জাতীয়

‘তথ্য অধিকার আইন’ সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি : জরিমানার মাত্রা দ্বিগুণ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

দেশে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত এবং সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গতকাল এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। 

আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান।

এই অধ্যাদেশ তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬, নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধ্যাদেশ জারি করেন। 
 
সংশোধিত অধ্যাদেশে তথ্যের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামো ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত স্মারক, মানচিত্র, চুক্তি, অডিও-ভিডিও, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা কম্পিউটারে প্রস্তুতকৃত উপাদানও তথ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, দাপ্তরিক ‘নোট শিট’ বা নোট শিটের প্রতিলিপি তথ্যের আওতাভুক্ত হবে না।

স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, প্রতিটি কর্তৃপক্ষকে এখন থেকে তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত, অডিট প্রতিবেদন ও ব্যয়-সংক্রান্ত তথ্যসহ সম্পাদিত বা প্রস্তাবিত কর্মকাণ্ডের সকল তথ্য নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ নীতি বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জনমত যাচাই প্রক্রিয়া এবং কার্যবিবরণী ব্যাখ্যা করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। এছাড়া সকল প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

অধ্যাদেশে তথ্য অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। আইনের ধারা ২৭ সংশোধনের মাধ্যমে তথ্য প্রদানে অবহেলা বা আইন লঙ্ঘনের দায়ে দৈনিক জরিমানার হার ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা এবং মোট জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। 

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নাগরিকরা যেন দ্রুত ও বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন, সেজন্য তথ্য কমিশন প্রবিধানের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় ‘তথ্য ভান্ডার’ তৈরি করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ফাইল ছবি
কাবিননামায় আগের বিয়ে-সন্তানের তথ্য বাধ্যতামূলক চেয়ে হাইকোর্টে রিট

বিয়ের কাবিননামায় বর ও কনের আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য অন্তর্ভুক্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ রিট করেন। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে রিটে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে গত ২০ আগস্ট বিবাদীর প্রতি এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। নোটিশে বলা হয়, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর অধীন ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নং ১৬০১ বা ‘ঘ’ ফরমের বর্তমান কাবিননামাটি অসম্পূর্ণ ও অসমতাপূর্ণ। এতে বর ও কনের পূর্ববর্তী বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তারিখ, চলমান বৈবাহিক মামলা এবং বিদ্যমান সন্তানের তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ ও যাচাই করার ব্যবস্থা নেই। ফলে, কোনো ব্যক্তি পূর্বের একাধিক বিয়ে, বৈবাহিক সম্পর্ক, বিতর্কিত বা অনিবন্ধিত তালাক, সন্তান কিংবা আগের পরিবারের দায় গোপন করে নতুন বিয়েতে আবদ্ধ হতে পারেন। এতে প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং নতুন জীবনসঙ্গীর জ্ঞাতসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। নোটিশে কাবিননামা সংশোধন করে বর ও কনে উভয়ের জন্য পূর্ববর্তী ও বিদ্যমান বিয়ের তথ্য, স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিবাহ ও তালাকের তারিখ-স্থান-নিবন্ধন নম্বর, প্রয়োজনীয় দলিল তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যমান সন্তান ও তাদের বিষয়ে চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব বা অন্যান্য আইনগত দায় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ঘোষণা রাখার দাবি করা হয়। বিদ্যমান বিয়ে থাকা অবস্থায় নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা অনুযায়ী সালিশ পরিষদের লিখিত অনুমতির নম্বর ও তারিখ কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, বিবাহ ও তালাকের নথি, মৃত্যু সনদসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। নোটিশে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দেওয়া হাইকোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করা হয়। ওই রায়ে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল করার এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড নিরাপদে সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মূল কাবিননামায় প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘর না থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থাও শুধু অসম্পূর্ণ তথ্যই সংরক্ষণ করবে। তাই ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি মূল ফরম সংশোধন এবং নিবন্ধকদের ওপর সুস্পষ্ট যাচাইয়ের দায়িত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। পরে আইনজীবী ইশরাত হাসান নোটিশে বলেন, অসম্পূর্ণ ও অসমতাপূর্ণ কাবিননামার ব্যবহার পারিবারিক জীবনে ক্ষতি সৃষ্টি করছে। এটি আইনের আশ্রয়, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকারের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকটে তহবিলের বড় বৈষম্য: জাতিসংঘের কাছে প্রায় ৯০%, স্থানীয় এনজিওদের কাছে মাত্র ২%

সংগৃহীত ছবি

জে-১০সিই কেনায় এগোচ্ছে বাংলাদেশ, চলছে দর-কষাকষি: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

সংগৃহীত ছবি

বাণিজ্য-বিনিয়োগে বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনা দেখছে ইইউ

