বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপ নেবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে জনগণ তারেক রহমানকে সাদরে গ্রহণ করেছে। তার আগমন দেশ ও রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছে।”
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আশা প্রকাশ করে বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক জটিলতাসহ দেশের চলমান সব অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশার অবসান ঘটবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে বের হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি সর্বদা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যেন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি না ঘটে। তাঁর ভাষায়, “আমি তো প্রতিদিন সকালে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি—(বাংলাদেশের সঙ্গে) যে পরিস্থিতি ইউনূসের সময়ে ছিল, সেটাই যেন অব্যাহত থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।” ভারতের গণমাধ্যম এবিপিকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত থেকে ‘রাতের অন্ধকারে’ কীভাবে বাংলাদেশে ‘পুশ-ব্যাক’ করা হয়, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বিশ্বশর্মার বক্তব্য, “বিএসএফ কী করে—কখনো ২০-৩০ বা ৪০ দিন, কখনো ১০ দিন মতো নিজেদের কাছে রেখে দেয় (যাদের পুশ-ব্যাক করা হবে, তাদের)। যখন বিডিআর থাকে না, সেখান দিয়ে ধাক্কা মেরে পাঠিয়ে দেয়।” বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বর্তমান নাম বিজিবি হলেও পূর্বের নাম ‘বিডিআর’ বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, এই প্রথম ঢাকায় কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির বার্তা দিতে চাইছে দিল্লি—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হিমন্ত কেন ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্ক চান না? এবিপি নিউজের হিন্দি চ্যানেলের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ ও সেই অনুপ্রবেশকারীদের ‘পুশ ব্যাক’ করার বিষয়ে। সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে হিমন্ত বলেন, “আমাদের ভালো লাগে যখন ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো থাকে না, কারণ যখন সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়, তখন ভারত সরকারও পুশ-ব্যাক করতে চায় না। তাই আসামের মানুষের ভালো লাগে যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বিরাজ করে। ভারত ও বাংলাদেশের যখন মৈত্রী হয়ে যায়, বিএসএফ ও বিডিআর যখন করমর্দন করতে শুরু করে, তখন তা আসামের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।” তাঁর ভাষায়, “যখন সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, তখন সবকিছুই শিথিল হয়ে যায়। তাই আমরা তো সর্বদা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক না শোধরায়। তখন বিএসএফের কড়া প্রহরা থাকে, রাইফেল উঁচিয়ে থাকে, সেনাও মোতায়েন হয়, কেউ (কাঁটাতার পেরিয়ে) আসতে পারে না।” এবিপির সাংবাদিক মেঘা প্রসাদ মন্তব্য করেন, “এটা তো ভারত-বিরোধী কথা হয়ে যাচ্ছে।” জবাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি প্রশ্ন করেছেন, আমি বলেছি, আমার মনের কথা। আমি তো প্রতিদিন সকালে সর্বদা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যে পরিস্থিতি ইউনূসের সময়ে যেমন ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।” আসাম থেকে কীভাবে ‘পুশ-ব্যাক’ করা হয় আসামের বহুল আলোচিত ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে সাংবাদিক মেঘা প্রসাদ রাজ্যের বিধানসভায় সরকারের পেশ করা কিছু তথ্য দিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেছিলেন। সাক্ষাৎকারের এই পর্যায়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “একজন বাংলাদেশিকেও পুশ-ব্যাক করা সহজ নয়। সীমান্তে বাংলাদেশের বাহিনী থাকে। তারা গ্রহণ করে না (পুশ-ব্যাক হওয়া ব্যক্তিদের)। