আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরে মাস্ক-কুকসহ যেসব সিইও থাকতে পারেন

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে তার চীন সফরে শীর্ষ মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

বিবিসি লিখেছে, বেইজিংয়ে ট্রাম্পের এ সরকারি সফরে যারা যোগ দিতে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, ব্ল্যাকরক-এর ল্যারি ফিঙ্ক এবং মেটা, ভিসা, জেপি মরগান, বোয়িং, কার্গিলসহ আরও বেশ কিছু কোম্পানি শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

 

সফর পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, ট্রাম্পের এই সফরে মোট ১৭ জন মার্কিন নির্বাহী যোগ দেবেন।

 

দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বৈরিতার মধ্যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের এ সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

মাস্ক, কুক, ফিঙ্ক ছাড়াও আরও যেসব নির্বাহী মার্কিন প্রতিনিধি দলে থাকতে পারেন, তারা হলেন-

 

• ডিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক: প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চেয়ারম্যান, মেটা

• কেলি ওর্টবার্গ: প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী, বোয়িং

• রায়ান ম্যাকলনার্নি: প্রধান নির্বাহী, ভিসা

• স্টিফেন শোয়ার্জম্যান: প্রধান নির্বাহী, ব্ল্যাকস্টোন

• ব্রায়ান সাইকস: প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান, কার্গিল

• জেন ফ্রেজার: প্রধান নির্বাহী, সিটি

• জিম অ্যান্ডারসন: প্রধান নির্বাহী, কোহারেন্ট

• হেনরি লরেন্স কাল্প: প্রধান নির্বাহী, জিই অ্যারোস্পেস

• ডেভিড সলোমন: প্রধান নির্বাহী, গোল্ডম্যান স্যাকস

• জ্যাকব থায়সেন: প্রধান নির্বাহী, ইলুমিনা

• মাইকেল মাইব্যাখ: প্রেসিডেন্ট, মাস্টারকার্ড

 

বিবিসি লিখেছে, এই তালিকায় এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াংয়ের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তার কোম্পানি কম্পিউটার চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে মার্কিন-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে রয়েছে।

 

এ বিষয়ে এনভিডিয়ার বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিবিসি।

 

গত সপ্তাহে হুয়াং সিএনবিসিকে বলেছিলেন, যদি তাকে এই সফরে আমন্ত্রণ জানানো হতো, তবে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে চীনে যাওয়াটা তার জন্য একটা ‘সম্মানের বিষয়’ হতো।

 

সিসকো’র প্রধান নির্বাহী ও চেয়ারম্যান চাক রবিন্সকে এই সফরে যেতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে আয় সংক্রান্ত হিসাব-নিকাশের কারণে তিনি যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন কোম্পানির মুখপাত্র।

 

বিবিসি লিখেছে, প্রতিনিধি দলের এ নির্বাহীরা সোশাল মিডিয়া, কনজিউমার হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে কম্পিউটার চিপ এবং ফিনটেকের মত মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

 

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ইলুমিনার একজন মুখপাত্র বলেন, প্রধান নির্বাহী জ্যাকব থায়সেন “প্রতিনিধি দলের অংশ হতে পেরে সম্মানিতবোধ করছেন। কোম্পানি আশা করে, এই সফর “সম্পর্ক জোরদার করার এবং প্রিসিশন মেডিসিনের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি সুযোগ হবে।

 

অন্যান্য কোম্পানির প্রতিনিধিরা মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

 

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের চীন সফরকে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তির একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে দুই দেশ পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছিল, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছিল।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের শেষ বৈঠকের পর ওই শুল্ক স্থগিত করা হয়েছিল।

 

এবারের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বড় প্রভাব ফেলছে, যে কারণে ইতোমধ্যে ট্রাম্প ও শির বৈঠক বিলম্বিত হয়েছে।

 

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতায় বেইজিং সহায়তা করে।

 

ইরান থেকে সস্তা দরে তেল কেনা চীনও সংঘাতের অবসান চায়। তেলের সরবরাহ সীমিত হয়ে যাওয়ায় চীনা পণ্য কিনে থাকে এমন বহু দেশের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