ছবি: সংগৃহীত
মায়ের নাম একই, ভুল পরিবারের হাতে নবজাতক; রাতে ফিরিয়ে দিল হাসপাতাল

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় পরিচয় যাচাইয়ে ভুল হওয়ায় এক পরিবারের নবজাতক অন্য পরিবারের কাছে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাতেই শিশুটিকে ফিরিয়ে আনে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে দুই পরিবারের কাছে তাদের নিজ নিজ সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।   হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার জগন্নাথবাড়ি এলাকার মাসুদ ইসলাম ও নাদিরা দম্পতির মেয়েশিশু গত বৃহস্পতিবার জন্ম নেয়। জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্মের পর শিশুটির শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে গত শনিবার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।   অন্যদিকে, গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের আবু রায়হান ও নাদিরা দম্পতির মেয়েশিশুটিও গত বৃহস্পতিবার জন্ম নেয়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের পর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।   পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সকাল ১১টার দিকে শিশুটির মা এনআইসিইউতে গিয়ে সন্তানকে দুধ খাওয়ান। এরপর ছাড়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এনআইসিইউতে ভর্তির সময় দেওয়া টোকেন পেতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যার দিকে শিশুকে নিতে হাসপাতালে যান।   এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের একটি নবজাতক বুঝিয়ে দিলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তারা জানান, শিশুটির চেহারা তাদের সন্তানের সঙ্গে মিলছে না। পরে পরিচয় যাচাইয়ের দাবি জানালে বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান শুরু করে।   একপর্যায়ে যাচাই করে দেখা যায়, গৌরীপুরের পরিবারের নবজাতক ভুল করে সরিষাবাড়ীর পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে। ততক্ষণে সরিষাবাড়ীর পরিবার শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হাসপাতালের লোকজন রাত ৩টার দিকে জামালপুরে গিয়ে নবজাতককে ফিরিয়ে আনেন। মঙ্গলবার সকালে যাচাই-বাছাই শেষে দুই পরিবারকে তাদের নিজ নিজ সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়।   গৌরীপুরের পরিবারের পক্ষ থেকে রুহুল আমিন বলেন, নবজাতকের পায়ে থাকা টোকেনে বাবা-মায়ের নাম ও সিরিয়াল নম্বর লেখা থাকে। দুই শিশুর মায়ের নাম একই হলেও বাবাদের নাম আলাদা। এরপরও কীভাবে এমন ভুল হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।   এ বিষয়ে সরিষাবাড়ীর শিশুটির বাবা মাসুদ ইসলাম বলেন, প্রথমে তারা নিজেদের সন্তানই পেয়েছেন বলে ধরে নিয়েছিলেন। পরে রাতে হাসপাতালের লোকজন এসে শিশুটিকে নিয়ে যান। সন্তান ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেছেন।   ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, দুই নবজাতকের মায়ের নাম একই হওয়ায় পরিচয় শনাক্তে ভুল হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর রাতেই শিশুটিকে হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয় এবং মঙ্গলবার সকালে প্রকৃত পরিবারের কাছে তাদের সন্তান হস্তান্তর করা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সভা-মিছিল নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে ২৭ পুলিশ সদস্যের বদলি, যুবলীগের মিছিলের সঙ্গে সম্পর্ক নেই

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান কানাডার

ছবি: সংগৃহীত
বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও বাজারে দামের চাপ কমাতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তালিকায় রয়েছে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর।   টিসিবির প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় বাজার থেকে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। তবে বিদেশি বাজারে দাম, সরবরাহ ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বেশি পাওয়া গেলে আমদানির পরিমাণ বাড়তে পারে।   সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানান।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে টিসিবি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি, ১৪ হাজার টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ টন খেজুর সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।   নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে টিসিবি মাসভিত্তিক চাহিদা, পণ্যের বরাদ্দ, গুদামের মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।   বাড়ছে গুদাম সক্ষমতা: পণ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতেও উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি এ সংস্থা। বর্তমানে টিসিবির মোট ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় পরিচালিত। এসব গুদামের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ টন। নিজস্ব ৯টি গুদামে ১৩ হাজার ৩৭১ টন এবং ভাড়ায় নেওয়া গুদামগুলোতে প্রায় ৩৪ হাজার ৯৯৯ টন পণ্য সংরক্ষণ করা যায়। টিসিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বর্তমানে সংস্থাটির পণ্য মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। ভোক্তাদের জন্য পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।   কমাতে চায় ভর্তুকির চাপ: সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনাও করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে এই নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফয়সল আজাদ বলেন, বাজারের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে দ্রুত সাড়া দিতে পারে—এমন একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তোলার কাজ চলছে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা আরও বাড়ানো হচ্ছে। তিনি জানান, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর অংশীদারত্ব আরও বেশি বলে জানান তিনি। ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও টিসিবি বিপুলসংখ্যক পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সংস্থাটির সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   পণ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন সামগ্রী: ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির বাইরে আরও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি। পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন ধরনের মসলা, মরিচ ও হলুদও তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। টিসিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এসব পণ্য সাধারণ বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করা হবে না।   স্মার্ট কার্ড পাচ্ছেন সুবিধাভোগীরা: বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। টিসিবি বলছে, পর্যাপ্ত পণ্য সংগ্রহ, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সঠিক সুবিধাভোগীদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শফিকুর রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত

ছবি: সংগৃহীত

লোডশেডিংয়ে ঝুঁকিতে জয়পুরহাটের হিমাগারের আলু, বাড়ছে জেনারেটর ব্যয়

0 Comments