নবম জাতীয় পে স্কেলের দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। পে কমিশনের সুপারিশ মতে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
এ বিষয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তারা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় এসব দাবি জানানো হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক। প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব আশিকুল ইসলাম।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, সাভারের সাবেক মহাসচিব ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হক।
সভায় সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি শাহাবুদ্দিন মুন্সী, সহসভাপতি মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ এবাদুল ইসলাম, আজিজুর রহমান ও নুরুজ্জামান লিটন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল কাদের খান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল আমিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক এবং প্রচার সম্পাদক এবি বেগমসহ সংগঠনের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল মালেক বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। এতে বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেতন বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা হবে।
এ সুপারিশে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নবম পে স্কেল হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্য ব্যাপক বেড়েছে। বেতন বাড়ার আগেই নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না।
আবদুল মালেক আরো বলেন, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের বর্তমান অবস্থা ও দ্রব্যমূল্যের পার্থক্য তুলে ধরে দুটি পে স্কেলের সমন্বয়ে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে তা কাটছাঁট করে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।
মহাসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বৈষম্যের শিকল আরো শক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও কমিয়ে দেয় এবং এর সঙ্গে থাকা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাদ দেওয়া হয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে কর্মচারীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা তৈরি হবে।
কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তিনি সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বহাল রাখার পাশাপাশি বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা আরও বাড়িয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান।
সভায় নেতারা বলেন, দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান বাজারমূল্যের চাপ থেকে স্বস্তি দিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সদয় দৃষ্টি কামনা করেন তারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের কুমিল্লার বাসিন্দা আজফর হোসেনের দুই স্ত্রী। তবে প্রথম স্ত্রী বা তার সন্তানেরা দ্বিতীয় স্ত্রীর খবর জানতেন না। তার মৃত্যুর পর সম্পত্তি ভাগাভাগির সময় এই তথ্য প্রকাশ পায়। রাজধানী ঢাকায় চাকরি করার সময় ধানমন্ডিতে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছিলেন আজফর হোসেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই ইঞ্জিনিয়ারের নিজ জেলায় যেমন রয়েছে বিপুল সম্পত্তি, তেমনি মৃত্যুর পর ঢাকার সম্পত্তির কথাও জানতে পারেন প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানেরা। তবে ঢাকায় শুধু ওই একটি ভবনই নয়, বরং আজফর হোসেনের আরও ফ্ল্যাট এবং প্লটের সন্ধান পায় পরিবার। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর তিন মেয়ে, ছেলে নেই। ২০২২ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আজফর হোসেন মারা যাওয়ার পর প্রথমে ধানমন্ডির বাড়ির ভাগ নিয়েই সম্পত্তি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েন তার প্রথম স্ত্রীসহ স্বজনরা। কেননা কাগজে কলমে ওই পাঁচতলা বাড়িটি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি ও নামজারি করা। আজফর হোসেনের প্রথম স্ত্রী সেলিনা হোসেন জানান, মুসলিম পারিবারিক আইনানুযায়ী, যেহেতু তার ছেলে সন্তান নাই, তাই এখন মৃত স্বামীর সব সম্পত্তিতে তার তিন মেয়ের ভাগ কমে যাবে। কারণ দ্বিতীয় স্ত্রী আর তার ছেলের ভাগেও সম্পত্তির অংশ যাবে। যে গল্পটি এতোক্ষণ পড়লেন, সেটি একটি মুসলিম পরিবারের। প্রতিবেদন বিবিসি বাংলার। অনেকেরই হয়তো কৌতুহল হচ্ছে যে, তাহলে কোনো পুরুষের একাধিক স্ত্রী থাকলে ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের উত্তরাধিকার আইনে কীভাবে সম্পত্তি বণ্টন করার কথা বলা হয়েছে? স্বামীর সম্পত্তি কোন স্ত্রী কতটুকু পাবেন? একাধিক মুসলিম বিধবা স্ত্রীর অধিকার বাংলাদেশে মুসলিম আইনানুযায়ী, একজন পুরুষের একই সময়ে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী থাকতে পারবে। এর বেশি হলে অর্থাৎ চারজনের পরে পঞ্চম বিয়ে করলে সেই বিয়ে বাতিল হবে না, কিন্তু ‘অনিয়মিত বিয়ে’ বলে গণ্য করা হবে। আইনজীবীরা জানান, একজন ব্যক্তি মারা যাওয়ার আগে তার সম্পত্তির ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকার তৈরি হয় না। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি জীবিত থাকাবস্থায় নিজেই সব সম্পত্তির মালিক। তিনি জীবদ্দশায় সম্পত্তি বিক্রি বা হেবা বা দান করতে পারেন নিজের ইচ্ছায়। মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক বলেন, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মুসলিম একজন পুরুষের স্ত্রীর সংখ্যা স্বামীর সম্পত্তিতে তার অংশের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর উত্তরাধিকার বন্টন নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। স্ত্রী কতজন, সন্তান আছে নাকি নেই, কতজন সন্তান, সন্তান ছেলে না মেয়ে এমন নানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই সম্পত্তি বন্টন করা হয় বলে জানান উজ্জল ভৌমিক। আবার কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে তালাক দেন, কিন্তু সেই ঘরে সন্তান থাকে তবে সেই সন্তান ওই ব্যক্তির সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সম্পত্তির ভাগ নয়, বরং যদি পাওনা থাকে তবে দেনমোহর ও খোরপোশ পাবেন। সন্তান থাকলে স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর ভাগ আইনানুযায়ী, স্ত্রীর সংখ্যা এক বা একাধিক হোক, সবাই মিলে স্বামীর সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ পান। আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক বলেন, যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান থাকে তাহলে বিধবা স্ত্রী বা একাধিক স্ত্রীসহ সবাই মিলে স্বামীর সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ অংশ পাবেন। অর্থাৎ স্ত্রী একজন বা চারজন যতজনই থাকুক না কেন, স্বামীর সম্পত্তির আটভাগের একভাগই সবার মধ্যে বণ্টন হবে। একজন থাকলে তিনি একাই ওই অংশ পাবেন। একাধিক থাকলে সবার মধ্যে সমবণ্টন হবে বলে জানান উজ্জল ভৌমিক। সন্তান না থাকলে সম্পত্তিতে বিধবা স্ত্রীর অংশ যদি সন্তান না থাকে সেক্ষেত্রে একজন স্ত্রী অথবা একাধিক স্ত্রী থাকলে সবাই মিলে মৃত স্বামীর মোট সম্পত্তির চার ভাগের একভাগ অংশ পাবেন বলে জানান আইনজীবীরা। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বা তার সন্তান কি সম্পত্তির উত্তরাধিকার হবেন? সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক জানান, যদি তালাক হয়, তবে সেই স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার বঞ্চিত হন। তবে আইনানুযায়ী, দেনমোহর এবং ইদ্দতকালীন ভরণপোষণ পাবেন তিনি। তবে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ঘরে মৃত স্বামীর ঔরসজাত সন্তান বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন। স্বামীর সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার বাংলাদেশে হিন্দু আইন উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সাধারণত দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে, হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অধিকার খুবই সীমিত ছিল বলে জানান আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক। একজন হিন্দু পুরুষের একাধিক বিয়েতে বাধা নেই বলে জানান আইনজীবীরা। তবে, প্রথম স্ত্রী থাকাকালীন অন্য স্ত্রীদের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন আইনজীবীরা। আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক বলেন, একজন হিন্দু পুরুষ স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও একাধিক বিয়ে করতে পারবেন। কিন্তু কেবল প্রথম স্ত্রীই আইনগত বৈধতা পাবেন। দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীর আইনগত স্ত্রী হিসেবে কোনো স্বীকৃতি পান না। কোনো আইনি অধিকার যেমন ভরণপোষণ বা সম্পত্তির উত্তরাধিকার দাবি করতে পারবেন না। উজ্জল ভৌমিক জানান, প্রথম বিয়ে বলবৎ থাকাবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে আইনগতভাবে অকার্যকর বলে গণ্য হবে। একইসাথে এই স্ত্রীর সন্তানরা বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু ভরণপোষণ পাওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে। একইসাথে দ্বিতীয় বিয়ের অপরাধে হিন্দু ওই পুরুষ ফৌজদারি শাস্তির অপরাধে অভিযুক্ত হতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন আইনজীবী উজ্জল ভৌমিক। তিনি বলেন, হিন্দু পুরুষটি দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী দ্বিবিবাহের বা বাইগ্যামির অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। হিন্দু আইনানুযায়ী, স্বামীর জীবিত থাকলে তার সম্পত্তির ওপর স্ত্রীর কোনোরকম অধিকার থাকে না। কেবল ভোগ করতে পারবেন। ওই ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর হিন্দু বিধবা একজন স্ত্রী তার এক ছেলে যে পরিমাণ সম্পত্তি পাবে, সেই সমান অংশ জীবনস্বত্ত্ব পাবেন। অর্থাৎ, তিনি নিজের জীবদ্দশায় স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন, কিন্তু হস্তান্তর করতে পারবেন না। এমনকি নিজের সন্তানকেও দান করতে পারবেন না। তবে আইনগত প্রয়োজন যেমন: স্বামীর শ্রাদ্ধ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, দেনা