স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের এক প্রতিনিধিদল অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার লক্ষ্যে একজন ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নির্ধারণের দাবি জানান। মন্ত্রী অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে দাবিটি বিবেচনার এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।
আলোচনাকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্র কর্তৃক রামমন্দির নির্মাণ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী কর্তৃক দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।’
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে-এমন যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের হামলায় রেজাউল করিম (৬০) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তরের (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী। সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর মেহেরচণ্ডি কড়ইতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রেজাউল করিম পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস প্রামাণিকের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানান, সোমবার সকাল থেকেই মা-বাবা ও ছেলে রাকিবুলের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা চলছিল। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে ছেলে রাকিবুল চরম উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং ঘরে থাকা একটি ভারী মুগুর দিয়ে তার বাবা রেজাউল করিমের মাথায় সজোরে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত রাকিবুল করিম দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কোনো সেশনজট হতে দেব না। ২০২৭ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রুটিন আমরা করে ফেলেছি। মাধ্যমিকের ফলাফল জুলাই মাসে দেওয়া হবে। এখন থেকে এইচএসসি পরীক্ষার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিকে সিনক্রোনাইজ করা হবে। শিক্ষার্থীদের সময় আর নষ্ট হবে না। সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এহছানুল হক মিলন বলেন, সব ধরনের বৈষম্য দূর করে কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও ঢেলে সাজাচ্ছি। যেখানে শিক্ষক নেই, আমরা দু-তিন মাসের ভেতর শিক্ষক নিয়োগ দেব। আমরা তিন মাসের ভেতর মোটামুটি লাইনে নিয়ে আসতে পারব। তিনি বলেন, অতীতের সরকার অনেক কিছু করেনি। বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে, মামলার জটিলতার কারণে আটকে ছিল। এবার হাইকোর্ট বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন এবং তারা মামলার জট খুলে দিচ্ছেন। হাই স্কুলে শিক্ষক যাবে, এমপিও প্রতিষ্ঠানে যাবে। কলেজে শিক্ষক নিয়োগ হয় পিএসসির মাধ্যমে তাই একটু সময় লাগবে, তবে বেশি সময় লাগবে না। প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন, হাই স্কুল ও সরকারি হাই স্কুলে ৯ হাজার, ইসলামী শিক্ষক ৯ হাজার; মানে আমাদের হিউজ শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। কেনো জানো? কারণ আওয়ামী লীগ সরকার চেয়েছে দেশটা ধ্বংস করে দিতে। আমি জানি এ জায়গাটা অত্যন্ত কঠিন জায়গা। কলেজের অধ্যক্ষ মো. আফতাব উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আলম সিকদার, সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন, বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আবদুল মতিন লিটন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফজলুল কবির ফয়সাল, সদস্য সচিব জাহিদুর রহমান রাজন প্রমুখ।
২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার যৌথ বিনিয়োগ আহ্বান করেছে। এছাড়া, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত নিরাপদ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ-জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সমঝোতা ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। চলতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি পারস্পরিক লাভজনক ও দূরদর্শী চুক্তি বাস্তবায়নে দুই পক্ষই তাদের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথ সুগম করতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের জন্য ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, হালাল শিল্প, শক্তি এবং অবকাঠামো খাতের মতো উচ্চ-মূল্যবান শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দ্বিপক্ষীয় শক্তি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। তরলীকরা প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যকার বিদ্যমান সমঝোতা স্মারককে পূর্ণ ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যাতে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মতো খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর খাতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের অব্যাহত, নিরাপদ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অভিবাসন নিশ্চিত করতে যৌথ কার্যনির্বাহী গ্রুপ (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ-জেডব্লিউজি) গঠনে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। এ প্রসঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই গ্রুপ শ্রমবাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করবে এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে কাজ করবে। জেডব্লিউজির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়ন করা। বর্তমান চুক্তির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করবে গ্রুপটি। এ ছাড়া, উভয় দেশের বর্তমান চাহিদা, শ্রমবাজারের বাস্তবতা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি নতুন ও হালনাগাদ এমওইউ প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করাও এই গ্রুপের অন্যতম লক্ষ্য। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে দুই দেশের নেতারা মানুষে মানুষে যোগাযোগের গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেন এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বাগত জানান। তারা আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিময় এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদারে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে দেশটি। তবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার বিদ্যমান নীতিমালা অনুসারে নতুন কর্মী কোটার অনুমোদন নিয়োগকর্তাদের যাচাই করা চাহিদা এবং খাতভিত্তিক নির্ধারিত সীমার ওপর ভিত্তি করে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুমোদিত যেকোনো কর্মী কোটার ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও প্রতিযোগিতামূলক করতে উভয় দেশ কেবল বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্যতাসম্পন্ন নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্যে একটি কাঠামোবদ্ধ প্রতিরক্ষা রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য দ্রুত ‘যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কমিটি’ (জেসিডিসি) গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। নতুন এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজগুলোর মধ্যে আসন বরাদ্দ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গ্লোবাল হালাল বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের হালাল খাত উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুরে সম্পন্ন হওয়া ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস অন কোঅপারেশন ইন দ্য ফিল্ড অব হালাল ইকোসিস্টেমের’ মাধ্যমে মালয়েশিয়ার হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারবে। এ সহযোগিতা মালয়েশিয়ার জাকিম এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। বিবৃতিতে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, প্রযুক্তি পার্ক এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দুই দেশের এই নতুন উদ্যোগকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বাইরে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দুই শীর্ষ নেতা উচ্চ পর্যায়ের সফরসহ নিয়মিত সংলাপ ও আদান-প্রদানে একমত হয়েছে। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়গুলোতে সম্পৃক্ততা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। নেতারা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়মিত সংলাপের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন এবং এ প্রসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত যৌথ কমিশন বৈঠক (জেসিএম) এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা (বিসি) পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছেন। শিক্ষা খাত নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় নেতা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে (টিভিইটি) কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব এবং যৌথ গবেষণা কর্মসূচিসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম এবং নমনীয় শিক্ষাপথ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন। নেতারা উভয় দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের সঙ্গে একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছেন। এছাড়া, উভয় নেতা দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মালয়েশিয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে এবং বাংলাদেশের প্রতি তার সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়া এই সংকটের একটি স্থায়ী সমাধান অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যার মূল ভিত্তি হলো বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন। বাংলাদেশ আসিয়ান, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), জাতিসংঘ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামসহ দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থন এবং নীতিগত প্রতিনিধিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনের মাধ্যমে আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আসিয়ান কাঠামোর মধ্যে ঢাকার আকাঙ্ক্ষা পূরণে মালয়েশিয়ার গঠনমূলক সমর্থনের প্রস্তুতির কথা প্রকাশ করেছেন। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এই অঞ্চলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও কৌশলগত ভূমিকা স্বীকার করে, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-তে যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে। উভয় নেতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া, এই অঞ্চলে একটি টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ শান্তির লক্ষ্যে চলমান সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন ব্যক্ত করেন। তারা জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানব পাচার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের মতো প্রচলিত ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। উভয় নেতা এই চ্যালেঞ্জগুলোকে একটি সামগ্রিক পদ্ধতিতে মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।