জাতীয়

সেনাবাহিনীতে খুনের সংস্কৃতি আগে থেকেই ছিল, গুমের সংস্কৃতি পরে গড়ে ওঠে - ইকবাল করিম ভূঁইয়া

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ ইকবাল করিম এই জবানবন্দি দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল–১–এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো.মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

 

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দি অসমাপ্ত রয়েছে। আগামীকাল সোমবার তাঁর আবার জবানবন্দি দেওয়ার কথা। ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া প্রথম দিনের জবানবন্দির পূর্ণ বিবরণ এখানে দেওয়া হলো—

 

‘আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান। আমি ২০১২ সালের ১৫ জুন থেকে ২০১৫ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলাম। আমি সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গুম ও খুনের সংস্কৃতি কীভাবে বেড়ে উঠেছে, সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে এসেছি। পাশাপাশি আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে র‍্যাব সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে এসেছি।’

 

সেনাবাহিনীতে খুনের সংস্কৃতি আগে থেকেই ছিল। গুমের সংস্কৃতি পরে গড়ে উঠেছে। আমরা যদি ধরে নিই যে ২০০৮ সাল থেকে খুন শুরু হয়েছে, তবে সেটা ভুল বলা হবে। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার পর থেকেই খুনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেনানিবাসের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে। সে সময় কথিত অপরাধীদের ধরে সেনা ক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে তার সংখ্যা ছিল সীমিত। পরে তদন্ত আদালতের মাধ্যমে এবং আইন প্রয়োগ করে সেগুলোকে নিয়মিত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অপারেশন চলাকালে বেশ কিছু মৃত্যু হয়েছে। যেগুলো কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, সেগুলোকে ধর্তব্যে নিয়ে দোষী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

 

সামরিক বাহিনীর প্রধান কাজ হচ্ছে বহিঃশত্রু থেকে দেশকে রক্ষা করা। তবে দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সামরিক বাহিনীকে তাদের সাহায্যে সময়–সময় মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া দুর্যোগকালেও সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়। এমনকি নির্বাচনকালেও সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়। সবার ধারণা সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তাই এটি একটি অলিখিত নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

 

সেনাবাহিনীকে যখনই বাইরে মোতায়েন করা হয়, অধিনায়কদের মনে একটি সার্বক্ষণিক চাপ থাকে তাদের কত তাড়াতাড়ি সেনানিবাসে ফেরত আনা হবে। কারণ, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকে এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ ‘এক গুলি, এক শত্রু’ নীতির ওপর পরিচালিত হয়ে থাকে। বস্তুত এটি না হলে সেনাবাহিনী কখনো যুদ্ধ করতে পারবে না। এ জন্য প্রশিক্ষণকালে সেনাসদস্যদের ডিহিউম্যানাইজ করা হয়। তারা ধীরে ধীরে মানুষকে মানুষ মনে করা ভুলে যায়, মানুষকে টার্গেট বলতে শুরু করে। ফায়ারিং রেঞ্জে মানুষ আকৃতির টার্গেটের ওপর গুলি করে তাদের মানুষ হত্যার মনস্তাত্বিক বাধা দূর করা হয়। এ কথা মনে রেখে সেনাবাহিনীকে কখনো বেসামরিক পুলিশের সঙ্গে মেশানো ঠিক হয়নি। অথচ সেটাই ঘটেছে ২০০৩ সালে, যখন র‍্যাব গঠন করা হয়। এটি ছিল একটি মারাত্মক ও ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। সেনাসদস্যদের যে প্রশিক্ষণ তা র‍্যাবে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ছিল না। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে কিছু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। র‍্যাব গঠনের পূর্বে অপারেশন ক্লিনহার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সেনাসূত্র অনুযায়ী ১২ জন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এই সংখ্যাটি ছিল ৬০ জন। পরে ক্লিন হার্টের সব সদস্যকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়। বস্তুত এই ইনডেমনিটি ছিল হত্যার লাইসেন্স প্রদান।

 

