দেশের তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার বিকাশ, নতুন প্রতিভা অন্বেষণ এবং আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, খেলাধুলার উন্নয়ন শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনের জন্য নয়, বরং একটি সুস্থ, মেধাবী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, মাঠ সংস্কার, নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে বিশেষ ট্যালেন্ট হান্ট কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স, ভলিবল, হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের নির্বাচন করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে।
নারী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে নিরাপদ পরিবেশ, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের সাফল্য নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন সরকার বিশ্বাস করে যে খেলাধুলা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তাই ক্রীড়াখাতকে আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে বাংলাদেশ শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনেও আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার বিকাশ, নতুন প্রতিভা অন্বেষণ এবং আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, খেলাধুলার উন্নয়ন শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনের জন্য নয়, বরং একটি সুস্থ, মেধাবী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, মাঠ সংস্কার, নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। তিনি জানান, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকার সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে বিশেষ ট্যালেন্ট হান্ট কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স, ভলিবল, হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের নির্বাচন করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। নারী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে নিরাপদ পরিবেশ, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের সাফল্য নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন সরকার বিশ্বাস করে যে খেলাধুলা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তাই ক্রীড়াখাতকে আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে বাংলাদেশ শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনেও আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঠিক এমন সময়ে বড় ধাক্কা খেল বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে চমক উপহার দিয়েছে আফ্রিকার শক্তিশালী দল আইভরি কোস্ট। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে এই জয় বিশ্বকাপের আগে আইভরি কোস্টের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি ফ্রান্সের জন্যও হয়ে উঠেছে সতর্কবার্তা। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ফ্রান্সের অনুকূলে ছিল। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ম্যানচেস্টার সিটির তারকা রায়ান চেরকির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের মোড়। দ্বিতীয়ার্ধে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা ছন্দ হারালে সেই সুযোগ কাজে লাগায় আইভরি কোস্ট। ৫৩ মিনিটে নিকোলাস পেপের পাস থেকে গোল করে সমতা ফেরান গুয়েলা দুয়ে। পরে তারই বাড়ানো নিখুঁত ক্রস থেকে ডি-বক্সের ভেতরে সহজ ট্যাপ-ইনে জয়সূচক গোলটি করেন আমাদ দিয়ালো। ফ্রান্সের বিপক্ষে এটিই আইভরি কোস্টের ইতিহাসের প্রথম জয়। টানা ৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর এই হারে থামল ফ্রান্সের দারুণ ছন্দ। দ্বিতীয়ার্ধে আইভরি কোস্টের গতি ও আক্রমণের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেতে হয় ফরাসিদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচ দেশম একাধিক পরিবর্তন আনলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়ানো যায়নি। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও বিরতির সময় তাকে তুলে নেয়া হয়। তবে গোলদাতা চেরকির পারফরম্যান্স ফ্রান্সের জন্য ইতিবাচক দিক হয়ে এসেছে।
আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো দেখা গেল ‘টাইমড আউট’-এর ঘটনা। পুরুষ ক্রিকেটে বহুল আলোচিত অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ‘টাইমড আউট’-এর ঘটনার পর এবার নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও রচিত হলো নতুন ইতিহাস। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) নারী প্রিমিয়ার কাপে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে ভুটানের ব্যাটার রিতশি চোদেন নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ‘টাইমড আউট’ হলেন। মালয়েশিয়ার মানতিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেপালের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল ভুটান। রান তাড়ার মাঝেই নাটকীয় এই ঘটনার জন্ম হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রিজে উপস্থিত হতে না পারায় আম্পায়ার রিতশি চোদেনকে ‘টাইমড আউট’ ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ‘টাইমড আউট’-এর নজির স্থাপিত হলো। ভুটানের ইনিংসের ঠিক প্রথম বলেই ঘটে এই ঘটনা। ওপেনার নগাওয়াং চোদেন গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরে যাওয়ার পর মাঠে নামার কথা ছিল রিতশি চোদেনের। কিন্তু তিনি ক্রিজে আসতে নির্ধারিত ৯০ সেকেন্ডের বেশি সময় পার করে ফেলেন। রিতশি যখন মাঠের দিকে আসছিলেন, তখন তার হাতে ছিল গ্লাভস ও হেলমেট। তিনি ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নেপালের ফিল্ডাররা আম্পায়ারের কাছে আউটের আবেদন জানান। নেপালের ব্যাটার পূজা মাহাতো আম্পায়ারের দিকে এগিয়ে গিয়ে আউটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং আবেদন তোলেন। এরপরই আম্পায়ার সুন মেং ইয়াও এবং অঙ্কিতা গুহ নিয়ম অনুযায়ী রিতশি চোদেনকে ‘টাইমড আউট’ ঘোষণা করেন। কোনো প্রকার প্রতিবাদ না করেই মাঠ ছাড়েন ভুটানি ব্যাটার। ফলে ১ বল শেষে কোনো রান না তুলতেই ২ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে ভুটান। ম্যাচটিতে নেপাল শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেও তাদের নারী দলের এমন আচরণকে ক্রিকেটের স্পিরিট বা খেলোয়াড়ি সুলভ আচরণের পরিপন্থী বলে মনে করছে খোদ নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। ম্যাচ শেষে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভুটান ক্রিকেট ও সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছে তারা। নেপাল ক্রিকেট বোর্ড তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘আজকের ম্যাচে ভুটানের ব্যাটারের টাইমড আউট হওয়ার ঘটনাটি নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন যে মূল্যবোধ ও ক্রিকেটের স্পিরিট লালন করে, তার সঙ্গে মোটেও মিলে না। আমাদের নারী জাতীয় দলের এমন আচরণের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৩ রান করে নেপাল নারী ক্রিকেট দল। জবাবে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬২ রানেই গুটিয়ে যায় ভুটান। ফলে ৫১ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় নেপাল।