বিকেলের নরম রোদ। সামনে বিস্তীর্ণ সমুদ্র। দূরে উড়ছে পাখির ঝাঁক। বাতাসে ভেসে আসছে কাঁকড়া ভাজা আর ঝালমুড়ির ঘ্রাণ। এ চিত্র চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সৈকতের। ঈদের ছুটিতে নগরবাসীর ভিড় জমে এখানেই।
সৈকতজুড়ে আছে হাঁটার প্রশস্ত পথ, বসার জায়গা আর ফুডকোর্ট। সন্ধ্যার পর রঙিন আলোয় পুরো এলাকা যেন আরও প্রাণ ফিরে পায়।
পতেঙ্গায় যেতে পারেন দুই পথে। মুরাদপুর থেকে আগ্রাবাদ, বন্দর ও ইপিজেড হয়ে সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যায় সৈকতে। আবার মেরিন ড্রাইভ ধরে গেলে পুরো পথেই পাশে থাকবে সাগরের জলরেখা। ঢেউ আর পাথরের মিতালি দেখতে দেখতে কখন যে গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন, টেরই পাবেন না।
চট্টগ্রাম শহরের এক পাশে পাহাড়। অন্য পাশে সমুদ্র। তাই একটু অবসর পেলেই এই শহর যেন ডাক দেয় ঘুরে বেড়াতে। অবশ্য শুধু পতেঙ্গা নয়, ঈদের ছুটিতে পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন কাছাকাছি আরও নানা পর্যটনকেন্দ্রে। কোথাও আছে ঢেউয়ের গর্জন। কোথাও পাহাড়ের নীরবতা। কোথাও আবার সবুজের শান্ত ছায়া।
শহরের উত্তর প্রান্তে ভাটিয়ারীর সানসেট পয়েন্ট এখন অনেকের প্রিয় জায়গা। পাহাড় আর হ্রদ মিলে সেখানে তৈরি হয়েছে ছবির মতো দৃশ্য। বিকেলে সূর্য যখন ধীরে ধীরে ডুবে যায়, লালচে আলো পাহাড়ের গায়ে পড়ে তৈরি করে অন্য রকম আবহ। নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে জায়গাটি হতে পারে আদর্শ। পাশে আছে ভাটিয়ারী হ্রদও।
পাহাড়ের সবুজ ছায়া আর শান্ত হ্রদ ঘেরা ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ঈদের ছুটিতে হয়ে ওঠে সরগরম। শিশু-কিশোর থেকে বড়রা—সব বয়সী দর্শনার্থীর ভিড় থাকে এখানে। এবারও ঈদ ঘিরে নানা আয়োজন করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। আছে বাম্পার কার, ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, ফেরিস হুইলসহ নানা রাইড। ছোটদের জন্য রয়েছে হ্যাপি জাম্প, সার্কাস ট্রেন, বাম্পার বোটস ও বেবি ড্রাগন।
ফয়’স লেকের বড় আকর্ষণ এখন ‘বেসক্যাম্প’। এখানে আছে ট্রি টপ অ্যাকটিভিটি, কায়াকিং, টিম গেমসহ নানা অ্যাডভেঞ্চার আয়োজন। যাঁরা একটু রোমাঞ্চ পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য জায়গাটি হতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতা।
পাশেই রয়েছে সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক। ওয়েভ পুল, মাল্টিস্লাইড আর ড্যান্সিং জোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারেন অনায়াসে। ফয়’স লেক কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন বেলা দুইটা থেকে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে ফয়’স লেক কমপ্লেক্স। পরদিন থেকে সকাল নয়টা–রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে পুরো বিনোদনকেন্দ্র। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার ও শিশুদের কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। থাকছে বিভিন্ন রাইড, ওয়াটার পার্ক ও বিনোদনের নানা আয়োজন।
ফয়’স লেকের পাশেই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। পাহাড়ের গা বেয়ে ওপরে উঠলেই দেখা মিলবে বাঘ, সিংহ, হরিণ, ময়ূর কিংবা কুমিরের। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এখন প্রায় ৭০ প্রজাতির ৫২০টি পশুপাখি রয়েছে।
ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন হাজারো মানুষ। শিশুদের কাছে জায়গাটি বাড়তি আনন্দের। বাঘশাবকের দৌড়ঝাঁপ কিংবা পাখির কিচিরমিচির সহজেই মন ভালো করে দেয়।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তায় বাড়তি নজর রাখা হয়েছে। টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ৭০ টাকা।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর মো. শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন সাধারণত দর্শনার্থীর চাপ কিছুটা কম থাকে। তবে পরদিন থেকেই চিড়িয়াখানায় ভিড় বাড়তে শুরু করবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের উপস্থিতি বেশি থাকে।
আনোয়ারার পারকি সৈকত এখন চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। কর্ণফুলী টানেল চালুর পর যাতায়াতও অনেক সহজ হয়েছে। এখন অল্প সময়েই পৌঁছে যাওয়া যায় সৈকতে।
এক পাশে ঝাউবন। অন্য পাশে লোনাপানির ঢেউ। বিকেলে সূর্যাস্তের সময় পুরো সৈকত যেন অন্য রকম সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। সমুদ্রপাড়ে বসে ঝালমুড়ি খেতে খেতে শুনতে পারেন ঢেউয়ের শব্দ।
সৈকতের পাশে আছে ছায়াঘেরা বসার জায়গা। খাবারের দোকানেও মিলবে কাঁকড়া ফ্রাই, শুঁটকি, মাছের ভর্তা কিংবা ডাবের পানি।
