ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে তিনি হাদির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের প্রতি সহানুভূতি জানান এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
একই হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলায় ডা. জুবাইদা নিয়মিতই সেখানে যাতায়াত করছেন। ওসমান হাদিকে হাসপাতালে আনার পর তিনি সিসিইউর বাইরে হাদির ভাই ও বোনের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। এ সময় হাদির পরিবারের পাশে কয়েকজন সহকারীও উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারণার প্রস্তুতিকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার মাথায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও হতাহতদের ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে জটিলতা কাটেনি। অভিভাবকদের বক্তব্য হলো, এ ঘটনায় সরকার যে ক্ষতিপূরণ দিতে চাইছে, তা ‘অপ্রতুল’। আহত অনেক শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খরচই এর কয়েক গুণ। অন্যদিকে, সরকারের তরফ থেকেও নতুন করে এ নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সবমিলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দিন কাটছে হতাশা আর বিষণ্ণতায়। কী ঘটেছিল সেদিন ২০২৫ সালের ২১ জুলাই, দিনটি ছিল সোমবার। দুপুরে সোয়া ১টা নাগাদ ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই মডেলের জঙ্গিবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহুর্তেই এক মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয় সেখানে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনে পুড়ে যায় ছোট্টো শিশুদের কোমল শরীর। এ ঘটনায় অন্তত ৩৬ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক। হতাহতদের অধিকাংশই শিশু। সেদিন প্রাণ হারান উড়োজাহাজের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও। সরকারি হিসাবে অবশ্য নিহতের সংখ্যা ৩৫; আহতের সংখ্যা ৬৪। এ ঘটনার একদিন পর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনিসুর রহমান রায়হান জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেন। এই রিট আবেদনে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারকে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। রিট আবেদন আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্তে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে নিহতদের পাঁচ কোটি করে এবং আহতদের এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করা হয়েছিল। কয়েক দফা বৈঠকের পর ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ, অর্থসহায়তা ও চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর একটি সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সভায় আহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ এবং নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা করে আহতদের ৬৪ জন পাবে ৩ কোটি ২০ লাখ এবং ২০ লাখ টাকা করে নিহতদের ৩৫ পরিবার পাবে সাত কোটি টাকা। ক্ষতিপূরণ ‘অপ্রতুল’ রিট চলাকালীন সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর বাধ সাধেন ক্ষতিগ্রস্ত অভিভাবকরা। তারা মনে করেন, ক্ষতিপূরণের এই অর্থ ‘বাস্তবসম্মত’ নয়। এ নিয়ে সরকারের তরফেও ‘দেন-দরবার’ চলে। তবে, পুরো বিষয়টি এখন পর্যন্ত অমীমাংসিত। মাইলস্টোন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির নিহত শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “না, আমরা সেটি (ক্ষতিপূরণের অর্থ) নিইনি। আমাদের পৃথিবী, আমাদের স্বপ্ন, আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ চলে গেছে; তার বিনিময় কী ২০ লাখ টাকা হতে পারে? এটা আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন। “একটা আহত বাচ্চার মূল্য কী ৫ লাখ টাকা হইতে পারে বলেন? এটা কোনোভাবে হয়? এটা কি মানবিক? তাই আমরা নিইনি এবং আমরা আবেদন করেছি সরকারের কাছে।” তিনি বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদেরকে চিঠি দিয়েছে, অনুরোধ করেছে যে, আমরা যেন এটা গ্রহণ করি। তো আমরাও উনাদেরকে অনুরোধ করেছি। অনুরোধের মাধ্যমেই আমরা অ্যাপ্লিকেশনটা দিয়েছি।” “সরকারের কাছে চেয়েছি যে আমাদের একটা রিট আবেদন হয়েছে, এই রিট আবেদনটা যেন সরকার বাস্তবায়ন করে দেন। আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া-পাওয়া হচ্ছে, আমাদের ‘মানবিক প্রধানমন্ত্রীর’ সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ। আমরা যেন উনার কাছে আমাদের কথাগুলো তুলে ধরতে পারি, এটা আমাদের বড় চাওয়া এখন। নিহত চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ আয়মানের মা আয়েশা আক্তার কানন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু আমরা এক টাকাও ছুঁই নাই। স্কুলের ওই গাফিলতির পর তারা টাকার অঙ্ক ধরে মীমাংসা করতে চাইছিল। “কিন্তু টাকা দিয়ে আমি কী করব? সারা দুনিয়া এনে দিলেও কি আমার আয়মান ফিরে আসবে? আমি তো বলেছিলাম, আমি উল্টো টাকা দেই, আমার আয়মানকে এক সেকেন্ডের জন্য আমার বুকে এনে জড়িয়ে ধরতে দেন!” এ ঘটনায় আহত চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম আবিদের বাবা মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসলে এটা অনেক আগে থেকেই সরকারের থেকে ঘোষণা আসছে, এবং লাস্ট ২৪ তারি খে আমাদের স্কুল থেকে ডেকেছিল যে, সরকার থেকে এই টাকাটা দেওয়া হবে। “আপনারা যদি নিতে চান, তাহলে আজকের মধ্যেই কনফার্ম করতে হবে। না হলে এটা আবার রিটার্ন যাবে, ব্যাক যাবে। তো যাইহোক, এটা আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একটা সংগঠন আছে। তো আমাদের সবার পক্ষ থেকেই এইটা গ্রহণ করা হয়নি। সমস্ত অভিভাবকের পক্ষ থেকে এটা নেওয়া হয়নি।” কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আসলে ওদের ওদের ক্ষতির তুলনায় এটা সামান্য। এই যে পাঁচ লাখ টাকা, এটা হয়ত ওর কয়েক দিনের চিকিৎসার খরচ। এসব দিক বিবেচনা করে এটা নেওয়া হয়নি। কারণ আমাদের একটা টার্গেট ছিল যে, একটা রিট আবেদন যে করা আছে, সেটার বাস্তবায়ন আমরা চাচ্ছিলাম।” রিটে বিষয়গুলো আমলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “তো আসলে সরকার এটা ঘোষণা করছে এটা এককালীন দেওয়া হবে। এককালীন সরকার দিয়েই এটা পার পেয়ে যাবে, আমরা আসলে এভাবে চাইনি। তো আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে, আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে একটা দাবি যে, এটা রিট আবেদনটা যেন বাস্তবায়ন হয়। রিট আবেদনের যেসব পয়েন্ট আছে, সেটা যেন বাস্তবায়ন হয়। একজনও ক্ষতিপূরণ নেয়নি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরুন নবী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সবাই আন্তরিক ছিলেন এবং সহমর্মিতা, সমবেদনা সবকিছু জানিয়েছেন। কিন্তু একটা কমিটি করে দিয়েছিল, সেখানে আমি বেশ কয়েকবার উনাদের সঙ্গে দেখা করেছি। যে আর্থিক সাহায্যটা করা হয়েছে, সেটা পর্যাপ্ত নয়। অভিভাবকরা তো সন্তুষ্ট হয় নাই, বিশেষ করে আহত বাচ্চাদের বেলায়।” তিনি বলেন, “যে এয়ারক্রাফটটা ক্র্যাশ করেছে, এটার ডিজেল ইজ সো পাওয়ারফুল। যেখানে লেগেছে, জ্বলে গেছে একবারে। একবার অপারেশন করলে ঠিক হয়ে গেল, তিন মাস পরে আবার ওই জায়গায় পচন ধরে, আবার অপারেশন করা লাগে। ইটস ভেরি এক্সপেন্সিভ, ভেরি এক্সপেন্সিভ।” তিনি বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদেরকে অনেকবার বলেছে টাকাটা গ্রহণ করার জন্য, কিন্তু অভিভাবকরা যেহেতু টাকাটা নিতে রাজি হয় নাই, যার ফলে