সর্বশেষ

আমরণ অনশনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

Unknown অক্টোবর ১৯, ২০২৫

বেতন কাঠামোর ওপর ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতাসহ তিন দফা দাবি আদায়ে আগামী সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।  

 

রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার মোড়ে এ ঘোষণা দেন শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব ও আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক দেলাওয়ার হোসাইন আজিজী। এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তারা ভুখা মিছিল শুরু করে হাইকোর্ট মাজার মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

 

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, তাদের প্রধান তিন দাবি হলো—


১️⃣ মূল বেতনের ওপর ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রদান,
২️⃣ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের রোডম্যাপ ঘোষণা,
৩️⃣ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা নিশ্চিতকরণ।

 

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দিয়েছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল (সিআর) আবরার বলেন, “সরকার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষকদের স্বার্থে পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা চাই শিক্ষক সমাজ শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসুক। তাদের আরও পাওনা রয়েছে, তবে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় এই সিদ্ধান্তই বাস্তবসম্মত।”

 

তিনি আরও বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাড়ি ভাড়া ভাতা অনুমোদন পেয়েছে। এখন শিক্ষকদের উচিত হবে সরকার ঘোষিত সিদ্ধান্ত মেনে ক্লাসে ফিরে যাওয়া।”

 

তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের এই ৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা ঘোষণাকে তারা অপ্রতুল মনে করছেন। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং সোমবার থেকে তারা আমরণ অনশনে বসবেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
k

মুখের ভেতরে ছোট কোনো ক্ষত বা ঘা অনেক সময় আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বিষিয়ে তোলে। কথা বলা থেকে শুরু করে খাবার চিবানো: সবকিছুতেই যেন এক যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। আমাদের অনেকেরই ধারণা, মুখে ঘা হওয়া মানেই কেবল ভিটামিনের অভাব। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই সাধারণ সমস্যাটি মাঝে মাঝে বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির আগাম সতর্কবার্তাও হতে পারে।   কেন হয় মুখে ঘা? মুখে ঘা হওয়ার পেছনে অসংখ্য কারণ থাকতে পারে, যার কিছু অত্যন্ত সাধারণ আবার কিছু বেশ জটিল। আঘাতজনিত কারণ: অসাবধানতাবশত গালে বা জিভে কামড় লাগা, খুব শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা, অতিরিক্ত গরম খাবার বা পানীয়তে মুখ পুড়ে যাওয়া কিংবা দাঁতের ব্রেস বা কৃত্রিম দাঁতের ঘর্ষণ থেকে ঘা হতে পারে। পুষ্টির অভাব: শরীরে ভিটামিন বি১২ , ফোলেট (B9) বা আয়রনের অভাব থাকলে ঘন ঘন মুখে ঘা দেখা দেয়। সংক্রমণ: হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের কারণে হওয়া কোল্ড সোর, ছত্রাকজনিত ওরাল থ্রাশ কিংবা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলেও এই সমস্যা হয়। মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রা: অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিদ্রা এবং ধুমপান বা তামাক সেবনের অভ্যাস মুখে ঘা হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এটি কি কোনো ভয়াবহ রোগের ইঙ্গিত? অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুখের ঘা ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী বা জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে: মুখের ক্যান্সার : যদি মুখে সাদা বা লালচে দাগ দেখা দেয় এবং দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই ক্ষত না সারে, তবে তা ক্যান্সারের লক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অটোইমিউন রোগ: পেমফিগাস ভালগারিস বা ওরাল লাইকেন প্ল্যানাসের মতো জটিল অটোইমিউন রোগে মুখের ভেতর যন্ত্রণাদায়ক ব্লিস্টার বা জালের মতো সাদা দাগ হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা: বারবার মুখে ঘা হওয়া ক্রোনস ডিজিজ বা সিলিয়াক ডিজিজের মতো অন্ত্রের রোগের ইঙ্গিত দিতে পারে। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন? সাধারণ ঘা ভেবে অবহেলা না করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত: যদি ঘা আকারে আধা ইঞ্চির বেশি বড় হয়। যদি ঘা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং কোনোভাবেই না সারে। ঘায়ের সাথে যদি তীব্র জ্বর, ডায়রিয়া বা জয়েন্টে ব্যথা থাকে। যদি গালের ভেতরে কোনো পিণ্ড বা শক্ত চাকা অনুভব করেন। প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয় মুখের ঘা থেকে মুক্তি পেতে এবং এটি প্রতিরোধ করতে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি: খাবারে সতর্কতা: অতিরিক্ত ঝাল, নোনতা বা অ্যাসিডিক খাবার (যেমন লেবু) এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে প্রচুর পানি পান করুন এবং সুষম খাবার খান। মুখের পরিচ্ছন্নতা: নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখুন । ঘরোয়া টোটকা: ব্যথানাশক হিসেবে হালকা গরম লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করা বা বেকিং সোডার পেস্ট ঘায়ের স্থানে লাগানো যেতে পারে। ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বি-কমপ্লেক্স বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। মুখে ঘা হওয়া মানেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে শরীর যখন বারবার এই সংকেত দেয়, তখন সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ আপনার হাসি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে এসেই ভিসা নিয়ে আশার বার্তা দিলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ গভর্নরের

