প্রবাসী

সৌদি আরবে বন্দি দেশের শ্রমবাজার

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ২০২৫ সালে বড় ভরসা ছিল প্রবাস আয়। তবে এই অর্জনের আড়ালে স্পষ্ট হয়ে উঠছে জনশক্তি রপ্তানির এক ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা। দেশের মোট অভিবাসী কর্মীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই গেছেন সৌদি আরবে। নতুন শ্রমবাজার না বাড়ায় এক দেশনির্ভর এই কাঠামো রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

 

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেছেন মোট ১১ লাখ ৩১ হাজার ১৪৪ জন কর্মী। এর মধ্যে সাত লাখ ৫৪ হাজার ৬৫৪ জন গেছেন সৌদি আরবে, যা মোট অভিবাসীর প্রায় ৬৭ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কাতার। দেশটিতে গেছেন এক লাখ সাত হাজার ৬০০ জন কর্মী, যা মোট অভিবাসনের ১০ শতাংশ।

 

তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুরে গেছেন ৭০ হাজার ১৮২ জন (৬ শতাংশ)। কুয়েতে গেছেন ৪২ হাজার ৭৩৫ জন এবং মালদ্বীপে গেছেন ৪০ হাজার ১৫৯ জন কর্মী, যা মোট অভিবাসনের প্রায় ৪ শতাংশ করে।

 


এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ১৩ হাজার ৭৫২ জন, জর্দানে ১২ হাজার ৩০১ জন, কম্বোডিয়ায় ১২ হাজার ২৫১ জন, ইতালিতে ৯ হাজার ৩৬৫ জন এবং কিরগিজস্তানে গেছেন ছয় হাজার ৬৫০ জন কর্মী।

 

১৪১ দেশে গেলেও বাজার সীমিত : রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে অভিবাসন করেছেন। তবে এর ৯০ শতাংশই গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। ১৪টি দেশে গেছেন মোট অভিবাসীর ৮ শতাংশ। বিপরীতে ১২৩টি দেশে গেছেন মাত্র ২ শতাংশ কর্মী। রামরু বলছে, ১৩টি দেশে একজন করে কর্মী গেছেন এবং ৩৪টি দেশে গেছেন ২ থেকে ১০ জন করে। যেসব দেশে ১০০ জনের কম অভিবাসী কর্মী যান, সেসব দেশকে কার্যকর শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।

 

ফ্রি ভিসা ও কর্মসংকট : সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বড় অংশই যান ফ্রি ভিসায়। এসব কর্মীকে নিজেই কাজ জোগাড় করতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত কর্মী যাওয়ায় দেশটিতে কাজের সুযোগ ক্রমেই কমছে। ফ্রি ভিসায় যাওয়া অনেক কর্মী প্রত্যাশিত কাজ পাচ্ছেন না। এমনকি চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবে বর্তমানে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ কর্মী পাঠানো হয়। ফলে পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিকদের প্রতি দেশটির ঝোঁক বাড়ছে।

 

মালয়েশিয়ার বাজারও অনিশ্চিত : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে বাজারটি খুললে ওই বছর যান ৫০ হাজার ৯০ জন। ২০২৩ সালে গেছেন তিন লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন। ২০২৪ সালে যান ৯৩ হাজার ৬৩২ জন। তবে ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় গেছেন মাত্র তিন হাজার ৬৬ জন।

 

সূত্র জানায়, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট এবং সেখানে কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে ২০২৪ সালের জুনে আবারও কার্যত বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দক্ষতাসংকট ও তাকামল পরীক্ষা : সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাকামল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ৫২টি পেশায় এই পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা সনদ প্রয়োজন হলেও ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ৭২টি পেশায় করা হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

 

তবে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত কেন্দ্র, প্রশিক্ষক ও জনবল না থাকায় সব জেলায় কার্যকরভাবে এই পরীক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব হয়নি। এতে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দালালচক্র পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নামে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

 

নারী অভিবাসন কমছে : ২০২৫ সালে বিদেশে গেছেন ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী কর্মী, যা মোট অভিবাসনের ৫.৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ১৫৮। যদিও এক বছরে সংখ্যা সামান্য বেড়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় নারী অভিবাসন কমছে।

 

২০১৬ সালে মোট শ্রম অভিবাসনের ১৬ শতাংশই ছিল নারী। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর এক লাখের বেশি নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। ২০২২ সালে নারী অভিবাসন ছিল এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৬৬ জন। কিন্তু ২০২৫ সালে তা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৪০.০৯ শতাংশ কমেছে।

 

রেমিট্যান্সে সৌদি আরব শীর্ষে : ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে সর্বাধিক এসেছে সৌদি আরব থেকে—১৫.৫২ শতাংশ। এরপর রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (১২.৫৮ শতাংশ), যুক্তরাজ্য (১২.৩০ শতাংশ), যুক্তরাষ্ট্র (১১.০৩ শতাংশ), মালয়েশিয়া (১০.০৩ শতাংশ), ওমান (৫.৭৭ শতাংশ), ইতালি (৫.৭৬ শতাংশ), কুয়েত (৫.১৬ শতাংশ), কাতার (৪.২৮ শতাংশ) ও সিঙ্গাপুর (৩.৭৬ শতাংশ)।

 

রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য এখনো বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হলেও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের অবদান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