তবে তেলের বিশাল মজুদ এবং বহুমুখী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা থাকার কারণে চীন প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় এই যুদ্ধের প্রভাব এখন পর্যন্ত ভালোভাবে সামলে নিতে পেরেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
প্যারিসে অভিবাসী শিবিরে ছুরি হামলা, ৭৩ বছর বয়সী ব্যক্তির ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অভিবাসীদের একটি শিবিরে ছুরি নিয়ে হামলা ও দুই ব্যক্তিকে আহত করার ঘটনায় ৭৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।   দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম উইলিয়াম মালেত। চলতি সপ্তাহে প্যারিসের ফৌজদারি আদালত তাকে এই সাজা দেন। অন্য একটি মামলায় তিনি এর আগে থেকেই বিচার-পূর্ব হেফাজতে ছিলেন।   ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর প্যারিসের ১২তম অ্যারোনডিসমেন্টের বেরসি পার্কে অবস্থিত অভিবাসী শিবিরে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছুরি নিয়ে শিবিরে প্রবেশ করে মালেত দুই অভিবাসীকে আহত করেন এবং বেশ কয়েকটি তাঁবু কেটে ফেলেন।   বিচারের সময় মালেতের সঙ্গে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লিবেরাসিওর বরাত দিয়ে জানা যায়, শুনানি শুরুর এক সপ্তাহ আগে তিনি আদালতের কাছে সরকারি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক তাকে জানান, আবেদনটি অনেক দেরিতে করা হয়েছে।   তদন্ত চলাকালে মালেত আফ্রিকান, মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর প্রতি তার বিদ্বেষের কথা প্রকাশ করেছিলেন বলে আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি ফ্রান্সের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল র‌্যালির (আরএন) সমর্থক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।   হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এক সুদানি নাগরিকের আইনজীবী গ্লোরিয়া হার্নান্দেজ দেলগাদো আদালতে মালেতকে ‘ভয়ংকর’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। আদালত ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যক্তিকে মানসিক ক্ষতির জন্য ২ হাজার ইউরো এবং তাঁবুর ক্ষয়ক্ষতির জন্য আরও ৫০০ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।   মামলায় নাগরিক সমাজের সংগঠন ম্যাজো দে পোতও দেওয়ানি পক্ষ হিসেবে অংশ নেয়। সংগঠনটির সভাপতি স্যামুয়েল থমাসের বক্তব্য অনুযায়ী, মালেত হামলার সময় যত বেশি সম্ভব বিদেশিকে আহত করতে চেয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে ভয় তৈরি করাই তার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।   হামলার পর আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন অভিবাসী কাছাকাছি আওরো পরিচালিত একটি দিনের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। সে সময় প্যারিসে মেদসাঁ দ্যু মোন্দের (এমডিএম) সমন্বয়কারী ক্লোতিল্দ কলম্ব জানিয়েছিলেন, হামলার পর তারা ভীত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।   অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ইতুপিয়া ৫৬-ও ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংগঠনটির বক্তব্য ছিল, হামলার পরও অভিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তারা হতাশ। একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তাদের মধ্যে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম দেশের জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে সৌদি ও হুথি উভয়ই

ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংগৃহীত ছবি

সৌদিতে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনায় নিহত বিদেশি নাগরিক

সংগৃহীত ছবি

শুধু পৃথিবীতে নয়, চাঁদের আশপাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

সংগৃহীত ছবি
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধের পরিকল্পনা ইইউর

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।   বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশন এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। আর ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীরা বাবা-মা বা অভিভাবকের অনুমোদনে তৈরি ‘মিনি অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করে প্রতিদিন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবে।   ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো শুরু থেকেই শিশুদের জন্য নিরাপদভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।   ইইউর প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েন বলেছেন, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানদের অনলাইন ব্যবহারের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবেন।   তিনি বলেন, ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত আইনটি অভিভাবকদের এমন বিভিন্ন হাতিয়ার দেবে, যার মাধ্যমে তারা সন্তানদের নিরাপদ অনলাইন পরিবেশে চলাফেরায় সহায়তা করতে পারবেন।   প্রস্তাবিত আইনের আওতায় ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা নিজেদের নামে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। সূত্র: বিবিসি।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার স্যাটেলাইট তথ্য নিয়ে ইরানের হামলা হয়েছে ‘নিখুঁত’ : সিএনএন

ছবি: সংগৃহীত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (বামে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

নতুন শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভারতের কড়া সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ল সুদের হার

ছবি: সংগৃহীত
ভারতসহ ১০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে এই প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ পেরিয়েছে।   বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ শীর্ষক প্রস্তাবিত বিলটির ওপর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া সংক্রান্ত প্রস্তাব ২১৪-২১১ ভোটে অনুমোদিত হয়। সিনেটে আগেই ৮৬-১১ ব্যবধানে পাস হওয়া আইনটি প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে স্বাক্ষর করে আইনি রূপ দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জমা দেওয়া এক সংশোধনীতে বলা হয়, রাশিয়ার তেল বা জ্বালানি পণ্য ক্রয় অব্যাহত রাখায় সম্ভাব্য এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ১০টি দেশ হলো—ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য ও রাজস্ব আদায় সংকুচিত করে ইউক্রেন যুদ্ধে তাদের অর্থের যোগান পুরোপুরি বন্ধ করা।   এই বিলে রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও তাদের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে তেল বহনে ব্যবহৃত গোপন ‘ছায়া বহর’ (শ্যাডো ফ্লিট)-এর ওপর কঠোর নজরদারি ও শাস্তির সিদ্ধান্ত রাখা হয়েছে। মার্কিন নীতিপ্রণেতারা মনে করছেন, ভারতসহ এশিয়ার শীর্ষ ক্রেতারা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প উপায়ে তেল আমদানি চালু রাখায় এবার মিত্রদের ওপরও শুল্কের অস্ত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।   তবে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই শুল্ক বিলের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। তার দাবি, এই বিলটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে শুল্ক চাপানোর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা দেবে, যা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক জোট ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ধস নামাতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

সুদানে স্বর্ণের খনি ধসে প্রাণ গেল অন্তত ৭০ জনের

ছবি: সংগৃহীত

হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বৈঠক, সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি

0 Comments