অন্যান্য

সরকার, ভারত ও প্রতিপক্ষকে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গণরায়ের বাস্তবায়ন, ফারাক্কা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিতের দাবিতে রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দল। সমাবেশ থেকে সরকার, ভারত এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

 

আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। “গণরায় বাস্তবায়ন” এবং “পদ্মায় পানির ন্যায্য হিস্যা” আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন নেতাকর্মীরা।

 

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া রায়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। বিএনপি দলীয় কোটায় ৫২ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে নিজেদের ইশতেহারের সঙ্গেই বেঈমানি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

ভারতের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তি নিয়ে টান দিলে কাউকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। কারো রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে তিস্তা ও পদ্মায় পানি আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, এটি যেন শুধু লোক দেখানো প্রকল্প না হয়। জনগণ এর বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন হঠাৎ করে আসেনি; এর পেছনে রয়েছে বহু মানুষের ত্যাগ ও রক্ত। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ভয়কে জয় করে রাজপথে নেমেছিল বলেই ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন সম্ভব হয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘যে তরুণ-তরুণীরা বুক চিতিয়ে গুলির মুখে আন্দোলন করেছে, জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ সবাই রাস্তায় নেমে এসেছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে।’

 

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আজ যারা ক্ষমতায় বসে আছেন, তারাই এখন আন্দোলনের সেই শক্তিকে অবমূল্যায়ন করছেন। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করলে অতীতে যেভাবে স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে, বর্তমান সরকারের পরিণতিও ভিন্ন হবে না।’

 

সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তারা সংবিধান সংস্কার ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে এখন সেই প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আপনারাই বলেছিলেন দেশকে মেরামত করতে হবে, সংবিধানের সংস্কার করতে হবে। এখন বলছেন সংস্কার কী জিনিস তা বুঝেন না। তাহলে কি না বুঝেই এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন?’

 

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সরকার নিজেদের ইশতেহারের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।’

 

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি বন্ধে স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সরকার তা না করে উল্টো বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। যে পথে অতীতে স্বৈরাচার হেঁটেছিল, আপনারাও একই পথে হাঁটছেন।’

 

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশে এখন সর্বত্র চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মহাউৎসব চলছে। ক্ষমতাসীনদের কেউই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মানুষ এখন বলতে শুরু করেছে, মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সবাই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। না হলে কেন এসব বন্ধ হচ্ছে না?’

 

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ও দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে শিক্ষা ও প্রশাসন ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়ছে। প্রশাসনে যদি দক্ষ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষদের সরিয়ে দলকানা লোক বসানো হয়, তাহলে এর খেসারত শুধু জাতিকেই নয়, সরকারকেও দিতে হবে।’

 

সমাবেশে তিস্তা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়েও জোরালো বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা এখন শুকনো মৌসুমে প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং বর্ষায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ দুর্ভোগ। সরকার পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

 

একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিস্তার পানি আমাদের ন্যায্য পাওনা, পদ্মার পানিও আমাদের ন্যায্য পাওনা। দেশের ১৫৪টি অভিন্ন নদী আজ মৃতপ্রায় হয়ে গেছে। নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

 

প্রতিবেশী দেশের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। তবে দেশের দিকে ‘লাল চোখ’ দেখানো হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। এটা তিতুমীর ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বাংলাদেশ। আমাদের শান্তিতে আঘাত করলে কারও শান্তি থাকবে না।’

 

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষের দেশ। এখানে সবাই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে এবং কোনো সাম্প্রদায়িক অশান্তি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।’

 

তিনি বলেন, সংসদে জনগণের দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু সেখানে কথা বলতে না দেওয়া হলে রাজপথেই জনগণের পার্লামেন্ট গড়ে উঠবে। তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জান দেব, কিন্তু দেশের মান দেব না ইনশাল্লাহ।’

