প্রবাসী

সৌদি আরবে বন্দি দেশের শ্রমবাজার

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৯, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ২০২৫ সালে বড় ভরসা ছিল প্রবাস আয়। তবে এই অর্জনের আড়ালে স্পষ্ট হয়ে উঠছে জনশক্তি রপ্তানির এক ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা। দেশের মোট অভিবাসী কর্মীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই গেছেন সৌদি আরবে। নতুন শ্রমবাজার না বাড়ায় এক দেশনির্ভর এই কাঠামো রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

 

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে গেছেন মোট ১১ লাখ ৩১ হাজার ১৪৪ জন কর্মী। এর মধ্যে সাত লাখ ৫৪ হাজার ৬৫৪ জন গেছেন সৌদি আরবে, যা মোট অভিবাসীর প্রায় ৬৭ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কাতার। দেশটিতে গেছেন এক লাখ সাত হাজার ৬০০ জন কর্মী, যা মোট অভিবাসনের ১০ শতাংশ।

 

তৃতীয় অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুরে গেছেন ৭০ হাজার ১৮২ জন (৬ শতাংশ)। কুয়েতে গেছেন ৪২ হাজার ৭৩৫ জন এবং মালদ্বীপে গেছেন ৪০ হাজার ১৫৯ জন কর্মী, যা মোট অভিবাসনের প্রায় ৪ শতাংশ করে।

 


এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে গেছেন ১৩ হাজার ৭৫২ জন, জর্দানে ১২ হাজার ৩০১ জন, কম্বোডিয়ায় ১২ হাজার ২৫১ জন, ইতালিতে ৯ হাজার ৩৬৫ জন এবং কিরগিজস্তানে গেছেন ছয় হাজার ৬৫০ জন কর্মী।

 

১৪১ দেশে গেলেও বাজার সীমিত : রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে অভিবাসন করেছেন। তবে এর ৯০ শতাংশই গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। ১৪টি দেশে গেছেন মোট অভিবাসীর ৮ শতাংশ। বিপরীতে ১২৩টি দেশে গেছেন মাত্র ২ শতাংশ কর্মী। রামরু বলছে, ১৩টি দেশে একজন করে কর্মী গেছেন এবং ৩৪টি দেশে গেছেন ২ থেকে ১০ জন করে। যেসব দেশে ১০০ জনের কম অভিবাসী কর্মী যান, সেসব দেশকে কার্যকর শ্রমবাজার হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।

 

ফ্রি ভিসা ও কর্মসংকট : সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের বড় অংশই যান ফ্রি ভিসায়। এসব কর্মীকে নিজেই কাজ জোগাড় করতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত কর্মী যাওয়ায় দেশটিতে কাজের সুযোগ ক্রমেই কমছে। ফ্রি ভিসায় যাওয়া অনেক কর্মী প্রত্যাশিত কাজ পাচ্ছেন না। এমনকি চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া সৌদি আরবে বর্তমানে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে মূলত অদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ কর্মী পাঠানো হয়। ফলে পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিকদের প্রতি দেশটির ঝোঁক বাড়ছে।

 

মালয়েশিয়ার বাজারও অনিশ্চিত : দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে বাজারটি খুললে ওই বছর যান ৫০ হাজার ৯০ জন। ২০২৩ সালে গেছেন তিন লাখ ৫১ হাজার ৬৮৩ জন। ২০২৪ সালে যান ৯৩ হাজার ৬৩২ জন। তবে ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় গেছেন মাত্র তিন হাজার ৬৬ জন।

 

সূত্র জানায়, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট এবং সেখানে কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে ২০২৪ সালের জুনে আবারও কার্যত বন্ধ হয়ে যায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দক্ষতাসংকট ও তাকামল পরীক্ষা : সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাকামল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ৫২টি পেশায় এই পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা সনদ প্রয়োজন হলেও ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ৭২টি পেশায় করা হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

 

তবে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত কেন্দ্র, প্রশিক্ষক ও জনবল না থাকায় সব জেলায় কার্যকরভাবে এই পরীক্ষা বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব হয়নি। এতে অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি দালালচক্র পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নামে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

 

নারী অভিবাসন কমছে : ২০২৫ সালে বিদেশে গেছেন ৬২ হাজার ৩১৭ জন নারী কর্মী, যা মোট অভিবাসনের ৫.৫ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬১ হাজার ১৫৮। যদিও এক বছরে সংখ্যা সামান্য বেড়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় নারী অভিবাসন কমছে।

 

২০১৬ সালে মোট শ্রম অভিবাসনের ১৬ শতাংশই ছিল নারী। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর এক লাখের বেশি নারী কর্মী বিদেশে গেছেন। ২০২২ সালে নারী অভিবাসন ছিল এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৬৬ জন। কিন্তু ২০২৫ সালে তা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৪০.০৯ শতাংশ কমেছে।

 

