যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার সোমবার তার নেতৃত্ব নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করার অঙ্গীকার করেছেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর তার নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
লন্ড থেকে এএফপি জানায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে স্টারমার বলেন, তার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ‘আরও ভালো করবে’ এবং তিনি ক্ষুব্ধ ও অস্থির সংসদ সদস্যদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি মানুষ ব্রিটেনের অবস্থায় হতাশ, রাজনীতিতে হতাশ, এবং কেউ কেউ আমার ওপরও হতাশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি আমার ওপর সন্দেহকারীরা আছে, এবং আমি জানি আমাকে তাদের ভুল প্রমাণ করতে হবে এবং আমি তা করব।’
২০২৪ সালে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা স্টারমার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিক নীতিগত ভুল ও বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ ও পরে বরখাস্ত করার ঘটনাও রয়েছে, যা যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি না বাড়ার কারণে জনঅসন্তোষ বাড়ছে, যদিও ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবারের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি বড় ধাক্কা খায়, যেখানে কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টি বড় অগ্রগতি অর্জন করে। এতে ওয়েলসে লেবারের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং স্কটল্যান্ডেও স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) বিপরীতে তারা কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।
ভাষণে স্টারমার বলেন, ‘ক্রমাগত ছোট ছোট পরিবর্তন এখন আর যথেষ্ট নয়’, এবং তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি ব্রিটিশ স্টিলকে সম্পূর্ণ জাতীয়করণের জন্য আইন আনার ঘোষণা দেন এবং বলেন, তার সরকার ব্রিটেনকে ‘ইউরোপের কেন্দ্রবিন্দুতে’ রাখতে চায়, যার মধ্যে তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচিও থাকবে।
তিনি রিফর্ম পার্টির অভিবাসনবিরোধী নেতা নাইজেল ফারাজকে ‘অবসরপ্রার্থী প্রতারক’ বলে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি ঠিকভাবে কাজ না করি, আমাদের দেশ অন্ধকার পথে চলে যাবে।’
স্টারমার আরও জানান, আগামী শনিবার ব্রিটেনে একটি মার্চে অংশ নিতে আসা কট্টর ডানপন্থী কর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
তবে লেবার পার্টির ভেতরেই তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। কয়েকজন সংসদ সদস্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে হলে অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তারা সবাই একমত নন।
রেইনার বলেছেন, বর্তমান কৌশল কাজ করছে না এবং পরিবর্তন প্রয়োজন।
এদিকে লেবার পার্টি ওয়েলসের আঞ্চলিক সরকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং ইংল্যান্ডে প্রায় ১,৫০০ স্থানীয় কাউন্সিল আসন হারিয়েছে, যেখানে রিফর্ম ইউকে বিপুল অগ্রগতি করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে দ্রুত বের হতে হবে, অথচ সেই মুহূর্তে যদি দরজার হাতলই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়, আধুনিক নকশার এই সুবিধাই এবার টেসলার জন্য তৈরি করেছে বড় নিরাপত্তা প্রশ্ন। তাই চীনে প্রায় ৩০ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি ফেরত টায়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জরুরি সময়ে যাত্রীদের দ্রুত বের হতে না পারার আশঙ্কাই এর মূল কারণ। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে তৈরি প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার টেসলা গাড়ি এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে। একই ধরনের সমস্যার কারণে চীনের আরও কয়েকটি নির্মাতার বৈদ্যুতিক গাড়িও ফেরত নেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রত্যাহারের আওতায় আসছে ৪০ লাখের বেশি গাড়ি। টেসলার কিছু মডেলে দরজার হাতল গাড়ির ভেতরের অংশের রং ও নকশার সঙ্গে মিশে থাকায় জরুরি সময়ে সেটি শনাক্ত ও ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে, বড় দুর্ঘটনার পর গাড়ির লো-ভোল্টেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে যাত্রীদের বের হওয়া এবং বাইরে থেকে উদ্ধারকাজ— দুটিই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোতে দরজার ভেতরে সতর্কতামূলক লেবেল লাগানোর পাশাপাশি সফ্টওয়্যার হালনাগাদ দেবে টেসলা। দুর্ঘটনার পর গাড়ির জানালার কাচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নামানোর ব্যবস্থাও করা হবে। বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে চীনে শাওমির বৈদ্যুতিক গাড়ির দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার পর গাড়ির বিদ্যুৎব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় ভেতর থেকে দরজা খোলার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছিল। অটোমোটিভ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিনো অটো ইনসাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তু লে বলেন, টেসলার নকশা অনুসরণ করে চীনের বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতাও লুকানো দরজার হাতল ব্যবহার শুরু করে। তবে তার মতে, শুধু স্টিকার বা সফ্টওয়্যার হালনাগাদ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় চীনা কর্তৃপক্ষও লুকানো দরজার হাতল নিয়ে কঠোর হচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে গাড়ির ভেতরে ও বাইরে অন্তত একটি হাতে চালিত যান্ত্রিক লক ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক হবে। যুক্তরাষ্ট্রেও টেসলার দরজার হাতল নিয়ে আগে অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছে। ফলে আধুনিক নকশার পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, টেসলার এই প্রত্যাহার সেটিই আবার সামনে এনেছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্মল মডুলার রিয়েকটর (এসএমআর), জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী (সেক্রেটারি অব এনার্জি) ক্রিস রাইটের মধ্যে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, এসএমআর প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আধুনিক ও নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে স্মল মডুলার রিয়েকটরের (এসএমআর) সম্ভাবনাকে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সুরক্ষিত ও দায়িত্বশীল ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর দেশগুলোর সঙ্গে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এসএমআর উন্নয়নে আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে জ্বালানি ও পারমাণবিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং স্মল মডুলার রিয়েকটরের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে এসএমআরের দ্রুত উন্নয়ন ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। দুই মন্ত্রীর আলোচনায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা, এসএমআর প্রযুক্তি, জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহায়তা এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে দুই পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি ও এসএমআর নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের আগ্রহ বাড়ছে।
পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন একটি প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আল-সেলিম আল সাবাহর পাকিস্তান সফরের মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল পাকিস্তান টিভির তথ্যের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় কুয়েতের সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী। চুক্তি অনুযায়ী, কুয়েতি সামরিক সদস্যদের প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে পাকিস্তান। পাশাপাশি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কুয়েতের সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নেও সহায়তা করবে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ ছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্রেও দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই চুক্তি বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান-কুয়েতের এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েতের আহমাদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এসব সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এমন উত্তেজনাপূর্ণ আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যেই কুয়েতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নতুন এই চুক্তিতে সই করল পাকিস্তান। চুক্তির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার পথ তৈরি হলো।