জাতীয়

তিন শতাধিক বিচারককে জেলা জজ পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৫

সারাদেশের অধস্তন আদালতের তিন শতাধিক বিচারককে জেলা জজ পদে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভা।

 

মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া দুই শতাধিক বিচারককে অতিরিক্ত জেলা জজ পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফুলকোর্ট সভার একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

সূত্র জানায়, ফুলকোর্ট সভায় আলোচিত রেইনট্রি মামলায় আপিল বিভাগের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও এক আসামিকে জামিন দেওয়ার ঘটনায় বিচারিক ক্ষমতা হারানো জেলা জজ কামরুন্নাহার ক্ষমতা ফিরে পাবেন কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জিএ কমিটিকে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

 

 

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২০টির অধিক অ্যাজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে, সময় স্বল্পতার কারণে সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ক্যালেন্ডার অনুমোদনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি ফুলকোর্ট সভায়।

 

 

সভায় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের অধিকাংশ বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
হালাল পণ্যের মান ও সনদে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন আইনি ক্ষমতা

‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ সংশোধনের মাধ্যমে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ ও সনদ প্রদানের বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।   সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন করেছেন।   সংশোধিত বিধিমালায় সিডিউল-১-এ ‘মিনিস্ট্রি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ শিরোনামের অধীনে নতুন একটি দায়িত্ব যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে ‘Matters Relating to Halal Standard and Certification’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   এর ফলে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ এবং হালাল সনদ প্রদানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় এসেছে।   ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের হালাল মান যাচাই এবং সনদ প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে এতদিন এ কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ছিল।   ‘রুলস অব বিজনেস’ সংশোধনের ফলে এখন হালাল মান ও সনদসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি স্পষ্ট প্রশাসনিক ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হলো।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৯ বছর পর ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল কার্যকর, পুরনো মামলার নিষ্পত্তির পথ খুলল

ছবি: সংগৃহীত

৯ বছরেও অনিশ্চিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, নিজ দেশে ফিরতে চান আশ্রিতরা

ছবি: সংগৃহীত

এনএসআইয়ের পরিচালক হলেন পুলিশের ২ ডিআইজি

ছবি: সংগৃহীত
বাংলা এডিশনের নিবন্ধন পুনর্বহাল, আবারও সংবাদ কার্যক্রমের সুযোগ

সাময়িকভাবে বাতিল হওয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা এডিশনের নিবন্ধন পুনর্বহাল করেছে সরকার। এর ফলে ইলিয়াস হোসাইনের মালিকানাধীন/সম্পৃক্ত এই সংবাদমাধ্যমটি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেল।   রোববার (২৩ আগস্ট) তথ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলা এডিশনের নিবন্ধন বাতিলের আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।   এর আগে ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলা এডিশনের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল। পরে নিবন্ধন পুনর্বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে সংবাদমাধ্যমটির কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নিবন্ধন পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বাংলা এডিশন। ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।   যাত্রা শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে পোর্টালটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই নিবন্ধন ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিল বাংলা এডিশন।   বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তে নিবন্ধন পুনর্বহালের পর সংবাদমাধ্যমটি পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেল। নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পরও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান রেখে সংবাদ প্রকাশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা জানিয়েছে বাংলা এডিশন কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ঘোষণা

