সর্বশেষ

ঢাবিতে জুলাই আন্দোলনের সহিংসতায় জড়িত ৪০৩ জন শনাক্ত

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৪, ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত সহিংসতা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে ৪০৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

 

আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত বেআইনি ও সহিংস ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটি ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে রিপোর্ট জমা দেয়। গত ১৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। 

 

পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির দ্বিতীয় সভায় ১২৮ জসনহ সর্বমোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। 

 

তালিকায় নাম রয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতসহ মোট ৩৮৫ জনের।

 

প্রক্টর অফিসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “কৃত অপরাধের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না- তার কারণ দর্শিয়ে লিখিত জবাব বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৭ (সাত) কার্য দিবসের মধ্যে প্রক্টর অফিসে লিখিত জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। অন্যথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক আপনাদের বিরুদ্ধে একতরফা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এবারের আয়করে যত পরিবর্তন, জেনে নিন এক নজরে

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এলেই অনেকের প্রশ্ন থাকে এবার কি আগের মতোই কর দিতে হবে, নাকি নিয়মে কোনো পরিবর্তন এসেছে? ২০২৬-২৭ করবর্ষে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সত্যিই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকাশিত আয়কর পরিপত্র অনুযায়ী, সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে করের প্রথম কয়েকটি ধাপের হারেও পরিবর্তন এসেছে।   যেমন ধরুন, করমুক্ত আয়ের সীমা বেড়েছে, বদলেছে করের ধাপ ও হার; আবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন দিলে মিলবে কর-প্রণোদনাও। আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-   করমুক্ত আয়ের সীমা কতটা বাড়ল? ২০২৫-২৬ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তির প্রথম ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত ছিল। ২০২৬-২৭ করবর্ষে সেই সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা বেড়েছে ২৫ হাজার টাকা।   অন্য শ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রেও সীমা বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী করদাতা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতার জন্য সোয়া চার লাখ টাকা; তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য পাঁচ লাখ টাকা; গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা ও গেজেটভুক্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর আহত জুলাই যোদ্ধা করদাতাদের জন্য সোয়া ৫ লাখ টাকা করমুক্ত আয়সীমাও বাড়বে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাতা-পিতা বা আইনানুগ অভিভাবকের প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে ৫০ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এনবিআরের বাজেট নথিতে এসব সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ দুই করবর্ষের জন্যই উল্লেখ করা হয়েছে।   সবচেয়ে বড় পরিবর্তন করের প্রথম ধাপে শুধু করমুক্ত আয়ের সীমাই নয়, করের হারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫-২৬ করবর্ষে করমুক্ত সীমার পরবর্তী ১ লাখ টাকা আয়ে ৫ শতাংশ কর দিতে হতো। এবার সেই জায়গায় পরবর্তী ৩ লাখ টাকা আয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপরের ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকায় ২০ শতাংশ এবং পরবর্তী ২০ লাখ টাকায় ২৫ শতাংশ কর। বাকি আয়ের ওপর করহার ৩০ শতাংশ।   অর্থাৎ ২০২৫-২৬ করবর্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত ০ শতাংশ, সেখানে ২০২৬-২৭ করবর্ষে ৩ লাখ ৭৫ হাজার পর্যন্ত ০ শতাংশ। পরবর্তী প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের জন্য ৩০ শতাংশ হারে করারোপ করা হয়েছে। এতে করদাতাদের ওপর করের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে।   তাই করমুক্ত সীমা বাড়লেও প্রথম করযোগ্য ধাপের হার ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ হওয়ায় কিছু করদাতার ক্ষেত্রে মোট করের অঙ্ক আগের তুলনায় বাড়তেও পারে। আবার আয় করমুক্ত সীমার কাছাকাছি হলে ২৫ হাজার টাকা বেশি পর্যন্ত আয় করমুক্ত থাকার সুবিধাও পাওয়া যাবে।   নতুন ‘জুলাই যোদ্ধা’ শ্রেণি ২০২৬-২৭ করবর্ষে নতুন করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ করদাতাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা রাখা হয়েছে। আগের করবর্ষের তালিকায় এই শ্রেণিটি ছিল না। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বাবা-মা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমার সঙ্গে আরও ৫০ হাজার টাকা যোগ হবে। বাবা ও মা দুজনেই করদাতা হলে তাদের মধ্যে একজন এই সুবিধা নিতে পারবেন।   এবার সময়মতো রিটার্ন দিলেও লাভ ২০২৬-২৭ করবর্ষে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো রিটার্ন দাখিলে কর-প্রণোদনা। এনবিআরের নতুন ব্যবস্থায় ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ পর্যন্ত, সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা কর-প্রণোদনা পাবেন। অর্থাৎ শুধু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই রিটার্ন জমা দিলে করের অঙ্কে এই সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।   দেরি করলে কী হবে? ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে এই ৫ শতাংশ প্রণোদনা আর পাওয়া যাবে না। এরপর আরও দেরি হলে অতিরিক্ত করের বিধান কার্যকর হবে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে। আর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হবে।   সারা বছর আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে   আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর রিটার্ন দেওয়া যাবে। আগে দিলে বেশি করছাড় পাবেন করদাতারা। বাজেট প্রস্তাব অনুসারে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম তাই ছাড় পাবেন। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন যা কর তাই দিলেই হবে। কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।   আর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।   অনলাইন রিটার্নে সুবিধা ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ই-রিটার্ন সেবা ২২ জুলাই ২০২৬ থেকে চালু করেছে এনবিআর। ফলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে কর পরিশোধের সুযোগও রয়েছে।   এবারের আয়কর ব্যবস্থায় একদিকে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে করের প্রথম ধাপের হার ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সময়মতো রিটার্ন দিলে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর-প্রণোদনা। তাই নিজের মোট আয়, করযোগ্য আয় এবং প্রযোজ্য করধাপ হিসাব করে এবার রিটার্ন দেওয়া আগের বছরের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৪, ২০২৬

