খেলাধুলা

রোনালদোর সমালোচনার জবাবে যা বললেন ইউনাইটেড কোচ

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৭, ২০২৫

ইউরোপ ছাড়ার আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নিজের শেষ সময়টা ভালো কাটেনি পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। এরিক টেন হাগের আমলে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ক্লাবটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। রোনালদো বলেছিলেন, ইউনাইটেডের পরিস্থিতি বদলানো এখন “একটা মিরাকল”-এর মতো। এবার তার সেই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন বর্তমান কোচ রুবেন অ্যামোরিম।

 

ইউনাইটেড কোচ বলেন,  “রোনালদো জানেন, তার প্রতিটি কথার প্রভাব কতটা। এখন আমাদের প্রয়োজন ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেওয়া। অতীতে অনেক ভুল হয়েছে, আমরা তা পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। পিছনে তাকিয়ে লাভ নেই, এখন কী করছি সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমাদের কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে, ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে—এটাই ধরে রাখতে হবে।”

 

বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরে খেললেও, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটির খোঁজখবর এখনও রাখেন রোনালদো। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমে ১৯৭৩–৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১৫-এর বাইরে ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। চলতি মৌসুমে ১০ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান অষ্টম স্থানে।

 

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, “আমি হতাশ, কারণ এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব এবং তারা এখনও আমার হৃদয়ে আছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের কোনো কাঠামো নেই। আশা করি ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসবে, কারণ ক্লাবটির সম্ভাবনা বিশাল।”

 

তবে ইউনাইটেডের বর্তমান কোচ অ্যামোরিমকে দায় দেননি রোনালদো। বরং প্রশংসা করে বলেন, “অ্যামোরিম তার সেরাটা দিচ্ছেন। মিরাকল তো অসম্ভব। আমরা পর্তুগালে বলি—‘মিরাকল ইজ অনলি ইন ফাতিমা’।’’

 

২০২৪ সালের নভেম্বরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন অ্যামোরিম। নিজের দলকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এখনও লড়ছেন তিনি। কোচ বলেন, “আমরা কখনও আক্রমণে ভালো, কখনও রক্ষণে দুর্বল। সর্বশেষ ম্যাচে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে ১৭টি শট নিতে দিয়েছি, এটা চলতে পারে না। পরিবর্তন দরকার। আমরা গোল করছি ঠিকই, কিন্তু ডিফেন্স আরও শক্ত করতে হবে।”

 

বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন জয়ের পর নটিংহ্যামের সঙ্গে ড্র করেছে ইউনাইটেড। অ্যামোরিমের অধীনে এই প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছিল দলটি, যা তাদের পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি অর্থায়ন না থাকায় ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা

ফিফার নিয়মকানুনের জটিলতায় প্রস্তাবিত ব্রাজিল-বাংলাদেশ প্রীতি ম্যাচটি আদৌ আয়োজন করা যাবে কিনা, তা নিয়ে এমনিতেই যথেষ্ট সংশয় আছে। তার ওপর এই ম্যাচের আয়োজনে বাংলাদেশ সরকার কোনো অর্থ ব্যয় করতে রাজি নয় বলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়ার পর অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।   আমিনুল হক জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রদর্শনী ম্যাচের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করার মানসিকতা সরকারের নেই। তবে বাফুফে যদি কোনো বেসরকারি স্পনসর এনে ম্যাচ আয়োজন করতে পারে, তাহলে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।   ২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার প্রীতি ম্যাচ আয়োজনে বাফুফের প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (তখনকার ডলারের হিসাবে প্রায় ২৬-২৭ কোটি টাকা) খরচ হয়েছিল। সে সময় মূলত করপোরেট স্পনসরশিপ, ব্যাংকঋণ ও চড়া দামে টিকিট বিক্রি করে ব্যয় মেটাতে হয়েছিল।   এবার অবশ্য সরকারের সহায়তার নেওয়ার কথা সোমবার (২৪ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন বাফুফের সদস্য সাখাওয়াত হোসেন। কিন্তু মন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট, সরকারি আর্থিক সহায়তা তারা পাবে না।     তবে স্পনসর নিয়ে ম্যাচটা আয়োজনের সুযোগ খোলা আছে বাফুফের সামনে। ঠিক কত টাকা লাগবে? এ বিষয়ে বাফুফের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্য খরচ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘থার্ড পার্টি থেকে অনেকেই বলেছে, ম্যাচটা আয়োজনে ৩ মিলিয়ন ডলার লাগতে পারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা)। এটা আমি শুনেছি। কিন্তু এত ডলার খরচ করে ম্যাচের পক্ষে আমরা না।’   কেন পক্ষে না, সেটারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে যারা ব্রাজিলকে আনছে, তারা আমাদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এটা প্রাথমিক পর্যায়েই আছে। আমার মূলকথা হলো, সরকার যেহেতু এ মুহূর্তে জ্বালানি সংকটে আছে...আমাদের যে সংকটগুলো আছে, সেই মুহূর্তে একটা ম্যাচের জন্য এত টাকা ব্যয় করার পক্ষে বা ব্যয় করার মানসিকতা সরকারের নেই।’    প্রস্তাবিত ম্যাচ নিয়ে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে আমিনুল হক যোগ করেন, ‘আমার সঙ্গে বাফুফে সভাপতির মৌখিক আলোচনা হয়েছে। তাকে আমি বলেছি, সরকারের পক্ষে এখন এই টাকা দেওয়া সম্ভব না। আপনারা বেসরকারিভাবে যদি অর্গানাইজ করতে পারেন, যদি স্পনসর জোগাড় করতে পারেন, তাহলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব।’   এর আগে বক্সিং ফেডারেশনের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আমিনুল হক বলেন, ‘(ব্রাজিলের খেলা হলে) মানুষের যে প্রত্যাশা, সেটা হয়তো বা পূরণ হবে। দর্শকেরা হয়তো বা একটু আনন্দিত হবেন, কিন্তু ব্রাজিল টিম খেলে গেলে যে বাংলাদেশের ফুটবলে পরিবর্তন আসবে, এ বিষয়ের সঙ্গে আমি একমত নই।’    এই ম্যাচ আয়োজনে আর্থিক বিষয়ের বাইরেও ফিফা উইন্ডোর নিয়মও বড় বাধা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে সর্বোচ্চ ৪টি ‘টায়ার-১’ ম্যাচ খেলা যাবে, যা ইতোমধ্যেই আসিয়ান কাপের ৪টি ম্যাচ দিয়ে নির্ধারিত বাংলাদেশের জন্য। ব্রাজিলের বিপক্ষে খেললে তা হবে পঞ্চম ম্যাচ। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের ঢাকায় ম্যাচ খেলা সম্ভাবনা কমই দেখা যাচ্ছে।    ম্যাচটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে গত রোববার। সেদিনই ঢাকায় এসে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) প্রতিনিধিদল আগামী ৫ বা ৬ অক্টোবর ব্রাজিল ফুটবল দলের সঙ্গে ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লাল বলের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলে রিশাদ-সাইফউদ্দিন

ব্রাজিল ফুটবল দল। ছবি : এএফপি

সরকারি অর্থ নয়, স্পনসর আনলে ব্রাজিলের ঢাকা সফর সম্ভব: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
কাউন্টিতে শরিফুলের বদলে কেন্টে যাচ্ছেন খালেদ

ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পেসারদের উপস্থিতি দেখা গেলেও এবার সেখানে খেলতে পারছেন না শরিফুল ইসলাম। তার পরিবর্তে কেন্টে যোগ দেওয়ার পথে রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি পেসার খালেদ আহমেদ।   সম্প্রতি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে আলো ছড়িয়েছেন টাইগার পেসার হাসান মাহমুদ। তার পারফরম্যান্সের পর হাসানের কাউন্টি দল কেন্টেই খেলার সুযোগ পান শরিফুল ইসলাম। তবে শেষ পর্যন্ত ওয়ার্কলোড বিবেচনায় তাকে ইংল্যান্ডে খেলার অনুমতি দিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।   বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শরিফুলের পরিবর্তে খালেদ আহমেদকে দলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্ট। ফলে চলতি মৌসুমে ইংলিশ কাউন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেতে পারেন এই পেসার।   চার ম্যাচ খেলতে চেয়েছিল কেন্ট: কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি মৌসুমে চার ম্যাচের জন্য শরিফুলকে দলে নিতে চেয়েছিল কেন্ট। আগামী সেপ্টেম্বরে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেলে হাসান মাহমুদের সঙ্গে একই দলের হয়ে খেলতে দেখা যেতে পারত শরিফুলকে।   এর আগে চার ম্যাচের জন্য হাসান মাহমুদের কাউন্টি খেলা নিশ্চিত করেছিল কেন্ট কর্তৃপক্ষ। তবে শরিফুলের ওয়ার্কলোড বিবেচনায় বিসিবি তাকে ছাড়পত্র না দেওয়ায় সেই সম্ভাবনা আপাতত শেষ হয়েছে।   বাংলাদেশের হয়ে এর আগে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন সাকিব আল হাসান। এবার হাসান মাহমুদের পর খালেদ আহমেদও কেন্টের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফুলহ্যামকে হারিয়ে জয়ে প্রিমিয়ার লিগ শুরু চেলসির