আমরা টাকাটা গ্রহণ করি নাই। একজনও গ্রহণ করে নাই।” ক্ষতিপূরণ দেবে কোন মন্ত্রণালয়? দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে যে কমিটি হয়েছিল, তাতে নেতৃত্ব দেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার জানামতে আমাদের ধার্য্য করা ক্ষতিপূরণ কম বিবেচনায় ভুক্তভোগীরা তা নিতে চাননি। তাদের সঙ্গে আমাদের শেষ পর্যায়ে আর আনুষ্ঠানিকভাবে বসা হয় নাই। ফলে বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে গিয়েছিল। নতুন সরকার এই বিষয়ে আর কিছু করেছে কিনা আমার জানা নেই। আমরা কিন্তু চিকিৎসার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” প্রাথমিকভাবে অর্থমন্ত্রণালয় থেকে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থছাড়ের সিদ্ধান্ত নিলেও পরে অভিভাবকরা নিতে না চাওয়ায় সেটি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েই যায়৷ কোন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে কারা ক্ষতিপূরণের অর্থ দেবেন জানতে চাইলে রিজওয়ানা বলেন, “কে দিবে এটা নিয়ে কনক্লুসিভ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অভিভাবকরা শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিল। আমার নেতৃত্বে সেসময় শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে এটুকু দেওয়া হবে। “কিন্তু, টাকাটা কোন মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে, সেরকম কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে আমার মনে পড়ছে না। প্রথম তো আর্থিক অঙ্কটাতে সম্মতিতে দিতে হবে, তারপরে তো সিদ্ধান্ত হবে। নতুন সরকারও কোনো উদ্যোগ নেয়নি ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার’ নামে নিহত-আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের একটি সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “আমাদের চাওয়াটা হচ্ছে মূলত, এখন যদি বলি, যে রিট আবেদনটা করা আছে, রিটের বাস্তবায়নটা করুক সরকার। অথবা তদন্ত কমিশন থেকে যে রিপোর্টটা দিয়েছিল, ওটা পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশ করুক এবং ওখানেও কিন্তু কম্পেনসেশনের বিষয়টা আছে।” তিনি বলেন, “সেটাও তো আমাদেরকে যদি ডাকে, ডেকে যদি বলে যে আমাদের দেশের এই পরিস্থিতিতে আপনাদেরকে আমরা এইটা দিচ্ছি বা এই এই সুযোগ সুবিধাগুলো দিতে পারব, এগুলা দিতে পারব না। সেটা আলাপ-আলোচনার ভিতরেও তো অনেকে বুঝাতে পারে, তাই না? এখন আপনি আমার সঙ্গে কথাই বললেন না, কিছুই না। আপনি বললেন যে, আচ্ছা তোমার জন্য আমি ২ টাকা রাখছি, এটা নিয়ে যাও।” নাজমুল বলেন, “এটা তো আসলে কেমন দেখায় না? একটা সমবেদনার জায়গাটাও তো দরকার আছে। ৮ থেকে ১০ জন বাচ্চা এরকম আছে যাদের অবস্থা গুরুতর। দফায়-দফায় অপারেশন করা লাগছে। পাঁচ লাখ টাকায় তো ওর কিছুই হবে না। “অনেকে এরকম আছে যে, যার একটাই বাচ্চা ছিল, তার কেউই নাই আর পৃথিবীতে। এমন সিঙ্গেল মাদারও আছে, যেমন আরিয়ান আফিফ, ওর মা একা, তার একটাই ছেলে। আফিফ কিন্তু এখনো ভালো করে দাঁড়াইতে পারে না, ও হাঁটতেও পারে না। ওকে আপনি ৫ লাখ টাকা দিলে ওর জীবন কি চলবে এই ৫ লাখ টাকায়?” নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই বিষয়ে কেউ যোগাযোগ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে এই নতুন সরকার আসার পর ওভাবে কেউই যোগাযোগ করে নাই। আমরা চেষ্টা করেছি, আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের এই কমিটি থেকেও একজনকে নিয়ে এবং স্কুলের উপদেষ্টা যে আছে নূরন্নবী স্যার, উনাকে নিয়ে পর্যন্ত একাধিক মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পর্যন্ত গিয়েছি। কোনো লাভ হয়নি।” সার্বিক বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজকে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ফ্লাইট