‘ফেভারিট’ স্পেন ও উরুগুয়েকে রুখে দিয়ে এরই মধ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছে কেইপ ভার্ড। বিশ্বজুড়ে তাদের সমর্থকও জুটে গেছে অনেক। বিষয়টি দারুণ উপভোগ করছেন পিকো লোপেস। সৌদি আরবের বিপক্ষে গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ সামনে রেখে, এই ডিফেন্ডার বললেন, একই মানসিকতা, সাফল্য ক্ষুধা নিয়ে নামবেন তারা।
হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৬টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। ‘এইচ’ গ্রুপের টেবিলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে স্পেন। উরুগুয়ে ও কেইপ ভার্ডের পয়েন্ট সমান ২ করে। সৌদি আরবের পয়েন্ট ১। এই গ্রুপ থেকে পরের ধাপে যাওয়ার দরজাটা এখনও উন্মুক্ত সবার জন্যই।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসে চমক দেখানো কেইপ ভার্ড গ্রুপ পর্বেই থেমে যেতে রাজি নয়। দলটির ডিফেন্ডার লোপেস বললেন, নিজেদের উপর আস্থা আছে তাদের।
বিশ্বজুড়ে যে সমর্থন আমরা পাচ্ছি, চমৎকার। এটা আসলেই বিশেষ কিছু। এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, এখনও আমরা এখানে, কিন্তু এইসব টুর্নামেন্টে আপনি মেধার কারণেই খেলার সুযোগ পাবেন।
আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং কেইপ ভার্ড ফুটবল ফেডারেশন নিশ্চিতভাবে সেরা মেধাবীদের তৈরি করতে কঠোর পরিশ্রম করেছে। এটা সহজ ছিল না, কিন্তু আমরা কখনও বিশ্বাস হারাইনি।
নিজেদের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস নিয়ে সৌদি আরবের বিপক্ষে খেলতে নামবে কেইপ ভার্ড, বললেন লোপেস। স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের মতো একই মানসিকতা, ক্ষুধা দলের থাকবে, মনে করেন তিনি।
আমরা স্পেনের বিপক্ষে দারুণ একটি পয়েন্ট পেয়েছিলাম এবং ওই ম্যাচটি আমাদের নিজেদের প্রতি আস্থা ও আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে যে, আমরা বিশ্বের সেরা দলের সাথেও পাল্লা দিতে পারি।
সৌদি আরবের বিপক্ষের ম্যাচটি সম্ভবত সেই ম্যাচ, যেখানে দুই দলই (টুর্নামেন্টে আসার আগে) ভেবেছিল, তারা কিছু অর্জন করতে পারবে এবং তিন পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছিল। কোনো কিছুই বদলায়নি, আমরা জয়ের চেষ্টা করব, দেখা যাক কী হয়। এখানে কোনো খারাপ দল নেই। স্পেন এবং উরুগুয়েকে যে সম্মানটা দেখিয়েছি, সৌদি আরবের প্রতিও সেটাই থাকবে আমাদের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে ভারত। ১৯ নভেম্বর থেকে কিউয়িদের বিরুদ্ধে টেস্টের আগে বড় সুখবর পেলো টিম ইন্ডিয়া। চোট কাটিয়ে ভারতীয় ‘এ’ দলের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে দেখা যেতে পারে পেস আক্রমনের প্রধান জশপ্রীত বুমরাহকে। শুধু বুমরাহ নন, এই ম্যাচে খেলতে পারেন ঋষভ পন্থও। তবে সবটাই নির্ভর করছে বিসিসিআই মেডিক্যাল টিমের ফিটনেস সার্টিফিকেটের উপরে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন দুই টেস্টের সিরিজে ভারতীয় দলে রয়েছেন বুমরা ও পন্থ। ১৯ নভেম্বর থেকে ওয়েলিংটনে এবং ২৭ নভেম্বর থেকে ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার কথা। তার আগে দু’জনেই বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআই-এর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে (সিওই) প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানা গিয়েছে, গেল শুক্রবার পৌঁছেছেন পন্থ। বুমরা যোগ দিয়েছেন আজ। ১ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা বুমরাহর। তার আগে বাধ্যতামূলক রিটার্ন-টু-প্লে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে এই পেসারকে। এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন বুমরাহ। অক্টোবরের শুরুতে জাপানে সেই প্রতিযোগিতায় খেলেছিলেন তিনি। তবে টেস্ট থেকে দূরে অনেকদিন। এবার কিউয়িদের বিরুদ্ধে টেস্টে নামার আগে প্রস্তুতি সেরে নিতে চাইছেন তিনি। অন্য দিকে, ইরানি কাপে পেশিতে চোট পেয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। এই চোটের কারণে দিল্লির হয়ে রঞ্জি ট্রফির প্রথম রাউন্ডে খেলতে পারেননি পন্থ। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে প্রথম দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ থেকেও ছিটকে যান তিনি। জানা গিয়েছে, সিওই-তে হালকা অনুশীলন শুরু করেছেন পন্থ। তবে ব্যাটিং ড্রিল করলেও এখনও উইকেটকিপিং শুরু করেননি। ফলে তৃতীয় প্রস্তুুতি ম্যাচে তাঁর খেলা নির্ভর করছে ফিটনেসের উপরে। পন্থের পরিবর্ত হিসেবে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে প্রথম দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য ঝাড়খণ্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটার কুমার কুশাগ্রকে দলে নিয়েছেন নির্বাচকরা। পন্থ ফিট হয়ে উঠলে কিউয়িদের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ পেতে পারেন তিনি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) জাতীয় দলের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আসিয়ান কাপের পর এবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে দলের মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্বও পেয়েছেন আমের খান। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার নতুন ভূমিকা নিয়ে ফুটবলাঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বছরের বেশি সময় জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আমের খান। আসিয়ান কাপে তাঁকে টিম কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবার সাফের জন্য টিম কো-অর্ডিনেটরের পাশাপাশি মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। বাফুফেতে মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাদমান সাকিব। তাঁর বিভাগের ডেপুটি মিডিয়া ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ নওমী বিভিন্ন সময়ে নারী দলের টিম ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে সিনিয়র পুরুষ দলের ক্ষেত্রে মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব অন্য একজন কর্মকর্তাকে দেওয়ায় ফেডারেশনের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে আমের খান জানান, ফুটবলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা থাকলেও মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। জাতীয় দল কমিটির আগের সভায় সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানসহ একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন এবং সম্মিলিতভাবেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন। তবে জাতীয় দল কমিটির সদস্য ও জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাবু একই সঙ্গে বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় তাঁর অধীনস্থ বিভাগের মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালই দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আসিয়ান কাপের আগে আমের খানকে ম্যানেজারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আমিরুল ইসলাম বাবুকে ম্যানেজার করা হয়। নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেনকে দেওয়া হয় দলনেতার দায়িত্ব এবং আমের খানকে টিম কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাফের জন্য আমের খানকে আরও একটি দায়িত্ব দেওয়া হলেও ইকবাল হোসেন নতুন কোনো দায়িত্বের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি বা নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন। আসিয়ান কাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা আসিয়ান কাপে দলের শৃঙ্খলা ও ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। টিম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে আমের খানের প্রতিবেদনেও এসব বিষয় উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও জাতীয় দলের ম্যানেজার হিসেবে আমিরুল ইসলাম বাবুর ওপর আস্থা রেখেছে বাফুফে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, জাতীয় দল কমিটির কয়েকজন সদস্য সাদ ও সোহেলের বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এসব বিষয় আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন ছিল এবং সাফ ক্যাম্প শুরুর আগে এ নিয়ে একটি সভা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। জাতীয় দলের ক্যাম্পে শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে আমিরুল ইসলাম বাবু বলেছেন, সাফ ক্যাম্পে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে আসিয়ান কাপের সময় দলের শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন ছিল এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
প্রথমার্ধে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল বায়ার্ন মিউনিখ। বিরতির পর তাদের আত্মঘাতী গোলে লড়াইয়ে ফিরল কিছুটা উত্তেজনা, তবে শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার ব্যবধানেই জিতল জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। বুন্ডেসলিগায় রোববার ফ্রেইবুর্গের মাঠে ৩-১ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেও ফিরেছে তারা। গত শুক্রবার ক্লাবের রিজার্ভ দলের অনুশীলনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় বায়ার্ন কোচ ভেসোঁ কম্পানিকে। তাকে ছাড়া এটিই ছিল বায়ার্নের প্রথম ম্যাচ। তার অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব সামলেছেন সহকারী কোচ অ্যারন ড্যাঙ্কস। আগের দিন আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড জয় পাওয়ায় বায়ার্ন শীর্ষস্থান হারিয়েছিল। সেই অবস্থান পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে ষোড়শ মিনিটে দাইয়ু উপামেকানোর গোলে এগিয়ে যায় তারা। ৪২তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ান সের্গে জিনাব্রি। নির্ধারিত সময়ের আট মিনিট বাকি থাকতে বায়ার্ন মিডফিল্ডার টম বিশফের আত্মঘাতী গোল ইউরোপা-পার্ক স্টেডিয়ামে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তবে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মাইকেল ওলিসের গোলে বায়ার্নের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। সাত ম্যাচে পাঁচ জয় ও দুই ড্রয়ে বায়ার্নের পয়েন্ট ১৭। সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে ডর্টমুন্ড। ১৩ পয়েন্ট করে নিয়ে ফ্রেইবুর্গ তিনে ও বায়ার লেভারকুজেন চারে আছে। বায়ার্নের ক্রীড়া পরিচালক মাক্স ইবের্ল জানিয়েছেন, কম্পানিকে হয়তো কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। ম্যানচেস্টার সিটি ও বেলজিয়ামের সাবেক এই ডিফেন্ডার বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।