সারাদেশ

সাদা বাঘ দেখা থেকে সমুদ্রপাড়ের কাঁকড়া ভাজা—এক ভ্রমণে সব

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিকেলের নরম রোদ। সামনে বিস্তীর্ণ সমুদ্র। দূরে উড়ছে পাখির ঝাঁক। বাতাসে ভেসে আসছে কাঁকড়া ভাজা আর ঝালমুড়ির ঘ্রাণ। এ চিত্র চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকতের। ঈদের ছুটিতে নগরবাসীর ভিড় জমে এখানেই।

 

সৈকতজুড়ে আছে হাঁটার প্রশস্ত পথ, বসার জায়গা আর ফুডকোর্ট। সন্ধ্যার পর রঙিন আলোয় পুরো এলাকা যেন আরও প্রাণ ফিরে পায়।

 

পতেঙ্গায় যেতে পারেন দুই পথে। মুরাদপুর থেকে আগ্রাবাদ, বন্দর ও ইপিজেড হয়ে সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যায় সৈকতে। আবার মেরিন ড্রাইভ ধরে গেলে পুরো পথেই পাশে থাকবে সাগরের জলরেখা। ঢেউ আর পাথরের মিতালি দেখতে দেখতে কখন যে গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন, টেরই পাবেন না।

 

চট্টগ্রাম শহরের এক পাশে পাহাড়। অন্য পাশে সমুদ্র। তাই একটু অবসর পেলেই এই শহর যেন ডাক দেয় ঘুরে বেড়াতে। অবশ্য শুধু পতেঙ্গা নয়, ঈদের ছুটিতে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন কাছাকাছি আরও নানা পর্যটনকেন্দ্রে। কোথাও আছে ঢেউয়ের গর্জন। কোথাও পাহাড়ের নীরবতা। কোথাও আবার সবুজের শান্ত ছায়া।

 

শহরের উত্তর প্রান্তে ভাটিয়ারীর সানসেট পয়েন্ট এখন অনেকের প্রিয় জায়গা। পাহাড় আর হ্রদ মিলে সেখানে তৈরি হয়েছে ছবির মতো দৃশ্য। বিকেলে সূর্য যখন ধীরে ধীরে ডুবে যায়, লালচে আলো পাহাড়ের গায়ে পড়ে তৈরি করে অন্য রকম আবহ। নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে জায়গাটি হতে পারে আদর্শ। পাশে আছে ভাটিয়ারী হ্রদও।

 

রোমাঞ্চে ভরা ফয়’স লেক

পাহাড়ের সবুজ ছায়া আর শান্ত হ্রদ ঘেরা ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ঈদের ছুটিতে হয়ে ওঠে সরগরম। শিশু-কিশোর থেকে বড়রা—সব বয়সী দর্শনার্থীর ভিড় থাকে এখানে। এবারও ঈদ ঘিরে নানা আয়োজন করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। আছে বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, ফেরিস হুইলসহ নানা রাইড। ছোটদের জন্য রয়েছে হ্যাপি জাম্প, সার্কাস ট্রেন, বাম্পার বোটস ও বেবি ড্রাগন।

 

ফয়’স লেকের বড় আকর্ষণ এখন ‘বেসক্যাম্প’। এখানে আছে ট্রি টপ অ্যাকটিভিটি, কায়াকিং, টিম গেমসহ নানা অ্যাডভেঞ্চার আয়োজন। যাঁরা একটু রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য জায়গাটি হতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতা।

 

পাশেই রয়েছে সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক। ওয়েভ পুল, মাল্টিস্লাইড আর ড্যান্সিং জোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারেন অনায়াসে। ফয়’স লেক কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন বেলা দুইটা থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে ফয়’স লেক কমপ্লেক্স। পরদিন থেকে সকাল নয়টা–রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে পুরো বিনোদনকেন্দ্র। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার ও শিশুদের কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। থাকছে বিভিন্ন রাইড, ওয়াটার পার্ক ও বিনোদনের নানা আয়োজন।

 

চিড়িয়াখানায় উৎসবের আমেজ

ফয়’স লেকের পাশেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। পাহাড়ের গা বেয়ে ওপরে উঠলেই দেখা মিলবে বাঘ, সিংহ, হরিণ, ময়ূর কিংবা কুমিরের। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এখন প্রায় ৭০ প্রজাতির ৫২০টি পশুপাখি রয়েছে।

ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন হাজারো মানুষ। শিশুদের কাছে জায়গাটি বাড়তি আনন্দের। বাঘশাবকের দৌড়ঝাঁপ কিংবা পাখির কিচিরমিচির সহজেই মন ভালো করে দেয়।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তায় বাড়তি নজর রাখা হয়েছে। টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৭০ টাকা।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর মো. শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন সাধারণত দর্শনার্থীর চাপ কিছুটা কম থাকে। তবে পরদিন থেকেই চিড়িয়াখানায় ভিড় বাড়তে শুরু করবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের উপস্থিতি বেশি থাকে।

 

পারকির পথে

আনোয়ারার পারকি সৈকত এখন চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। কর্ণফুলী টানেল চালুর পর যাতায়াতও অনেক সহজ হয়েছে। এখন অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া যায় সৈকতে।

এক পাশে ঝাউবন। অন্য পাশে লোনাপানির ঢেউ। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় পুরো সৈকত যেন অন্য রকম সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। সমুদ্রপাড়ে বসে ঝালমুড়ি খেতে খেতে শুনতে পারেন ঢেউয়ের শব্দ।

সৈকতের পাশে আছে ছায়াঘেরা বসার জায়গা। খাবারের দোকানেও মিলবে কাঁকড়া ফ্রাই, শুঁটকি, মাছের ভর্তা কিংবা ডাবের পানি।

হাতে সময় একটু বেশি থাকলে শহরের বাইরেও ঘুরে আসতে পারেন। যেতে পারেন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত, সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, মহামায়া লেক, নাপিত্তাছড়া ট্রেইল, খৈয়াছড়া ঝরনা কিংবা সুপ্তধারা ও সহস্রধারা ঝরনায়।

ফটিকছড়ির হাজারীখিল অভয়ারণ্যও হতে পারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। গহিন সবুজ আর পাহাড়ি পথ আপনাকে নিয়ে যাবে প্রকৃতির আরও কাছে। চাইলে শহর থেকে একটু দূরে কাপ্তাই হ্রদেও কাটিয়ে আসতে পারেন একটি দিন। পাহাড়ঘেরা নীল জলরাশি আর নৌকাভ্রমণ এনে দেবে অন্য রকম প্রশান্তি।

ঘুরে বেড়ানো নিয়ে কথা হয় পাঁচটি আট হাজার মিটার উচ্চতার পর্বত জয় করা পর্বতারোহী বাবর আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি আর একঘেয়েমি দূর করতে ঘুরে বেড়ানোর বিকল্প খুব কম। পরিচিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে নতুন কোনো জায়গায় কিছু সময় কাটালে মন অনেকটাই হালকা হয়ে আসে। পাহাড়, সমুদ্র, ঝরনা কিংবা সবুজে ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশ মানুষের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

বাবর আলী বলেন, প্রকৃতির কাছাকাছি গেলে দুশ্চিন্তা কিছুক্ষণের জন্য হলেও দূরে সরে যায়। মন শান্ত হয়। নতুন পরিবেশ মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণ সম্পর্কও আরও গভীর করে। তাঁর ভাষায়, ঘুরে বেড়ানো শুধু বিনোদন নয়, এটি মানসিক প্রশান্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
মানিকগঞ্জে দেবরের বিরুদ্ধে ভাবি-ভাতিজাকে হত্যার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ভাবি ও আপন ভাতিজাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেবর ইউসুফ আলীর (৪০) বিরুদ্ধে।   নিহতরা হলেন- দৌলতপুর উপজেলার বাঁচামারা বাজারের কাপড় ব্যাবসায়ী ছালামের স্ত্রী আমিনা (৩০) ও দুই বছরের শিশু আসলাম।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ব্যবসায়ী ছালাম নিজের দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই তার ছোট ভাই ইউসুফ আলী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর চড়াও হন এবং গুরুতর আঘাত করেন।  পরে আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।  ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত ইউসুফ আলী পলাতক রয়েছেন। এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত

বিদ্যুতের মিটার পরীক্ষা করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

ঘরোয়া কৌশলে কমানো যাবে বিদ্যুৎ বিল

ছবি : সংগৃহীত

সাঁতরে ডাকাতিয়া নদী পার হওয়ার চেষ্টা, ১৮ ঘণ্টা পর কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন যুগের সূচনা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন গতি। খুলনা ও মোংলা থেকে ঢাকায় নতুন আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮০ দিনের বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কমবে যাত্রা সময়, বাড়বে যাত্রীসেবা, বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ।   পদ্মা রেল লিংক চালুর পর খুলনা-ঢাকা রুটে যাত্রী চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস কম সময়ে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আগ্রহ বেড়েছে রেলপথে। জাহানাদাবাদ এক্সপ্রেসে মাত্র পৌনে চার ঘণ্টায় খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছানো যায়। কিন্তু বাড়তি চাহিদার তুলনায় ট্রেন সংখ্যা কম থাকায় টিকিট সংকটও এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। বাড়তে থাকা এই চাহিদার প্রেক্ষিতে এবার দক্ষিণাঞ্চলের রেল সেবাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সম্প্রতি নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাবনা তৈরি করেছে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল। এরই মধ্যে প্রস্তাবনাগুলো পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। ভারতের সাথে চুক্তি অনুযায়ী নতুন ২০০টি কোচ ক্রয় করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী মাস থেকে রেলের এসব কোচ ধাপে ধাপে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এসব কোচ আসলে সেগুলো দিয়ে নতুন এসব ট্রেন চালানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, ভারত থেকে আমাদের ক্রয় করা কোচগুলো আগামী মাস থেকে আসা শুরু করবে। প্রতিটি ধাপে ২০টি করে কোচ আসবে, এভাবে মোট ২০০টি কোচ আসার কথা রয়েছে। এসব কোচ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন এই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। ধাপে ধাপে এসব কোচ আসতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যাবে। পর্যায়ক্রমে আমরা আরও নতুন নতুন ট্রেন চালু করতে পারবো। নতুন এসব ট্রেন চালাতে মোংলাসহ কয়েকটি স্টেশনে ওয়াশফিট চালুসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নও করতে হবে। প্রস্তাবানায় সেসব বিষয়ও উল্লেখ আছে।   এদিকে এমন প্রস্তাবনার খবরে এ অঞ্চলে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।   খুলনা রেলস্টেশনে ঢাকা থেকে আসা যাত্রী মো. সোহেল রানা বলেন, বর্তমানে একটি ট্রেনে টিকিট পাওয়া খুব কঠিন হয়ে গেছে। অনেক সময় তিন-চারদিন আগেই টিকিট কাটতে হয়। হঠাৎ করে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে হলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা নতুন ট্রেনের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। এখন সরকার উদ্যোগ নিয়েছে দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সাধারণ যাত্রীরা উপকৃত হবে।   বেসরকারি চাকরিজীবী তানভীর হাসান বলেন, প্রতি সপ্তাহেই অফিসের কাজে ঢাকায় যেতে হয়। কিন্তু সবসময় টিকিট পাওয়া যায় না। শুনেছি নতুন একটা ট্রেন চালু হচ্ছে। এটা চালু হলে আমাদের নিয়মিত যাতায়াত আরও সহজ হবে।   মোংলার ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, মোংলা থেকে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে শুধু যাত্রীসেবাই না, ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় পরিবর্তন আসবে। বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। পণ্য পরিবহন, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও পর্যটন সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।   রেলওয়ের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন একটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই ট্রেনটির সম্ভাব্য যাত্রা সময় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। প্রস্তাবনা অনুযায়ী এই ট্রেনটি ভোর ৫টায় বেনাপোল থেকে ছেড়ে যশোর, নড়াইল, লোহাগড়া, কাশিয়ানি, ভাঙা হয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে। ট্রেনটি ঢাকা থেকে ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে পদ্মা সেতু হয়ে বিরতিহীনহাবে খুলনায় পৌঁছাবে দুপুর একটা ২৫ মিনিটে। এরপরপ দুপুর আড়াইটায় খুলনা থেকে ছেড়ে বিরতিহীন ভাবে ঢাকায় পৌঁছাবে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়।   এছাড়া মোংলা-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রেনটি মোংলা থেকে খুলনা হয়ে ঢাকায় চলাচল করবে। একই সঙ্গে মোংলা-ঢাকা-মোংলা রুটে একটি নতুন কমিউটার ট্রেন চালুর কথাও বলা হয়েছে, যা যাত্রীদের স্বল্প খরচে দ্রুত যাতায়াতে সহায়তা করবে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পদ্মা রেল সংযোগ চালুর পর যাত্রী চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন চালুর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা ও মোংলা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো দ্রুত ও আধুনিক রেলসেবা বাড়ানো। এখন নতুন কোচ সংগ্রহ, ওয়াশফিট প্রস্তুত এবং অপারেশনাল সক্ষমতা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। ভারত থেকে নতুন কোচ পাওয়া গেলে আগামী দুই মাস পর থেকে পর্যায়ক্রমে ট্রেনগুলো চালু করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি। বর্তমানে খুলনা থেকে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ছাড়াও চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস যমুনা সেতু হয়ে ঢাকায় চলাচল করছে। তবে যাত্রী চাহিদা বাড়তে থাকায় নতুন ট্রেন সংযোজনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন, শিল্প ও বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তাই দ্রুত উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় আবেগাপ্লুত সাবেক এমপি সুজন