২০০৭ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়ানোর জন্য যে সংঘাত শুরু হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে স্টেট অব ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়। ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সময়ে ডিজিএফআই হয়ে ওঠে দেশের মুখ্য নিয়ন্ত্রক। বিভিন্ন সময়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে তাদের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করত। এর মধ্যে অনেক মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ছিলেন। তাঁরা বিএনপির জনাব তারেক রহমানকেও উঠিয়ে এনে নির্যাতন করে। এ সময় থেকে বস্তুত বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে আটক রাখার সেলের মধ্যে রাখা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়। বস্তুত যেকোনো ব্যক্তিকে উঠিয়ে এনে যা ইচ্ছা তাই করা যায় মর্মে তারা ভাবতে শুরু করে। তারা ভাবতে শুরু করে যা কিছুই তারা করুক না কেন শেষ পর্যন্ত তারা পার পেয়ে যাবে। জরুরি অবস্থায় সেনাসদস্যদের সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। তারা রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করে, তাদের মধ্যে আধিপত্যবোধের জন্ম হয়, সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যে একটি বিভাজন সৃষ্টি হয়, নগদ সংস্কৃতির উত্থান হয় এবং উপরস্থদের আদেশ অন্ধভাবে পালন করার প্রবণতা জন্ম হয়।

 

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। পরে বিদ্রোহ দমন করার পর বিডিআর সদস্যদের অন্তরিণ করা হয় এবং সেখানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে পিলখানায় (বিডিআর সদর দপ্তর) র‍্যাব ও সামরিক সদস্য দ্বারা নির্যাতনের কারণে আনুমানিক ৫০ জন বিডিআর সদস্য মৃত্যুবরণ করেন বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়। পরে দায়রা আদালত কর্তৃক ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ অনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বিডিআর বিদ্রোহের পর সেনা অফিসারদের মধ্যে ভারত ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্রতর হয়, সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে বিভাজন ব্যাপক রূপ ধারণ করে, পেশাদার অফিসারদের এক পাশে সরিয়ে অনুগত অফিসারদের ওপরে নিয়ে আসা হয় এবং বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করে বাহিনীটিকে দুর্নীতিগ্রস্ত করা হয়। এর বড় কারণ হলো শেখ হাসিনা ভাবতেন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনী তার জন্য নিরাপদ।

 

পরে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের শাসন আমলের দুর্বল দিকগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও প্রশাসনের ওপর তার নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। এ জন্য তিনি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনেক রাজনৈতিক নেতার বিচার করে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেন এবং সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংবিধানে সংযোজন করেন।

 

এ সময় তিনি তাঁর আত্মীয় মেজর জেনারেল তারিক আহম্মেদ সিদ্দীকিকে তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তাঁর মাধ্যমে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সচেষ্ট হন। মেজর জেনারেল সিদ্দীকি অচিরেই প্রধানমন্ত্রী ও বাহিনী প্রধানদের মধ্যে সুপার চিফ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন ডিজিএফআই, এনএসআই, র‍্যাব, এনটিএমসি, আনসার, বিজিবি ইত্যাদি সংস্থাগুলোকে তাঁর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এর মাধ্যমে চারটি চক্রের উদ্ভব ঘটে। প্রথম চক্রটি হচ্ছে অপরাধ চক্র, যেটি ডিজিএফআই, এনএসআই, র‍্যাব ও এনটিএমসিকে নিয়ে তিনি পরিচালনা করতেন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন, হত্যা ও গুমের মতো ঘটনা সংঘটিত হতে থাকে। দ্বিতীয় চক্রটি ছিল ডিপ স্টেট। এটি তিনি পরিচালনা করতেন এমএসপিএম (প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব), ডিজিএফআই, এনএসআই ইত্যাদির মাধ্যমে। এর মাধ্যমে তিনি তিন বাহিনী সম্পর্কে সব নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতেন। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো বাহিনী প্রধানদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তৃতীয় চক্রটি ছিল কেনাকাটা চক্র। এটিতে সংযুক্ত ছিল পিএসও, এএফডি, ডিজিডিপি, বাহিনী প্রধান ইত্যাদি। এই চক্রের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তার করতেন। চতুর্থ চক্রটি ছিল সামরিক প্রকৌশলী চক্র। মেজর জেনারেল সিদ্দীকি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের অফিসার হওয়ায় তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে আলাদা চক্র গড়ে তোলেন। এদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পে তাঁর প্রভাব বিস্তার করা শুরু করেন। এটি ছিল অবৈধ অর্থের প্রধান উৎস।

 

