ওমানসহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) ছয়টি দেশে ভ্রমণ সহজ করতে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একক বা ইউনিফায়েড ট্যুরিস্ট ভিসা। নতুন এই ব্যবস্থায় জিসিসির বাইরে থাকা দেশের নাগরিকরা একবার আবেদন করেই সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েতে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভিসাটির সম্ভাব্য মেয়াদ ৩০ দিন এবং ফি নির্ধারণ করা হতে পারে আনুমানিক ৯০ থেকে ১৩০ মার্কিন ডলারের মধ্যে।
নতুন উদ্যোগটিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাস্তবভিত্তিক আঞ্চলিক সংযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে আলাদা আলাদা ভিসা ব্যবস্থার কারণে একাধিক দেশে ভ্রমণে যে প্রশাসনিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ হতো, একক ভিসা চালু হলে তা অনেকটাই কমে আসবে। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে পর্যটনকে বিকল্প আয়ের প্রধান খাত হিসেবে গড়ে তোলার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে ভিসাটি কার্যকর করতে বিলম্ব হওয়ার পেছনে নিরাপত্তা ও তথ্যসমন্বয় সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একক ভিসার আওতায় অঞ্চলজুড়ে চলাচল নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য, প্রবেশ ও প্রস্থান ডেটা এবং নজরদারি তালিকার সমন্বয় প্রয়োজন। এসব প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই ধাপে ধাপে ভিসা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে জিসিসি কর্তৃপক্ষ।
ইউরোপের শেঙ্গেন ভিসা ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হলেও জিসিসির এই ভিসা কাঠামো তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের। এতে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত বিলুপ্ত হচ্ছে না এবং কাজ, বসবাস বা স্থায়ী অভিবাসনের সুযোগও রাখা হয়নি। এটি কেবল পর্যটন ও স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে ভিসার শর্ত ভঙ্গ বা মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থানের ক্ষেত্রে ছয় দেশেই সমন্বিত জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার বিধান রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই একক ভিসা চালু হলে যেমন ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে, তেমনি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতাও আরও সুসংহত হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বিমান ও যাতায়াত কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান আরও দৃঢ় করবে। সার্বিকভাবে, ইউনিফায়েড জিসিসি ট্যুরিস্ট ভিসাকে উপসাগরীয় সহযোগিতাকে নীতিগত ঘোষণার গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব সুবিধায় রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
‘সম্প্রীতির নববর্ষ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলা বর্ষবরণের মহাউৎসব। প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি ও সাংস্কৃতিক মহড়া। গত ৭ মার্চ নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে অনুষ্ঠিত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক মহড়া অনুষ্ঠানের শুরুতে এই ঘোষণা দেন আয়োজক সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সভাপতি ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা। তিনি জানান, গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও টাইমস স্কোয়ারে নববর্ষ উদযাপনের পরদিন ১২ এপ্রিল রোববার জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কবি হোসাইন কবির তার বক্তব্যে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এই উৎসবের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন—গণসংগীত পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপস, নৃত্যপরিচালক চন্দ্রা ব্যানার্জী এবং ডাউনটাউন ম্যানহাটন বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তারিকুল ইসলাম বাদল। আয়োজকরা জানান, এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সাংস্কৃতিক মহড়া শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত মহড়ায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরো থেকে সংগীতপ্রেমী শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে গণসংগীত শিল্পী ও সংগঠক মহিতোষ তালুকদার তাপসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় অনেক শিল্পী অংশ নেন। বিশ্বজিত সাহা বলেন, নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানের আগে আরও কয়েকটি মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, টাইমস স্কোয়ারে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী নতুন নান্দনিক পরিচিতি পাচ্ছে। এই উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, লাওসসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরাও অংশগ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান। আয়োজকরা আশা করছেন, টাইমস স্কোয়ারে বাংলা নববর্ষ উদযাপন প্রবাসী বাঙালিদের ঐক্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলা সংস্কৃতির মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করবে।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় এর প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় দেশ কুয়েতেও। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করছেন। চলমান পরিস্থিতিতে গুজব ও মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধ এবং প্রবাসীদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কুয়েতে কর্মরত সংবাদকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা করেছেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুরে অনলাইনে অনুষ্ঠিত এই জুম সভায় কুয়েতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নেতা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। বৈঠকে প্রবাসীদের ফ্লাইট সমস্যা, ভিসা জটিলতা, পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়সহ চলমান পরিস্থিতিতে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান এবং সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্র বা হামলা সংক্রান্ত কোনো ছবি, ভিডিও বা লাইভ সম্প্রচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানান। জরুরি প্রয়োজনে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে দেশে অবস্থানরত এবং কুয়েতে ফিরতে না পারা প্রবাসীদের ছুটি, ভিসার মেয়াদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কুয়েত সরকারের সঙ্গে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। এ সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা চলমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহে দূতাবাসের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন। তারা বলেন, কুয়েতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সদস্যরা নিয়মিত জাতীয় গণমাধ্যমে প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট খবর ও সর্বশেষ পরিস্থিতির আপডেট তুলে ধরছেন, যাতে প্রবাসীরা সচেতন ও অবগত থাকতে পারেন। জুম সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামানসহ অন্যান্য সংবাদকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে। এতে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে দেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীরা ভিসার মেয়াদ নিয়ে ভয়ে আছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে ওই অঞ্চলে ফ্লাইট চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয় এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস। ফ্লাইট বাতিল ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে গেছে অনেকের। ভুক্তভোগীদের একজন ভোলার মোহাম্মদ শামীম। তিনি কাতার যাবেন। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি যেতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমার ফ্লাইট ছিল ১ মার্চ। ইরান যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়। সে কারণে আমি যেতে পারিনি। এখন প্রবাসীকল্যাণ ভবনে আবেদন জানালাম। দেখি আমাদের জন্য তারা কী করে?’ এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কারণে যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাদের সহায়তা করবে মন্ত্রণালয়। প্রবাসীদের সহায়তার জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি হটলাইন চালু করেছে। মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করবে। প্রবাসীদের যে কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’ বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি মোট ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। পরদিন ১ মার্চ বাতিলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০টিতে। ২ মার্চ বাতিল হয় ৪৬টি ফ্লাইট, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি এবং ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ৭ মার্চ রাত ১২টার পর থেকে আরো ২০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতগামী কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, শারজাহগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার ছয়টি, বাহরাইনগামী গালফ এয়ারের দুটি, কাতারগামী কাতার এয়ারওয়েজের চারটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের চারটি ফ্লাইট রয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট বাতিলকৃত ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮টি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্যে সীমিত আকারে ফ্লাইট পরিচালনাও অব্যাহত রয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল ২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মাস্কাটগামী একটি এবং সৌদি আরবগামী পাঁচটি ফ্লাইটসহ মোট ছয়টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ১ মার্চ মাস্কাটগামী চারটি এবং সৌদি আরবগামী ১৬টি ফ্লাইটসহ মোট ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। ২ মার্চ মাস্কাটগামী পাঁচটি ও সৌদি আরবগামী ১৩টি ফ্লাইটসহ মোট ১৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ৩ মার্চ মাস্কাটগামী সাতটি এবং সৌদি আরবগামী ১৫টি ফ্লাইটসহ মোট ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। ৪ মার্চ মাস্কাটগামী আটটি, সৌদি আরবগামী ২১টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ছয়টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ৫ মার্চ মাস্কাটগামী ১০টি, সৌদি আরবগামী ২২টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ছয়টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ৬ মার্চ মাস্কাটগামী ছয়টি, সৌদি আরবগামী ১৫টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ১৩টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ৭ মার্চের জন্য পরিকল্পিত ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে মাস্কাটগামী ছয়টি, সৌদি আরবগামী ১৮টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ১৭টি ফ্লাইট। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী মোট ২১৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে বা পরিকল্পনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে আরো পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।