রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল দুই দলের রক্ষণভাগেই নেমে এসেছে বড় ধাক্কা। গুরুতর চোটে মাঠের বাইরে চলে গেছেন ডিফেন্ডার এদার মিলিতাও। বাম পায়ের বাইসেপস ফেমোরিস মাংসপেশি ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাছের টেন্ডনও। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে অন্তত সাড়ে তিন মাস, আর জটিলতা দেখা দিলে চার মাস পর্যন্ত মাঠে নামা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে তার জন্য। অর্থাৎ ২০২৬ সালের এপ্রিলের আগে তাকে মাঠে দেখা পাওয়ার আশা খুবই ক্ষীণ।
লা লিগায় সেল্তার বিপক্ষে প্রথমার্ধে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে দৌড় দেওয়ার সময় হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনুভব করেন মিলিতাও। মুহূর্তেই মাটিতে বসে পড়েন এবং বুঝে ফেলা যায়—চোট গুরুতর। পরদিন এমআরআইতে সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়।
চলতি মৌসুমে এটি তার তৃতীয় ইনজুরি। এর আগে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে ডান পায়ের অ্যাডাক্টরে চোট পেয়েছিলেন তিনি। বারবার চোটে পড়া শুধু তার ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, দলের পরিকল্পনার দিক থেকেও বড় সংকট তৈরি করেছে।
এখন রিয়ালের চোট তালিকায় ডিফেন্ডারের সংখ্যা ছয়ে পৌঁছেছে কারভাহাল, ট্রেন্ট, আলাবা, মেন্ডি, হুইসেনের পর এবার মিলিতাও। অর্থাৎ স্কোয়াডের প্রায় ৬০ শতাংশ রক্ষণভাগই অনুপস্থিত। ফলে ফিট আছেন মাত্র কয়েকজন: রুদিগার, আসেনসিও, ক্যারেরাস ও ফ্রান গার্সিয়া। প্রয়োজন হলে ভ্যালভারদেকে ফুল-ব্যাকে, চুয়ামেনিকে সেন্টার-ব্যাকে এবং কামাভিঙ্গাকে লেফট-ব্যাকে নামানোর পরিকল্পনা ভাবতে হচ্ছে কোচিং স্টাফকে।
চোটটি শুধু ক্লাব নয়, জাতীয় দলের জন্যও বড় ধাক্কা। আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও বিশ্বকাপ প্রস্তুতির পথে মিলিতাও ছিলেন রক্ষণভাগের মূল ভরসা। দীর্ঘসময় তাকে ছাড়াই পরিকল্পনা সাজাতে হবে ব্রাজিলকে।
এমন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলো—চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিগ ম্যাচ ও ঘরোয়া কাপ সবই সামনে। ঠিক তখনই রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভকে হারানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুই দলই এখন একটাই আশা করছে মিলিতাও যেন দ্রুত, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মৌসুমের এই পর্যায়ে এসে পা হড়কালেই বিপদ। পেপ গুয়ার্দিওলা সেটা ভালো করেই জানেন। ম্যানচেস্টার সিটি কোচের মতে, আসছে ম্যাচে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের বিপক্ষে তারা পয়েন্ট হারালে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড় ‘শেষ’ হয়ে যাবে। তাই রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে পাহাড় ডিঙানোর চ্যালেঞ্জের কথা না ভেবে আপাতত শুধু এই ম্যাচেই মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। লিগ টেবিলে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে দুই নম্বরে আছে সিটি। যদিও গুয়ার্দিওলার দলের হাতে একটি ম্যাচ বেশি আছে। তাদের বাকি আছে ৯ ম্যাচ, আর্সেনালের ৮টি। আগামী ১৯ এপ্রিল ইতিহাদ স্টেডিয়ামে এই দুই দলের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ মুখোমুখি লড়াইও আছে। তবে শনিবার ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবছেন না গুয়ার্দিওলা। এখন ভাবনায় কেবলই ওয়েস্ট হ্যাম। প্রিমিয়ার লিগ সবচেয়ে কঠিন শিরোপা। আমরা এখনও এখানে (লড়াইয়ে) আছি এটা জেনে যে, যদি আমরা পয়েন্ট হারাই, তাহলে (লড়াই) শেষ হয়ে যাবে। অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে থাকা ওয়েস্ট হ্যাম আছে টেবিলের ১৮ নম্বরে। তবে সম্প্রতি দলটির পারফরম্যান্সে উন্নতি হয়েছে। সবশেষ পাঁচটি লিগ ম্যাচের মধ্যে কেবল একটিতে হেরেছে তারা। গুয়ার্দিওলা জানেন, ওয়েস্ট হ্যাম পয়েন্টের জন্য লড়াই করবে। তবে সিটিও ‘মরিয়া থাকবে’ বলে জানালেন এই স্প্যানিয়ার্ড। আমি সবসময় বলেছি, যখন আমরা শেষ ১০ ম্যাচে পৌঁছাই, তখন প্রতিটি দলই কিছু না কিছুর