এবার র‍্যাবের কথা বলছি। সেনাপ্রধান হওয়ার পূর্ব থেকেই অন্য সামরিক সদস্যদের মতোই র‍্যাব সদস্যদের অবৈধ ও বিচারবহির্ভূত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত ছিলাম। সেনাপ্রধান হওয়ার পরপরই আমি র‍্যাবের এডিজি তৎকালীন কর্নেল (পরবর্তী সময় লে. জেনারেল) মুজিবকে আমার অফিসে ডেকে পাঠাই এবং এসব ক্রসফায়ার বন্ধ করতে বলি। আমি তাকে র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানকে নিয়ন্ত্রণ করতে বলি। তিনি আমাকে কথা দেন আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। পরবর্তী কিছুদিন আমি পত্রিকাতে ক্রসফায়ারের ঘটনা দেখিনি। কিন্তু অচিরেই উপলব্ধি করতে পারি ঘটনা ঘটছে, কিন্তু তা চাপা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও বদলে যায় যখন বেনজীর আহম্মেদ র‍্যাবের ডিজি হয়ে আসেন এবং জিয়াউল আহসান এডিজি হন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার ডাইরেক্টর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল আহসান ও কমান্ডিং অফিসার আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলকে (যিনি বর্তমানে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আছেন) জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কথা বলতে বলি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল আহসান এসে আমাকে জানান তিনি কথা বলেছেন কিন্তু কোনো ভালো প্রতিশ্রুতি তাঁর কাছ থেকে পাননি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল এসে আমাকে জানান কথা বলে কোনো লাভ হয়নি, ওর মাথা ইট ও পাথরের টুকরা দিয়ে ঠাসা। পরে আমাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল জানায় জিয়াউল আহসান তার বাসায় অস্ত্র রাখে, গার্ড মোতায়েন রাখে ও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছে। তাকে সামরিক কোয়ার্টারে থাকার নিয়মকানুন মেনে এগুলো পরিত্যাগ করতে বলা হয়। পরে জিয়াউল আহসান, মেজর জেনারেল সিদ্দীকি ও তার কোর্সমেট এএমএসপিএম কর্নেল মাহবুবের (বর্তমানে মেজর জেনারেল) ছত্রচ্ছায়ায় আমার আদেশ অমান্য করতে শুরু করে। দুজন অফিসারকে বিভিন্ন নেতিবাচক রিপোর্টের কারণে শান্তি দেওয়ার জন্য র‍্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে ফেরত আনার জন্য পোস্টিং আদেশ জারি করার পরও সে তাদের ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করে। আমি জিয়াউল আহসানকে সেনানিবাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করি। এটি কার্যকরী করার জন্য লজিস্টিক এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানকে দায়িত্ব দেই। পরে তিনি বিষয়টি মেজর জেনারেল তারেক আহম্মেদ সিদ্দীকিকে না জানানোর জন্য তার বিরাগভাজন হন। অচিরেই আমি এমএসপিএম মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদিনের কাছ থেকে ফোন পাই। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জিয়াউল আহসানের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা তুলে নেওয়ার জন্য। আমি না বলেছি। আমাকে তখন মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদিন জিজ্ঞাসা করেন কোনো চাকরিরত অফিসারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা কি বিশেষ পদক্ষেপ? আমি বলি হ্যাঁ, এটি বিশেষ পদক্ষেপ এবং তুমি যদি সেনাপ্রধানের আদেশ অমান্য করো, তাহলে তোমারও একই অবস্থা হবে। দুদিন পর সংঘাত এড়ানোর জন্য আমি নিজে থেকেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেই।

 

আমাকে যে জিনিসটা সবচেয়ে ব্যথিত করত তা হলো আমরা সেনাবাহিনী থেকে র‍্যাবে পেশাদার অফিসার পাঠাচ্ছি আর তারা পেশাদার খুনি হয়ে ফেরত আসছে। এরপর আমি সিদ্ধান্ত দেই র‍্যাব, ডিজিএফআই এবং বিজিবিতে কোনো অফিসার পোস্টিংয়ে যাওয়ার পূর্বে ও পরে আমার ইন্টারভিউতে আসবে। যারা র‍্যাবে যেত তাদের আমি এই বলে মোটিভেট করতাম যে নরহত্যা মহাপাপ এবং কাউকে হত্যা করলে তার পরিবারের অভিশাপ তোমার পরিবারের ওপর পড়বে। একজনকে হাত–পা বেঁধে হত্যা করা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত কাজ। সত্যিকারের সাহস হচ্ছে হাত–পা খুলে তার হাতে একটি অস্ত্র দিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া। যারা ফেরত আসত, তাদের কাছে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা শুনে আমি সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সেনাবাহিনীর র‍্যাব সদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফেরত আনার জন্য আবেদন জানাই। তিনি স্বীকার করলেন র‍্যাব রক্ষীবাহিনীর চেয়েও খারাপ। তিনি কোনো কথা দেননি এবং পরে এ নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেননি।