 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও উত্তরাঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিবির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা জালালুদ্দিন আহমদ, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির অধ্যাপক সিরাজুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে: সালাহউদ্দিন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন কীভাবে হবে, সে আলোচনায় অংশ নিয়ে কেউ কেউ ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছেন বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   শনিবার সংবিধান সংশোধন কমিটির নবম বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যদি উচ্চকক্ষ গঠিত হয়, উচ্চকক্ষ যদি সংসদের একই মেয়াদে বিলুপ্ত না হয় এবং সেই ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ যদি থেকে যায়, উচ্চকক্ষের মধ্যে কেয়ারটেকার সরকারের গঠন প্রক্রিয়া রাখা যায় কিনা, সেই ক্ষেত্রে স্পিকার উচ্চকক্ষের যদি, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃজন করা হয়, সেই ক্ষেত্রে একজনের প্রস্তাব আছে যে ভাইস প্রেসিডেন্টই উচ্চকক্ষের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   “অথবা যদি বিকল্প থাকে সেক্ষেত্রে বিরোধী দল সরকারি দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে সেই স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যায় কিনা এবং স্পিকার বাদে অন্যান্য যারা উপদেষ্টা থাকবেন তারা বিরোধী দল সরকারি দলের সম্মতিতে ওখান থেকে যদি অ্যাডভাইজার নিযুক্ত হন সেটার একটা বিধান থাকতে পারে। অনেকে মতামত এরকম দিয়েছে, এটাও বিবেচনা করা যায়।   তিনি বলেন, “সবগুলো প্রস্তাব আসলে আমরা কমিটিতে বসে, তারপর রিপোর্ট প্রদানের সময় সেগুলো আমরা তুলে ধরব। তার ওপর ভিত্তি করে আরও অনেক প্রস্তাব থাকবে। তার ওপর ভিত্তি করে তখন আমাদের বিলটা আসতে পারে।”   এদিন সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির নবম বৈঠক শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলে।   সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সঙ্গে এ বৈঠক হয়েছে।   সংবিধানে সর্বজনগ্রাহ্য সংশোধনী খসড়া প্রণয়ন, সার্বিক সংস্কার, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইন বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত ও পরামর্শ দেন তারা।   মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত হয়।   জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরুতে হোঁচট খায়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপির বিজয়ীরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ীরা দুই পদেই শপথ নেন।   গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধীদের মাঠের আন্দোলনের মধ্যেই বিএনপি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে, যেখানে প্রতিনিধি দেয়নি বিরোধীরা।   সংবিধান সংশোধন কমিটি ইতোমধ্যে রাজনীতি দল ও জোট, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক, বিশিষ্ট নাগরিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা, নারী নেতৃত্ব, গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন সঙ্গে বৈঠক করেছে।   কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক, আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের ওপর বিচারিক পর্যালোচনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কীভাবে কার্যকর করা যায়, বিচারক নিয়োগের আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে মতামত এসেছে।   তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭০-এর সীমাবদ্ধতা শিথিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল, আস্থা/অনাস্থা ভোট এবং জাতীয় নিরাপত্তা বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির বাইরে অন্য ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার অধিকারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।   এছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে আনা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন, কর্মপরিধি এবং এগুলোকে কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বলেন কমিটির সভাপতি।   সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ব্যপারে কি প্রস্তাব এসেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ব্যপারে আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে। কিন্তু গত সরকারের অধ্যাদেশটা আমরা আইনে পরিণত করিনি, কারণ সেখানে অনেক ভুল ত্রুটি ছিল। সেই ব্যাপারে আমাদের কমিটমেন্ট আছে।”   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্ট্যাটিউটরি বডি’ বা কমিশনগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে, যেখানে অন্তত ছয়টি বডিতে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন বলে প্রস্তাব করা হয়েছে।   আগামী কিছুদিনের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট সংকলনের কাজ শুরু হবে এবং বিরোধী দলগুলোর সাথে আলোচনা বা তাদের মতামত নেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, বলেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মামলা হলে আমাকেই যেন প্রধান আসামি করা হয়’: রুমিন ফারহানা

ছবি: সংগৃহীত

নাহিদ ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান রাশেদ খাঁনের

সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।

আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, নিন্দা জানাল জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবার এনসিপির গণবিক্ষোভ

