জাতীয়

রোজার প্রথম দিনে লেবু, শসা ও বেগুনের দাম আরও বেড়েছে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

বাজারে এখন মোটামুটি মানের প্রতিটি লেবুর দাম কমপক্ষে ২০ টাকা। আর আকারে বড় একটি লেবু কিনতে হলে দাম পড়বে ৪০ টাকা। লেবু যেন ফলে পরিণত হয়েছে। আরও বলা যায়, বড় আকারের ভালো মানের একটি লেবুর দাম এখন এক হালি ডিমের দামের সমান। ৪০ টাকায় এক হালি ডিম অহরহই পাওয়া যাচ্ছে।

আজ রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এই প্রতিবেদক লেবুর দরের এই চিত্র পেয়েছেন।

অন্যদিকে রোজার প্রথম দিনেই শষা ও বেগুনের দামও চোখ রাঙাচ্ছে। শসা কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকায়। কমেনি বেগুনের দামও, বরং বেড়েছে। এক কেজি বেগুন কিনতে ক্রেতাকে ১০০ থেকে ১২০ টাকার খরচ করতে হচ্ছে। তবে বাজারভেদে কোথাও এসব পণ্যে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার রমজান মাসের প্রথম দিন। তাই স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বাজারে ক্রেতার ভিড় ছিল। ক্রেতা–বিক্রেতার হাঁকডাকও বেশি।

গতকাল বাজারে বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ ও খেজুরের দাম যা ছিল, তা থেকে কমতে দেখা যায়নি। বরং কিছু বাজারে দাম আরও বাড়তে দেখা গিয়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কিছুটা কমেছে।

আজ বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজার ঘুরে যা দেখা গেল

রাজধানীর কৃষি মার্কেটে বড় আকার ও ভালো মানের লেবু ১০০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে। তবে দাম বেশি হওয়ায় বেশির ভাগ ক্রেতা দাম শোনার পর মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ আবার একটু ছোট আকারের লেবু কিনছেন ৮০ টাকা হালি দরে। আবার অনেকে এক–দুটি লেবু কিনেই বাড়ি ফিরছেন।

কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে প্রতিটি লেবু পাইকারি দামে ২৭ টাকা ৫০ পয়সা দিয়ে কিনেছি। এখন হালি বিক্রি করছি ১৪০ টাকা। সন্ধ্যায় আবার আরও কমে বিক্রি করতে হয়। তাই এখন একটু বেশি দরে বিক্রি করছি।’

এই তিন বাজারে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোজার আগে ও পরে তিন থেকে চার দিন বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যায়। অনেকে আবার কিছু পণ্য বেশি পরিমাণে কেনার জন্য বাজারে আসেন। তাই বাজারেও সেসব পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। আর তাই দামও বেড়ে যায়। এই সুযোগে আবার কোনো অসাধু বিক্রেতা বাড়তি দামেও পণ্য বিক্রি করেন।

মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে লেবু ও শসা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। পাশাপাশি দুই সবজির দোকানের একটিতে শসা কেজিপ্রতি দাম চাওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা ও পাশের দোকানে লেবুর দামও হালিতে ২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

এই দুই বিক্রেতাকে দাম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁরা জানান, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সঙ্গে পরিবহন খরচ, দোকানভাড়া ও লাভ রেখে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এ সময় বাজার করতে আসা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, ‘রোজা এলে বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এটি পুরোনো রীতি। এবারও ভিন্ন কিছু হচ্ছে না। শসার দাম কেজি ১৫০ টাকা চাচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও ৮০ টাকা কেজিতে কিনেছি। সে সময় এক ডজন লেবু কিনেছি ১২০ টাকা দিয়ে। আর এখন এক হালি লেবুর দাম ১২০ টাকা।’

অন্যান্য সবজি বিক্রেতারা বলেন, মূলত সারা বছর লেবু উৎপাদন হয়। তবে এ সময়ে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে লেবুর ফুল আসে। আর জুলাই থেকে আগস্ট মাসে লেবু আহরণ করা হয়। তবে এখন বিভিন্ন জাতের লেবু বারো মাস চাষ হয়। আবার রোজার কয়েক দিন গেলেই মানুষের চাহিদা কমে যাবে। তখন দামও কমে যাবে।

এ ছাড়া টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। কাঁচা মরিচের মতো নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটায় ব্রয়লার মুরগি। এই ব্রয়লার মুরগির দামও গতকাল ২০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। তবে সপ্তাহ দুই আগে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছিল ২০০-২২০ টাকায়। আজ কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি মুরগির দাম কমেনি। আজও প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

টাউন হল বাজারের ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ বলেন, রোজার শুরুতে অনেকে শখ করে রোজার পণ্য বেশি পরিমাণে কেনেন। তাই চাহিদার সঙ্গে দামও বেড়ে যায়। তবে রোজা আরও এগোলে চাহিদা কমে যাবে, তখন দামও কমে যাবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