পরিশোধ, নিজের ভরণপোষণ এবং সন্তান থাকলে তার ভরণপোষণ, চিকিৎসা, শিক্ষা ইত্যাদি প্রয়োজনে বিধবা হিন্দু নারী স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন। তিনি মারা যাওয়ার পর এই সম্পত্তি বিধবা সম্পত্তি বা উইডোজ এস্টেট হিসেবে মৃত স্বামীর পুরুষ উত্তরাধিকারের দখলে চলে যাবে বলে জানান আইনজীবীরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আরেকজন আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার বলেন, কোনো ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকলে প্রত্যেক স্ত্রী এক পুত্র সন্তানের সমান অংশ করে সম্পত্তি জীবনস্বত্ত্বে ভোগ দখল করবেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার বলেন, যদি দশজন পুত্র থাকে তারা যে অংশটা পাবে, মাও সেই এক ছেলের সমান পাবেন। খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মে কী বলা হয়েছে? খ্রিস্টান ধর্মে একাধিক বা বহুবিবাহের অনুমতি নেই বলে জানান আইনজীবীরা। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলা পিডিয়ায় বলা হয়েছে, কোনো দেশীয় খ্রিস্টানের স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে ওই ব্যক্তি অপর কোনো দেশীয় খ্রিস্টানকে বিয়ে করতে পারে না। আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার জানান, খ্রিস্টান আইনে দ্বিতীয় বিবাহের কোনো অনুমতিই নাই। কারণ চার্চ এটা অনুমোদন করে না। তবে, খ্রিস্টান একজন স্ত্রী মৃত স্বামীর সম্পত্তির অংশ পান। তিনি একজন ছেলের সমান ভাগ পান বলে জানান প্রশান্ত কর্মকার। উজ্জল ভৌমিক ও প্রশান্ত কুমার কর্মকার দুইজন আইনজীবীই জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বৌদ্ধরা হিন্দু আইন অনুসরণ করে থাকে। ফলে সেই হিসেবে একজন বৌদ্ধ পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু সম্পত্তির উত্তরাধিকার পান না প্রথম স্ত্রী ছাড়া অন্য স্ত্রীরা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধীদলীয় ভূমিকায় এনেছে। জনগণের দেওয়া এই দায়িত্বকে আমানত হিসেবে গ্রহণ করে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত রুকন সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দৃঢ় বিশ্বাস, মনোবল ও সাহস নিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। বগুড়াকে ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ আব্দুল মালেক, ফকির আব্দুর রাহমান ও অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলীর স্মৃতির সঙ্গে এ এলাকার মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ভবিষ্যতেও বগুড়ার মানুষ দেশ ও জনগণের মুক্তির আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের রাজধানী হিসেবে পরিচিত বগুড়ার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সমস্যাগুলো আগামী দিনে দূর হবে বলে তিনি আশা করেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দীন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহীনূর আলম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য সৈয়দ আব্দুল আজিজ। বগুড়া মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আসম মালেক ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনে জেলা ও মহানগরের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পুরুষ ও নারী রুকন অংশ নেন। সম্মেলনে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, দায়িত্বশীলদের করণীয় এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে রুকনদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর আগে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে ডা. শফিকুর রহমান বগুড়ার ধুনট উপজেলায় শহীদ আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ ছাড়া দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতের আমির।
দেশ ভালো নেই মন্তব্য করে জাতির প্রয়োজনে সরকার চাইলে যেকোনো সময় বিরোধী দল সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলে সাংগঠনিক সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলও দায়িত্বহীন নয়। সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়তে হবে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি সংসদের ৬৮ বিধিতে একটি নোটিশ দিয়েছিলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সরকার ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে ও বিদেশে দক্ষ টেকনিক্যাল টিম রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, জাতির স্বার্থে এসব বিশেষজ্ঞকে সরকারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হলেও এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী একটি টিম গঠন করে প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, ছয় দফা জনদাবি নিয়ে তারা দ্বিতীয়বারের মতো রাজপথে নেমেছেন। তবে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা দেশের ক্ষতি করতে চান না তারা। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের জন্য আন্দোলন করে জনগণের ক্ষতি করতে চান না তারা। একসময় সরকার জনগণের দাবি বিবেচনায় নিয়ে তা মেনে নিতে বাধ্য হবে।