রেমিট্যান্সে সৌদি আরব শীর্ষে : ২০২৫ সালে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের মধ্যে সর্বাধিক এসেছে সৌদি আরব থেকে—১৫.৫২ শতাংশ। এরপর রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (১২.৫৮ শতাংশ), যুক্তরাজ্য (১২.৩০ শতাংশ), যুক্তরাষ্ট্র (১১.০৩ শতাংশ), মালয়েশিয়া (১০.০৩ শতাংশ), ওমান (৫.৭৭ শতাংশ), ইতালি (৫.৭৬ শতাংশ), কুয়েত (৫.১৬ শতাংশ), কাতার (৪.২৮ শতাংশ) ও সিঙ্গাপুর (৩.৭৬ শতাংশ)।

 

রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য এখনো বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস হলেও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশের অবদান ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

অদক্ষ শ্রমের ফাঁদে বাংলাদেশ : বিএমইটি অভিবাসী কর্মীদের চার শ্রেণিতে ভাগ করে—পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ। বাস্তবে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে মূলত আধাদক্ষ ও স্বল্পদক্ষ শ্রমবাজারে। রামরুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পেশাজীবী কর্মীর হার ছিল ৩-৪ শতাংশ, দক্ষ কর্মী ২০ থেকে ২২ শতাংশ এবং বাকি ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ ছিলেন স্বল্পদক্ষ বা অদক্ষ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের মান, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব, বাজেটসংকট, জনবল ঘাটতি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির অনাগ্রহের কারণে দক্ষ শ্রমিক তৈরি হচ্ছে না।

 

উদ্বেগের বার্তা : রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের এক দেশকেন্দ্রিক শ্রমবাজার দীর্ঘদিনের সমস্যা। যখন এসব দেশে অতিরিক্ত কর্মী যান, তখনই বাজার বন্ধ হয়ে যায়—মালয়েশিয়া এবং ইউএই তার উদাহরণ। নতুন বাজার খোঁজার দায়িত্ব মূলত বেসরকারি খাতের, তবে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু সরকার, বায়রা কিংবা রিক্রুটিং এজেন্সি—কাউকেই কার্যকর ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না।’

 

 

 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমবাজার মূলত সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের বাজার ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সৌদি আরবই এখন ভরসা। সেখানে সমস্যা হলে আমরা বড় বিপদে পড়ব।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
৮ মাসে কানাডা থেকে ৩৪০ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন

কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক।   কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ভারত—৪ হাজার ২২৭ জন। এরপর মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জন, কলম্বিয়ার ৫৮০ জন, হাইতির ৫৩৫ জন এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০ জন, যা জাতীয়তা অনুযায়ী তালিকায় সপ্তম সর্বোচ্চ।   পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বহিষ্কারের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল শরণার্থী আবেদন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা। এ কারণে আট মাসে ১২ হাজার ৫ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানার কারণে ১ হাজার ৭৯৪ জন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জন এবং অন্যান্য কারণে ১১৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার আদেশ, ৩ হাজার ৩০৩ জনের ক্ষেত্রে প্রস্থান আদেশ এবং ৩ হাজার ১৭ জনের ক্ষেত্রে বহিষ্কার-নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।   মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৬৫৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ২৭০ জন, মার্চে ১ হাজার ৪৩২ জন, এপ্রিলে ১ হাজার ৯১৭ জন, মে মাসে ২ হাজার ৩৬৯ জন, জুনে ১ হাজার ৭৯১ জন, জুলাইয়ে ১ হাজার ৮৩৭ জন এবং আগস্টে ১ হাজার ৬২৩ জনকে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।   কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। একই সময়ে পুরো কানাডায় বহিষ্কার প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন এবং মেক্সিকোর ৬ হাজার ১০২ জন।   কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, কানাডায় বৈধভাবে প্রবেশ বা অবস্থানের অধিকার নেই—এমন বিদেশি নাগরিকদের আইন অনুযায়ী দেশ থেকে অপসারণ করা তাদের দায়িত্ব।    উল্লেখ্য, যাদের কানাডায় থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বহিষ্কার কার্যকর করা হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী চিকিৎসকদের সহায়তায় নতুন পদক্ষেপ এফবিএমএসএর

জীবিত অবস্থায় স্বামী মোহাম্মদ আবদুল হাকিম সবুজের সঙ্গে স্ত্রী তানজিলা ইসলাম আশা।

ভারতের বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি শিক্ষকের লাশ আট দিন আটকে রাখার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

কাতারের লুসাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহাকে প্রবাসীদের সংবর্ধনা