 

পরে আমি ইন্টারভিউতে আসা অফিসারদের এই বলে সাহস জোগালাম যদি কাউকে কোনো কিলিং মিশনের জন্য বলা হয়, সে যেন আমাকে সরাসরি ফোন করে। আমি তাদের সেনাবাহিনীতে সম্মানের সঙ্গে ফেরত নিয়ে আসব এবং পুনর্বাসিত করব। আমার পাশাপাশি যারা র‍্যাবে নতুন যাচ্ছেন, তাঁদের মিলিটারি সেক্রেটারি মেজর জেনারেল আনোয়ার, ডিএমআই এবং আমার পিএস কর্নেল সাজ্জাদও (বর্তমানে মেজর জেনারেল) মোটিভেট করতে থাকেন। কিছুদিন পর ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জগলুল আমাকে এসে জানান, আমাদের মোটিভেশনে কোনো কাজ হচ্ছে না। র‍্যাবে যোগদানের পরে অফিসারদের ডিমোটিভেট করা হচ্ছে। তবুও দুজন অফিসারকে যখন প্রথম রাত্রেই কিলিং মিশনে যেতে বলা হয়, তাঁরা ওখান থেকে চলে এসে ঢাকা সেনানিবাসের এমপি চেকপোস্টে রিপোর্ট করেন। আমি তাঁদের সসম্মানে সেনাবাহিনীতে পুনর্বাসিত করি।

 

এর মধ্যে ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জগলুল কর্নেল জিয়াউল আহসানের বিরাগভাজন হন। তাঁকে মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দীকি ডিএমআই পদ থেকে সরিয়ে দেন। সাধারণত ডিএমআই সেনাপ্রধানের পছন্দের ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং তাঁকে সেনাপ্রধানই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাঁকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বদলি করে দেওয়া হয়, যা ছিল আমার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। কমান্ডিং অফিসার আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট ব্রিগেডিয়ার ফজলকেও বদলি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আমার প্রবল বিরোধিতার কারণে তা ব্যর্থ হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

জাতিসংঘে তারেক রহমানের অভিষেক, যে দুই কারণে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’

সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার ভোরে (২১ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন তিনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সেখানে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে অভিষেক ঘটছে তার।   সর্বশেষ ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেন তার মা প্রয়াত খালেদা জিয়া। যদিও ১৯৯৩ সালে ৪৮তম অধিবেশন, ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক বিশেষ অধিবেশনেও অংশ নেন খালেদা জিয়া।   তারও আগে ১৯৮০ সালে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভাষণ দেন তার স্বামী প্রয়াত জিয়াউর রহমান।   সাড়ে চার দশকের মধ্যে সরকারপ্রধান ও একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে একইমঞ্চে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন তাদেরই উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   বিশ্বের যেকোনও দেশের ক্ষেত্রে এটি বিরল ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্য হিসেবে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এই দুই কারণে এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে দেশের গ্রহণযোগ্যতা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।   সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের অধিবেশনে আগামী দিনে ঢাকার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।   বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন পরবর্তী দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেবেন সরকারপ্রধান। তাছাড়া আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের প্রস্তাবনাগুলোও তুলে ধরবেন তিনি।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন এটি তো স্বাভাবিক বিষয়। অতীতের সরকারগুলোও তা দিয়েছেন। তবে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার মতো সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো সেখানে যাচ্ছেন। বিশ্বে একই পরিবার থেকে নির্বাচিত তিন জন সরকারপ্রধান এমন সুযোগ পেয়েছেন কিনা আমার জানা নেই। তাছাড়া এবার একই সময়ে জাতিসংঘের সভাপতিত্ব করছে বাংলাদেশ। সেদিক থেকে এটি আমাদের জন্য ব্যতিক্রম। আশা করবো প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নিজেদের অবস্থানের বিষয়টিও খোলাসা করবেন, এমনটি প্রত্যাশা করে দেশের মানুষ।’’   তিনি বলেন, ‘‘ব্যক্তিগতভাবে আমি চাই তার ভাষণে যেন জাতীয় স্বার্থের প্রতিফলন ঘটে।’’     জিয়ার ভাষণের বিশেষত্ব   রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন নথি অনুযায়ী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তখন তেলের সংকট এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে নিজের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ নির্ধারণ ও তা অনুসরণের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা জিয়াউর রহমান তার নিজস্ব ভাষায় তুলে ধরেছিলেন। তেলের সংকট, বিপুল বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় এবং কমে যাওয়া উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি আন্তর্জাতিক শান্তির সঙ্গে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক বৈষম্যের সম্পর্ক তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য, আর্থিক ও উন্নয়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের আহ্বান জানান।   বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তিনি কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনকে জাতীয় এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোর কাছে আরও ভালো বাজার সুবিধা, বেশি উন্নয়ন সহায়তা এবং ঋণমুক্তির দাবি জানান। জিয়ার ভাষণের মূল কথা ছিল আত্মনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আহ্বান ছিল না। তিনি এমন একটি বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন, যা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে আরও ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি নিজের উৎপাদন সক্ষমতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারে।   বাংলাদেশকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া   জাতিসংঘে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম ভাষণও ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। যখন দেশটি সবেমাত্র সংসদীয় গণতন্ত্রে পা রেখেছে। ১৯৯৩ সালে তার ভাষণ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তাৎক্ষণিক ও জাতীয় কিছু বিষয় গুরুত্ব পেয়েছিল। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় থেকে পুনরুদ্ধার, গ্রামীণ উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীশিক্ষা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।   এসব বিষয় ছিল মূলত অভ্যন্তরীণ। তিনি বাংলাদেশ নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরছিলেন।   অপরদিকে ২০০৫ সালে খালেদা জিয়া আবারও ভিন্ন একটি অবস্থান থেকে বক্তব্য দেন। তার ভাষণে জাতিসংঘের সংস্কার, সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার, উন্নয়ন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ এবং শান্তিরক্ষার বিষয়গুলো উঠে আসে। বাংলাদেশ তখনও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কাছে বিভিন্ন দাবি জানাচ্ছিল। তবে একইসঙ্গে নিজেদের সেই ব্যবস্থার দায়িত্বশীল একটি দেশ হিসেবেও উপস্থাপন করছিল।   তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। এ বার্তাটি উন্নয়ন সহায়তার চেয়েও বিস্তৃত ছিল।   ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে তুলে ধরবেন তারেক রহমান?   এরই মধ্যে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যে সময় বাংলাদেশ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে।   সরকারি সূত্রে জানা যায়, জাতিসংঘে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে প্রাধান্য দেবেন তারেক রহমান। তাদের মতে, গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দায়িত্বকে কেন্দ্রে রেখেছিলেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া। তাদেরই সন্তান তারেক রহমান তার পররাষ্ট্রনীতির ভাষায় জাতীয় স্বার্থকে আরও স্পষ্টভাবে কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। তারা উল্লেখ করেন, শুধু তারেক রহমানই নন, ভারতের নেহরু-গান্ধী পরিবারও তিন প্রজন্মের প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েক পরিবারেও রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রজন্মের পর প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কোনও নির্দিষ্ট পথনির্দেশ নিয়ে আসে না। প্রতিটি প্রজন্ম একটি ভিন্ন বিশ্বের মুখোমুখি হয়।   এর মাধ্যমে জাতিসংঘে তারেক রহমানের উপস্থিতি একটি পারিবারিক মাইলফলকের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে উঠতে পারে।বিশেষ করে ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান যে বিশ্বে কাজ করেছিলেন, তিনি যে বিশ্বে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে তারেক রহমান যে বিশ্বে বক্তব্য দেবেন, তার প্রায় কোনোটিতেই মিল নেই। কারণ বাংলাদেশ এখন আর সেই তরুণ রাষ্ট্র নয়, যে অতিরিক্তভাবে বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। এর অর্থনীতি, কূটনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক ভূমিকা বদলে গেছে। একইসঙ্গে বদলে গেছে এর সামনে থাকা প্রশ্নগুলোও—জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক জোট এবং রোহিঙ্গা সংকট পর্যন্ত।   এটাই যেকোনও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের পরীক্ষা। জিয়াউর রহমান জাতিসংঘকে ব্যবহার করেছিলেন বৃহত্তর অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও শক্তিশালী কণ্ঠের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে। খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, উন্নয়ন-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্বের কথা তুলে ধরেছিলেন। এখন তারেক রহমানের সামনে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নিজস্ব অর্থ তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।   জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাজনীতি বিশ্লেষক রুহিন হোসেন প্রিন্স বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অতীতের ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন, এটা রুটিন ওয়ার্ক হিসেবেই দেখছি।’’   তিনি বলেন, ‘‘তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারে তার ভাষণের বিশেষ তাৎপর্য আছে বলে মনে করি। কারণ বৈশ্বিক দিক থেকে আমাদের নানা সংকট রয়েছে। আশা করবো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পক্ষে তিনি কণ্ঠস্বরের ভূমিকা রাখবেন। সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে বিকল্প ঐক্যের কথা বলবেন।’’   একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদানের বিষয়টিকে আলাদা করে দেখতে চান না বলে জানান প্রিন্স। তাছাড়া জাতিসংঘের নিয়মিত অধিবেশনে একজন সরকারপ্রধানের সফর হিসেবেই তা মূল্যায়ন করতে চান বলে উল্লেখ করেন।   অতীতের চেয়ে এবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু সালেহ শিবলী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর সরকারপ্রধান হিসেবে সেখানে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আমরা মনে করি এটি বাংলাদেশের জন্য নতুন মাইলফলক। বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। তাছাড়া ৪০ বছর পর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এটিও বাংলাদেশের জন্য গৌরবের।’’ প্রেস সচিব বলেন, ‘‘এর মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ।’’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব সম্প্রসারণে ইউএনএফপিএর সহায়তা চাইল সরকার

