এবারের আইপিএলে ব্যাট হাতে যে পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বৈভাব সুরিয়াভানশি, তাতে মুগ্ধ নাসের হুসেইন। ভারতের এই বিস্ময়-বালককে যত দ্রুত সম্ভব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখতে চান ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক।
২০২৫ সালের আইপিএল দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নজরে আসেন সুরিয়াভানশি। সেবার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ৩৫ বলের সেঞ্চুরিতে আলোড়ন ফেলে দেন তিনি। নিজের প্রথম আইপিএল অভিযানে সাত ইনিংসে ২৫২ রান করেন ২০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে।
সদ্য শেষ হওয়া আইপিএলে দেখা মেলে আরও পরিণত সুরিয়াভানশির। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১৫ ইনিংসে আসরের সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান করেন ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে। একটি সেঞ্চুরি, তিনটি নব্বই ছোঁয়া ইনিংস, সঙ্গে আরও দুটি ফিফটি উপহার দেন তিনি। চারের (৬৩) চেয়ে বেশি মারেন ছক্কা (৭২)। ব্যাটিং তাণ্ডবে আসর শেষে একাই পাঁচটি পুরস্কার জেতেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
বয়স কেবল ১৫ হলেও, ব্যাট হাতে যা দেখাচ্ছেন সুরিয়াভানশি, তাতে তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত মনে করছেন সুনিল গাভাস্কার, রাভি শাস্ত্রি, ভিরেন্দার শেবাগ, কুমার সাঙ্গাকারাসহ আরও অনেকে।
আইসিসি রিভিউয়ে কথা বলার সময় এবার নাসেরও বললেন একই কথা।
“এটার (তাকে ভারত দলে নেওয়া উচিত কি-না) সবচেয়ে সহজ উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ, তাকে অবশ্যই খেলাতে হবে। সত্যি বলতে, আইপিএলের খুব বেশি ম্যাচ আমি দেখিনি। তবে কিছু ভিডিও ক্লিপ দেখেছি, কী অসাধারণ এক প্রতিভা সে।
আইপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডও গড়েছেন সুরিয়াভানশি। তার ব্যাটিং নিয়ে মুগ্ধতার কথা বলেছেন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সাচিন টেন্ডুলকার। সুরিয়াভানশির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে গিয়ে, টেন্ডুলকারকে প্রথম দেখার স্মৃতিচারণও করলেন নাসের।
“ইংল্যান্ডের জার্সিতে আমার শুরুর দিকের ম্যাচগুলোর একটি ছিল নেহরু কাপে, ঘটনাটা এতদিন আগের! তখন এমন এক প্যাড পরে একজন তরুণ মাঠে হেঁটে এসেছিল, যা আমি আগে কখনও দেখিনি, তার নাম ছিল সাচিন টেন্ডুলকার। আমি অবাক হয়েছিলাম।
“দেখলাম, সুরিয়াভানশির ব্যাট সুইং নিয়ে সাচিন টুইট (বর্তমান এক্স) করেছে, কেউ যদি সাচিন টেন্ডুলকারকে মুগ্ধ করতে পারে, যদি ভিরাট কোহলি ও বাকিদের মুগ্ধ করতে পারে—তার মানে সে আসলে সবাইকেই মুগ্ধ করেছে। কী অবিশ্বাস্য এক প্রতিভা।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বহু কাঙ্ক্ষিত প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেছেন আলেক্সান্ডার স্ফেরেফ। ইয়াকুব মেনসিককে হারিয়ে ফরাসি ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন জার্মান তারকা। প্যারিসে শুক্রবার পুরুষ এককের প্রথম সেমি-ফাইনালে ৭-৫, ৬-২, ৩-৬, ৬-৩ গেমে জিতেছেন ২৯ বছর বয়সী স্ফেরেফ। আরেক সেমি-ফাইনালে দুই ইতালিয়ান ফ্লাভিও কবোল্লি ও মাত্তেও আর্নালদির মধ্যে জয়ীর বিপক্ষে আগামী রোববার শিরোপা লড়াইয়ে নামবেন তিনি। দুই বছর আগের ফরাসি ওপেনসহ মোট তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল হেরেছেন স্ফেরেফ। চতুর্থবারের চেষ্টায় তিনি ট্রফিতে চুমু আঁকতে পারেন কি-না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডেতে নিয়মিত রান পেলেও ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না তাওহিদ হৃদয়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সেই প্রস্তুতিই সেরে নিলেন তিনি। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক উপহার দিলেন টানা দুটি সেঞ্চুরি। আগের ম্যাচে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে শতরানের পর এবার গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বোলারদের উপর তান্ডব চালিয়ে তিন অঙ্কের ঠিকানায় পৌঁছে যান হৃদয়। ঝড়ো সেঞ্চুরিতে অবশ্য পরে তাকেও ছাড়িয়ে যান অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শুক্রবার পিকেএসপিতে ৬৫ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান হৃদয়। তার লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি এটি। মুশফিকের সেঞ্চুরি আসে ৫৪ বলে। ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরির পথে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেন তিনি। জাতীয় দলে মিডল অর্ডারে খেললেও এবারের লিগে তিন নম্বরে ব্যাট করছেন। টসজয়ী মোহামেডানকে ভালো শুরু এনে দেন এনামুল হক ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ। উদ্বোধনী জুটিতে ১০৭ রান তোলেন দুজন। ৬০ বলে ৫৩ করে নাঈম বিদায় নেওয়ার পর ক্রিজে যান হৃদয়। হাত খুলতে সময় নেননি খুব বেশি। ক্রিজে যাওয়ার পরপরই তিনি চড়াও হন মোহাম্মদ রুবেলের ওপর। আগের ম্যাচে ৬ উইকেট শিকারি রহস্য স্পিনার যেন অসহায় হয়ে পড়েন হৃদয়ের সামনে। তার প্রথম চার বলের তিনটিই ছিল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে। তিনটিতেই কাভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান হৃদয়। চার বলে তিন চার হজমের পর কিছুটা মিডিয়াম পেসারের মতো অ্যাকশনে বল করেন রুবেল। তবুও রেহাই পাননি। এবার স্কয়ার লেগ দিয়ে চার আদায় করে নেন হৃদয়। ওই ওভার শেষে হৃদয়ের রান দাঁড়ায় ১০ বলে ১৯! রুবেলের ওই ওভারের পর হৃদয়ের স্ট্রাইক রেট একশর বেশি ছিল ৩৫ বল পর্যন্ত। পরে গতি কিছুটা কমলেও শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। এরপর এগোতে থাকেন টর্নেডোর গতিতে। ফিফটি থেকে শতরানে যেতে বল লাগে কেবল ১৯টি! শেষ পর্যন্ত ৬৬ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থেকে ছাড়েন মাঠ। তার ইনিংসে চার ৮টি, ছক্কা ৪টি। হৃদয়ের এমন ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সময় অপরপ্রান্তে ছিলেন মুশফিক, যাকে তিনি আদর্শ মানেন ছেলেবেলা থেকেই। ৬৮ বলে ৬২ রান করে এনামুলের বিদায়ের পর ২৫তম ওভারে ক্রিজে যান মুশফিক। তার ব্যাট উত্তাল হয়ে ওঠে দ্রুতই। প্রথম ১৫ বলেই করে ফেলেন তিনি ৩৩ রান। পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ৩৪ বলে। এরপর আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। পরের পঞ্চাশে যেতে বল খেলেন তিনি ২০টি। আউট হয়ে যান অবশ্য শতরানের পরই। তার ইনিংসে ছক্কা আধ ডজন, চার ৮টি। দুজনের জুটিতে ১৭৩ রান আসে স্রেফ ১৬ ওভারেই! বৃষ্টির কারণে ৪২ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে শিরোপা প্রত্যাশী মোহামেডান তোলে ৩৩৪ রান। তাদের দুজনের এমন ঝড়ো ইনিংসের দিনে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানের। এবারের লিগে প্রথম খেলতে নেমেই নিজেকে মেলে ধরেন তিনি চেনা চেহারায়। লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে আবাহনীর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৩০ রানে ৪ উইকেট নেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার।
ক্লাব ফুটবলে দারুণ এক মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন লেয়ান্ড্রো ট্রসাড। আর্সেনালের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বেলজিয়াম ফরোয়ার্ড বিশ্ব মঞ্চেও নিজের একই ছন্দে ছুটতে চান। ২০০৪ সালের পর আর লিগ শিরোপা জয়ের স্বাদ পাচ্ছিল না আর্সেনাল। এবার ২২ বছরের সেই অপেক্ষার অবসান করে তারা। লন্ডনের ক্লাবটির সাফল্যের পথে ৩১ ম্যাচ খেলে ছয়টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন ট্রসাড। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও ওঠে আর্সেনাল, তবে টাইব্রেকারে তারা হেরে যায় পিএসজির বিপক্ষে। এই প্রতিযোগিতায়ও উজ্জ্বল ছিলেন ট্রসাড, ১১ ম্যাচে একটি গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। ফাইনালে কাই হাভার্টজের গোলে অবদান ছিল তার। জাতীয় দলের সঙ্গে দেরিতে (বৃহস্পতিবার) যোগ দেন ৩১ বছর বয়সী ট্রসাড। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, বৈশ্বিক আসরে খেলতে মুখিয়ে থাকার কথা। “মাঠে নামার জন্য আমার তর সইছে না। সবাই দারুণ উদ্দীপনা নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে, যেটা খুবই ইতিবাচক দিক। এখন পর্যন্ত কেবল একটি অনুশীলন সেশনে অংশ নিতে পেরেছি, তাই এখনও বিশেষ কিছু নজরে পড়েনি। তবে সবাইকে খুব মনোযোগী ও বিশ্বকাপ শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত মনে হচ্ছে।” সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে ট্রসাডকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন কিনা। “এটার উত্তর দেওয়া সবসময়ই কঠিন। তবে আমি নিশ্চিতভাবেই ভালো ফর্মে আছি এবং আশা করি, সেটা বিশ্বকাপে ধরে রাখতে পারব।” আর্সেনালের জার্সিতে শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা জাতীয় দলে কাজে লাগাতে চান এই লেফট-উইঙ্গার। “শিরোপা জেতার আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলোয়াড়রা এখানে (জাতীয় দলে) এলে, তা দলের জন্য খুব ভালো; তবে সেটা (দলে) আপনার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনে না। আমার ক্ষেত্রেও সেটা ব্যতিক্রম নয়, তবে আমি সেই অভিজ্ঞতা জাতীয় দলে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।” যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী বৃহস্পতিবার পর্দা উঠবে ‘দা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের।’ যেখানে ‘জি’ গ্রুপে পড়েছে বেলজিয়াম। ১৫ জুন মিশরের বিপক্ষে লড়াই দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা। গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইরান ও নিউ জিল্যান্ড।