জাতীয়

শৈত্যপ্রবাহ নেই, তবু হাড় কাঁপানো শীত কুয়াশার কারণে দেখা মিলছে না সূর্যের

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ 0

কোথাও শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও পৌষের মাঝামাঝি সময়ে কুয়াশাচ্ছন্ন দেশে জেঁকে বসেছে শীত। বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে। রাতে শীতল হাওয়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনেও শীত অনুভূত হচ্ছে। দেখা মিলছে না সূর্যের। শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। আরও কয়েকদিন কুয়াশার দাপট থাকার পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী দুই দিনে তাপমাত্রা আরো একটু কমতে পারে। আর আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।
আবওহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা কালবেলাকে বলেন, ‘এখন শৈতপ্রবাহ নেই, তবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকায় এবং কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না মেলায় শীত অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীতের এ তীব্রতা ও কুয়াশার প্রকোপ আরও কয়েকদিন থাকবে।’
তাপমাত্রা যতটা কম, শীত অনেক বেশি অনুভূত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এ আবওহাওয়াবিদ বলেন, ‘সোমবার ভোর বেলা ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই পার্থক্য ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে নেমে এলেই শীত বেশি অনুভূত হয়, সেখানে পার্থক্য ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসায় শীত অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। এছাড়া কুয়াশার প্রকোপ থাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না, তাতে গ্রাউন্ড হিটেড হচ্ছে না। এটাও শীত বেশি অনুভূত হওয়ার একটি কারণ। আরও দুই দিন দেশে কুয়াশার দাপট থাকবে।’
সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে শৈত্যপ্রবাহ ‘কনকন’ ধেয়ে আসছে এমন তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহ হয়ত সরাসরি বলতে পারছে না, তাই অনেকে শীতের তীব্রতা হিসেবে কনকনে শীত বলছে। কিন্তু আমরা এমন কোনো নাম দেইনি।’
শৈত্যপ্রবাহ তাহলে কবে নাগাদ আসবে? জবাবে শাহনাজ সুলতানা বলেন, ‘মঙ্গলবার অনেক জায়গায় টেম্পারেচার কমার কথা, কিন্তু এরপরদিন আবার হালকা একটু বাড়তে পারে। বিশেষ করে ১ থেকে ৫ জানুয়ারি টেম্পারেচার কমে না, কমে ৬ তারিখ থেকে। এর মানে ৮ তারিখের দিকে শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।’
সোমবার কিশোরগঞ্জের নিকলিতে দেশের সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পাঁচ দিনের আবওহাওয়ার পূর্বাভাসে আবওহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গল থেকে শনিবার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং সারাদেশের আবওহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ পাঁচ দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা থাকতে পারে।
মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরিন নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় এ তিন দিন দেশের অনেক জায়গায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে।
আবওহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মঙ্গলবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, শৈত্যপ্রবাহ ‘কনকন’ ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বা ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, শৈত্যপ্রবাহটি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে। পাশাপাশি রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতেও শীতের তীব্রতা বেশি থাকতে পারে।
বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চল, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানে শীত থাকলেও শৈত্যপ্রবাহ ততটা শক্তিশালী নাও হতে পারে। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
বিডব্লিউওটির হিসাব বলছে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, পাবনা, বগুড়া, নাটোর, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা ও রাজবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এসব অঞ্চলে অন্য জায়গার তুলনায় শৈত্যপ্রবাহ আগেই শুরু হতে পারে বলে ধারণা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
বাসযোগ্য শহর উপহার দেওয়াই ডিএনসিসির অঙ্গীকার : প্রশাসক

একটি বাসযোগ্য শহর উপহার দেওয়াই ডিএনসিসির প্রথম অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। সোমবার (২০ এপ্রিল) মিরপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনে তিনি এই কথা বলেন। প্রশাসক বলেন, একটি বাসযোগ্য শহর উপহার দেওয়াই ডিএনসিসির প্রথম অঙ্গীকার। জনগণের করের টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ আমাদের সঠিকভাবে তদারকি করতে হবে যাতে মানহীন কাজ করে বিল নেওয়ার সুযোগ না থাকে। সব কাজ টেন্ডারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সব নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ডিএনসিসি কাজ করছে এবং এই কার্যক্রম কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। এসময় তিনি জানান কাজের মান নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই নিয়মিত সাইট পরিদর্শন করেন এবং সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখেই বিল অনুমোদন করেন। মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে খাল পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, ময়লা ও বদ্ধ পানিতে মশার প্রজনন হয়। তিনি খালে ময়লা না ফেলতে নাগরিকদের অনুরোধ করেন। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের দিন ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহর পরিচ্ছন্ন করা হবে এবং টানা ৭২ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। অঞ্চল ৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