নাশকতা মামলায় আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

গুম-খুনের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি দূতাবাসে হুমকি, ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকির খবর পাওয়ার পর রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত দূতাবাসগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।   পাশাপাশি পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন, চেকপোস্ট ও টহল জোরদারের পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হুমকির ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।   রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আবু খায়ের গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে হুমকির খবর পাওয়ার পর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কূটনৈতিক এলাকায় মনিটরিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। আবু খায়ের বলেন, চীনা দূতাবাস কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরকে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজমসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর সিটিটিসি এ ঘটনা তদন্ত করছে।   তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর আগের তুলনায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে চেকপোস্ট, টহল এবং দূতাবাসগুলোর সামনে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কুইক রেসপন্স টিমগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিক এলাকায় সবসময়ই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। কোনো ধরনের ঘটনা বা বার্তা পাওয়া গেলে তা লিখিত কিংবা মৌখিক—যেভাবেই আসুক, তৎপরতা বাড়ানো পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।   এর আগে রোববার সকালে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দূতাবাসগুলোতে চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় যারা নেপথ্যে রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।   তিনি জানান, ঢাকার তিন-চারটি বিদেশি দূতাবাস ও কয়েকটি সরকারি দপ্তরেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। শত্রুতাবশত এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এ ধরনের অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় সোমবার

ছবি: সংগৃহীত

নীল নদ থেকে যেভাবে মেস-বাড়ির ফ্রাইপ্যানে এলো তেলাপিয়া

ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

ডিএমপির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে ইমেইলে হুমকি দিচ্ছে প্রতারক চক্র: ডিবিপ্রধান

বিভিন্ন দূতাবাস ও সরকারি দপ্তরে ইমেইলের মাধ্যমে চাঁদা দাবি করে একটি প্রতারক চক্র হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। কূটনীতিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই চক্রটি এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।   রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।   ডিবিপ্রধান বলেন, ‘সম্প্রতি এমন হয়ে আসছে, এটা নিয়ে আমরা কাজ করতেছি। ওরা মেইল করে হুমকি দিচ্ছে। তারা যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে তিন-চারজনকে নিয়ে এসেছিলাম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তারা কিছুই জানে না।’   ডিএমপির ডিবিপ্রধান বলেন, ‘তারা দুটো মেইল করেছে। মেইল করে বিকাশ নম্বর দিয়েছে। বিকাশ নম্বরগুলো যাদের, তারা সম্পূর্ণ নিরীহ লোক। তারা এ ব্যাপারে কোনো কিছুই জানে না।   তবে সম্প্রতি ঢাকায় চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে দূতাবাসে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান।   ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, ‘তিন-চারটা দূতাবাস এবং কয়েকটা সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে।’   তিনি বলেন, চক্রটি কয়েকটি ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো সাফল্য তারা পায়নি। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও তিন-চারজন গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে পুলিশ আশাবাদী।   ডিবিপ্রধান আরও বলেন, চক্রটির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের অন্য কোনো থানায় আগের মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো থানায় মামলা পাওয়ার তথ্য নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তারা নতুন করে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল নেত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, স্ক্রিনশট প্রকাশের হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় বিজিবি হাবিলদার নিহত

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার-ঢাকা পথে চলন্ত বাসে আগুন, জানালা ভেঙে বাঁচলেন ৩০ যাত্রী

0 Comments