সিনেটরকে প্রকাশ্যেই ‘তার পদের অযোগ্য এক ঘৃণ্য নারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।   তবে এই মামলার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে ফরাসি প্রসিকিউটরদের হাতে। আমারিলার সেই জাতিগত ও বর্ণবাদী আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। ফরাসি আইন অনুযায়ী, এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সিনেটর আমারিলার নিজেরই এক বছরের জেল এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে।   তবে আমারিলার আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল কোনো রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ ফুটবল সমর্থক হিসেবে নিজের ‘বাক-স্বাধীনতা’ জোরে ওই মন্তব্য করেছিলেন, তাই ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না!   মাঠের বাইরের এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এখন আর ফুটবলে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের দরবারেও। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো প্রকাশ্যে এমবাপের পাশে দাঁড়িয়ে এই বর্ণবাদী আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বেগতিক দেখে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা তড়িঘড়ি করে এই নারী সিনেটরের বক্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রেখে সোজা জানিয়েছেন, আমারিলার এই মন্তব্য প্যারাগুয়ের মূল্যবোধকে বিন্দুমাত্র প্রতিনিধিত্ব করে না।   প্যারাগুয়ের সিনেটে এই কুৎসিত মন্তব্যের জন্য যখন আমারিলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই তিনি বিতর্কের বারুদে নতুন করে ঘি ঢেলে দেন। ম্যাচ শেষের এক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এমবাপের বিরুদ্ধে চরম অহংকার ও অসম্মানের অভিযোগ আনেন।     আমারিলার দাবি, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়ালেও এমবাপ্পে তা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এড়িয়ে যান এবং এর পরপরই গিলের ছিটকে দেওয়া বল এমবাপ্পের পিঠে গিয়ে আঘাত করে।     এই ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’ সামনে এনে আমারিলা প্রমাণ করতে চাইছেন, এমবাপ্পে মোটেও সুবিধার লোক নন! ফুটবল মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এক বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার বনাম এক জেদি নারী সিনেটরের এই আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আগামী দিনে কোন রূপ নেয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ক্রীড়াবিশ্ব।   তথ্যসূত্র: মারকা

মারিয়া রহমান জুলাই ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ড ম্যাচের আগে কোর্তোয়ার মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন রোমেরো

ক্যাম্পাজ নিশ্চিত গোলের সুযোগ মিস করেন। ছবি: সংগৃহীত

গোল মিস করায় প্রাণনাশের হুমকিতে কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার হ্যামিন্টন ক্যাম্পাজ

সংগৃহীত ছবি

৬৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বমঞ্চে স্পেনের নতুন ইতিহাস

0 Comments