ছবি: সংগৃহীত

৪০ মিনিট পর ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের ‘কামব্যাক’

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ সেবা বিঘ্নিত

মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।   শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এমন ঘটনা ঘটে।   এ সময় ফেসবুকে প্রবেশ করতে গেলে একটি এরর (error) মেসেজ দেখা যায়। যেখানে লেখা দেখায়, ‘Sorry, something went wrong’। এতে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন ব্যবহারকারীরা।   এ সমস্যা কেন দেখা দিয়েছে, এ বিষয়ে মেটা থেকে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে রিয়েল-টাইম আউটেজ মনিটরিং ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরের মতে, ১২ জুন সন্ধ্যার ৭টা ৩০ থেকে ফেসবুক ডাউন হওয়ার রিপোর্ট করতে শুরু করেন ব্যবহারকারীরা। ফেসবুক ব্যবহারজনিত সমস্যার জন্য অন্তত ৭০টি রিপোর্ট পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে সাইটটি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১২, ২০২৬

দুই দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিনত হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত

আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

অবসরের ভাবনা প্রত্যাখ্যান করলেন শেখ হাসিনা

ছবি : সংগৃহীত
নাসির-তামিমার ভাগ্য নির্ধারণ আজ, দোষী সাব্যস্ত হলে হতে পারে কঠোর শাস্তি

আইনগতভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মামলার রায় বুধবার (১০ জুন) ঘোষণা করা হবে।   দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার রায়ে তারা দোষী সাব্যস্ত হলে কী শাস্তি হতে পারে, তা নিয়েই এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আদালত।   বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেছেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তারা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তার ভাষায়, আসামিদের ‘সর্বোচ্চ সাজা’ প্রত্যাশা করছেন তিনি।   তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আসামিদের শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। আদালতের উপর ভরসা করেই মামলা করেছিলাম। বিভিন্ন বিষয় চ্যালেঞ্জ করে তারা উচ্চ আদালতে রিভিশন করেছে। তবে ফলাফল তাদের দিকে যায়নি। ১০ জন সাক্ষীর মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’   অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, যুক্তিতর্কে তারা তুলে ধরেছেন কেন আসামিদের খালাস দেওয়া উচিত। তার দাবি, আমাদের আশা ইতিবাচক। আসামিরা খালাস পাবেন আশা করছি।   তিনি আরও বলেন, বাদীপক্ষ ‘মিডিয়া ক্যাম্পেইন’ চালিয়ে রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   এদিকে মামলার বাদী রাকিব হোসেন ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, ন্যায় বিচার হোক। এ ধরণের কাজ যেন আর না হয়। রায়ের মাধ্যমে একটা বার্তা যাক সমাজে।’   ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেন বিয়ে করেন।   পরে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন রাকিব হোসেন।   পরবর্তীকালে তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।   ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। এরপর রিভিশন আবেদন ও পরবর্তীকালে তা খারিজ হলে মামলার বিচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।   এরপর ২০২৩ সালের মার্চে বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়, যেখানে তামিমা দাবি করেন তিনি আইনগতভাবে আগের স্বামীকে তালাক দিয়েই নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন।   অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারায় এবং তামিমা সুলতানার বিরুদ্ধে ৪৯৪, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে।   আইন অনুযায়ী, ৪৯৭ ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং ৪৯৮ ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে ৪৯৪ ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারাতেও সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।   বাদীপক্ষের আইনজীবীর দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছরের এবং তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। যদিও আসামিপক্ষের দাবি, তারা নির্দোষ এবং আদালত থেকে খালাস পাবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে আপিল শুনানি আজ

ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গল সলিমপুর দখলদারের তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও পরিবারের প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ১ হাজার শহর ঘুরে দেখলেন তানভীর অপু

0 Comments