সেনাপ্রধানের মালয়েশিয়া সফর, আঞ্চলিক নিরাপত্তা আয়োজনে অংশগ্রহণ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।

১৮ দেশের সঙ্গে কর্মী পাঠানোর সমঝোতা চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় ফেলোশিপ ঘোষণা টিআইবির

ছবি: সংগৃহীত
মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাহাস

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মুলতবি (৬২ বিধির) প্রস্তাবের নোটিশ নিয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে বাহাস হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংসদে মন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেয়ার পর নতুন করে আলোচনার গুরুত্ব রাখে কী না সেই প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাছাড়া একটি অধিবেশনে দুটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনার পর আরো একটি প্রস্তাব আলোচনার অনুমতি দিয়ে ভিন্ন নজির তৈরি হবে। ভবিষ্যত এই রেওয়াজ অনুসরের দাবি উঠবে। তবে, তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনার বিরোধীতা করেননি। বিরোধিতা করেন কোন বিধিতে আলোচনা হবে তা নিয়ে। অপরদিকে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, সংসদে দেখি সব তেল আছে। কিন্তু বাইরে তেল নেই। জ্বালানি ইস্যুটি এই মুহুর্তে দেশের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টি পাশ কাটিয়ে গেলে আমাদের সংসদে থাকার কোনো সার্থকতা থাকে না। বাহাসের এক পর্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৬৮ বিধিতে আলোচনার প্রস্তাব দিলে বিরোধীদলীয় নেতা তা লুফে দেন। তবে, তিনি আলোচনার সময় বাড়ানো এবং সংসদ নেতার উপস্থিতি আলোচনা অনুষ্ঠানের দাবি তোলেন। পরে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাবে বিরোধীদলীয় নেতা মঙ্গলবার ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেবেন বলে সংসদকে জানান। সোমবার ৭১ বিধির নোটিশ নিষ্পত্তির পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও বিরোধীদলীয় সদস্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নুরুল ইসলামের ৬২ বিধির দুটি প্রস্তাবের প্রসঙ্গ তোলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। দুটি প্রস্তাবের বিষয়বস্তু প্রায় একই ধরনের উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবটি পড়ে শোনান। বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবটি ছিলো ‘দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকট এবং এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানায় সৃষ্ট অচলাবস্থাসহ জনজীবনের বহুমাত্রিক সংকট সম্পর্কে আলোচনা’। এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা চলমান উল্লেখিত নোটিশটির ক্ষেত্রে অধিবেশন মুলতবি না করেই আলোচনার সুযোগ রয়েছে। মুলতবি করে আলোচনা সমীচীন নয়। তাছাড়া এই নোটিশের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়েছেন। এরপরও আলোচনার যদি অবকাশ থাকে তাহলে যথাযথ বিধিতে নোটিশ প্রদান করলে আলোচনা হতে পারে। ৬৩ বিধিতে নোটিশ দুটি নাকচ করেন। এ সময় ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, এই বিষয়টি জাতীয় জীবনে একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপরে বক্তব্য অব্যাহত আছে। এ এটা থাকবে এবং চলবে। কিন্তু এই বিষয়টাকে নিয়ে আমরা আরো দুই-একবার নোটিশে আনার চেষ্টা করেছি। ৭১ বিধিতে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হলে জনগণের জন্য কী এখানে আমরা সবাই মিলে আলোচনা করতে পারব না? আমরা কি একটু সুযোগ সৃষ্টি করব না? আমরা তো কাউকে দোষারোপ করার জন্য এই আলোচনায় যাচ্ছি না। বাস্তব অবস্থাটা জেনে করণীয় বিষয়েই আমরা কথা বলতে চাচ্ছি। এই সুযোগই দেওয়া না হলে আমরা কী ধরে নেবো- আমরা ধরে নেবো যে, জনজীবনে যে প্রবলেমটা- সব চেয়ে বার্নিংসেটা নিয়ে এই সংসদে আলোচনা করতে পারলাম না। এটা কি আমাদের জন্য একটা দুর্ভাগ্য হবে না? দেশের