ধর্ষণ মামলার রায় শুনে আদালতে জ্ঞান হারালেন আ.লীগ নেতা

যে ফার্স্টলেডির মরদেহ চুরির ১৬ বছর পর উদ্ধার হয়েছিল

আর্জেন্টিনার আইকনিক ফার্স্ট লেডি ইভা পেরন ১৯৫২ সালের জুলাইয়ে মারা যান। অনেকের কাছে তিনি ইভিটা নামেও পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর ৬০ বছর পর বিবিসি তার মরদেহের অদ্ভুত অন্তর্ধান এবং বিশ্বজুড়ে এর ১৬ বছরের দীর্ঘ যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এ প্রতিবেদন।   ১৯৫২ সালের ২৬ জুলাই ইভা পেরনের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর কাজে নেমে পড়েছিলেন ড. পেদ্রো আরা। প্রখ্যাত এই স্প্যানিশ অ্যানাটমিস্ট বা ব্যবচ্ছেদবিদকে আর্জেন্টিনার ফার্স্ট লেডির মরদেহ সেই একই উপায়ে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যেভাবে রুশরা তাদের নেতা লেনিন এবং স্ট্যালিনের দেহাবশেষ সংরক্ষণ করেছিল।   মৃত্যুর পর ইভিটার মরদেহ আর্জেন্টিনার শ্রম মন্ত্রণালয় ভবনে রাখা হয়েছিল। সেখানে শ্রমিকদের একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কথা ছিল, যার ভিত্তিপ্রস্তরে থাকবে একটি কাচের কফিন, যেটিকে ইভিটার চূড়ান্ত বিশ্রামের স্থান হিসেবে ঠিক করা হয়েছিল।   কিন্তু তিন বছর পর ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার স্বামী প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরন এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং নির্বাসনে যান। নতুন সরকার এসে ইভা পেরনের মরদেহ শহরের কেন্দ্রে থাকা স্মৃতিস্তম্ভ থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।   সে কারণে তারা কাচের কফিনে রাখা মরদেহটি চুরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এর মাধ্যমেই শুরু হয় ১৬ বছরের এক করুণ সফর; নিজ ভূমিতে নিজের দেশে শেষ পর্যন্ত সমাধিস্ত হওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রা ইভিটার।   মরদেহ চুরির পর ফের বুয়েনস আইরেসে ফেরার এই ১৬ বছরের যাত্রায় ইভা পেরনের মরদেহ কখনো রাখা হয়েছিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স সেন্টারে, কখনো একটি ভ্যানে রেখে ঘোরানো হয়েছিল পুরো শহর। এর মধ্যে একবার ইতালির মিলানে কবর দেওয়া হয়েছিল।   সবশেষে বুয়েনস আইরেসে এনে একটি সুরক্ষিত ক্রিপ্ট বা সমাধিগৃহে রাখার আগে ইভিটার মরদেহ স্পেনের মাদ্রিদে তার নির্বাসিত স্বামীর কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।   • মৃত্যুর পরও মরেননি ইভিটা জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইভা পেরন ৩৩ বছর বয়সে মারা যান। তার মরদেহ সংরক্ষণের পেছনে তার স্বামীর রাজনৈতিক কারণ ছিল। দরিদ্র গ্রামীণ পটভূমিতে বেড়ে ওঠা এবং ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার জনকল্যাণমূলক কাজ ইভাকে শ্রমজীবী মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছিল। এমনকি তার জনপ্রিয়তা আর্জেন্টিনায় এক প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।   ‘‘তাই স্ত্রীর শরীরটা সংরক্ষণ করে তার স্বামী ওই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে বা সেটিকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন,’’ ২০১১ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন পেরনিজম বিষয়ক ইতিহাসবিদ ফ্লাভিয়া ফিওরুচ্চি।   