শিশু রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানা।
বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করতেই ডলারের নাম বলেছেন সোহেল : পুলিশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু রামিসাকে খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যেই মূল আসামি সোহেল রানা নতুন করে ডলার নামের আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন বলে মনে করছে পুলিশ। সোমবার (১ জুন) পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, যেদিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেদিন সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল ভেঙে একাই পালিয়ে যেতে আশপাশের অনেক মানুষ দেখেছে।  তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে এবং তদন্তে তার স্ত্রীর ছাড়া অন্য কারো সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওসি বলেন, কারাগারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধী থাকে। সেখানে কেউ হয়তো তাকে পরামর্শ দিয়েছে যে অন্য কারো নাম জড়ালে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া কিছুটা হলেও বিলম্বিত হতে পারে। তবে ডলারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।  তবে এটা পরিষ্কার, সোহেল রানা মামলা বিলম্বিত করার জন্য কারো পরামর্শে এ কাজ করেছেন। অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কারাগারে হয়তো কোনো বন্দি সোহেল রানাকে বুদ্ধি দিয়েছে কারো নাম বললে বিচারপ্রক্রিয়া পিছিয়ে যাবে। দুষ্টুমির ছলে হোক আর যেভাবে হোক, এ রকম বুদ্ধি তাকে কেউ না কেউ দিয়েছে।’ আজ সোমবার শিশু রামিসাকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দিন।’ এ সময় তিনি দাবি করেন, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ‘ডলার’ নামে একজন তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। সোমবার এ মামলায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার (২ জুন) দিন ধার্য করেন আদালত। এর আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওই দিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর চার্জশুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।  জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বাদী মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে আসামি সোহেল রানার রুমের সামনে বাদী তার মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বাদী তার স্ত্রী ও অন্য ফ্ল্যাটের লোকজনকে নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় আসামির শয়ন কক্ষের মেঝেতে ভিকটিম রামিসার মাথাবিহীন লাশ দেখতে পান। আর মাথা রুমের ভেতর রঙের বড় বালতির ভেতর দেখতে পান। এসময় আসামি স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার স্বামী সোহেল রানা বাদীর শিশু কন্যাকে বাথরুমের আটকে রেখে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশে স্বপ্নার সহায়তায় সোহেল ভিকটিমের মাথা, ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুইহাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে লাশ বাথরুম থেকে আসামিদের শয়ন কক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। পরে ওই রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। রামিসার বাবা তার পরিবারকে নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করত।

মারিয়া রহমান জুন ০১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ নির্দেশনায় ঈদ ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন: মাহদী আমিন

ছবি : সংগৃহীত

ফের সন্ধ্যা ৭টায় শপিংমল-দোকান বন্ধের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির অভিযোগে ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানি নির্ভরতা কমানোর আহ্বান প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

দেশে দুধ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করে দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে স্থানীয়ভাবে দুধ উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের গবাদিপশু পালন এবং প্রযুক্তিনির্ভর দুগ্ধ খাত গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।   এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুগ্ধ খাত দেশের কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। তিনি খামারিদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং পশুর স্বাস্থ্যসেবার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।   প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে দুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনও কিছু দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করতে হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে এই নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, গবেষণা কার্যক্রম এবং খামারিদের প্রশিক্ষণ আরও জোরদার করা হবে।   তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুধ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, উন্নত প্রজনন ব্যবস্থা, পশুখাদ্য উন্নয়ন এবং রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুগ্ধ শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি দুগ্ধ খাতের বিকাশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে আরও বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

সুদানে মিশনে গিয়ে বাংলা‌দে‌শের সেনাসদস্যের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে জ্বালানি তেল

ছবি: সংগৃহীত
শিশু রামিসার পরিবারের খোঁজ নিলেন জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি

রাজধানীর মিরপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দীকা।   রোববার (৩১ মে) দুপুরে তিনি নিহত শিশুর বাসায় যান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।   সাক্ষাৎকালে তিনি পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও আলোচনা করেন।   এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি সুফিয়া জামাল, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা বিভাগীয় কর্মপরিষদ সদস্য নূরুন্নাহার পলি, পল্লবী দক্ষিণ থানা মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারী ওয়ালিদা খানম এবং পল্লবী মধ্য থানা মহিলা বিভাগীয় কর্মপরিষদ সদস্য তানিয়া তাবাস্সুম।

আক্তারুজ্জামান জুন ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিভাগীয় শহরে আধুনিক স্লটার হাউজ হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন

ছবি: সংগৃহীত

দালালের প্ররোচনায় হাসপাতালে সময়ক্ষেপণ, পথে প্রাণ গেল রংমিস্ত্রির

0 Comments