ছাড়ছে দেরিতে, যাত্রী উঠিয়ে বসিয়ে রাখা হচ্ছে; অথবা সিট ভাঙা, এসি কাজ করছে না, কর্মীরা দুর্ব্যাবহার করছেন; কিংবা ব্যাগেজ হারিয়ে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে–এরকম নানা অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা হয় না বলে ক্ষোভ রয়েছে যাত্রীদের। এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এয়ারলাইন্সগুলো এসব অভিযোগ পাত্তা না দেওয়ার বড় কারণ হচ্ছে এখানে ফ্লাইট কম, যাত্রী প্রচুর। সে কারণে ‘লিগ্যাসি ক্যারিয়ারে’র ভাড়া নিয়েও ‘বাজেট ক্যারিয়ার’গুলো ন্যূনতম সেবা না দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে। আর বেশিরভাগ যাত্রীও নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন নয়। বেশিরভাগ সময় নিজেদের অভিযোগটা তারা যথাযথ জায়গায় দাখিল করেন না। ফলে দেশের বিমানবন্দরগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সুযোগ হয় নিজেদের দায় এড়ানোর। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তালিকা অনুযায়ী, মোট ৪১টি এয়ারলাইন্স এ বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালায়। এর মধ্যে মাত্র চারটি দেশি, বাকিগুলো বিদেশি। এসব এয়ারলাইন্স এদেশ থেকে উড়তে পারবে কি না, তা দেখভাল করে বেবিচক, কাজেই নিয়ন্ত্রণটা তাদেরই হাতে। যত অভিযোগ গত ১১ জুলাই ঢাকা থেকে কলম্বো যাওয়ার জন্য ‘ফিটস এয়ার’ নামের একটি বাজেট এয়ারলাইনের ফ্লাইটে উঠে ব্যাপক ভোগান্তি হওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন সোনিয়া রিফাত নামের একজন পর্যটন উদ্যোক্তা। তিনি ‘গো গার্লস’ নামে ঘুরে বেড়ানোর একটি পেইজ চালান। পর্যটকদের নিয়ে বেড়াতে গিয়ে ফিটস এয়ারের বিমানে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বসে থাকার অভিজ্ঞতার কথা তিনি বলেছেন। ঢাকা থেকে কলম্বো পৌঁছে এক ভিডিও পোস্টে সোনিয়া বলেন, তাদের ফ্লাইট ছিল রাত ২টা ১৫ মিনিটের। যথাসময়ে যাত্রীদের এয়ারক্রাফটে উঠিয়ে সেই ফ্লাইটটি ছেড়ে যায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এই যাত্রীদের বিমানবন্দরে প্লেনের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি ঠিকমতো তথ্য না দেওয়া এবং দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও করেছেন। ফিটস এয়ারের দুর্ভোগ নিয়ে তারা ‘সাফারার অব ফিটস এয়ার’ নামে একটি ফেইসবুক পেইজও খুলেছেন, যেখানে আরও অনেক যাত্রী বিভিন্ন সময় ফিটস এয়ারে তাদের ভোগান্তির বিষয়ে লিখেছেন। এ ঘটনা গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হলেও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি ফিটস এয়ার। এমনকি তাদের অফিসিয়াল ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে এবং ই-মেইল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ফিটস এয়ারের ফ্লাইট যে সেদিন সত্যিই দেরি করেছিল, তা নিশ্চিত করেছেন শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ। তিনি বলছেন, উড়োজাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার আগে সেটিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম হাইড্রলিক ফ্লুইড রয়েছে বলে সংকেত আসে। এরপর সেটি মেরামত করে ওড়ার উপযোগী করতে বিলম্ব হয়। ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে যাত্রীদের অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রাগীব সামাদ বলেন, এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে। ফিটস এয়ার নিয়ে আলোচনার মাঝেই ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে চেন্নাই যাওয়া আরেক যাত্রী কাঙ্ক্ষিত সেবা না দেওয়া এবং ‘অপেশাদারত্বের’ অভিযোগ তুলেছেন। সামিয়া শতাব্দী নামে ওই নারী ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ১২ জুলাই বেলা পৌনে ১১টায় ইউএস বাংলায় তার চেন্নাই যাওয়ার কথা ছিল। সেই ফ্লাইট শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যাা সোয়া ৬টায় ছাড়ে। তার অভিযোগ, যাত্রাপথে উড়োজাহাজের এয়ার কন্ডিশনিং কাজ না করায় যাত্রীদের ঘেমে-নেয়ে একাকার হতে হয়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর যাত্রীদের অনেকে আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন, চিকিৎসার জন্যই তারা চেন্নাই যাচ্ছিলেন; এসি কাজ না করায় আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, আবহাওয়া ও কিছুটা যান্ত্রিক কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়। এর ভেতরে এয়ার কন্ডিশনও চালু ছিল। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, সেটা ‘ঠিকমত ঠান্ডা হচ্ছিল না’। এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যাত্রীদের অভিযোগ তারা ‘খুবই গুরুত্বের সঙ্গে’ খতিয়ে দেখেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় একজন যাত্রী সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে অভিযোগ করেন, এয়ারলাইন্সের প্রপার চ্যানেলে সেই অভিযোগটা আর জানান না। চেন্নাইয়ের ওই ঘটনাতেও তাই হয়েছে। তিনি বলেন, একই এয়ারক্রাফটে কিন্তু আমাদের পাইলট এবং অন্যান্য ক্রুরাও ভ্রমণ করছেন। হয়ত ওই এয়ারক্রাফটের এসি শতভাগ কার্যকর ছিল না। কিন্তু এসি চলেনি একথা ঠিক না। আবার ওইদিন আবহাওয়াজনিত ও যান্ত্রিক কারণে ফ্লাইট অনেক ডিলে হয়েছিল। এয়ারক্রাফটি উড্ডয়নযোগ্য হওয়ার পরপরই যাত্রীদের তোলা হয়। এক্ষেত্রে যাত্রীরা ধৈর্য হারাতে পারেন। হয়ত উড়োজাহাজটি পুরোপুরি ঠান্ডা হওয়ার আগেই যাত্রীর কাছে মনে হয়েছে এসি কাজ করছে না। ওই ফ্লাইটের আর কোনো যাত্রীর কাছ থেকে এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমনকি যিনি সোশাল মিডিয়ায় এমন অভিযোগ করেছেন তিনিও প্রপার চ্যানেলে কোনো অভিযোগ জানাননি। আমরা মনে করি, এয়ারলাইন্সের কাছে প্রপার চ্যানেলে অভিযোগ জানানোটা বেশি কার্যকর। ইউএস বাংলার জিএম (জনসংযোগ) কামরুল বলেন, ত্রুটিপূর্ণ এয়ারক্রাফট দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনার কোনো প্রশ্ন ওঠে না। টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। সেগুলো সঙ্গে সঙ্গেই মেরামত করা হয়। যাত্রীরা জানেন তো? দেশের এভিয়েশন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার বলছেন, যাত্রী হিসেবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যে অধিকার রয়েছে, সে বিষয়ে বেশিরভাগ যাত্রীই সচেতন নন। ইউরোপ বা আমেরিকার এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীর লাগেজ সঙ্গে আনতে না পারলে সেই যাত্রীকে দিন হিসেবে গুণে গুণে ক্ষতিপূরণ দেয়। আমাদের এখানে অনেক এয়ারলাইন্স যাত্রীর লাগেজ ‘লেফট বিহাইন্ড’ হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো রীতিই নেই। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়াভিত্তিক কিছু বাজেট ক্যারিয়ার যাত্রীদের অনেক বেশি পণ্য বহনের সুযোগ দেয়। এর ফলে তারা সব যাত্রীর লাগেজ বহন করতে পারে না। এসব ক্যারিয়ারে নিয়মিতভাবে যাত্রীর লাগেজ বাড় পড়ে এবং তারা পরে সেসব লাগেজ যাত্রীদের ঠিকানায় পৌঁছেও দেয় না। যাত্রীদের কষ্ট করে এসে লাগেজ নিয়ে যেতে হয়। দেড় দশক ধরে দেশের এভিয়েশন খাতে সাংবাদিকতা করে আসা তানজিম বলেন, “নিয়মটা হচ্ছে কোনো যাত্রী যদি ইন ফ্লাইট সেবা কাঙ্ক্ষিতমাত্রায় না পান, তবে তিনি তার গন্তব্যে নেমে ওই এয়ারলাইন্সকে ই-মেইলে অভিযোগ জানাতে পারেন। এয়ারলাইন্স যদি যথাযথভাবে সাড়া না দেয়, তাহলে তিনি নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট এভিয়েশন অথরিটিকে জানাতে পারেন, চাইলে আদালতেও যেতে পারেন। ইউরোপ বা