পেরনিজম বলতে হুয়ান পেরন ও ইভা পেরনের আদর্শের ওপর গড়ে ওঠা আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক মতাদর্শকে বোঝায়, যার মূল ভিত্তি ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ এবং জনতুষ্টিবাদ।   ‘‘পেরন ও পেরনিজমের দিক থেকে বিভিন্ন প্রতীককে গুরুত্ব দেওয়ার যে বিষয়টি ছিল, এর সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল এটি। কারণ ইভিতাও তার দেশে এক প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।’’   এটি তার মৃত্যুর পরের সপ্তাহগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্প্যানিশ অ্যানাটমিস্ট ডক্টর আরা প্যারাফিন ও গ্লিসারিন ইনজেকশনের কৌশল ব্যবহার করে ইভিটার মৃত শরীরকে একদম তাজা আর স্বাভাবিক অবস্থায় সংরক্ষণ করতে সক্ষম হন।   ইভা পেরনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ কংগ্রেস ভবনে ১৪ দিন ধরে রাখা তার কফিন দেখতে এসেছিলেন। জীবিত অবস্থায় তিনি নিজের দেশের মানুষের কাছ থেকে যে অগাধ সমর্থন ও অন্ধভক্তি অর্জন করেছিলেন ইভিটা, মৃত্যুর পরও তা অব্যাহত ছিল।   আর ইভিটার মরদেহের এই প্রতীকী গুরুত্বই ছিল পরবর্তী ১৬ বছর ধরে তার দীর্ঘ যাত্রার মূল কারণ। ১৯৫৫ সালে যখন পেরন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন জেনারেল পেদ্রো আরামবুরুর নেতৃত্বে চলা একনায়কতন্ত্র পেরনিজম বা পেরনের আদর্শের সমস্ত দিক নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছিল এবং তারা ভয় পেয়েছিল যে ইভিটার মরদেহ প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।   বুয়েনস আইরেসের প্রাণকেন্দ্র থেকে ইভিটার মরদেহটিকে সরানোর পর সেটিকে এক জায়গায় রাখতেন না আর্জেন্টিনার সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল কার্লোস মুরি কেনিগ। বরং শহরের চারপাশে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় মরদেহটি সরিয়ে নিয়ে যেতেন।   কারণ তিনি আতঙ্কে ছিলেন, পেরনপন্থিরা এটি উদ্ধার করার চেষ্টা করতে পারে। বলা হয়ে থাকে, সেসময় ইভিটার মরদেহটি কখনো রাজধানীর রাস্তায় পার্ক করা একটি ভ্যানের ভেতরে, কখনো সিনেমা হলের স্ক্রিনের পেছনে এবং কখনো শহরের পানির সরবরাহের পাম্পের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।   তবে, যেখানেই কফিনটি নেওয়া হতো, সেখানেই ফুল ও মোমবাতি দেখা যেত। যদিও কারা সেটি রাখত তা জানা যায় না। লেফটেন্যান্ট কর্নেল কেনিগ এরপর মরদেহটি তার অফিসে নিয়ে যান, যেখানে তিনি কফিনটি সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখতেন এবং দর্শনার্থীদের দেখাতেন।   একটা সময় এমন হলো যে কেনিগ তার দায়িত্বে থাকা লাশটির প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে বলা হয়।   ‘‘আমি তাকে মিলিটারি স্কুল থেকে চিনতাম। সে একদম স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু (ইভিটার) মরদেহটি হাতে পাওয়ার পর সে পাগল হয়ে গিয়েছিল,’’ ১৯৯৭ সালে নির্মিত ডকুমেন্টারি ইভিটা, লা তুম্বা সিন পাজ, বাংলায় যার মানে ‘ইভিতা, শান্তিহীন কবরে’, বলেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল হেক্টর কাবানিয়াস।   