বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (টিআরসিএমআরপি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চুক্তিকে ঘিরে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেকের কাছে প্রকল্পটির অবস্থান নয়াদিল্লির জন্য নতুন নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশ তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য একটি চুক্তি সই করে। এর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও জোরদার হলেও, প্রকল্পটির অবস্থান ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
তিস্তা প্রকল্প কী?
৪১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তঃসীমান্ত তিস্তা নদীর উৎপত্তি পূর্ব হিমালয়ে। এটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে।
টিআরসিএমআরপি একটি বৃহৎ নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প। এতে নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ, ভূমি পুনরুদ্ধার এবং নদীর গতিপথ স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নদীতীরজুড়ে সড়ক, সেচব্যবস্থা, নগরকেন্দ্র, পর্যটন সুবিধা ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্যার ক্ষতি কমানো, নৌচলাচলের উন্নতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা
২০১৬ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চীনের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার সঙ্গে প্রকল্পটির মাস্টারপ্ল্যান ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা তৈরির জন্য সমঝোতা স্মারক সই করে। ২০১৯ সালে এটি সরকারি কাঠামো পায় এবং ২০২০ সালে মেগা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করলেও অর্থায়ন নিশ্চিত বা চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। বর্তমান সরকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার নতুন চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটিকে আবারও এগিয়ে নিচ্ছে।
কেন চীনকে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ?
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থায়ন ও উচ্চ পর্যায়ের প্রকৌশল দক্ষতা প্রয়োজন। নদী থেকে ১৪০ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারণ, ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার, ৮২টি জেটি নির্মাণ, বাঁধ শক্তিশালীকরণ এবং ২২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরেকটি কারণ হলো তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা। ২০২৪ সালে ভারত এক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেটি এগোয়নি। এরপর চীনের সঙ্গে সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত হয়।
ভারতের উদ্বেগ কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প এলাকার অবস্থান ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার লাগোয়া এবং শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি। মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রস্থের এই করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ।
কৌশলগত বিশেষজ্ঞ তারা কার্থার মতে, বাংলাদেশে চীনের এই প্রভাব ভারতের দুই ফ্রন্টের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। পাকিস্তান যখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুর্বলতাগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বেইজিং তার কৌশলগত পরিধি বাড়াচ্ছে।
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূততিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত
কার্থা ‘ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল’-কে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে বেইজিংয়ের অবস্থান নেওয়ার অর্থ হলো ভারত এখন নিশ্চিতভাবেই দুই ফ্রন্টের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেখানে পাকিস্তানের নজর সব সময়ই চীনের দিকে রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। চীন অত্যন্ত কার্যকরভাবে তার সফট পাওয়ার প্রদর্শন করছে।
অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) গবেষকদের মতে, চীনের সম্পৃক্ততা তিস্তা ইস্যুকে শুধু পানিবণ্টন বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে না; বরং এটি আরও বড় নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ভারতের অবস্থান
গত ৩ জুন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে এএনআই নিউজ এজেন্সিকে জানান, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিমধ্যে ঢাকাকে জানানো হয়েছে এবং তিস্তা ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপ সমস্ত প্রাসঙ্গিক বিষয় ও উন্নয়নকে বিবেচনায় নিয়েই নির্ধারিত হবে। আমরা তিস্তা ইস্যুর সামগ্রিক পদক্ষেপে এই সংক্রান্ত সমস্ত উন্নয়নকে বিবেচনায় রাখব।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বলেছিলেন, ভারত গঙ্গা ও তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তিসহ পানি সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। বাংলাদেশি সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টার-এর বরাত দিয়ে মিস্রি বলেন, গঙ্গা পানি চুক্তি এখনও বৈধ রয়েছে এবং আমরা যৌথ নদী কমিশনের কাঠামোর মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা অব্যাহত রাখব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পূর্ণাঙ্গ প্রকল্পে রূপ নিলে তিস্তা কেবল ভারত-বাংলাদেশের পানিবণ্টন ইস্যু থাকবে না; এটি ভারত ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। কার্যপ্রণালি বিধি-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং পিটিশন কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন তিনি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। এদিন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে তার পক্ষে কমিটিগুলোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে স্পিকার পিটিশন কমিটি গঠন করেন। কার্যপ্রণালি-বিধি ২৬৪ বিধি অনুযায়ী ১২ সদস্যের কার্যপ্রণালি বিধি-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে। এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম মনি, মো. আসাদুজ্জামান, এ এম মাহবুব উদ্দিন, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সাকিলা ফারজানা, সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, শাহজাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ও আখতার হোসেন। অন্যদিকে নাগরিকদের পিটিশন পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য কার্যপ্রণালি-বিধির ২৩১ ও ২৩২ বিধি অনুযায়ী ১০ সদস্যের পিটিশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পেয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।’ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করা এবং প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান। পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস নিজের পরিবার থেকেই শুরু করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরকেও সচেতন করবে। তোমাদের ছোট ছোট উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’ সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়; এসব বিষয়েও তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ দিলেই হবে না; সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’ মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চারপাশের অসহায় ও অবলা প্রাণীদের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না। জীবজন্তুর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধ মানবিক সমাজের পরিচয়।’ ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে সংসদ ভবনে আসেন। তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির দু’জন সদস্যও ছিলেন। সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার একপর্যায়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিবি কার্যালয়ে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা পর্যটকদের সর্বোত্তম সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমরা পর্যটন মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যেতে চাই। আশা করছি, এ বছরই মহাপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হবে।’ দেশের পর্যটন খাতের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অধীনে প্রণীত একটি কৌশলগত পর্যটন মহাপরিকল্পনা ২০১৯ সালে তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের কারণে এর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। পরে পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে সরকার দেশের প্রায় ১,৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে। পরিকল্পনায় সুশৃঙ্খল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফারুকী বলেন, পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা উন্নয়নে বিটিবি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের বিষয়ে বিটিবি সিইও বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, দূতাবাস ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাই, যাতে তাদের দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করা যায়। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সুযোগ-সুবিধা উন্নয়ন এবং পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিটিবির। সভায় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ারসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।