বগুড়ায় রোজা শুরুর আগেই লেবুর দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে মানুষ। প্রতি পিস লেবু ১০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে লেবুর দাম।
সরেজমিনে শহরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে প্রতি পিস লেবুর দাম বেড়েছে অন্তত ৭-১০ টাকা পর্যন্ত। শহরের বাজারগুলোতে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। বড় সাইজেরগুলো প্রতি পিস ১৬ থেকে ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, বাগান মালিক ও আড়তদাররা রমজানে বেশি মুনাফার আশায় লেবু ধরে রাখছেন। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা দামও বাড়িয়ে নিচ্ছেন।
তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন লেবুর মৌসুম নয়। গাছে নতুন ফুল ও ছোট ফল আসায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, এজন্য দাম বেড়েছে।
সপ্তাহদুয়েক আগে শহরের ফতেহ আলি বাজারে মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবু বিক্রি হয়েছিল ১৬ থেকে ২০ টাকা। এখন তা দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। যদিও মাসখানেক আগে এ মানের লেবুর প্রতিটি বিক্রি হয়েছিল ৩ থেকে ৫ টাকা দরে। সেই হিসেবে এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় চারগুণ।
শহরের রাজা বাজারের লেবু ব্যবসায়ী রমজান আকন্দ বলেন, এখন লেবুর ভরা মৌসুম নয়। গাছে নতুন ফুল আসছে। কিছু কিছু গাছে ছোট ফল আসায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।
তিনি বলেন, কিছু লেবু গাছ আছে যেগুলোতে কমবেশি সারা বছরই লেবু হয়। সেগুলোই এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া নির্বাচন উপলক্ষ্যে দুই-তিন দিন পরিবহন চলাচল সীমিত থাকায় বাজারে লেবু বেশি দাবি এই ব্যবসায়ীর। লেবুর চড়া দাম দেখে ক্ষুব্ধ ক্রেতারাও।
শহরের সাতমাথায় লাল চা বিক্রেতা শাহীন মিয়া বলেন, আগে ৩২ থেকে ৩৬ টাকায় ভালো লেবু পাওয়া যেত। এখন সেই লেবুর হালি ৮০ টাকা। শতকরা হিসেবে পাইকারি কিনলে ১৬০০ টাকা। যার জন্য ৬ টাকার লাল লেবু চা ১০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।
লেবু কিনতে আসা মুজাহিদ আলম বলেন, মাসখানেক আগেও ১৫ থেকে ২০ টাকা হালিতে লেবু কিনলাম। রোজা আসার আগেই এখন লেবুর হালি ৪০ থেকে ৬০ টাকা চাচ্ছে।
চাকরিজীবী গৃহবধূ আসমা বেগম বলেন, রমজান মাস শুরু হলেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়। চড়া দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের। সারাদিন রোজা রাখার পর লেবুর শরবত অনেকটাই স্বস্তি এনে দেয়।
কিন্তু লেবুর দামও অস্বাভাবিক হওয়ায় এটা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রমজানে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে মনিটরিং বাড়ানোর আহ্বান জানান এই ক্রেতা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ডিজিটাল প্রতারণা ও চাঁদাবাজির প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল সিমকার্ড। ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের অসাধু কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের যোগসাজশে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ চুরি করে একসঙ্গে সচল করা হচ্ছে হাজার হাজার সিম। কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি হওয়া এসব সিম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জঙ্গি তৎপরতা ও মাদক চোরাচালান চালাচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র। সম্প্রতি এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়ে ২২ হাজার সচল সিমসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্মকমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ বলেন, রাজধানীর লালবাগে ২৭ জুন অভিযান চালিয়ে প্রতারকচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো ফরিদপুর জেলার সালথা থানার সিংহপ্রতাপ (উত্তরপাড়া) গ্রামের মাওলানা জিল্লুর রহমানের ছেলে আবু তালহা এবং একই এলাকার সাদেক মাতব্বরের ছেলে শামীম। তারা প্রায় দুই বছর ধরে লালবাগের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দেদার তোলা হচ্ছে সিম। সাধারণত একটি সিমের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা হলেও এই ধরনের প্রি-অ্যাক্টিভেটেড নিবন্ধিত সিম কালোবাজারে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি সিমের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট বা নগদ) অ্যাকাউন্টও সচল করা থাকে, তবে তার দাম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে। গত জানুয়ারিতে বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, ৫১টি মোবাইল ফোন, ২১টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী এবং পাঁচ চীনা নাগরিকসহ প্রতারকচক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। ডিবি সূত্র জানায়, ২৭ জুন গ্রেফতার হওয়া তালহা ও শামীমের নেতৃত্বাধীন চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিমাসে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত। চক্রের সদস্যরা বেশ কয়েকটি ধাপে কাজ করে। তাদের রয়েছে তিন-চারটি আলাদা গ্রুপ। এক গ্রুপ মেসেজ পাঠায়। অন্য গ্রুপ মেসেজের অর্থের জোগান দেয়। আরেক গ্রুপ প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গ্রহণ করে। এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যাংক লেনদেনের পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হয়। গ্রেফতার হওয়া চক্রের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ১০-১২ জন প্রতারকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখনই তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। যেহেতু অপরাধীরা মোবাইল অপারেটর কোম্পানি বা কুরিয়ার সার্ভিসের ভেতরের লোকদের সহায়তায় এই কাজ করছে, তাই শতভাগ প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হবে। যে প্রক্রিয়ায় সিম সংগ্রহ : পুলিশ জানায়, অবৈধ সিম সংগ্রহের সবচেয়ে বড় উৎস হলো সাধারণ ও অসচেতন