আর্জেন্টাইন শিক্ষাবিদ সেসিলিয়া মাকন ২০১২ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন, এ বিষয়ে আসল সত্যিটা ঠিক কী তা উদঘাটন করা কঠিন। কারণ ইভিটাকে ঘিরে থাকা গল্পগুলোতে মিথ এবং ইতিহাস ক্রমাগত মিশে গেছে।   এর মধ্যে একটি প্রচলিত গল্প হলো, কেনিগ ১৯৫৭ সালে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আগে তার দায়িত্বে থাকা ইভিটার লাশের প্রতি মোহাবিষ্ট হয়ে গিয়েছিলেন। কর্নেল কাবানিয়াসকে তখন ইভা পেরনের দেহটি অদৃশ্য করে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ১৯৫৭ সালে এটি ইতালিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।   সে সময় ইভিটাকে ইতালির মিলানের এক কবরস্থানে মারিয়া মাজ্জি দে মাজিসত্রিস ছদ্ম নামে কবর দেওয়া হয়। এদিকে, দেশে তার সমর্থকরা ইভাকে ভুলে যাননি। প্রায়ই বুয়েনস আইরেসের দেয়ালে দেয়ালে লেখা দেখা যেত, ইভা পেরনের মরদেহ কোথায়?   লাশের প্রত্যাবর্তন সেসময় আর্জেন্টিনার পেরনপন্থিদের জন্য একটি বড় দাবি হয়ে ওঠে।   • লাশের প্রত্যাবর্তন ইতিহাসবিদ ফিওরুচ্চি বিশ্বাস করেন, সামরিক বাহিনী ইভিটার লাশ গায়েব করে দেওয়ার পর বিষয়টিকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলেছিল। ইভিটার মৃতদেহের ওপর যে আঘাত হানা হয়েছিল, তা দেশটির শ্রমজীবী শ্রেণীর মানুষের ওপর আঘাতেরই প্রতীক ছিল।   ১৯৭১ সালে আরেকটি নতুন সরকার আর্জেন্টিনায় গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছিল এবং পেরনপন্থিদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে হুয়ান পেরনের কাছে ইভিটার মরদেহ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়।   সেসময় সাবেক স্বৈরাচারী শাসক হুয়ান পেরন তার তৃতীয় স্ত্রী ইসাবেলকে নিয়ে মাদ্রিদের এক শহরতলির ভিলায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন, সেখানেই একদিন একটি রূপালী কফিনে করে ইভিটার দেহ পৌঁছে দেওয়া হয়।   হুয়ান পেরনের তৎকালীন ঘনিষ্ঠ সহযোগী কার্লোস স্পাদোনি ২০১২ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন, তিনিই প্রথম মরদেহটি দেখেছিলেন। জেনারেল পেরন, মালী এবং আমি মিলে কফিন থেকে দেহটি বের করি, তিনি বলেছিলেন।   ‘‘আমরা এটিকে একটি মার্বেল পাথরের টেবিলের ওপর রাখি এবং আমাদের হাত মাটিতে নোংরা হয়ে যায়। তাই শরীরটা পরিষ্কার করতে হয়েছিল। ইসাবেল তুলা আর পানি দিয়ে খুব সাবধানে সেই যত্নটা নিয়েছিলেন... আর কিছুই না।’’   ইসাবেল তার (ইভার) সোনালী চুলগুলো আঁচড়ে দিয়েছিলেন। সেগুলো বেশ লম্বা ছিল এবং তিনি চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে চুলগুলো ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে দিয়েছিলেন।   এরপর কী ঘটেছিল তা নিয়ে ফের নানা গল্পগাঁথা ছড়িয়ে পড়ে, যা মূলত পেরন সরকারের সাবেক মন্ত্রী হোসে লোপেজ রেগার অলৌকিক বিশ্বাসের ওপর কেন্দ্র করেই ছড়িয়েছিল।   একটি গল্প এরকম; ইসাবেলকে ইভা পেরনের লাশের পাশে শুয়ে পড়তে বলেন রেগা যাতে ইভিটার রাজনৈতিক জাদু বা ক্যারিশমা তার ওপর প্রভাব ফেলে। এমন বিশ্বাস ইভিটার প্রতি তার অনুসারীদের যে প্রায় ধর্ম বিশ্বাসের মতো অগাধ শ্রদ্ধা ছিল সেই ব্যাপারটিকেই প্রতিফলিত করে।   এক সময়ের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ইভিটা, যিনি তার স্বামীর সাথে ক্ষমতায় এসেছিলেন, নিজের অনুসারীদের কাছে তিনি এক সময় যেন আধ্যাত্মিক নেতা হয়ে উঠেছিলেন। যে কারণে ইভা পেরনের মরদেহ তার অনুসারীদের কাছে পবিত্র হয়ে উঠেছিল, যদিও পেরন বিরোধীরা তাকে চরম ঘৃণা করত।   