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তিও নেই।” ভারতের দিক থেকে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হলে সেটা ভারতের দিক থেকে পুশ ব্যাক, আর একই ঘটনা বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে সেটা পুশ ইন। “আমরা কী করি—অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে, যেখানে বিডিআর নেই, সেখান দিয়ে পুশ-ব্যাক করে দিই। বিএসএফ কী করে—কখনো ২০-৩০ বা ৪০ দিন, কখনো ১০ দিন মতো নিজেদের কাছে রেখে দেয় (যাদের পুশ-ব্যাক করা হবে, তাদের)। যখন বিডিআর (বিজিবি) থাকে না, সেখান দিয়ে ধাক্কা মেরে পাঠিয়ে দেয়,” বলেছেন মি. বিশ্বশর্মা। তিনি বলেন, “যদি আইনি পথে আমরা ফেরত পাঠাতে চাই, তাহলে পুরো বিষয়টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে, তারা বাংলাদেশে পাঠাবে সেসব। এরপর বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করবে কাকে নেবে, কাকে নেবে না। বাংলাদেশ প্রমাণ চায়,” মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। “এই জন্য আপনি ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারবেন না, বাংলাদেশ কাউকেই বাংলাদেশি বলে স্বীকার করে না। তাহলে আমাদের সামনে কী পথ খোলা আছে?” “এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট একটা রায় দিয়েছে বছরখানেক আগে, যে একজন জেলাশাসকের যদি মনে হয় কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নন, তিনি বিতাড়নের নির্দেশ জারি করতে পারেন। বিতাড়নের অর্থ কী? ভারত থেকে বিতাড়ন করে দাও,” বলেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। এই পর্যায়ে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে কোথায় বিতাড়ন করা হবে? জবাবে হিমন্ত বলেন, “আইনে বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেটা উল্লেখ করা নেই। ওখানে লেখা আছে যে আপনি দেশ থেকে বিতাড়ন করতে পারবেন। তাই আমরা এখন বিতাড়ন করতে শুরু করেছি বাংলাদেশ সীমান্তে। শব্দটা হলো—পুশ-ব্যাক।” তিনি এও বলেন যে শুধু আসামে বসবাসকারী কথিত অনুপ্রবেশকারীদের নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও এনে পুশ-ব্যাক করা হয়েছে। কোন আইনের কথা বললেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী? মি. বিশ্বশর্মা যে আইনটির কথা উল্লেখ করছিলেন, সেটি বহু পুরোনো একটি আইন—‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ, ১৯৫০’। গত বছর যখন বড় সংখ্যায় ‘পুশ-ব্যাক’ করা হতে থাকে, সেই সময়েই এই পুরোনো আইনটির সম্পর্কে জানা যায়। সেই সময়ে মি. বিশ্বশর্মা বলেছিলেন, “কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমাদের আইনি পরামর্শদাতারা আগে এ ব্যাপারটা আমাদের জানাননি, আমরাও এটির ব্যবহারের সম্পর্কে জানতাম না।” তবে আইনজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, ১৯৫০ সালে তৈরি ওই আইনটি নির্দিষ্ট কারণে আনা হয়েছিল। এই আইন দিয়ে ‘পুশ ব্যাক’ করা যায় না বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন গৌহাটি হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজ রশিদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, “বিদেশি ট্রাইব্যুনালগুলোকে এড়িয়ে এক্সিকিউটিভ অর্ডার দিয়ে মানুষগুলোকে এখান থেকে পুশ ব্যাক করার চেষ্টা করছে সরকার। এটা করা যায় না।” তাঁর ভাষায়, “যে পুরোনো আইনটি ব্যবহার করার কথা বলা হচ্ছে, তা দিয়ে পুশ ব্যাক করাই যায় না। এটা নির্দিষ্টভাবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসামে আসা মানুষদের জন্য করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে যদি কারও অবস্থান ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাদের মধ্যে কেউ যদি ভারত-বিরোধী কাজে লিপ্ত থাকেন, তাহলেই তাঁকে বহিষ্কার করা যেতে পারে।” গত বছর আসামের কয়েকজন বাসিন্দাকে পুশ ব্যাক করার পর কুড়িগ্রাম সীমান্তে নো ম্যানস ল্যান্ডে তাদের কয়েকজনকে দেখা যায়, ‘পুশ-ব্যাক’ হওয়া মানুষদের অভিজ্ঞতাও একই আসামের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে ‘পুশ-ব্যাক’ করার যে পদ্ধতির কথা খোলাখুলি স্বীকার করেছেন, তা দীর্ঘদিন ধরেই বিবিসি বাংলার নানা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গত প্রায় এক বছর ধরে। গত বছর ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পহেলগামে হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ভারতের নানা রাজ্যে শুরু হয় ‘অবৈধ বাংলাদেশি চিহ্নিতকরণ’-এর এক বিশেষ অভিযান। তারপর থেকেই বিভিন্ন রাজ্য থেকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে দেখিয়ে অনেক মানুষকে বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করে দেওয়া হয়েছিল। আবার আসামের অনেক মানুষকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পুশ-ব্যাক করে দেওয়া হয়েছিল। তাদেরই একজন ছিলেন মরিগাঁও জেলার খন্দপুখুরি গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক খাইরুল ইসলাম। তাঁকে গত বছর মে মাসের শেষের দিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার দু-এক দিন পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কুড়িগ্রাম সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ দেখতে পাওয়া যায়। আরও কয়েকজনকেও দেখা গিয়েছিল সেই ভিডিওতে। তাঁরা দাবি করেন যে আসামের বাসিন্দা তাঁরা। পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে মাটিয়া ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখেছিল। সেখান থেকে বিএসএফের মাধ্যমে তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ওই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরে অবশ্য সেই পর্যায়ে পুশ-ব্যাক হওয়া অনেককে ফিরিয়ে এনেছিল ভারত সরকার। তাঁদের মধ্যে ছিলেন খাইরুল ইসলামও। আবার বহুল আলোচিত সাকিনা বেগম, যাঁকে আসামের নলবাড়ি জেলায় তাঁর বাড়ি থেকে পুলিশ ডেকে নিয়ে যাওয়ার অনেক দিন পরে ঢাকার মিরপুরে খুঁজে পেয়েছিল বিবিসি বাংলা, তাঁর বর্ণনাতেও উঠে এসেছিল যে কীভাবে রাতের অন্ধকারে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সোনালি খাতুন নামে পশ্চিমবঙ্গের এক গর্ভবতী নারীকে তাঁর পরিবারসহ বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশেরই আদালত রায় দিয়েছিল যে ওই নারী ভারতীয় নাগরিক। তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাই যাদের ‘পুশ-ব্যাক’ করা হচ্ছে, তাঁরা যে সকলেই বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারতে অবৈধ উপায়ে এসেছিলেন, সেই দাবি সত্য নয়। আসামের নলবাড়ির বাসিন্দা সাকিনা বেগমকে চার মাস পরে ঢাকায় খুঁজে পেয়েছিল বিবিসি বাংলা হিমন্ত বিশ্বশর্মা কেন এই মন্তব্য করলেন? আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এমন একটা সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং ভারত থেকে ‘পুশ-ব্যাক’ করার আইন-বহির্ভূত পদ্ধতির কথা প্রকাশ্যে বললেন, যখন দিল্লি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতিসাধনের বার্তা দিতে চাইছে ঢাকাকে। বিশ্লেষকরা মনে করেন শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়া ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্কে যে শীতলতা এসেছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ঘোষণা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই প্রথমবার ঢাকায় পেশাদার কূটনীতিকের বদলে একজন রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হচ্ছে। দীনেশ ত্রিবেদীর নাম বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে মাত্রই সোমবার। এরকম একটা সময়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্য কিছুটা বিস্ময়কর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ শ্রীরাধা দত্ত বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আসামে অনুপ্রবেশের সমস্যা আছে ঠিকই। কিন্তু সমস্যাটা দুই দিক থেকে দেখা দরকার।” “একদল যেমন অবৈধভাবে হয়তো আসামে প্রবেশ করছেন, তেমনই তাঁরা ভারতে এসে যে জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে ফেলছেন, এটা ভারতের সমস্যা। কীভাবে তাঁরা পরিচয়পত্র পাচ্ছেন?” প্রশ্ন শ্রীরাধা দত্তের। তাঁর ভাষায়, সমস্যাটা দুই দেশের, তাদের দুই পক্ষকে মিলেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে হিমন্ত বিশ্বশর্মা যে মন্তব্য করেছেন, তা সমস্যা সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে না বলেই তিনি মনে করেন। “ভারত যদি গ্লোবাল সাউথের নেতা বলে নিজেদের দাবি করে, তাদের আরও পরিণত আচরণ দেখাতে হবে, দায়িত্বশীল হিসাবে তুলে ধরতে হবে। এরকম একটা মন্তব্য, যে আমরা তো এভাবে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে—এসব বলে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না,” বলছিলেন শ্রীরাধা দত্ত। ঢাকায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী অবশ্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যকে ‘সমর্থন’ করছেন না, তবে তিনি মনে করেন ‘তিনি ভুল কিছু বলেননি’। তাঁর ভাষায়, “হিমন্ত বিশ্বশর্মা যা বলেছেন, তা নতুন কিছু কথা নয়। আমরা সবাই জানি যে এভাবেই পুশ-ব্যাক হয়, উনি সেটাকে সামনে এনে ফেলেছেন মাত্র।” “সেটা বলাটা ঠিক হয়েছে কী না ভুল, সেই তর্কে না গিয়েও আমি এটা বলতে পারি যে ভারত থেকে যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ধরা হয়, তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে একটা