হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। এই দাপুটে জয়ের পর দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপ ‘সি’-তে সেলেসাওদের সংগ্রহ এখন ৪ পয়েন্ট।
সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে স্কটল্যান্ড, আর টানা দুই হারে হাইতির ঝুলিতে এখনও কোনো পয়েন্ট জোটেনি।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ এখন স্কটল্যান্ড। সমীকরণ যা বলছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জাগছে—ওই ম্যাচে যদি কোনো কারণে হেরে যায় ব্রাজিল, তবে কী ঘটবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ভাগ্যে? তারা কি আসর থেকে ছিটকে যাবে?
উত্তর হচ্ছে—না, স্কটল্যান্ডের কাছে হারলেও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান এখনই থমকে যাবে না।
৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটের কল্যাণে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি ‘তৃতীয় স্থানধারী’ দলও শেষ ৩২-এর টিকিট পাবে। ফলে পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেলেও নকআউট পর্বে ওঠার একটা সুযোগ ব্রাজিলের সামনে থাকবে।
বর্তমানে গোল ব্যবধানে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। ব্রাজিলের গোল ব্যবধান যেখানে +৩, সেখানে মরক্কোর +১ এবং স্কটল্যান্ডের শূন্য।
শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ড যদি ব্রাজিলকে হারিয়ে দেয়, তবে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬-এ, আর ব্রাজিল আটকে থাকবে সেই ৪ পয়েন্টেই।
সেক্ষেত্রে ব্রাজিলের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে মরক্কো-হাইতি ম্যাচের ফলাফল।
মরক্কো যদি হাইতিকে হারিয়ে দেয়, তবে তাদের পয়েন্ট হবে ৭। সে ক্ষেত্রে মরক্কো ও স্কটল্যান্ড গ্রুপের শীর্ষ দুই দল হিসেবে সরাসরি শেষ ৩২-এ উঠবে, আর ব্রাজিল ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে।
আর মরক্কো-হাইতি ম্যাচটি ড্র হলে আফ্রিকান দলটির পয়েন্ট হবে ৫।
সেক্ষেত্রেও স্কটল্যান্ড ও মরক্কো ব্রাজিলের ওপরে অবস্থান করবে। অর্থাৎ ব্রাজিল হারলে এবং মরক্কো অন্তত ১ পয়েন্ট পেলেই শীর্ষ দুইয়ে থাকার সরাসরি সুযোগ শেষ হয়ে যাবে সেলেসাওদের।
মরক্কো যদি হাইতির কাছে নাটকীয়ভাবে হেরে যায়, তবে সমীকরণ পুরোটাই বদলে যাবে। তখন স্কটল্যান্ড ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হবে। অন্যদিকে ব্রাজিল ও মরক্কো উভয়েরই পয়েন্ট থাকবে ৪। ফলে দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণে চলে আসবে গোল ব্যবধানসহ অন্যান্য টাইব্রেকার হিসাব।
বর্তমান গোল ব্যবধানে মরক্কোর চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। তাই স্কটল্যান্ডের কাছে অল্প ব্যবধানে হারলে এবং মরক্কো পরাজিত হলে রানার্সআপ হয়েই পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে ব্রাজিলের। তবে বড় ব্যবধানে হারলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে যেতে পারে।
ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করলেও সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার জোরালো সম্ভাবনা থাকবে তাদের। তবে সেটি নির্ভর করবে অন্য গ্রুপগুলোর চুলচেরা ফলাফলের ওপর।
অবশ্য অন্যের ওপর ভরসা না করে সবচেয়ে সহজ পথটি ব্রাজিলের নিজেদের হাতেই রয়েছে। স্কটল্যান্ডকে হারাতে পারলে তারা ৭ পয়েন্ট নিয়ে নিশ্চিতভাবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। ম্যাচটি ড্র করলেও পয়েন্ট হবে ৫, যা শীর্ষ দুইয়ে থাকার জন্য যথেষ্ট হওয়ার কথা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার পর প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন কলম্বিয়ার উইঙ্গার হামিন্তন কাম্পাস। নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার আত্মগোপনে গেছেন বলে জানা গেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি কাম্পাস। পরে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ালে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে সুইজারল্যান্ড, আর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। ম্যাচ শেষে দলের সঙ্গে বোগোতাগামী বিমানে না ওঠায় তার অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। পরে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানায়, হুমকির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং হুমকিদাতাদের আচরণের নিন্দা জানায় সংস্থাটি। এরপর ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় কাম্পাস লেখেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি কলম্বিয়ার জার্সি পরে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। দেশের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় দলের প্রতি তার ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না এবং দেশের জন্য তিনি সবসময় সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একটি গোল করেছিলেন কাম্পাস। তবে শেষ ষোলোর সেই মিস করা সুযোগের পর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েন। ঘটনাটি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে নিহত হওয়া কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারের মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। এক বিবৃতিতে কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে কোনো ক্রীড়াবিদ বা তার পরিবারের সদস্যদের কখনোই হুমকি বা সহিংসতার শিকার হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে কাম্পাস ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। যে জয়ের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক বলেছেন, ‘এই জয়ে আমি খুবই আনন্দিত, এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন লড়াইয়ের একটি জয়।’ এর পাশাপাশি তিনি নিশ্চিত করে জানান, প্রতিপক্ষ দল তাদের চমকে দিতে পারেনি, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ ও কঠিন হতে যাচ্ছে। সামনে যা আসছে, তার আগে একটা স্বস্তিদায়ক সপ্তাহ কাটানোর জন্য আমাদের এই ধাপটি পার করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ আগামী বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসির জন্য এই সেমিফাইনালটি হবে বিশেষ, কারণ এটি হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। তাছাড়া, অফিসিয়াল কিংবা প্রীতি ম্যাচ—সব মিলিয়ে এবারই প্রথম তিনি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবেন। পরবর্তীতে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই তারকা ফুটবলার ম্যাচের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন এবং একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তায় লিখেছেন, ‘আমাদের আবারও কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে (কষ্ট করতে হয়েছে), কিন্তু এই দলটা কখনোই বিশ্বাস হারায় না। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে চলে এসেছি! আরও এগিয়ে যেতে হবে!’
ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোলটি নিয়ে এক নজিরবিহীন ও প্রযুক্তিগত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা আসরের ভাগ্য নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারত। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহামের গোলে ইংল্যান্ড ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরলেও, সেই গোলের বিল্ডআপে (আক্রমণ তৈরির মুহূর্তে) বলটি মাঠের ওপরে ঝুলন্ত ক্যামেরায় লেগেছিল বলে টেলিভিশনের রিপ্লেতে দেখা গেছে। ম্যাচ অফিশিয়ালদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া এই ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিতর্কের সূত্রপাত হয় নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নল্যান্ডের একটি গোল কিক থেকে। টিভি রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায়, বাতাসে ভাসমান বলটি মাঠের ওপর ঝুলে থাকা স্পাইডার ক্যামেরার তার বা কাঠামোতে আঘাত করে দিক পরিবর্তন করে এবং নিচে নেমে আসে। এরপরই বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন। তিনি বলটি অ্যান্থনি গর্ডনের দিকে বাড়িয়ে দিলে গর্ডনের পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন বেলিংহাম। ফিফার স্পষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, বল যদি মাঠের বাইরের কোনো বস্তু যেমন ক্যামেরা বা এর তারে আঘাত করে, তবে রেফারিকে সঙ্গে সঙ্গে খেলা থামিয়ে ‘ড্রপ বল’-এর মাধ্যমে পুনরায় খেলা শুরু করতে হবে। যেহেতু এই ঘটনাটি সরাসরি গোলের আগের আক্রমণভাগের অংশ ছিল, তাই ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোলটি বাতিল করার পূর্ণ সুযোগ ছিল রেফারিদের সামনে। ম্যাচ চলাকালীন ফক্স স্পোর্টসের সম্প্রচারে প্রিমিয়ার লিগের সাবেক প্রখ্যাত রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ বলেন, কোনো গোল হওয়ার প্রক্রিয়ায় বল যদি ক্যামেরার তারে লাগে, তবে ভিএআর অবশ্যই সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এটি সম্পূর্ণ রিভিউ করার মতো একটি ঘটনা ছিল এবং অফিশিয়ালদের এটি ধরা উচিত ছিল। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রথমার্ধ শেষে টানেলে ঢোকার মুখে নরওয়ের কোচ স্টেল সলবাকেন এবং তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে মাঠের প্রধান রেফারি ক্লেমেন্ট টারপিনের ওপর ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা যায়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে এই বিতর্কের জবাবে ফিফার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। তারা জানায়, বলের ভেতরে থাকা আধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি (Internal Tracking Technology) পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এবং ক্যামেরার কাঠামোর সঙ্গে বলের কোনো অস্বাভাবিক সংঘর্ষ বা আঘাতের সংকেত মেলেনি। ফিফার এই আশ্বাসেও অবশ্য নরওয়ে শিবিরের ক্ষোভ কমেনি। প্রযুক্তি বনাম খালি চোখের এই লড়াই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় রেফারিং বিতর্ক হিসেবে থেকে যাবে বলে মনে করছেন ফুটবলবোদ্ধারা। সূত্র: মার্কা