গিনির ২৩ বছর বয়সী তরুণী মা মারিয়াম সুমাহ প্রায় নয় মাস আগে শেষবারের মতো তার শিশু সন্তান সাবিনাকে দেখেছেন। বর্তমানে এই মা আছেন গিনিতে, আর তার এক বছর বয়সী মেয়ে সাবিনা তার মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বেলারুশের একটি এতিমখানায় পালিত হচ্ছে।
সুমাহ এবং তার পক্ষে থাকা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কয়েক মাস আগে বেলারুশ কর্তৃপক্ষ সুমাহকে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠায়। কিন্তু শিশুকন্যাকে সুমাহর সঙ্গে যেতে দেয়া হয়নি।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংগঠন ও গিনির কূটনীতিকরা এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গিনি রাজধানী কোনাক্রির বস্তি এলাকায় এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুমাহ বলেন, ‘আমি তাদেরকে অনেক অনুরোধ করেছি, তাদের কাছে অনেক কাকুতি-মিনতি করেছি, যেন তারা এটা (শিশুকে তার থেকে আলাদা করা) না করে।’
কথা বলার সময় তিনি তার মোবাইল ফোনে শিশু সাবিনার সাম্প্রতিক ছবি দেখান।
গত নভেম্বরে লাল পোশাক পরা এই ছোট্ট মেয়েটির বয়স এক বছর পূর্ণ হয়েছে।
দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় এক বুক রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সুমাহ আফ্রিকা পাড়ি দিয়ে বেলারুশে যান।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অভিবাসন রুট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিযোগ করেছে, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সরকার অভিবাসীদের বেলারুশ হয়ে ইইউতে প্রবেশে উৎসাহ দিচ্ছে।
অনলাইনে প্রলোভনের শিকার হয়ে শিক্ষার্থী ভিসায় বেলারুশে যান সুমাহ।
তিনি বলেন, ‘আমি সমুদ্রপথে ইউরোপে যেতে চাইনি। মানচিত্রে দেখলাম, বেলারুশ চারদিকে শেনজেনভুক্ত দেশ দিয়ে ঘেরা।’
বেলারুশে অবস্থানকালে ভিসা নবায়নের চেষ্টা করার সময়ই তার দুর্ভোগ শুরু হয়। সেখানে এক গিনির নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্কের ফলে তিনি গর্ভবতী হন।
ওই ব্যক্তি পরে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় তাকে ছেড়ে চলে যান।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগেই সুমাহ’র প্রসববেদনা শুরু হন। জন্মের সময় সাবিনার ওজন ছিল মাত্র ৬০০ গ্রাম। তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়।
তবে সুমাহর অভিযোগ, এরপর থেকেই তাকে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয় এবং বিপুল চিকিৎসা বিল পরিশোধের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। পরে অভিবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাকে আটক করা হয় এবং কন্যাসন্তানকে রেখে জোরপূর্বক বিমানে তুলে গিনিতে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বারবার বলেছি,আমার বাচ্চাকে ছাড়া আমি যাব না। অনুরোধ করেছি, শুধু তাকে সুস্থ হতে দিন, তারপর আমরা একসঙ্গে দেশে ফিরে যাব।’
তরুণীটি আরও বলেন, তারা আমার সেই অনুরোধে কর্ণপাত করেনি।
গত আগস্টে বহিষ্কারের পর থেকে তিনি মাত্র দু’বার স্বল্প সময়ের ভিডিও কলে সাবিনাকে দেখতে পেরেছেন। শিশুটি বর্তমানে মিনস্কের একটি এতিমখানায় রয়েছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনাকে ‘চরম উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
মস্কোতে অবস্থিত গিনির দূতাবাস জানিয়েছে, তারা বিষয়টি ‘গভীর মানবিক উদ্বেগের সঙ্গে’ পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
এই দূতাবাস বেলারুশেও দায়িত্বে রয়েছে।
দূতাবাস আরও জানায়, ইউনিসেফ বেলারুশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং শিশুটির জন্য মানবিক সহায়তা সংগঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে এএফপি’র অনুরোধে বেলারুশ কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
সুমাহ বলেন, জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের পর হাসপাতালে থাকাকালেই তার সন্তানের বিষয়ে তথ্য গোপন করা শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করতাম, আমার বাচ্চা কেমন আছে? তারা বলত, সে (মেয়েটি) অসুস্থ ও ক্লান্ত।’
দশ দিন পর তিনি মিনস্ক শহরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খুঁজে অবশেষে সেই হাসপাতালটি খুঁজে পান, যেখানে তার মেয়েকে রাখা হয়েছিল এবং প্রতিদিন সেখানে যেতেন।
পরে শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে প্রায় ৩৩ হাজার ডলারের চিকিৎসা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়।
সুমাহ বলেন, টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
সুমাহ জানান, গত গ্রীষ্মে হাসপাতালের এক নারী তাকে জানান যে সাবিনাকে এতিমখানায় পাঠানো হচ্ছে।
স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, কি?! কোন এতিমখানা?’
