জাতীয়

সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে কুড়িগ্রামের প্রায় ৩ লাখ মানুষ

আক্তারুজ্জামান মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা ও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ধরলা নদীর ওপর সেতু না থাকায় নৌপথে নদী পার হতে হয়, আর সড়ক পথে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার ঘুরে জেলা শহরে যেতে হচ্ছে তাদের।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিনই নদী পারাপারে নৌকাই একমাত্র ভরসা হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি ঝুঁকি নিয়েও চলাচল করতে হচ্ছে।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, “সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়। সেতু হলে শুধু ফুলবাড়ী নয়, আশপাশের উপজেলাগুলোরও যোগাযোগ সহজ হতো।”

 

আরেক বাসিন্দা ইউনুছ আলী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবি জানিয়ে আসছি। সেতু হলে ৪০ কিলোমিটারের পথ কমে প্রায় ১৭ কিলোমিটার হবে।”

 

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ধরলা নদীর ওপর শিবরাম বাংটুরঘাট এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হবে।

 

স্থানীয়রা দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসায় নতুন যুগ, দেশে প্রথম পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে ‘মেডবট তুমাই এন্ডোস্কোপিক সার্জিক্যাল রোবট’-এর মাধ্যমে সোমবার দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এর মধ্যে ৫৭ বছর বয়সী এক পুরুষের পিত্তথলির পাথর অপসারণে রোবোটিক কোলেসিস্টেকটমি এবং ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর জরায়ুতে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের চিকিৎসায় রোবোটিক হিস্টেরেকটমি করা হয়। ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ও প্রধান পরামর্শক অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন প্রথম অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন। দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারটি করেন হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ও প্রধান অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান শেলি। অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন বলেন, এটি একটি মাইলফলক। আমরা এই পরিবর্তনের অংশ হতে পেরেছি। তিনি জানান, রোবোটিক সার্জারিতে ব্যবহৃত রোবটের বাহু ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারে। মানুষের হাতের তুলনায় এর নড়াচড়া বেশি হওয়ায় শরীরের সংকীর্ণ ও জটিল জায়গায়ও তুলনামূলক নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। এতে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও আশপাশের অঙ্গ নিরাপদ রাখা, কম কাটাছেঁড়া, কম রক্তক্ষরণ এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রথম অস্ত্রোপচার করা রোগীকে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রচলিত অস্ত্রোপচারের চেয়ে খরচ দুই-তিন গুণ রোবোটিক সার্জারি প্রচলিত অস্ত্রোপচারের তুলনায় ব্যয়বহুল। অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন জানান, এ পদ্ধতিতে চিকিৎসার খরচ প্রচলিত অস্ত্রোপচারের তুলনায় প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি হতে পারে। তবে দেশে রোবোটিক সার্জারির ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে খরচ কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, রোবোটিক সার্জারির নির্ভুলতা ও অন্যান্য সুবিধার কারণে বর্তমানে অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। দেশে এ সেবা চালু হওয়ায় তাদের একটি অংশ এখন দেশেই চিকিৎসা নিতে পারবেন। ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে রোবটটি আগে থেকেই আনা হয়েছিল। কয়েকজন চিকিৎসক বিদেশে গিয়ে এর ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। তবে রোবোটিক সার্জারির জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়। অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন জানান, বৃহস্পতিবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনের কপি তাঁদের হাতে পৌঁছায়। এরপর সোমবার দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। অধ্যাপক সামছাদ জাহান শেলি বলেন, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে রোবোটিক সার্জারি চালু হলেও বাংলাদেশ এতদিন এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। এখন দেশে এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি জানান, শিগগির হৃদরোগ, নিউরো, ইউরোলজি, জেনারেল, গাইনি ও থোরাসিক বিভাগেও রোবোটিক সার্জারি সম্প্রসারণ করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশমুখিতা কমানো তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রিমোট রোবোটিক পদ্ধতিতে স্টেন্ট স্থাপনের একটি প্রক্রিয়া করা হয়েছিল। তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি ছিল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মোফাসসেল উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে করা প্রক্রিয়া এবং ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে সম্পন্ন হওয়া দুটি অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, হৃদরোগ হাসপাতালে স্টেন্ট স্থাপনের প্রক্রিয়ার একটি অংশে রোবটের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে থাকা বিশেষায়িত রোবট সরাসরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে। তিনি আরও বলেন, হৃদরোগ হাসপাতালে রোবটটি প্রদর্শনের জন্য আনা হয়েছিল এবং সেটি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় কোনো অস্ত্রোপচার করা হয়নি। এ কারণে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে সম্পন্ন হওয়া অস্ত্রোপচারকে দেশে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রথম পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি বলা হচ্ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আকতার হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের পর ইউনাইটেড হেলথকেয়ারসহ দুটি বেসরকারি হাসপাতালকে রোবোটিক সার্জারি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
থার্ড টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফ্লাইওভারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

