প্রবাসী

সৌদি আরবে বন্দি দেশের শ্রমবাজার

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ২০২৫ সালে বড় ভরসা ছিল প্রবাস আয়। তবে এই অর্জনের আড়ালে স্পষ্ট হয়ে উঠছে জনশক্তি রপ্তানির এক ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা। দেশের মোট অভিবাসী কর্মীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই গেছেন সৌদি আরবে। নতুন শ্রমবাজার না বাড়ায় এক দেশনির্ভর এই কাঠামো রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

 

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেছেন মোট ১১ লাখ ৩১ হাজার ১৪৪ জন কর্মী। এর মধ্যে সাত লাখ ৫৪ হাজার ৬৫৪ জন গেছেন সৌদি আরবে, যা মোট অভিবাসীর প্রায় ৬৭ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কাতার। দেশটিতে গেছেন এক লাখ সাত হাজার ৬০০ জন কর্মী, যা মোট অভিবাসনের ১০ শতাংশ।

 

তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুরে গেছেন ৭০ হাজার ১৮২ জন (৬ শতাংশ)। কুয়েতে গেছেন ৪২ হাজার ৭৩৫ জন এবং মালদ্বীপে গেছেন ৪০ হাজার ১৫৯ জন কর্মী, যা মোট অভিবাসনের প্রায় ৪ শতাংশ করে।

 


এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ১৩ হাজার ৭৫২ জন, জর্দানে ১২ হাজার ৩০১ জন, কম্বোডিয়ায় ১২ হাজার ২৫১ জন, ইতালিতে ৯ হাজার ৩৬৫ জন এবং কিরগিজস্তানে গেছেন ছয় হাজার ৬৫০ জন কর্মী।

 

১৪১ দেশে গেলেও বাজার সীমিত : রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে অভিবাসন করেছেন। তবে এর ৯০ শতাংশই গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। ১৪টি দেশে গেছেন মোট অভিবাসীর ৮ শতাংশ। বিপরীতে ১২৩টি দেশে গেছেন মাত্র ২ শতাংশ কর্মী। রামরু বলছে, ১৩টি দেশে একজন করে কর্মী গেছেন এবং ৩৪টি দেশে গেছেন ২ থেকে ১০ জন করে। যেসব দেশে ১০০ জনের কম অভিবাসী কর্মী যান, সেসব দেশকে কার্যকর শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।

 

ফ্রি ভিসা ও কর্মসংকট : সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বড় অংশই যান ফ্রি ভিসায়। এসব কর্মীকে নিজেই কাজ জোগাড় করতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত কর্মী যাওয়ায় দেশটিতে কাজের সুযোগ ক্রমেই কমছে। ফ্রি ভিসায় যাওয়া অনেক কর্মী প্রত্যাশিত কাজ পাচ্ছেন না। এমনকি চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবে বর্তমানে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ কর্মী পাঠানো হয়। ফলে পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিকদের প্রতি দেশটির ঝোঁক বাড়ছে।

 

মালয়েশিয়ার বাজারও অনিশ্চিত : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে বাজারটি খুললে ওই বছর যান ৫০ হাজার ৯০ জন। ২০২৩ সালে গেছেন তিন লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন। ২০২৪ সালে যান ৯৩ হাজার ৬৩২ জন। তবে ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় গেছেন মাত্র তিন হাজার ৬৬ জন।

 

সূত্র জানায়, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট এবং সেখানে কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে ২০২৪ সালের জুনে আবারও কার্যত বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দক্ষতাসংকট ও তাকামল পরীক্ষা : সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাকামল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ৫২টি পেশায় এই পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা সনদ প্রয়োজন হলেও ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ৭২টি পেশায় করা হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

 

তবে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত কেন্দ্র, প্রশিক্ষক ও জনবল না থাকায় সব জেলায় কার্যকরভাবে এই পরীক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব হয়নি। এতে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দালালচক্র পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নামে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

 

নারী অভিবাসন কমছে : ২০২৫ সালে বিদেশে গেছেন ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী কর্মী, যা মোট অভিবাসনের ৫.৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ১৫৮। যদিও এক বছরে সংখ্যা সামান্য বেড়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় নারী অভিবাসন কমছে।

 

২০১৬ সালে মোট শ্রম অভিবাসনের ১৬ শতাংশই ছিল নারী। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর এক লাখের বেশি নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। ২০২২ সালে নারী অভিবাসন ছিল এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৬৬ জন। কিন্তু ২০২৫ সালে তা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৪০.০৯ শতাংশ কমেছে।

 

রেমিট্যান্সে সৌদি আরব শীর্ষে : ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে সর্বাধিক এসেছে সৌদি আরব থেকে—১৫.৫২ শতাংশ। এরপর রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (১২.৫৮ শতাংশ), যুক্তরাজ্য (১২.৩০ শতাংশ), যুক্তরাষ্ট্র (১১.০৩ শতাংশ), মালয়েশিয়া (১০.০৩ শতাংশ), ওমান (৫.৭৭ শতাংশ), ইতালি (৫.৭৬ শতাংশ), কুয়েত (৫.১৬ শতাংশ), কাতার (৪.২৮ শতাংশ) ও সিঙ্গাপুর (৩.৭৬ শতাংশ)।

 

রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য এখনো বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হলেও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের অবদান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