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ পাওয়ায় খন্দকার এম. তালহাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা।     বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের হলরুমে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।     এর আগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ও উঠে আসে।     দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহের, সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম, শাহ জামাল, অধ্যাপক তসলিম উদ্দিন, রশীদ পাটওয়ারি, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ, খেলাফত মজলিসের কাওছার উদ্দিন এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের সভাপতি আলতাফুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।       বক্তারা খন্দকার এম. তালহার পুনর্নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।     নতুন মেয়াদে ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরো জোরালোভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো বিস্তৃত ও গভীর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।     জবাবে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং দায়িত্ব পালনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা ও পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সঙ্গে দূতাবাসের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।     পুনর্নিয়োগের মাধ্যমে তার ওপর আস্থা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   খন্দকার এম. তালহা বলেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে দূতাবাসের কার্যক্রম আরো কার্যকর করার চেষ্টা থাকবে। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীদের সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।       রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।   ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন খন্দকার এম. তালহা। বহুপক্ষীয় কূটনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার কথা জানান তিনি।     ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশের ভাবমূর্তি ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় আরো বাড়িয়ে কার্যক্রমকে গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।       অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি), কাউন্সিলর মাহফুজা সুলতানা, দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেম, প্রথম সচিব শেখ মারেফত তারেকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমস্যা সমাধানে অভিযোগ সেল গঠন

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে বিপুল মাদক নিয়ে কুয়েত বিমানবন্দরে বাংলাদেশি আটক

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯

বিনা খরচে দুবাই যাচ্ছেন শরীয়তপুরের ১১ ওয়ার্কার, অপেক্ষায় ১৫৯ জন

দুবাই যাওয়ার আশায় ছয় মাস আগে এক দালালকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নূর হোসাইন।    দালাল টাকা নেওয়ার পর আর যোগাযোগ না করায় প্রতারণার শিকার হন তিনি। সেই ঋণের টাকা শোধ করতে গিয়ে পরিবার নিয়ে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে তাকে।   তবে সেই হতাশার মধ্যেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন ৩৫ বছর বয়সী নূর হোসাইন। কোনো টাকা খরচ না করেই কনস্ট্রাকশন কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে এবার দুবাই যাচ্ছেন তিনি।    নুর হোসেনের মতো শরীয়তপুরে হতদরিদ্র পরিবারের মোট ২১৬ জন যুবক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে ওয়ার্কার ভিসায় দুবাই যাচ্ছেন বিনা খরচে। আর এই উদ্যোগ নিয়েছে শরীয়তপুর ২নং আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো।   নূর হোসাইন নড়িয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর এলাকার কৃষক ইয়াজল মোল্লার ছেলে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা নূর সাত ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। তার চার ভাই বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন।   নূর হোসাইন বলেন, দুবাই যাওয়ার জন্য ছয় মাস আগে দালালকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এক লাখ টাকা ফেরত দিলেও আর টাকা ফেরত দেয়নি। প্রতারিত হয়েছি। স্থানীয় নুসা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। সেই টাকা শোধ করতে গিয়ে অনেকটা না খেয়ে থাকতে হয়েছে। টেনে-টুনে ৮০ হাজার টাকার মতো শোধ করেছি।   তিনি বলেন, এখন কনস্ট্রাকশনের কাজ শিখে বিনা খরচে ১১ জন দুবাই ওয়ার্কার ভিসায় যাচ্ছি। এখানে আমার এক টাকাও লাগেনি। প্রায় দেড় মাস স্টিল ফিক্সিংয়ের কাজ শিখেছি। এবার বিদেশে গিয়ে কাজ করে পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো।   শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজে নূর হোসাইন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার বিদেশ যাওয়ার সব খরচ বহন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।   ম্যাটকো এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি ও সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের ব্যক্তিগত সহকারী শাহাদাত হোসেন উজ্জ্বল বলেন, মোট ২১৬ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ওয়ার্কার হিসেবে দুবাই পাঠানো হবে। এর আগে ২২ আগস্ট ৪৬ জনকে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১১ জনের হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও ডকুমেন্টস প্রদান করা হয়েছে।   তিনি বলেন, এখনও আরও ১৫৯ জন দুবাই যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা স্টিল ফিক্সার, মেসন, ক্লিনারসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।   উজ্জ্বল জানান, কর্মীরা মাসে এক হাজার থেকে ১২শ দিরহাম বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি ওভারটাইমের সুযোগও থাকবে। একজন কর্মীকে দুবাই পাঠাতে আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।   আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ১১ জন দুবাইগামী কর্মীর হাতে পাসপোর্ট, ভিসা ও চেক তুলে দেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম।   এ সময় দুবাইগামী কর্মীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা যারা বিনা খরচে দুবাই যাচ্ছেন, আপনারা আমাদের দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আপনাদের জন্য আমরা গর্বিত। যারা দুবাই যাবেন, তারা দুবাইয়ের আইন মেনে যথাযথভাবে চলার চেষ্টা করবেন। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ এড়িয়ে চলবেন।   তিনি শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তার উদ্যোগ দেখে দেশের অন্যান্য সামর্থ্যবান ও আগ্রহী ব্যক্তিরাও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত হবেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট-ডিপেনডেন্ট ভিসা সংকুচিত করছে অস্ট্রেলিয়া

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে আরও বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

মিসাইল আতঙ্কে দ্রুত নামতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যু

0 Comments