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সর্বত্র দলীয়করণের প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।    আগামী শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার সর্বসাধারণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সদস্য সচিব  আখতার হোসেন।।   আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভোগান্তির মধ্যে আছেন। রাড্ডার ঘটনায় সরকারকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখি না। বিশেষত এই বিষয়গুলো যে মন্ত্রণায়ের দায়িত্বে রয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্য সম্পন্ন না করে, সংবিধান সংশোধনে কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন।   রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন বাংলাদেশের মানুষের জনমেন্ডেটের বাহিরে গিয়ে করা হচ্ছে।   বাংলাদেশের মানুষের ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের রায়ের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধানিক বিষয়গুলো সুরাহা করার জন্য রায় প্রদান করেছে।     কিন্তু সরকার তারা জনগণের রায় উপেক্ষা করে, একতরফা ও একদলীয় সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করেছে। এনসিপি এই একতরফা ও একদলীয় সংবিধান সংস্কার কমিটি বাতিল করে, জনগণের গণভোটের রায় অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠনের আমরা দাবি জানাই।    এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশে মানবধিকার পরিস্থিতির কালো অধ্যায় হাসিনা আমলে দেখেছি। সেই কালো অধ্যায়ে থেকে আমরা যাতে উত্তরণ করতে পারি- এই কারণে মানবাধিকারের পক্ষে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে কিছু অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কিন্তু এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মানবাধিকারের পক্ষের অধ্যাদেশগুলো অত্যন্ত দুর্বল করে, মানবাধিকার পরিস্থিতি লঙ্ঘন করার মতো একটা পরিস্থিতি তারা তৈরি করেছেন।     তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ একটা অধ্যাদেশ ছিল- সেটা দুর্বল করে নিয়ে এসেছেন। সেখানে গুমের ভিক্টিম যারা আছেন, তারাই আবার আইনগত পরিস্থিতি শিকার হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বঋণ ছাড়াল ৩৬৫ লাখ কোটি ডলার, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ৪৫তম

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যারা নিজেদের সব খাবার নিজেরাই উৎপাদন করে

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করে দেশ চালাচ্ছে সরকার’: নাহিদ

ছবি: সংগৃহীত
অনলাইনে ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: দুই চীনা নাগরিকসহ ৪ জন রিমান্ডে

অনলাইন বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ দেওয়ার প্রলোভনে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় দুই চীনা নাগরিকসহ চারজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।     শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।     এর আগে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই এসআই মহিন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।  রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—রুহুল আমিন বিশ্বাস (২৬), শেখ সানজিদা মনসুর সিথি (২৩), চীনা নাগরিক চ্যান লং জি (৩৬) ও ওয়াং শিওয়েই (৩৫)। গত ২২ অক্টোবর রাজধানীর আদাবর ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।       মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী মো. আবু ছাদেকের হোয়াটসঅ্যাপে অনলাইনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভজনক ব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে তাকে দুটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্যাকেজ এবং ব্লক ট্রেড শেয়ারে বিনিয়োগের বিষয়ে বুঝিয়ে বলা হয়। বিনিয়োগের বিপরীতে প্রতিদিন আকর্ষণীয় মুনাফার আশ্বাস দেওয়া হয়।     আরো বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বাদী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে আসামিদের দেওয়া একাধিক ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠান।     বিভিন্ন সময়ে মোট ১১ কোটি টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তাকে ১০ লাখ টাকা লভ্যাংশও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের অর্থ ও লভ্যাংশ তুলতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে ৫ মে ২০২৬ সালে থানায় মামলা করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার তদন্তে ফাতিন মাহদী নামের এক ব্যক্তির সিটি ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখার হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়।     ওই হিসাবধারীকে জিজ্ঞাসাবাদে রুহুল আমিন বিশ্বাসের সঙ্গে তার পরিচয় ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি উঠে আসে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।     পুলিশের দাবি, রুহুল আমিন ও শেখ সানজিদা মনসুর সিথি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব ও সংশ্লিষ্ট ই-মেইলের প্রবেশাধিকার সংগ্রহ করে তা চীনা নাগরিক চ্যান লং জি ও ওয়াং শিওয়েইয়ের কাছে দিতেন। এসব হিসাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে একটি হিসাবসহ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো ২ কোটি ৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা অন্যান্য অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।      মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ওয়ারী) উপপরিদর্শক মৃত্যুঞ্জয় পণ্ডিত মিঠুন রিমান্ড আবেদনে বলেন,  প্রতারণায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর পাসওয়ার্ড উদ্ধার, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণ, অর্থের প্রবাহ শনাক্ত, আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের  সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত চার আসামির তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন, আইফোন, একটি ল্যাপটপ ও একটি চীনা পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির কমিটিতে ‘ছাগলচোর ও ল্যাপটপ চোর’: রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

‘জামায়াত যে জান্নাতের পথ দেখায়, তা দাজ্জালের জান্নাত’ : রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের সেই অতিরিক্ত ডিআইজিকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

0 Comments