অদক্ষ শ্রমের ফাঁদে বাংলাদেশ : বিএমইটি অভিবাসী কর্মীদের চার শ্রেণিতে ভাগ করে—পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ। বাস্তবে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে মূলত আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ শ্রমবাজারে। রামরুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেশাজীবী কর্মীর হার ছিল ৩-৪ শতাংশ, দক্ষ কর্মী ২০ থেকে ২২ শতাংশ এবং বাকি ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ ছিলেন স্বল্পদক্ষ বা অদক্ষ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের মান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব, বাজেটসংকট, জনবল ঘাটতি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির অনাগ্রহের কারণে দক্ষ শ্রমিক তৈরি হচ্ছে না।

 

উদ্বেগের বার্তা : রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের এক দেশকেন্দ্রিক শ্রমবাজার দীর্ঘদিনের সমস্যা। যখন এসব দেশে অতিরিক্ত কর্মী যান, তখনই বাজার বন্ধ হয়ে যায়—মালয়েশিয়া এবং ইউএই তার উদাহরণ। নতুন বাজার খোঁজার দায়িত্ব মূলত বেসরকারি খাতের, তবে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু সরকার, বায়রা কিংবা রিক্রুটিং এজেন্সি—কাউকেই কার্যকর ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না।’

 

 

 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমবাজার মূলত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের বাজার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সৌদি আরবই এখন ভরসা। সেখানে সমস্যা হলে আমরা বড় বিপদে পড়ব।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
সৌদি প্রবাসীদের যে বিষয়ে সতর্ক করলো কনস্যুলেট

সৌদি আরবে অবস্থানরত সব প্রবাসীকে সাদা কাগজে সই কিংবা টিপসই দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বুধবার (২৪ জুন) কনস্যুলেটের কাউন্সেলর মো. মেহবুব জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবে অবস্থানরত সব প্রবাসী বাংলাদেশির অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুরোধে কিংবা নির্দেশনায় সাদা কাগজে কোনও ধরনের সই ও টিপসই দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এমনটা না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ধরনের অসতর্কতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তি বা চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন আর্থিক প্রতারণা, জাল দলিলপত্র প্রস্তুত, অবৈধ লেনদেন বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ফৌজদারি মামলা, আর্থিক ক্ষতি, জেল-জরিমানা কিংবা অন্যান্য আইনগত শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন।   এই অবস্থায় কোনও লিখিত কাগজপত্র বা ডকুমেন্টে সই কিংবা টিপসই দেওয়ার আগে তার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণরূপে বুঝে ও যাচাই করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সব প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে দাবদাহের তাণ্ডব, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বাংলাদেশি প্রবাসীরা

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর, সৌদিতে সম্পত্তি মালিকানার সুযোগ সম্প্রসারণ

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের জন্য সুখবর, ভিসা ও আবাসন নীতি সহজ করল ওমান

ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মানবিক সংকটে থাকা তিন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরাল দূতাবাস

কুয়েতে অসুস্থতা ও মানবিক সংকটে থাকা তিন বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাজিরা এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছান।   দেশে ফেরা তিন প্রবাসী হলেন তছিরন বিবি, সানজিদা আক্তার এবং মো. ইসমাইল। উন্নত জীবনের আশায় কুয়েতে গেলেও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন।   দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, অর্থাভাবের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি দূতাবাসের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।   বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা, ট্রাভেল পাস ইস্যু, আইনি ছাড়পত্র সংগ্রহসহ দেশে ফেরার প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়া তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।   দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের যেকোনো সংকটে সহায়তা দিতে সরকার ও দূতাবাস সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, দেশে ফেরার পর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।   প্রবাসীদের প্রতি দূতাবাসের এই মানবিক উদ্যোগ বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী আটক

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী আটক

ছবি: সংগৃহীত
ইতালিতে কাজ না পেয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীর আত্মহত্যা, লাশ দেশে পাঠাচ্ছে দূতাবাস

ইতালিতে কাজ না পেয়ে এবং চরম আর্থিক সংকটের কারণে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্যমতে, গত শুক্রবার ইতালির কাতানিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে জিন্নাত খান খোকন (৪০) নামে ওই ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   নিহত জিন্নাত খান খোকন বাগেরহাট সদর উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। তিনি পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত বছর প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে দালালের মাধ্যমে ইউরোপে পাড়ি জমান।   পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমে তিনি বুলগেরিয়ায় পৌঁছান এবং পরে অবৈধ পথে ইতালিতে প্রবেশ করেন। তবে সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বৈধ কাজ বা স্থায়ী আয় না থাকায় তিনি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েন। পাশাপাশি দেশে থাকা ঋণদাতাদের চাপও তার মানসিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে তোলে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   নিহতের স্ত্রী সুমি বেগম জানান, পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় তারা জমি বিক্রি ও ঋণ নিয়ে স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।   এ ঘটনায় স্বামী-সন্তান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তারা সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন।   এদিকে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহত প্রবাসীর বিএমইটি কার্ড থাকায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ দেশে পাঠানোর সব ব্যয় বহন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।   দূতাবাস আরও জানায়, ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অযোগ্য হলে বদলাতে হতে পারে পেশা

ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, একজন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ আহমেদ মুত্তাকী

0 Comments