সুমাহ নিজেও একজন এতিম।
এ সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের চাপ আরও বাড়ে। নতুন করে পড়াশোনার মাধ্যমে ভিসা নেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
জুলাই মাসে তাকে অভিবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়।
বেলারুশে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান কনস্টান্টা এ ঘটনাকে অত্যন্ত কঠোর ও অমানবিক পদক্ষেপ বলে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিনিধি এনিরা ব্রোনিৎসকায়া বলেন, ‘এটি একটি প্রশাসনিক অপরাধ ছিল, কোনোভাবেই ফৌজদারি নয়। কিন্তু তারা এই মা ও তার সন্তানকে আলাদা করতে একটুও দ্বিধা করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাকে সন্তানের অধিকার না দিয়ে তাকে হুমকি দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। কারণ, তার মাতৃত্বের অধিকার বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল না।’
কারাগারে থাকাকালে অভিবাসন কর্মকর্তারা সামুহকে দেশে ফেরার টিকিটের টাকা জোগাড় করতে আত্মীয় খুঁজতে বলেন। কিন্তু কেউ সাহায্য করতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘আমি আর যাই হোক, সন্তান ছাড়া দেশে ফিরতে রাজি ছিলাম না।’
একদিন হঠাৎ তাকে হাতকড়া পরিয়ে বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। ইস্তাম্বুলগামী ফ্লাইটে তুলে তাকে বলা হয়, আর যেন বেলারুশে ফিরে না আসেন।
তুরস্কে পৌঁছে সুমাহ ফোন করে তাকে লালন-পালন করে বড় করা এক নারীকে জানান, ‘আমি আসছি।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার কিছুই নেই। এমনকি আমার সন্তানটাও না।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে একটি আলমারির ভেতর লুকিয়েছিলেন মাদক কারবারি। কিন্তু একটি ভুলের কারণে শেষ রক্ষা হয়নি তার। পাবলিক ওয়াইফাইয়ে সংযুক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে ওই আলমারি থেকেই তাকে আটক করা হয়। ৩৪ বছর বয়সী জোয়েল লুইস উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলির বাসিন্দা। তিনি উত্তর কিলবার্ন এলাকায় কোকেন ও হেরোইন সরবরাহ করতে ‘ববি’ নামের মাদক কারবার পরিচালনা করছিলেন। ‘দ্য মেট্রো’র বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি জানিয়েছে, মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজন শিশুর কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার পর পুলিশ ওই মাদক কারবারের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। নিজের অবস্থান গোপন রাখতে লুইস বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন ডিভাইসে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করতেন তিনি। তবে তিনি যে ঠিকানায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে থাকা একটি ডিভাইস পাবলিক ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর ৭ জুলাই ওয়েম্বলির ওই ঠিকানায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে লুইস একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। তবে পুলিশ দ্রুতই তাকে খুঁজে বের করে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি নাকি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনারা আমাকে কিভাবে খুঁজে পেলেন?’ ‘দ্য মেট্রো’ জানিয়েছে, লুইসের ফোন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার কাছে থাকা প্রায় ২৫০ জন মাদক ব্যবহারকারীর তালিকা থেকে প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি ফোনকল আসত। পুলিশ তার কাছ থেকে কোকেন ও হেরোইনসহ ‘ক্লাস এ’ মাদক উদ্ধার করে। এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ হাজার ৮০০ পাউন্ড। এ ছাড়া প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ এবং ছয়টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ফোনগুলোর একটি ‘ববি’ মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওই বাড়ি থেকে একটি গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ মিলিমিটারের ১৩টি গুলি, একটি ধারালো বড় ছুরি এবং একটি ভাঁজ করা ছুরিও উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর কিলবার্ন এলাকায় মাদক পরিবহনে সহায়তার জন্য লুইস তরুণদের নিয়োগ করেছিলেন। এর ফলে তারা সহিংসতা, ভয়ভীতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিতে পড়েছিল। তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ডিটেকটিভ কনস্টেবল লরেন গ্রেস্টি বলেন, মাদক সরবরাহের এ ধরনের কার্যক্রম তরুণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। দ্য মেট্রো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কিলবার্নে কোকেন ও হেরোইন সরবরাহের অপরাধে হ্যারো ক্রাউন কোর্ট লুইসকে ১২ বছর ৯ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।
নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে জোরালো বিক্ষোভের জেরে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ইন্টারনেট ব্যবহারে চলছে দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর বিধিনিষেধ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত জুনের শুরু থেকে অঞ্চলটিতে মোবাইল ডাটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা প্রায় বন্ধ রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি এরই মধ্যে ১০০ দিন পার করেছে। চলমান অচলাবস্থা ও জনজীবন বিক্ষোভের পর অঞ্চলটিতে তিন ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার শেষ ধাপটি সম্পন্ন হয়েছিল গত ১০ আগস্ট। নতুন সরকার গঠিত হলেও আংশিক ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সেখানকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রবেশ করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলের ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও। এছাড়া ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে গেছে এবং বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষকে ভর্তি পরীক্ষাও পেছাতে হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আসছে স্বাধীন সংস্থা 'নেটব্লকস'। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে এই আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থা চলছে। যেভাবে শুরু হয়েছিল উত্তেজনা গত ২৭ জুলাই নির্ধারিত স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মূলত এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। গত ৫ জুন কর্তৃপক্ষ তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন 'জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি' (জেকেজেএসি)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, এই সংগঠনটি আইনসভায় ভারত-শাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। এই নিষেধাজ্ঞার পরপরই কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় এবং বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে এবং গত ২৭ জুলাই তা এক রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। বাসিন্দা ও স্থানীয় বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের এই তালিকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যও রয়েছেন। তবে স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে এই হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কাশ্মীরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কাশ্মীর মূলত একটি দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, যার পুরোটাই নিজেদের বলে দাবি করে থাকে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশ। এর মধ্যে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে। অঞ্চলটির নিজস্ব একজন প্রধানমন্ত্রী এবং ৪৫ সদস্যের একটি আইনসভাও রয়েছে। যার মধ্যে ১২টি আসন ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্য অংশে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কারণে বিক্ষোভের তীব্রতা রয়েছে— এমন কয়েকটি ঘাঁটিতে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের বাকি অংশের নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানে সরকার গঠিত হয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় ৫০ ঘণ্টা শত্রুভূমিতে আত্মগোপনে ছিলেন এক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা। পিঠ, হাত ও কাঁধ ভেঙে গেলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় টিকে ছিলেন তিনি। পরে ব্যাপক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা তার বেঁচে ফেরার ঘটনাকে ‘আধুনিক সময়ের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিরাপত্তার কারণে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাকে ‘ডুড ৪৪ ব্রাভো’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২ এপ্রিল। ইরানের ছোড়া কাঁধে বহনযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। যুদ্ধবিমানটিতে থাকা পাইলট ও অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা দুজনই নিরাপদে বের হয়ে ইরানের ভূখণ্ডে নামেন। পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হলেও ব্রাভোর অবস্থান শনাক্ত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ব্রাভো জানান, ওই রাতে ইসফাহানের দক্ষিণে একটি পার্বত্য এলাকার কাছে কয়েকটি শিল্প স্থাপনা ছিল তাদের লক্ষ্য। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই এলাকার আশপাশে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্রাভো বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতটি যেন মালবাহী ট্রেনের ধাক্কার মতো ছিল। বিমানটি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেও পাইলট বুঝতে পারেন, সেটি আর বাঁচানো সম্ভব নয়। পরে দুজনই বিমান থেকে বেরিয়ে যান। তবে পাইলটের তুলনায় অনেক দূরে গিয়ে পড়েন ব্রাভো। ক্ষতিগ্রস্ত প্যারাসুটের কারণে তিনি পাইলটের অবস্থান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে গিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়েন। এতে তার পিঠ, একটি হাত ও একটি কাঁধে গুরুতর আঘাত লাগে। পরদিন সকালে তিনি বুঝতে পারেন, ইরানের ভূখণ্ডে পড়েছেন। চারদিকে পাহাড়ঘেরা একটি উপত্যকায় অবস্থান করছিলেন তিনি। সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, পাহাড়ের ওপর উঠে যাওয়াই তুলনামূলক নিরাপদ। গুরুতর আহত অবস্থাতেই তিনি প্রায় ৭ হাজার ফুট উঁচু একটি রিজলাইনে উঠে যান। ব্রাভো বলেন, শরীরে গুরুতর আঘাত থাকলেও সামরিক প্রশিক্ষণ তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ইরানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কাও ছিল তার। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, কোনোভাবেই নিজেকে ইরানের টেলিভিশনে দেখতে চাননি। এদিকে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর দুই মার্কিন কর্মকর্তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। শুরু হয় বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শত শত সেনাকে আকাশপথের অভিযানে এবং আরও কয়েক হাজার সদস্যকে সহায়ক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়। মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দাবি, ইরানের মাটিতে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। গত ৪৬ বছরের মধ্যে দেশটিতে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের এটিই ছিল প্রথম ঘটনা বলেও দাবি করেন তিনি। পাইলটকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ব্রাভোর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে প্রায় এক দিন তাকে একাই পাহাড়ে কাটাতে হয়। খাবার ও পানির মজুতও ছিল খুবই সীমিত। শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি বার্তা পাঠাতে সক্ষম হন তিনি। এরপর তার আশপাশে অবস্থান করা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যদের লক্ষ্য করে বোমারু বিমান ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। পরে উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অভিযানে সিআইএও যুক্ত ছিল। ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে একটি প্রতারণামূলক অভিযান চালানোর পাশাপাশি ব্রাভোর অবস্থান শনাক্তে গোপন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৫০ ঘণ্টা ধরে বিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে তল্লাশি চালানোর পর শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। উদ্ধারের মুহূর্তটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের বলে বর্ণনা করেছেন ব্রাভো। সূত্র: সিবিএস নিউজ