জন্য খেলে- অবনমন এড়ানোর জন্য, ইউরোপা লিগের জন্য, কনফারেন্স লিগের জন্য, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্য। প্রতিটি ম্যাচেই এটা স্বাভাবিক। এখন আর দ্বিতীয় সুযোগ নেই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে গত বুধবার রেয়ালের মাঠে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় সিটি। আগামী মঙ্গলবার ইতিহাদে হবে ফিরতি লেগ। আপাতত ওই ম্যাচ নিয়ে আলোচনার মেজাজে নেই গুয়ার্দিওলা। আগামীকাল (শনিবার) রাতে আমাদের একটি ম্যাচ আছে, প্রিমিয়ার লিগের অবস্থানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। তারপর আমাদের (চ্যাম্পিয়ন্স লিগে) দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ আছে।
বৃষ্টি হানা দেওয়ার আগে ৬.৩ ওভারে ২৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। ফলে পুনরায় যখন বল মাঠে গড়ায়, তখন বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্যটা হয়ে উঠে আরও চ্যালেঞ্জিং। পাকিস্তানকে হারাতে বৃষ্টি আইনে লিটন-হৃদয়দের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। অর্থাৎ, বাকি ২৫.৩ ওভারে লিটন-হৃদয়দের ২১৬ রান করতে হতো। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে গেছে মেহেদী মিরাজের দল। ১২৮ রানের বড় জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল পাকিস্তান। এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সফরকারীরা মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার ৮ উইকেটের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। আজ (শুক্রবার) দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিকরাও সমান ১১৪ রানে অলআউট হয়েছে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ লিটন দাস ৪১ এবং তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে আসে ২৮ রান। পাকিস্তানের হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত সমান ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪৭ দশমিক ৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারী পাকিস্তান। দলের পক্ষে মাজ সাদাকাত ৭৫ ও সালমান আগা ৬৪ রান করেন। বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ৫৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও সাদাকাত। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৯ বলে ১০৩ রান যোগ করেন তারা। সাদাকাতের মারমুখী ব্যাটিংয়ে সপ্তম ওভারে ৫০ এবং ১৩তম ওভারে শতরানে রানে পা রাখে পাকিস্তান। ৩১ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের বলে আউট হন সাদাকাত। ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৪৬ বলে ৭৫ রান করেন তিনি। মিরাজের ব্রেক-থ্রুর পর পাকিস্তানকে চেপে ধরার চেষ্টা করেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। ১ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট শিকার করেন তারা। ফারহানকে ৩১ রানে তাসকিন এবং শামিল হুসেনকে ৬ রানে বিদায় দেন রানা। এতে ১২২ রানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে ১১৫ বলে ১০৯ রানের জুটি গড়েন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান। হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যক্তিগত ৬৪ রানে রান আউটের ফাঁদে পড়েন সালমান। ৬২ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি। সালমান ফেরার ওভারেই মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হন রিজওয়ান। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে রিশাদকে ক্যাচ দেন ৫টি চারে ৪৪ রান করা রিজওয়ান। দলীয় ২৩১ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে রিজওয়ান আউট হবার পর স্পিনার রিশাদের ঘূর্ণি সামলাতে না পেরে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি পাকিস্তান। ৪৭ দশমিক ৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। লোয়ার অর্ডারে আব্দুল সামাদ ১১ ও ফাহিম আশরাফ ১৪ রানে আউট হন। ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার রিশাদ। এছাড়া মিরাজ ২টি, তাসকিন-মুস্তাফিজ ও রানা ১টি করে উইকেট নেন।