এরপর ১৯৭৩ সালে হুয়ান পেরন আর্জেন্টিনায় ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তখন ইসাবেল ছিলেন তার ভাইস প্রেসিডেন্ট। এদিকে, ইভিটার দেহ স্পেনেই থেকে গিয়েছিল।   কিন্তু ১৯৭৪ সালে হুয়ান হঠাৎ মারা যাওয়ার পর ইভিটার মরদেহ বুয়েনস আইরেসে ফিরিয়ে আনা হয়। ইভিটার মরদেহের ক্ষতি মেরামত করার জন্য যখন প্রথম যোগাযোগ করা হয়, তখন দোমিঙ্গো তেইয়েচিয়া রাজধানীর একটি বারে বসে ছিলেন।   কালো পোশাক পরা দুই লোক ভেতরে ঢোকে, ২০১২ সালে তিনি বিবিসিকে বলেন।   ‘‘তারা দরজা খুলে আমাদের দিকে তাকায়। এটি বিপজ্জনক ছিল, কারণ সেই দিনগুলোতে মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো এবং গায়েব করে দেওয়া হতো, তাদের আর কখনো দেখা যেত না।’’   তেইয়েচিয়া ছিলেন শিল্পকর্ম, প্রত্নবস্তু এবং মানুষের দেহাবশেষের রেস্টোরার বা পুনরুদ্ধারকারী, যিনি ক্ষতি বা বিকৃতি সারিয়ে তাকে পূর্বাবস্থায় ফেরত আনেন। সরকারের ডেথ স্কোয়াডের ভয়ে আতঙ্কিত হলেও, যখন জানতে পারেন লোক দুটি কেবল ড্রাইভার, তখন স্বস্তি পান তেইয়েচিয়া।   তারা মরদেহকে ইভা পেরনের সাবেক ব্যক্তিগত চিকিৎসক অস্কার ইভানিসেভিচের কাছে নিয়ে যায়।   ‘‘তিনি আমাকে বললেন, আমাদের কাছে তোমার জন্য একটা কাজ আছে। তোমাকে ইভা পেরনের শরীর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।’’   ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও তেইয়েচিয়া কাজটিতে রাজি হন।   ‘‘কাজটি করা মানে ছিল সেই সমস্ত লোকদের বিরুদ্ধে যাওয়া, যারা দেহটি গায়েব করে দিয়েছিল এবং অনেকেই সত্যি চেয়েছিল ইভিটা যেন আর কখনো ফিরে না আসেন। আমি জানতাম এটি আমার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে,’’ তিনি বলেছিলেন।   ‘‘হুমকি আসত, ফোনে হুমকি। একবার আমার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।’’   পরবর্তীতে আর্জেন্টিনায় একের পর এক সরকারের অধীনে রাষ্ট্রীয় বর্বরতা ও নির্যাতন নিয়মিত হয়ে উঠলে এই পুনরুদ্ধারকারীকে নির্বাসনে যেতে হয়। অবশেষে ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে যখন ইভিটাকে চূড়ান্ত বিশ্রামে রাখা হয়, তার দাফনের সাক্ষী ছিল খুব ছোট একটি দল।   তার দেহাবশেষ যেন আর কখনো চুরি বা এমন কোনো প্রতিকূলতার মধ্যে না পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য মরদেহ রাখা হয় অতি-সুরক্ষিত ক্রিপ্টে, মানে পাথরের ভল্টে। মার্বেল পাথরের সমাধির মেঝেতে একটি গোপন দরজা ছিল, যা নিচে একটি লুকানো ঘরের দিকে নিয়ে যেত।   আর সে ঘরে ছিল দ্বিতীয় আরেকটি গোপন দরজা, যা দিয়ে ইভিটার কফিনের মূল কক্ষে নিয়ে যেত। মৃত্যুর ২৪ বছর পরও, ইভিটার প্রতীকী শক্তির কারণে তার দেহ মাটির পাঁচ মিটার গভীরে সমাহিত করতে হয়েছিল। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৪, ২০২৬

সার্ককে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী

দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বন্টন, কে দেখবেন কোন বিষয়

বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হলেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান

0 Comments