হাতে সময় একটু বেশি থাকলে শহরের বাইরেও ঘুরে আসতে পারেন। যেতে পারেন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত, সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক, মহামায়া লেক, নাপিত্তাছড়া ট্রেইল, খৈয়াছড়া ঝরনা কিংবা সুপ্তধারা ও সহস্রধারা ঝরনায়।
ফটিকছড়ির হাজারীখিল অভয়ারণ্যও হতে পারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। গহিন সবুজ আর পাহাড়ি পথ আপনাকে নিয়ে যাবে প্রকৃতির আরও কাছে। চাইলে শহর থেকে একটু দূরে কাপ্তাই হ্রদেও কাটিয়ে আসতে পারেন একটি দিন। পাহাড়ঘেরা নীল জলরাশি আর নৌকাভ্রমণ এনে দেবে অন্য রকম প্রশান্তি।
ঘুরে বেড়ানো নিয়ে কথা হয় পাঁচটি আট হাজার মিটার উচ্চতার পর্বত জয় করা পর্বতারোহী বাবর আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি আর একঘেয়েমি দূর করতে ঘুরে বেড়ানোর বিকল্প খুব কম। পরিচিত পরিবেশের বাইরে গিয়ে নতুন কোনো জায়গায় কিছু সময় কাটালে মন অনেকটাই হালকা হয়ে আসে। পাহাড়, সমুদ্র, ঝরনা কিংবা সবুজে ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশ মানুষের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
বাবর আলী বলেন, প্রকৃতির কাছাকাছি গেলে দুশ্চিন্তা কিছুক্ষণের জন্য হলেও দূরে সরে যায়। মন শান্ত হয়। নতুন পরিবেশ মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণ সম্পর্কও আরও গভীর করে। তাঁর ভাষায়, ঘুরে বেড়ানো শুধু বিনোদন নয়, এটি মানসিক প্রশান্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মায়ের মৃত্যুর কারণে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জানাজায় অংশ নিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলোচিত কয়েদি আবুল হায়াত। শুক্রবার (১০ জুলাই) প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর মায়ের দাফন সম্পন্ন শেষে পুনরায় তাকে জয়পুরহাট কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কারাগার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু্ল হায়াতের মা তাহেরা বেগম (৬৫) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আবুল হায়াত প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার তাকে ২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আবুল হায়াত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলায় জয়পুরহাট কারাগারে বন্দি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ছিনতাইসহ একাধিক ডাকাতির মামলা চলমান। সম্প্রতি তাকে অস্ত্র মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে কারাসূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তায় আবুল হায়াত তার নিজ গ্রামে মায়ের জানাজা ও দাফন কার্যে অংশ নেন। দাফন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই তাকে পুনরায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্যারোলে মুক্তির নিয়ম অনুযায়ী ২ ঘণ্টার জন্য কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জানাজা শেষে আসামিকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জয়পুরহাট জেলা কারাগারের জেলার তোফায়েল আহম্মেদ খাঁন জানান, অস্ত্র মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল হায়াতের মায়ের মৃত্যুতে তার আবেদনের ভিত্তিতে জানাজায় অংশ নিতে ২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম খানকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেকের সই করা এক আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে উপজেলার চোরাকারবারি ও পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীদের সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে তিনি এসব কাজে সহযোগিতা করেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চাঁদাবাজির সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওসি সফিকুল ইসলাম খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি সাড়া দেননি। তাই তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে রাত সোয়া ১০টার দিকে যোগাযোগ করলে সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক প্রথম আলোকে বলেন, সফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সফিকুল ইসলামের সংযুক্তিকরণের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়। এ ছাড়া ওই থানায় এখনো নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এর আগে গত ৬ এপ্রিল প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘সবুজ টিলা এখন অনেকটা কঙ্কালসার’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন ও পাচারে ওসি সফিকুল ইসলাম খানের সহযোগিতা আছে বলে স্থানীয়দের বরাতে জানানো হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি সপ্তাহে এক দিন রাতের বেলা ‘ওসির লাইন’ নাম দিয়ে টিলা এলাকা থেকে পাথর ভোলাগঞ্জে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাথর ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ ব্যক্তিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ‘ম্যানেজ’ করে এই লাইন পরিচালনা করেন।