ছবি : সংগৃহীত

জামায়াতের এক এমপিই দিলেন ১৬ গরু কোরবানি, তুর্কি এনজিও থেকে আরও ৭৯

ছবি : সংগৃহীত

সাদা বাঘ দেখা থেকে সমুদ্রপাড়ের কাঁকড়া ভাজা—এক ভ্রমণে সব

ছবি : সংগৃহীত
বিমানবন্দরের ইজারা পেতে আগ্রহীদের উপচে পড়া ভিড়

জটিলতা কাটিয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আবারও সম্পত্তি ইজারা কার্যক্রম শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেবিচকের মধ্যে ইজারা নীতিমালা নিয়ে চলা টানাপড়েন শিথিল হওয়ায় নতুন করে ইজারা কার্যক্রমে গতি এসেছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যবসায়িক স্থান ইজারা নিতে কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়েছে।   বেবিচক সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইজারা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে সবুজ সংকেত মেলায় আবারও ইজারা কার্যক্রম শুরু করা হয়।   বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস) মেহবুব খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা ইজারা কার্যক্রম শুরু করেছি। কয়েক হাজার আবেদন এসেছে। এখন বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই বরাদ্দ দেওয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় একটি নতুন ইজারা নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান ব্যবস্থাতেই ইজারা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব বিমানবন্দরেই এই কার্যক্রম চলবে। ইজারা নীতিমালা নিয়ে দ্বন্দ্ব সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের সম্পত্তি ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর থেকেই মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়।   মন্ত্রণালয় বিদ্যমান নীতিমালা পরিবর্তন করে নতুন বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়। গত ১৮ জানুয়ারি খসড়া নীতিমালা পাঠিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে মতামত চাওয়া হয় বেবিচকের কাছে। পরে কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় বেবিচক।   চিঠিতে বেবিচক জানায়, প্রস্তাবিত বিধিমালার কিছু ধারা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাও–এর মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক অডিটে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।   এছাড়া সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১৭ অনুযায়ী বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেবিচকের ওপর ন্যস্ত থাকলেও নতুন খসড়ায় সেই এখতিয়ারে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।   বেবিচক আরও জানায়, ২০১০-১১ সালের আগে উন্মুক্ত দরপত্রভিত্তিক ইজারা ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। পরবর্তীতে যাত্রীসেবা সহজ করতে ইজারা নীতিমালায় সংস্কার আনা হয়। নতুন খসড়ার কিছু ধারা আবারও পুরোনো জটিলতায় ফেরার ঝুঁকি তৈরি করছে।   আদালত পর্যন্ত গড়ায় বিরোধ ইজারা নীতিমালা নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ব্যবসায়ীদের পক্ষে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ। নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের রুলস অব বিজনেস ও সচিবালয় নির্দেশমালা অনুযায়ী জনমত আহ্বান বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। কিন্তু অত্যন্ত স্বল্প সময় দিয়ে মতামত চাওয়ায় অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। সবশেষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জটিলতা নিরসনের পর এখন আবারও ইজারা কার্যক্রম পুরোপুরি বেবিচকের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, বিমানবন্দরের সম্পত্তি ইজারা বেবিচকের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। তাই বিষয়টি পর্যালোচনা করে মন্ত্রীর নির্দেশনায় জটিলতা নিরসন করা হয়েছে।    

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

খুলনায় ঘরের ট্রাংক-খাট-ওয়ারড্রব থেকে নানী ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

কেরানীগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

0 Comments