ঘূর্ণিঝড় মেলিসার তাণ্ডবের পর পুনরুদ্ধার কাজ শুরু করেছে জ্যামাইকা। স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এখানে স্থাপন করা হবে একাধিক অস্থায়ী হাসপাতাল।
শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন।
কিংস্টন থেকে এএফপি জানায়, ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগটির আঘাতে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ৫০ জন ছাড়িয়েছে, যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার পর্যন্ত জ্যামাইকায় নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা ছিল ১৯ জন।
তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিস্টোফার টাফটন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমার ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। কারণ এখনো কিছু এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’
এদিকে হাইতির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে।
মেলিসা ছিল ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়, যা জ্যামাইকার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। ঝড়টির প্রভাবে ঘণ্টায় ১৮৫ মাইল (প্রায় ৩০০ কিলোমিটার) গতির বাতাসে দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়।
জ্যামাইকার পশ্চিমাঞ্চলের হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কয়েকটি অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রথম অস্থায়ী হাসপাতালটি বসানো হবে ব্ল্যাক রিভারে, যা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশের রাজধানী।
টাফটন বলেন, ‘আগামীকালই এটি পৌঁছাবে বলে আশা করছি। সঙ্গে সঙ্গে স্থাপন কাজ শুরু হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই হাসপাতালটি সম্পূর্ণ সরঞ্জামসহ আসবে। থাকবে অপারেশন থিয়েটার, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও স্থানীয় মেডিকেল টিমকে সহায়তা করতে কয়েকজন সদস্য।’
আগামী সপ্তাহেই হাসপাতালটি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টাফটন আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্পেন, কানাডা ও ভারতের সহায়তায় আরও কয়েকটি অস্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত যে জোটের আলোচনা চলছে, ভবিষ্যতে তাতে এক শর্তে যোগ দিতে পারে ইসরাইলও। শর্তটি হলো- ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি। সম্প্রতি জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সাম্প্রতিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশগুলোর জন্য প্রকৃত সহযোগিতার পথে এগিয়ে যাওয়ার এটি একটি ‘সোনালি সুযোগ’। তিনি বলেছেন, অঞ্চলের দেশগুলোকে একে অপরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। প্রস্তাবিত এই কাঠামোয় পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে ইরানকেও এই প্ল্যাটফর্মের অংশ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফিদান বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যতে ইসরাইলও এই উদ্যোগে যোগ দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি এই সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে আঞ্চলিক দেশগুলোও ইসরাইলের নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’ এদিকে আগামী জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সম্মেলন। ফিদান জানান, সব সদস্য দেশের সম্মতি থাকলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো ন্যাটোর ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদার দেশগুলোর নেতা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের স্বাগত জানাতে চায় তুরস্ক। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তুর্কি সরকার ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে কাজ করছে এবং অতিথিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার মন্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এসব দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ন্যাটো নিয়ে সমালোচনামুখর অবস্থানের জন্য পরিচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মেলনে অংশ নেবেন কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ফিদান। তিনি জানান, গত এক মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কোনো আলোচনাতেই ট্রাম্প সম্মেলনে না আসার ইঙ্গিত দেননি। ফিদান বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের সব প্রস্তুতিই এমনভাবে নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো যায়।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়ায় ইরানের জব্দ থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তেহরান থেকে এএফপি জানায়, শনিবার প্রচারিত এক প্রতিবেদনে একটি ‘অনানুষ্ঠানিক’ খসড়ার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একই ধরনের একটি প্রতিবেদনের দাবি হোয়াইট হাউস ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তবে তার বর্ণিত চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইরানি সূত্রগুলো অস্বীকার করেছে। শনিবারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে ইরানকে তার ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে এসব অর্থ ইরানের পছন্দের ব্যাংকে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই স্থানান্তর ও ব্যয় করা যাবে।’ অন্যদিকে ট্রাম্প শুক্রবার জোর দিয়ে বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থের লেনদেন হবে না।’ তবে অবগত সূত্রের বরাতে ইরানি গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্রুতই এ দাবি খ-ন করা হয়। এর আগে চলতি সপ্তাহে একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাতার সফরকারী একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন। সেখানে জব্দ থাকা অর্থের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সমঝোতা স্মারকে বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শনিবারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেহরান হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এ প্রণালী অবরোধ করে রেখেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, ইরান প্রণালীটি ‘অবাধ নৌ-চলাচলের জন্য’ খুলে দেবে। জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থেকে যাওয়া গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও যুক্তরাষ্ট্র বারবার জানিয়ে এসেছে।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি সম্প্রদায়ের দিকে লেবানন থেকে রকেট নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে রকেটটি লেবাননের নিজ ভূখণ্ডেই বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর আল-জাজিরার। রোববার সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, সম্ভাব্য হুমকির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ওই অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কসংকেত (এয়ার রেইড সাইরেন) বাজানো হয়নি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজ জানিয়েছে, ঘটনাটিতে কয়েকটি স্বতন্ত্র রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তবে সেগুলোর সবই ইসরায়েলের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই লেবাননের ভেতরেই বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। রকেটগুলো কারা নিক্ষেপ করেছে সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, হিজবুল্লাহই এ হামলার সঙ্গে জড়িত।