বিজ্ঞানশিক্ষা, মহাকাশবিষয়ক জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষামূলক পর্যটনের প্রসার ঘটাতে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। শত শত কোটি টাকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক জায়গায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বরিশাল ও রংপুরে নভোথিয়েটার প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সীমা দুই দফা বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে এক যুগের বেশি সময় ধরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে খুলনার প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বরিশাল ও রংপুরে দুটি প্রকল্পের অবকাঠামোর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে গণপূর্ত বিভাগের একটি সূত্র বলছে, বাস্তবে অবকাঠামো দৃশ্যমান হলেও মূল প্রযুক্তিগত অংশ এখনো অসম্পূর্ণ। বিশেষ করে ডোম, টেলিস্কোপ, ডিজিটাল প্রজেকশন ও অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জামের স্থাপন এখনো হয়নি। এসব যন্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। নভোথিয়েটারগুলো চালু হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মহাকাশবিজ্ঞান চর্চার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও টেলিস্কোপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মহাকাশ সম্পর্কে জানতে পারবে। এতে তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও আগ্রহ বাড়বে। অবকাঠামো শেষ, অপেক্ষা সরঞ্জামের গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বরিশাল’ নামে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাম পরিবর্তন করে ‘বরিশাল নভোথিয়েটার’ করা হয়। প্রথমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষের কথা ছিল। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর করা হয়। এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কন্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। নগরের দক্ষিণে কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব পাশে চর আইচা এলাকায় ১০ একর জমিতে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয় ৪১২ কোটি টাকা। ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরে ব্যয় বাড়িয়ে ৪৬০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চারটি প্রধান অংশে বিভক্ত নভোথিয়েটারে প্ল্যানেটারিয়াম, কার্যালয় ভবন, প্লাজা, ডরমিটরি ও দুটি বৃহৎ ডোমসহ মোট ২৬টি অবকাঠামো থাকছে। দর্শনার্থীদের জন্য ১৭৫টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা, ৩০৪ আসনের গ্যালারি ও ১৭৫ আসনের আধুনিক অডিটোরিয়ামের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য ছয়টি শিশুপার্ক, ভাস্কর্য ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক রাইড থাকছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈদ্যুতিক কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগির বিদ্যুৎ-সংযোগ দিয়ে কমিশনিং করা হবে। তবে ডোম, টেলিস্কোপ, ডিজিটাল প্রজেকশন ও অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জাম এখনো স্থাপন করা হয়নি। এগুলো বিদেশ থেকে আমদানির পর বসানো হবে। গত ৩০ এপ্রিল দেখা যায়, শ্রমিকেরা ওঠার সিঁড়িতে টাইলস স্থাপন করছেন। কেউ মেঝেতে ঢালাই দিচ্ছেন। আবার একদল শ্রমিক তৈরি করছেন স্টিলের অবকাঠামো। তবে অবকাঠামোর সাজসজ্জার অনেক কাজ এখনো বাকি। সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা জানালেন, তাঁরা অনেক শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। তবে এখনো যে কাজ বাকি, তাতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, সন্দেহ আছে। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এটি দেশের আইকনিক একটি প্রকল্প। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করেছেন, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়—চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে। কাজে বিলম্বের বিষয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। কীর্তনখোলার তীরবর্তী ঢালু জমিতে কাজ হওয়ায় বেজমেন্ট তৈরিতেই প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। বর্ষাকালে কাজ ব্যাহত হওয়ায় ব্যয় ও সময় বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন এবং কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। অবকাঠামো নির্মাণ ৮০ শতাংশ শেষ রংপুর নগর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে দেবীপুরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের পাশে ১০ একর জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস জামাল অ্যান্ড কোম্পানি। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েক মাস প্রকল্পটির কাজ বন্ধ ছিল। এ ছাড়া জমি উন্নয়নকাজেও দেরি হয়। ইতিমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন পায় রংপুর নভোথিয়েটার প্রকল্প। প্রায় ৪১৮ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৪৪৫ কোটি টাকা। এরপরও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় আছে। সম্প্রতি দেখা যায়, নভোথিয়েটারের প্ল্যানেটেরিয়াম ভবন, কার্যালয় ও ডরমিটরির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। টাইলস মার্বেলের কাজ চলমান। অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতের কাজও চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের তেমন কোনো কাজ বাকি নেই। টাইলসের কিছু কাজ বাকি। আগামী আগস্টের মধ্যে নির্মাণাধীন অবকাঠামো হস্তান্তর করা হতে পারে। নভোথিয়েটার রংপুর স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, অবকাঠামোগত কাজ ৮০ শতাংশ হয়েছে। ইমারসিভ সিমুলেশন থিয়েটার চলে এসেছে। সায়েন্টিফিক এক্সিবিট, ডিজিটাল এক্সিবিট, প্লানেটেরিয়ামসহ অন্য সরঞ্জামের দরপত্র হয়েছে। সেগুলোও চলতি বছরের মধ্যে চলে আসবে। আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ থাকার সময়ের মধ্যে তাঁরা কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। এক যুগ পর প্রকল্প বাতিল এক যুগের বেশি সময় ধরে আলোচনা, স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা, একনেকে অনুমোদন, জমি হস্তান্তর ও দরপত্র প্রস্তুতির পরও শেষ পর্যন্ত খুলনার নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে। খুলনা নগরের জোড়াগেট সিঅ্যান্ডবি কলোনি এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ করা হলেও খেলার মাঠ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের আপত্তির মুখে মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় নভোথিয়েটার নির্মাণের জন্য ৫ একর জমি নির্ধারণে ২০১২ সালে প্রথম খুলনা সিটি করপোরেশনকে (কেসিসি) চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। পরে ২০১৩ সালের ১১ জুন নগরের মোংলা পোর্ট স্কুল-সংলগ্ন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে শিল্পব্যাংকের পেছনের জমি এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির জমির মধ্যে যেকোনো একটি স্থানে নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রস্তাব দেয় কেসিসি। কিন্তু এসব জমি পাওয়া কঠিন হওয়ায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প স্থান খোঁজার পরামর্শ দেয় মন্ত্রণালয়। পরে নগরের মুজগুন্নি এলাকায় পর্যটন করপোরেশনের জমির প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেটি পাওয়া যায়নি। সূত্রটি জানায়, নগরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় কৃষ্ণনগর মৌজার ১০ একর জমি পছন্দ হলেও অধিগ্রহণ ব্যয় বেশি হওয়ায় বাদ পড়ে যায়। সর্বশেষ ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নগরের জোড়াগেট সিঅ্যান্ডবি কলোনি এলাকায় ১০ একর জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রকল্প একনেকে পাস হয়। ব্যয় ধরা হয় ৫৫৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হয়। কিন্তু খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে ওই জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন আপত্তি তুলে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেয়। পরে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, সিঅ্যান্ডবি কলোনিকে ঘিরে একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পুরোনো ভবন ভেঙে আধুনিক আবাসন, পার্ক ও নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সেই মোতাবেক কাজও চলছিল। অনেকেই সেটিকে নভোথিয়েটার প্রকল্পের অংশ মনে করে বিরোধিতা করেন। তবে নভোথিয়েটারের সঙ্গে এসব কার্যক্রমের সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। গণপূর্ত বিভাগের খুলনা-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল সিঅ্যান্ডবি কলোনির ৮ দশমিক ৩৫১ একর জমি নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। ওই জায়গায় ভবিষ্যতে কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত সরকার নেবে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই খুলনা উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। নগরের সিঅ্যান্ডবি কলোনিতে নভোথিয়েটারটি নির্মাণের কথা ছিল। নাম ও স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তারপরও স্থানীয় আপত্তির অজুহাতে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিকল্প স্থানেও এটি বাস্তবায়ন করা যেত।