অদক্ষ শ্রমের ফাঁদে বাংলাদেশ : বিএমইটি অভিবাসী কর্মীদের চার শ্রেণিতে ভাগ করে—পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ। বাস্তবে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে মূলত আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ শ্রমবাজারে। রামরুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেশাজীবী কর্মীর হার ছিল ৩-৪ শতাংশ, দক্ষ কর্মী ২০ থেকে ২২ শতাংশ এবং বাকি ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ ছিলেন স্বল্পদক্ষ বা অদক্ষ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের মান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব, বাজেটসংকট, জনবল ঘাটতি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির অনাগ্রহের কারণে দক্ষ শ্রমিক তৈরি হচ্ছে না।

 

উদ্বেগের বার্তা : রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের এক দেশকেন্দ্রিক শ্রমবাজার দীর্ঘদিনের সমস্যা। যখন এসব দেশে অতিরিক্ত কর্মী যান, তখনই বাজার বন্ধ হয়ে যায়—মালয়েশিয়া এবং ইউএই তার উদাহরণ। নতুন বাজার খোঁজার দায়িত্ব মূলত বেসরকারি খাতের, তবে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু সরকার, বায়রা কিংবা রিক্রুটিং এজেন্সি—কাউকেই কার্যকর ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না।’

 

 

 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমবাজার মূলত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের বাজার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সৌদি আরবই এখন ভরসা। সেখানে সমস্যা হলে আমরা বড় বিপদে পড়ব।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মায়ের সঙ্গে দুই সন্তান। ছবি: সংগৃহীত
ওমরাহ পালনে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কার পথে যাওয়ার সময় সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরও দুই সদস্য।   বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সৌদি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহতরা হলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)। আহত হয়েছেন রিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম খোকন ও বড় ছেলে নাবিল। শফিকুল ইসলামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়।   নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার মামাতো ভাই ও সৌদি প্রবাসী নাসিম আহমেদ কবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকালে রিনা, তার স্বামী এবং তিন সন্তান ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রিয়াদ থেকে মক্কার পথে রওনা হন। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর তাদের বহনকারী গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই রিনা, তার ছেলে তাসবিক ও মেয়ে জারা মারা যান। আহত হন পরিবারের অন্য দুই সদস্য।   দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে তানিয়া তাহমিনা রিনার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ বলেন, ‘আমার বোন, দুলাভাই এবং তাদের তিন সন্তান ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাচ্ছিলেন। পথে তাদের প্রাইভেট কারকে পেছন থেকে একটি বড় যানবাহন সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আমার বোন, ছোট ভাগনে ও ভাগনি নিহত হন।’   তিনি আরও বলেন, ‘তার ভগিনীপতি শফিকুল ইসলাম খোকন এবং বড় ভাগনে নাবিল গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।’

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমানের টিকিটে ছাড় ও বিমানবন্দরে বিশেষ সেবার সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ৩২ বাংলাদেশিসহ ১০৮ প্রবাসী আটক

ছবি: সংগৃহীত

গুগলের ‘কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬’-এ আমন্ত্রিত বাংলাদেশি দম্পতি পাভেল-সুমাইয়া

ছবি: সংগৃহীত
ষাটের পরও শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত, লন্ডনে সংবর্ধিত সৈয়দ জহুরুল হক

ষাটোর্ধ্ব বয়সে যুক্তরাজ্যের কেন্টারবারি ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করায় শিক্ষাবিদ, প্রবীণ সাংবাদিক ও বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষক সৈয়দ জহুরুল হককে লন্ডনে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।   বুধবার (২২ জুলাই) পূর্ব লন্ডনে দর্পণ বুক ক্লাবের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দর্পণ বুক ক্লাব।   ক্লাবের সভাপতি, প্রবীণ সাংবাদিক ও কবি রহমত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় এবং সৈয়দ জহুরুল হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়।   অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, ষাটোর্ধ্ব বয়সে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও শেখার আগ্রহের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা উল্লেখ করেন, শিক্ষা অর্জনের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই এবং সৈয়দ জহুরুল হক এ বার্তাই সমাজের সামনে তুলে ধরেছেন।   অনুষ্ঠানে তাকে উত্তরীয়, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বক্তারা প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং গুণীজনদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।   সংবর্ধনার জবাবে সৈয়দ জহুরুল হক আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এ সম্মান নিজের পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় জুলাই বিপ্লব নিয়ে আলোচনা সভা

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকে স্বাধীন পর্ষদ ও প্রবাসী পরিচালক নিয়োগের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী ও চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য নতুন রুটে জোর দিচ্ছে ইউএস-বাংলা

কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

কুয়েতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার বিভিন্ন ভবন থেকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সরিয়ে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদ হওয়া প্রবাসীদের জন্য হাসাবিয়া এলাকার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে খাবার, পানীয় ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। দূতাবাসের কাউন্সেলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার কাউন্সেলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে দলটি প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেয়। একই সঙ্গে স্থানীয় কুয়েতি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করে প্রতিনিধি দলটি। কুয়েতি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র থাকা প্রবাসীদের যাচাই শেষে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অবৈধ অবস্থানকারীদের ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ ছাড়া সাময়িক আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখিয়ে সেখানে থাকতে পারলেও কর্মস্থলে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে বাইরে বের হতে পারবেন না। পরিস্থিতি বিবেচনায় কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিদের আবাসনসংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার এবং চলাচলের সময় সিভিল আইডি বা বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

উগ্রবাদী পোস্টের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করল সিঙ্গাপুর

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে বর্ণবাদী হামলায় নিহত ইসহাক আলীকে স্মরণ, বৈষম্যবিরোধী লড়াই জোরদারের আহ্বান

ছবি : সংগৃহীত

খলিফা আল-থানির ইন্তেকালে অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম কমিউনিটির শোক প্রকাশ

0 Comments