ছবি: সংগৃহীত

আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়িতে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৭

ছবি: সংগৃহীত
আশুলিয়ায় কাভার্ডভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল কাঁচামাল ব্যবসায়ীর

আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত ও দগ্ধ হয়েছেন।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার মারবাড়ি-শিমুলতলা সংলগ্ন একটি কারখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত নজরুল ইসলাম মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার আবুডাঙ্গা গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে জামগড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সেখানে পেঁয়াজ, রসুন ও আদাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের খুচরা ব্যবসা করতেন।   দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন কাভার্ডভ্যানের চালক খুলনার নূর আলম (৪০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কাঁচামাল বিক্রেতা মোখলেস মিয়া (৪৫) এবং তাঁর ছেলে সুজন মিয়া (১৮)।   নিহতের ছেলে মো. সামিউল জানান, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে বাসার জানালা দিয়ে ধোঁয়া দেখতে পান তিনি। বাইরে মানুষের চিৎকার ও ছোটাছুটি শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবাকে খুঁজতে থাকেন। পরে স্থানীয় এক হোটেল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জানতে পারেন, আহত অবস্থায় তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।   স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর পাশের কারখানায় আগুন ধরে যায়। এ সময় কারখানা থেকে ছিটকে আসা একটি ভারী বস্তু নজরুল ইসলামের মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।   স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাছের নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।   ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে নজরুল ইসলাম মারা যান। আহত অপর তিনজনের চিকিৎসা চলছে।   ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নভেম্বর-ডিসেম্বর নয়, জানুয়ারিতে হতে পারে ইউপি নির্বাচন: নির্বাচন কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত

হার্টের রিংয়ের দামে অনিয়মের অভিযোগ, জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে দুদকের অভিযান

ছবি: সংগৃহীত

লংমার্চের পোস্ট ঘিরে জিএমপির কর্মকর্তা প্রত্যাহার, শোকজ

ছবি: সংগৃহীত
চুয়েটে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, ৯ শিক্ষার্থীকে শোকজ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৯ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযুক্ত সবাই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের শোকজের বিষয়টি জানানো হয়।   শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আটজন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের এবং একজন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ডি-২০০ নম্বর কক্ষে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থীকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিভিন্নভাবে অপমান, হেয়প্রতিপন্ন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ধরনের ঘটনা এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বরও ঘটেছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।   ঘটনার সঙ্গে শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।   শিক্ষার্থীদের আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার মধ্যে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, র‍্যাগিং ও মাদকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার থেকে ডিজেল-কেরোসিন-পেট্রল-অকটেনের দাম বাড়ছে

ছবি: সংগৃহীত

গাজী নজরুলের সেই ফ্লাটে ছুটে গেলেন এমপি হানজালা

ছবি: সংগৃহীত

মরিয়মের মৃত্যু নিয়ে জামায়াতের বক্তব্য, ‘গাজী নজরুল এখন দলের কেউ নন’

0 Comments