আমেরিকায় যাত্রীরা এরকম অভিযোগ নিয়ে অহরহই আদালতের দ্বারস্থ হন এবং এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়। দেশের এভিয়েশন খাতের একজন বিশেষজ্ঞ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলম বলছেন, প্রতিটি এয়ারলাইন্সের একটি ‘প্যাসেঞ্জার সার্ভিস প্রটোকল’ থাকে। সিভিল এভিয়েশনেরও নিয়ম থাকে যাত্রী ওঠানোর পর কতক্ষণ বিলম্ব করা যাবে। তবে যাত্রী নামানোর নানা সমস্যা আছে, সে সকারণে এয়ারলাইন্সগুলো একবার যাত্রী ওঠালে বিলম্ব হলেও নামাতে চায় না। তবে ফিটস এয়ারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা এসেছে, সেটা খুবই ভ্যালিড। যাত্রীর অভিযোগে জানা যাচ্ছে, সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা তাদের প্লেনের ভেতর বসে থাকতে হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ আগেও এসেছে। এখন ক্রুদের দুর্ব্যবহারের কথাও উঠছে। ডেফিনিটলি এটা যাত্রী হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। সংক্ষুব্ধরা যদি সিভিল এভিয়েশনের কাছে অভিযোগ করে, তাহলে তারা এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারে এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে। গত ৯ জুলাই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট যাত্রী ওঠানোর পর সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীদের ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে নিয়ে আসে এয়ালাইন কর্তৃপক্ষ। সে বিষয়টি তুলে ধরে ওয়াহেদুল আলম বলেন, “ফ্লাইটটা ডিলে হওয়ার পর ঢাকায় তারা যাত্রীদের হোটেলে রেখেছে। আবার গুয়াংজুতে যাওয়ার পর প্রত্যেক যাত্রীকে ৪০০ ইউয়ান (৭০০০ টাকা) করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। ফিটস এয়ার বাজেট ক্যারিয়ার হিসেবে অপারেট করে। যাত্রীদের খাবার দেয় না। শুধু মার্কেট ডিমান্ড থাকে সে কারণে অলমোস্ট লিগ্যাসি ক্যারিয়ারের মতই টাকা নিচ্ছে। লো কস্ট ক্যারিয়ার হয়ে তারা বাড়তি দাম নেয়, এরপরও ন্যূনতম সেবাটা যদি না দেয়, তাহলে তাদের বিষয়টি অবশ্যই দেখা উচিত। তবে যে কর্তৃপক্ষ এসব দেখভাল করবে, তাদের ওপর যাত্রীদের ‘আস্থার ঘাটতি’ আছে বলে মনে করছেন সাংবাদিক তানজিম আনোয়ার। তিনি বলেন, পুরো বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রেই এটা এক সমস্যা। কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে সোজাভাবে সমাধান পাব না। যাত্রীদের কিছু সচেতনতার ঘাটতি আছে। বাইরের দেশে যেটা হয়, আমি যদি লাগেজ না পাই বা কঙ্ক্ষিত সেবা না পাই, তারা এয়ারলাইন্সে অভিযোগ করে। ক্ষতিপূরণ দাবি করে। প্রত্যেকটাা এয়ারলাইন্সের নিয়ম আছে, ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। তারা যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পেলে আদালতেও যায় হরহামেশা। আবার ঢাকামুখী বা অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রতি এয়ারলাইনগুলোর আচরণ ‘বৈষম্যমূলক’ হয় বলে মন্তব্য করেন তানজিম। তিনি বলেন, আপনি যদি পশ্চিম এশিয়ার কোনো এয়ারলাইনের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে আসেন, দেখবেন আমেরিকা থেকে তাদের হাব পর্যন্ত খুবই চমৎকার একটা এয়ারক্রাফট দিয়েছে। আর সেখান থেকে ঢাকার কানেক্টিং ফ্লাইটে উঠেই মনটা খারাপ হয়ে যাবে। ঢাকার ফ্লাইটে ক্রুদের আচরণও থাকে অত্যন্ত কর্কশ। যদিও আমাদের যাত্রীদেরও সমস্যা আছে, তারা একটুতেই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েন। তানজিম বলেন, আমাদের বেশিরভাগ যাত্রীই বিদেশে কাজ করতে যান। তাদের অনেকের জন্য কোনোরকমে ইমিগ্রেশন পার করাটাই চ্যালেঞ্জ। তাই ইন-ফ্লাইট কী সেবা পেলেন বা পেলেন না, সেটা দেখার মত অবস্থায় তারা থাকেন না। কিন্তু এখন অনেক মধ্যবিত্ত ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসার জন্য নিয়মিত বিদেশে যান ও বিমানে ভ্রমণ করেন। তারাই কিন্তু এই অভিযোগগুলো তুলছেন। অভিযোগ জানাবেন কোথায় দেশের কোথায় এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে, সে বিষয়টা জানেন না বেশিরভাগ যাত্রী। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ বলেন, বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বুথ রয়েছে, সেখানে যাত্রীরা লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন। অথবা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে ঢুকে ‘কন্টাক্ট আস’ ট্যাবে ক্লিক করে একটি ফরম ফিলাপ করে অভিযোগ জানাতে পারেন। আবার বাংলাদেশ থেকে অপারেট করে এমন সব এয়ারলাইন্সের তালিকা রয়েছে বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে। যাত্রীরা সেসব এয়ারলাইন্সের ই-মেইলেও অভিযোগ জানাতে পারেন। কর্তৃপক্ষের ওপর অনাস্থার অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে বেবিচকের একজনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যেভাবে বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসে সেভাবে আমাদের কাছে আসে না। আমি মাঝে মাঝে দেখি কেউ কেউ চেয়ারম্যান স্যার বরাবর অভিযোগ জানিয়ে ই-মেইল করেন। তখন আমরা আবার সেগুলো প্রিন্ট আউট নিয়ে অভিযোগটা আন্ডারলাইন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে দিই। লাগেজ হারানোর ক্ষেত্রে অভিযোগ করে যাত্রীরা নিয়মিত ক্ষতিপূরণও পান।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করা হয়েছে অভিযোগ তুলে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এলে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়, উত্তরা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যা চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে সাধারণ যাত্রীদের। উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামেনে অবরোধের ফলে রাস্তার দু’পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ জ্যামের। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, অবরোধের ঘটনায় সড়কে জ্যামের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব অন্যান্য সড়কেও পড়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, সায়েন্সল্যাব ও মিরপুরের প্রভাব রাস্তায় পড়েছে। আমরা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। উত্তরায় কর্মরত সার্জেন্ট আশিকুর রহমান বলেন, “বিএনএস সেন্টারের সামেনে অবরোধের কারণে সড়কে জ্যাম সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান তীব্র বন্যা পরিস্থিতি, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও জোরপূর্বক পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। এর ওপর পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি ঘোষণা করেছেন। দাবিগুলো হলো— ১. দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে; ২. বৈরী আবহাওয়ার কারণে যেসব পরীক্ষার্থী গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে; ৩. পরীক্ষার্থীদের অবমাননা করার দায়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। আজ বেলা ১১টার দিকে একযোগে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার এবং সায়েন্সল্যাব মোড়ে পরীক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে মিরপুর এলাকাতেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। ঢাকার বাইরে রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনেও পরীক্ষার্থীরা অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক কর্মসূচি ঘিরে যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন বিক্ষোভ স্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।