মানুষ তো প্রত্যাশা করছে- আমি নিজে এই বিষয়গুলা বাস্তবে বোঝার চেষ্টা করেছি, পত্রিকায় অনেক কিছু লেখা হয়- সামাজিক মিডিয়ায় কোন কিছু আসে- তার কিছু বাস্তব, কিছু অবাস্তব। বুঝার চেষ্টা করেছি আসলে কতটুকু বাস্তব? কোন জায়গায় কোন সমস্যাটা, কিন্তু সব প্রশ্ন তো ওখানে গিয়ে বুঝতে পারবো না। আরো কিছু বুঝতে হবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে। স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি (ডেপুটি স্পিকার) বিবৃতির (৩০০ বিধিতে মন্ত্রীর বিবৃতি) কথা বলেছেন। মন্ত্রী বিবৃতি বাস্তবের সাথে কোনো মিল খুঁজে পাইনি। একদিকে বলা হচ্ছে- তেলের কোনো সংকট নাই। আরেকদিকে বাস্তবে যেটা ঘটছে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই নিয়ে মানুষের মধ্যে দারুণ অসন্তোষ। আমরা যদি এখানে একটু খোলামেলা আলাপ করতে পারি। সঠিক তথ্যগুলি যদি ফ্লোরে আসে। কিন্তু আমাদের নোটিশগুলোর কোনটাই আলোচনায় না আসে, বিবেচনায় না নেন তাহলে এখানে (সংসদে) থাকব কেন? আমরা কী জন্য এসেছি? জনগণ তো তাদের প্রয়োজনে আমাদের আমাদের পাঠিয়েছেন। সেই প্রয়োজন যদি পূরণ করতে না পারলাম- থাকার তো কোনো সার্থকতা নাই। এই সংসদে আমরা প্রত্যেকটি সেকেণ্ড ব্যয় করছি। এর পিছনে জনগণের রেভিনিউ খরচ হচ্ছে। আমাদের দায় তো জনগণের কাছে। এই মুহূর্তের সবচাইতে বার্নিং সমস্যা যদি আলোচনা করতে না দেন- তাহলে কী আমরা জাস্টিস পেলাম আপনার (ডেপুটি স্পিকার) কাছ থেকে? পেলাম না। অনুরোধ করব এভাবে নিষ্পত্তি না করে আজকে না করেন একদিন পরে হোক দুইদিন পরে হোক, বিষয়টা আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেন। তখন মুলতবি করে এটা আলোচনা করেন। বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে বলেন, প্রস্তাবটি অবশ্যই আলোচনার যোগ্য। জাতীয় জীবনে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বটে। আপনি (ডেপুটি স্পিকার) তো আলোচনার বিষয়টি নাকচ করেননি। সিদ্ধান্ত দিয়েছেন অন্যভাবে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। সংসদ অধিবেশন মূলতবি না করে অন্য কোনভাবে আলোচনার সুযোগের কথা বলেছেন। বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব আপনি (স্পিকার) গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবটা রিড আউট করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে খুব বেশি হলে দুই-চার বার এই সমস্ত মূলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমান সংসদের দুটি বৈঠকে একই সেশনে দুইটা মূলতবি প্রস্তাব আলোচনা হয়েছে, এটা ইতিহাসে অনন্য নজির। এই সংসদের আরো একটা বৈঠকে আরো একটি মূলতবি এলাও হলে প্রিসিডেন্টটা একটু অন্যরকম হয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ অধিবেশনগুলোতে এই রেওয়াজ অনুসরণ করার চেষ্টা হবে। কাজেই আমরা চাই বিষয়টি আলোচনা হোক। এটা ৭১বিধিতে নোটিশ দিয়ে তার ভিত্তিতে মন্ত্রী বকেটি বিবৃতি দেবেন। তখন সম্পূরক প্রশ্নও করা যাবে। আর ৬৮বিধি অনুসারেও সংক্ষিপ্ত আলোচনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সেখানে মন্ত্রীও বিবৃতি দেবেন। আমরাও দু’চার কথা কন্ট্রিবিউট করতে পারবো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সংসদের বাইরে বিরোধীদলীয় নেতা বিভিন্ন জায়গায় সফর করছেন। উনি ওখানে বক্তব্য বিবৃতি দিচ্ছেন। এবং বলছেন যে, সংসদে তো সব তেল আছে। বাইরে তেল নাই। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার তিনি বলেছেন পত্রিকায় আসছে আমরা পড়ি! জ্বালানী মন্ত্রীর বিবৃতির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রীর ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার পর মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করে সংসদের বৈঠক মুলতবি রেখে আলোচনার জন্য এই বিষয়টি গুরুত্ব রাখে কী না? আমাদের দেশে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের কোনো সংকট নেই। সেটা আমরা পরিসংখ্যান দিয়ে আমরা দেখিয়েছি। মন্ত্রী দেখিয়েছেন। এখন কিছু কিছু বিষয়ে আমার না বললেই নয়। টলারেবল মাত্রা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, একটি শৃঙ্খলায় আনার জন্য বা পাচার হওয়ার সেটা বন্ধ করার জন্য জ্বালানির মুল্য কিঞ্চিত বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এই বিষয়ে কোনো সংকট নেই। সুতরাং মূলতবী রেখে সংসদের অধিবেশন এই আলোচনাটা করার প্রয়োজন নেই। ৬৮ বিধিতে নোটিশ দিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। আপনি (ডেপুটি স্পিকার) চাইলে এই প্রস্তাবটি বিরোধীদলীয় নেতাকে দিতে পারেন। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খুব সুন্দর করেই বলেছেন- কোনো সংকট নাই। এটা আসলে সংসদের ভিতরে নেই। সংকটটা আমাদের সংসদের বাইরে। সংকট আছে বলে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে হাইকোর্টের মত খুবই স্পর্শকাতর জায়গায় দুইদিন ভার্চুয়ালি কোর্ট বসছে। সংকট নেই বলে এটা হয়েছে- এটা জাস্ট একটা উদাহরণ। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) অনেক কথা বলেছেন- আমি এগুলার রিপ্লাই দিতে যাব না। সংকটটা এই সরকারের সৃষ্টি নয়। একটা গ্লোবাল ম্যাটার। যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে- এগুলো বুঝি। আমরা চাই সবাই মিলে কন্ট্রিবিউট করতে। চাপটা কমাতে। পরিস্থিতিটা সহজ করতে। সব দায়িত্বই যদি এককভাবে সরকারি দল পালন করে, আমরা কোনো সুযোগ পাব না। জনপ্রতিনিধি বাদ দিলেও দেশের নাগরিক হিসেবেও আমাদের কিছু দায় আছে। আমরা ওই পজিটিভ এটিচিউডের জায়গা থেকে এই আলোচনাটা দরকার বলে মনে করি। ধন্যবাদ জানাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উনি ৬৮ বিধিতে নোটিশ দেওয়ার কথা বলেছেন। আমি সেই নোটিশটা দিতে পারি। কিন্তু ওখানে তো আধা ঘণ্টা সময়। এই সময়ের মধ্যে সরকারি দল বলবে কতটুকু? আমি বলব কতটুকু? বা আমরা বলব কতটুকু? আমি আবার অনুরোধ করব এটাকে ডিসপোজ অফ না করে সংসদ নেতার উপস্থিতিতে বিষয়টা আলোচনার জন্য আগামী তিনদিনের মধ্যে সময় নির্ধারণ করতে পারেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, এখানে বিষয়টি হচ্ছে আলোচনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আলোচনা করতে চান। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে এই আলোচনা সংসদের বৈঠক মুলতবি করে হবে কী না? বিধিগতভাবে চিন্তা করছি বিকল্প উপায়ে আলোচনার সুযোগ আছে কী না? একটি হারমোনিয়াস পরিবেশে আজকে প্রায় আধা ঘণ্টার মত আলোচনা অলরেডি হয়ে গেছে। এই আলোচনাটাই কন্টিনিউ আমরা করতে পারি আরেকটা বিধিতে। সংসদকে মূলতবি করে আলোচনা না করে আমরা সংসদ চলমান অবস্থায় সাধারণ আলোচনা নিয়ে যেতে পারি। আমরা আধা ঘণ্টার জায়গায় একঘন্টা বা দেড় ঘণ্টায় নিয়ে যেতে পারি। কিন্তু মূলতবি না রেখে। বিরোধীদলীয় নেতা ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব লুফে নিয়ে বলেন, আপনার বুলিতে চন্দন ফুটুক। ফুল ফুটুক। আপনি শেষে বলেছেন দেড়ঘন্টা। আমি মেনে নিলাম। আপনারটাই কবুল। ইনশায়াল্লাহকে কালকে (আজ) নোটিশ দেবো। আপনি আমাদেরকে সুযোগ করে দিবেন। তবে সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আমরা এই আলোচনাটা করতে চাই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী নেতা নোটিশ দিয়ে সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আলোচনা হবে। তবে, আপিনি বিধি ভঙ্ঘ করবেন না। এক ঘন্টার জন্য আলোচনার সুযোগ দিতে পারেন। আলোচনা এক ঘন্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সুন্দর করে কথা বলার পরেও কি মন গলাইতে পারলাম না? আর কোনো ভাষায় বললে মন গলবে? ঠিক আছে আপনি (স্পিকার) যেটা সর্বোত্তম মনে করেন সেটাই আমরা আশা করব। আপনার উপর ভার ছেড়ে দিলাম। তবে আমরা অর্থবহ আলোচনা করতে চাই। স্পিকার বলেন, আধা ঘণ্টার মত আলোচনা অলরেডি হয়ে গেছে। আপনি (বিরোধীদলীয় নেতা) নোটিশটা দেন আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নেবো।অর্থবহ আলোচনার জন্য যা করণীয় সংসদ তাই করবে।