পদ্ধতিগত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই আছে। ধৃত বাংলাদেশিদের তালিকা দেয় ভারত, তাদের ঠিকানা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয় যাচাই করার জন্য; কিন্তু বাংলাদেশ সেটা দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখে। সেজন্য কিছুটা বাধ্য হয়েই এই পুশ-ব্যাক করার পদ্ধতিটা নিয়েছে, যাতে ধৃতদের তাড়াতাড়ি ফেরত পাঠানো যায়,” তিনি বলছিলেন। তবে কিছু ঘটনায় এভাবে পুশ ব্যাক করা ব্যক্তিদের পরবর্তীতে ভারতীয় নাগরিক বলে প্রমাণ হতেও দেখা গেছে, যাদের আবার ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে অভিজ্ঞ সাবেক এই কূটনীতিক বলছিলেন, “অনেক সময়েই অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আর কূটনীতি আলাদাভাবে পথ চলে। তিনি হয়তো তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে এই কথাগুলো বলেছেন। তাঁর এই কথাগুলো বলাটা উচিত হয়েছে কী না, তা নিয়ে আমি মন্তব্য করব না।”
লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় পুড়ছে মানুষ, পকেটে ধরানো হচ্ছে ভূতুড়ে বিল! আর বিদ্যুৎ না দিয়েও বসে বসে ৪২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে সিন্ডিকেট! আমাদের দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫-১৬ হাজার মেগাওয়াট। আর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা ২৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। হিসাব অনুযায়ী আমাদের কোনো লোডশেডিং থাকার কথা নয়। তাহলে কারেন্ট যায় কোথায়? ক্যাপাসিটি চার্জের ফাঁদ : ডলার সংকটে তেল-গ্যাস কিনতে না পারায় অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে আছে। কিন্তু ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ নামক ভয়ংকর চুক্তির কারণে, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও এসব কেন্দ্রকে বসে বসে হাজার হাজার কোটি টাকা দিতে হচ্ছে! গত বছর এই ভর্তুকি ছিল ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা এবার ৬২ হাজার কোটিতে ঠেকতে পারে। কালো আইন : ২০১০ সালের দায়মুক্তি আইন ব্যবহার করে টেন্ডার ছাড়াই নিজেদের পছন্দের লোকজনকে বিদ্যুৎকেন্দ্র করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শোষিত হচ্ছে জনগণ : এই অলস কেন্দ্রগুলোকে টাকা দিতে গিয়ে সরকার বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে ভুল রিডিংয়ের ‘ভূতুড়ে বিল’! দেশীয় গ্যাস তোলা বা সোলার প্যানেল বসানোর দিকে নজর না দিয়ে, আমদানিনির্ভর এই সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে শুধু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পকেট ভারী করার জন্য। বিশেষজ্ঞদের দাবি—অবিলম্বে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পে’ (বিদ্যুৎ না দিলে টাকা নেই) নীতি চালু করতে হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই হরিলুট কি মেনে নেওয়া যায়? আপনার গত মাসের বিদ্যুৎ বিল কত এসেছে?
চলতি বছর পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে আজ পর্যন্ত ৯৪টি ফ্লাইটে মোট ৩৭ হাজার ৭৯২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন জানান, আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে জেদ্দায় ৯৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনকে হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হজ কার্যক্রম ব্যবস্থাপনায় ৩০টি প্রধান অ্যাজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারীসহ মোট ৬৬০টি অ্যাজেন্সি কাজ করছে। এয়ারলাইনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৪১টি ফ্লাইটে ১৬ হাজার ৮৬৯ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৩৫টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৬৮১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৪২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশি বাকি ৪০ হাজার ৫০৫ জন হজযাত্রী নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন বলে জানান পরিচালক। হজ অফিস জানায়, এ বছর দেশ থেকে ৪ হাজার ৫৬৫ জন হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন। ঢাকায় সৌদি দূতাবাস গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৭৮ হাজার ২৯৭ জনের ভিসা ইস্যু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৪১৯টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৮৭৮টি। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।