মানুষ। গ্রাহক যখন একটি সিমের জন্য আঙুলের ছাপ দেন, তখন অসাধু বিক্রেতারা সার্ভার ডাউন বা আঙুলের ছাপ মেলেনি বলে পুনরায় বা একাধিকবার আঙুলের ছাপ নেন। প্রতিটি সফল ছাপের বিপরীতে অপরাধীচক্র গ্রাহকের অজান্তেই একাধিক সিম সক্রিয় করে নেয়। অসাধু সিম রিটেইলার বা ডিস্ট্রিবিউটররা বেশি মুনাফার লোভে গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আঙুলের ছাপের ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করে রাখে। পরবর্তী সময়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সেই তথ্য ব্যবহার করে নতুন সিম অপরাধীচক্রের কাছে সরবরাহ করে। অনেক সময় ভুয়া বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে করপোরেট সিম (একসঙ্গে অনেক) তোলা হয়। পরে এসব সিম অপরাধীদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা, প্রবাসীদের নামে থাকা অথবা মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পুনরায় সিম সচল করার ঘটনাও ঘটছে। কিছু বিক্রেতা যখন সাধারণ মানুষের আঙুলের ছাপ নেন, তখন তারা এক বিশেষ ধরনের সিলিকন প্যাড বা ডিভাইসের মাধ্যমে গ্রাহকের অজান্তেই তার আঙুলের ছাপের অবিকল নকল বা ডিজিটাল ইমেজ তৈরি করে নেয়। গ্রাহক চলে যাওয়ার পর সেই ক্লোন করা আঙুলের ছাপ এবং সংরক্ষিত এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে একের পর এক সিম সচল করে। যেভাবে ব্যবহৃত হয় সংগৃহীত সিম : প্রতারকদের সংগ্রহ করা সিমগুলো ব্যবহার করে বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এরপর লটারি জয়, সরকারি অনুদান বা ভুয়া পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পেশাদার অপরাধী ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী বা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে কল করে মুক্তিপণ বা চাঁদা দাবি করতে এই সিমগুলো ব্যবহার করে। মাদক ব্যবসায়ী এবং চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে এসব সিম ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা এবং রাষ্ট্রবিরোধী বা ধর্মীয় উসকানিমূলক গুজব ছড়াতেও এসব সিম ব্যবহার করা হয়। প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল : প্রতারকরা সাধারণ মানুষকে কল করে বলে, ‘ভাই, ভুল করে আপনার নম্বরে ২০ হাজার টাকা চলে গেছে, দয়া করে টাকাটা পাঠান। একই সঙ্গে তারা একটি ভুয়া মেসেজ (যা দেখতে হুবহু ব্যালেন্স মেসেজের মতো) পাঠায়। অসচেতন মানুষ ব্যালেন্স চেক না করেই নিজের টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হন। নিজেদের মোবাইল ব্যাংকিং সেন্টারের হেড অফিসের লোক বা কাস্টমার কেয়ারের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা কল করে বলে, ‘আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক হয়ে গেছে বা আপডেট করতে হবে।’ এরপর কৌশলে গ্রাহকের ওটিপি বা গোপন পিন নম্বর কৌশলে জেনে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে অ্যাকাউন্টের সব টাকা তুলে নেয়। এছাড়া সরকারি অনুদান, লটারি ও উপবৃত্তির লোভ দেখিয়ে এবং ব্ল্যাকমেইলিং ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমেও অহরহ প্রতারণা হচ্ছে।
বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল হয়ে ওঠা সাগরে টিকতে না পেরে শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনসহ উপকূলের মৎস্য বন্দরগুলোতে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। মাছ আহরণে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ায় কবলে পড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ফিরে আসতে হয়েছে জেলেদের। সুন্দরবনের দুবলার ভেদাখালী খালে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বগা এলাকার একটি ফিশিং ট্রলারের মাঝি নজরুল ইসলাম শুক্রবার বিকালে মোবাইল ফোনে জানান, সাগরে গত দুইদিন ধরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। প্রবল বেগে ঝড়ো বাতাসে বড় বড় ঢেউয়ের কারণে সাগর উত্তাল হওয়ায় ফিশিং ট্রলাররের বহর সাগরে টিকতে না পেরে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উপকূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনের দুবলা, মেহেরআলী, আলোরকোল, ভেদাখালী, কচিখালীসহ বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, বঙ্গোপসাগরে এখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে কয়েকশ ফিশিং ট্রলার বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য বন্দর কেবি ঘাট, শরণখোলা, রায়েন্দা, মহিপুর, খেপুপাড়া, নিদ্রাসখিনা, পাথরঘাটা উপকূলসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার থেকে আশ্রয় নিয়ে আছে। মাছ আহরণে দীর্ঘ ৫৮দিনের অবরোধ শেষে এসব ফিশিং ট্ররার বহর সাগরে মাছ ধরতে গিয়েই দুর্যোগের কবলে পড়েছে। বাগেরহাটের মৎস্য বন্দর রাজৈর মৎস্য ঘাটের আড়তদার কবির হোসেন জানান, সাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় এখানে অর্ধশত ফিশিং ট্রলার দুই দিন ধরে এই মৎস্য ঘাটে নিরাপদে নোঙর করে আছে। বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ছে। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে ফিশিং ট্রলার উপকূলের দিকে ছুটে আসছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে নিখোঁজ সুখরঞ্জন বালীকে ‘গুমের’ অভিযোগে সাবেক এক সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার নাম ফজলুর রহমান। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে নিখোঁজ হন। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, পরে সীমান্ত এলাকায় তাকে পাওয়া গেছে। তবে সুখরঞ্জনের পরিবার ও কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ ছিল, ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয়। আলোচিত ওই ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দেন সুখরঞ্জন। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়া এবং পরে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তিনি গুম ও নির্যাতনের শিকার হন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।