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দেশ-বিদেশ সফরে নতুন নির্দেশনা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ। ছবি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সৌদিতে বসবাসরত যোগ্য রোহিঙ্গাদের দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্সসহ ১০০ টাকায় ব্যাগেজ র‌্যাপিং চালু

ছবি: পিআইডি
অপতথ্য রোধে গণমাধ্যমকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী অপতথ্য ও ভুল তথ্যের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে এর ব্যবহার রোধে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, ‘অসত্য তথ্য প্রচার কেবল রাষ্ট্রের জন্যই নয়, বরং ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্যও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। আজ সোমবার বিকেলে চ্যানেল আই অনলাইনের ১২ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  রাজধানীর ‘চ্যানেল আই’ ভবনের ছাদ বারান্দায় ‘অ্যালগরিদম যুগে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এ আলোচনা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে অনলাইনে তথ্যের প্রবাহ অনেক বেশি। কিন্তু এই সুযোগ নিয়ে যেন অপতথ্য ছড়ানো না হয়, সেদিকে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে অনলাইন মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই বিষয়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।’ চ্যানেল আই অনলাইন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে এই অপতৎপরতা রোধে তাদের অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  বিবিসিতে নিজের দীর্ঘ ১৬ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশন বলতে কেবল অনলাইনে যাওয়া বোঝায় না। এটি একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং কারিগরি দক্ষতা নির্ভর প্রক্রিয়া। আমরা বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও ডিজিটাল করতে কাজ করছি। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন অংশীজনের সাথে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’ বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় পূর্ণ বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সংবাদপত্র, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়াকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি বজায় রাখা আমাদের সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।’ চ্যানেল আই অনলাইনের এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান ছিল— ‘ভয়হীন স্বাধীন সাহস’। অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক ও চ্যানেল আই-এর চিফ এক্সিকিউটিভ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খান মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন।  আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন কবি ও শিক্ষক আফরোজা সোমা, সাংবাদিক শওকত হোসেন মাসুম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইমরান হোসেন। চ্যানেল আই-এর চিফ নিউজ এডিটর মীর মাসরুর জামান রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সেরা সংবাদকর্মীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। সবশেষে তথ্য প্রতিমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে কেক কাটার মাধ্যমে ১২ বছরে পদার্পণের উৎসব উদযাপন করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ফাইল ছবি

জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

গুম অধ্যাদেশের ফাঁকফোকর পূরণ করে শক্ত আইন চায় জনগণ: রিজভী

সংকট এড়াতে ৬ মাসের প্রয়োজনীয় সবধরনের টিকা মজুত থাকবে - স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0 Comments