ছবি: সংগৃহীত

ইনফান্তিনোর সমর্থনে মুখ খুললেন স্যামুয়েল ইতো

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাকাই টেস্টের পিচ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ব্রড

ছবি: সংগৃহীত
দুই বছর পর ওয়ানডেতে ফিরছেন কামিন্স

প্রায় দুই বছর পর আবারও ওয়ানডে ক্রিকেটে দেখা যেতে পারে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে। তবে ওয়ানডেতে ফেরার মূল কারণ ৫০ ওভারের ক্রিকেট নয়, বরং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি। টেস্টকে সামনে রেখেই ওয়ানডে সিরিজের কয়েকটি ম্যাচে খেলতে চান অজি পেসার।     দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কামিন্সের সঙ্গে ওয়ানডে দলে যোগ দিতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের আরও দুই বড় তারকা মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড। বিশ্বকাপের পর থেকে তারাও ওয়ানডেতে নিয়মিত ছিলেন না।   ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর কামিন্স মাত্র দুটি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে মেলবোর্ন ও অ্যাডিলেইডে হওয়া ম্যাচ দুটিই ছিল তার সর্বশেষ ওয়ানডে। সেই সিরিজেই শেষবার একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে খেলেছিলেন কামিন্স, স্টার্ক ও হ্যাজেলউড।     চোট, বিশ্রাম এবং টেস্ট ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে গত দুই বছরে ওয়ানডে থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন কামিন্স। তার অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্টিভেন স্মিথ, মিচেল মার্শ ও জশ ইংলিস।   স্টার্ক ও হ্যাজেলউডও অবশ্য খুব বেশি ওয়ানডে খেলেননি। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর অস্ট্রেলিয়া মোট ২৮টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে স্টার্ক খেলেছেন মাত্র ৭টি এবং হ্যাজেলউড ১১টি। দুজনের সর্বশেষ ওয়ানডে ছিল গত বছরের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে।   দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ৯ অক্টোবর। তার আগে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। তবে সেখানে থাকছেন না কামিন্স।   বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষ করে কামিন্স জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজের কিছু ম্যাচে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে তার মূল লক্ষ্য থাকবে লাল বলের ক্রিকেট।   কামিন্সের ভাষায়, দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে সিরিজের ছয় ম্যাচের মধ্যে তিনি সম্ভবত এক থেকে তিনটি ম্যাচ খেলতে পারেন। তার মতে, ওই সিরিজের প্রস্তুতিও মূলত টেস্টকে কেন্দ্র করেই হবে। বাংলাদেশের সিরিজের পর কিছুদিন বোলিং থেকে বিশ্রাম নিয়ে জিম অনুশীলন চালিয়ে যাবেন এবং এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করবেন তিনি।   ফক্স স্পোর্টসের সঙ্গে আলোচনায় স্টার্ক ও হ্যাজেলউডও একই ধরনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।   তবে ওয়ানডেতে ফেরার পেছনে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট সিরিজই প্রধান কারণ হলেও আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপও অস্ট্রেলিয়ার ভাবনায় রয়েছে। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই বেশিরভাগ ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। একই সময়ে তাদের সামনে রয়েছে ব্যস্ত টেস্ট সূচি—এক বছরের মধ্যে প্রায় ২০-২১টি টেস্ট খেলার চ্যালেঞ্জ। ফলে আপাতত টেস্ট ক্রিকেটই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।   দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সফরটিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর এই প্রথম দেশটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দলের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল। তবে গত বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।   নিজেদের ঘরের মাঠে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজটি কঠিন হবে বলেই মনে করছেন কামিন্স। দুই বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভালো সিরিজ খেললেও গত বছর লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল তার দল।   এবার দক্ষিণ আফ্রিকার ভিন্ন কন্ডিশন, অপরিচিত পিচ এবং আলাদা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। তবে এই ভিন্নতাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য বলে মনে করেন কামিন্স। নতুন পরিবেশে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে তাই মুখিয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৪, ২০২৬
উইকেট লাভের পর স্পিনার রুবেলের উল্লাস। ছবি: নদার্ন টেরিটরি ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়ায় হ্যাটট্রিক জয় বাংলাদেশের এইচপি দলের

ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবার এসিসি সভায় যোগ দিয়েই বড় দায়িত্ব পেলেন তামিম

৬ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে চায় ব্রাজিল

0 Comments