থার্ড টার্মিনালে পিকআপ ভ্যান নিচে পড়ে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন চিফ হুইফ নূরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে ‘মাইনাস’ করা হয়েছে: আইপিইউর কাছে আওয়ামী লীগের নালিশ

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। ছবি: সংগৃহীত

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন চলতি সপ্তাহেই: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

সালমান এফ রহমান। ফাইল ছবি
সালমান এফ রহমানের মামলায় ব্রিটিশ আইনজীবী, অনুমতি চেয়ে আবেদন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে আইনি লড়াই করতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন যুক্তরাজ্যের আইনজীবী গ্রায়েম এল হল। লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বারের এই আইনজীবীর পক্ষে গত ১৪ অগাস্ট বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। তবে আবেদনের রিসিভ কপিতে ২৪ অগাস্টের তারিখ রয়েছে। সালমান এফ রহমানের আইনজীবী আসিফুর রহমান সোমবার বলেন, “অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে গ্রায়েম এল হল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি লড়াই করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। এরপর তিনি যাবতীয় কাগজপত্র ও বিস্তারিত তথ্য ই-মেইলে পাঠান। আমরা সেটি বার কাউন্সিল সেক্রেটারি বরাবর দাখিল করি। বার কাউন্সিলের আবেদন গ্রহণ সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। “গত ১১ অগাস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রথমে একটি অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে সালমান এফ রহমানের পক্ষে কারাগার থেকে বার কাউন্সিলে আবেদন করা হয়।” আইনজীবী আসিফুর বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১১(৮)-এর বিধান উল্লেখ করে স্থানীয় আইনজীবীদের পাশাপাশি বিদেশি আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকার অনুমতি চেয়েছেন গ্রায়েম এল হল। আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। সেদিন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এর বিরোধিতা করে বলেছিলেন, বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য আগে বার কাউন্সিলের অনুমতি আনতে হবে। তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার আসামিপক্ষকে বার কাউন্সিলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং এরই মধ্যে ১১ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর অভিযোগগুলো আমলে নেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে- জুলাই আন্দোলন দমনে ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া’ এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ফোনে কথা বলে রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের’ কথা বলা হয়েছে। এছাড়া তাদের ধারাবাহিক ‘ষড়যন্ত্র, প্ররোচণা ও উসকানিতে ওই বছরের ২৩ এবং ২৮ জুলাই মিরপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের হত্যাযজ্ঞ চালানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই বছরের ৪ অগাস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতুসহ ১২ জনকে হত্যা এবং ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে পরিকল্পনা করে মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে আরও ১৬ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

‘প্রশাসনিক প্রয়োজনে রদবদল’: ১১ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ

পে স্কেল-২০২৬ কীভাবে কার্যকর হবে? জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি

ছবি: সংগৃহীত

ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে অনিয়ম, ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের গান-কবিতাই প্রেরণার উৎস: ডিএসসিসি প্রশাসক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান, কবিতা ও জীবনাদর্শ বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলন-সংগ্রাম, প্রতিবাদ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।   তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের সৃষ্টিকর্ম বাঙালিকে সাহস ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের মানবতাবাদ, সাম্য, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।   সোমবার (৩১ আগস্ট) নগর ভবন অডিটরিয়ামে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।   ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মানুষের শুধু শারীরিক চাহিদা নয়, মানসিক চাহিদাও রয়েছে। গান, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা মানুষের চিন্তাভাবনাকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি তাকে মানবিক ও সৃজনশীল করে তোলে। তাই ঢাকাকে নান্দনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিকাশেও গুরুত্ব দিতে হবে।   কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আনন্দ ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গান গাওয়া ও আনন্দ করার পাশাপাশি জনগণের সেবায় দায়িত্বশীল থাকতে হবে। নাগরিক সেবা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে নগরবাসী সন্তুষ্ট হবে না।   ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এ কার্যক্রম চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।   প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক পর্যায়ের (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে।   আয়োজনের প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, একক অভিনয় এবং নজরুলসংগীতভিত্তিক একক নৃত্য।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এ ছাড়া ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিবসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে আইপিইউ মহাসচিব

ছবি: সংগৃহীত

এডিপির প্রকল্প সময়মতো শেষ করার নির্দেশ জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুতে একদিনে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৬৩

0 Comments