অর্থনীতি

ঋণ নিয়ে ঋণ শোধ, বাড়ছে অর্থনীতির চাপ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৪, ২০২৬

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন এক বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ নতুন ঋণ আসছে, তার প্রায় পুরোটাই চলে যাচ্ছে অতীতে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে। ফলে বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন করে যে অর্থ যোগ হওয়ার কথা, তার পরিমাণ দ্রুত কমে আসছে। একই সময়ে কমেছে নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এবং কমেছে অর্থছাড়ও। ফলে বৈদেশিক অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ের (১১ মাস) বৈদেশিক সহায়তা সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

 

তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান হিসেবে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। একই সময়ে পূর্বে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার। অর্থাৎ বিদেশি সহায়তা হিসেবে যে অর্থ এসেছে, তার ৮৯ দশমিক ২৮ শতাংশই চলে গেছে ঋণ পরিশোধে। হিসাব করলে দেখা যায়, পুরো অর্থছাড়ের মধ্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৪৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণ শোধ করার প্রবণতা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। যদিও সরকার সরাসরি নতুন ঋণের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ করছে না, তবে সামগ্রিক বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের হিসাবে নতুন যে অর্থ আসছে তার অধিকাংশই ঋণ পরিশোধে চলে যাওয়ায় কার্যত একই ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে।

 

রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধ

 

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল বাবদ মোট ৪১৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরের ১১ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করা হয়েছিল ৩৭৮ কোটি ৪৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার বা প্রায় ৯ শতাংশ।

 

পরিশোধের এই অর্থের মধ্যে সুদ বাবদ গিয়েছে ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১৪০ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। অন্যদিকে ঋণের আসল পরিশোধ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৩৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

 

অর্থাৎ শুধু সুদ নয়, আসল ঋণ পরিশোধের চাপও দ্রুত বাড়ছে।

 

কেন বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ

 

অর্থনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এর পেছনে প্রধান কারণ গত এক দশকে নেওয়া বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের বৈদেশিক ঋণ।

 

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী প্রকল্পসহ বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছিল। এসব ঋণের অনেকগুলোর গ্রেস পিরিয়ড বা অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন নিয়মিত কিস্তি ও সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে।

 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন। কয়েক বছর আগেও এক ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫-৯০ টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১২২ টাকার কাছাকাছি। ফলে একই পরিমাণ ডলার পরিশোধ করতে সরকারের অনেক বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

 

ফলে বৈদেশিক ঋণের চাপ শুধু ডলারের হিসাবে নয়, টাকার হিসাবেও দ্রুত বাড়ছে।

 

কমছে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি

 

ঋণ পরিশোধের চাপ যখন বাড়ছে, তখন নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের।

 

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৪২২ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদান প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫৬০ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতিশ্রুতি কমেছে ১২৬ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

 

বিশেষভাবে কমেছে অনুদান। চলতি অর্থবছরে অনুদান প্রতিশ্রুতি এসেছে মাত্র ১৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের পথে এগিয়ে যাওয়ায় এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ায় অনুদানভিত্তিক সহায়তা ক্রমেই কমে আসছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি অর্থ বাজারভিত্তিক বা তুলনামূলক উচ্চ সুদের ঋণ থেকে সংগ্রহ করতে হতে পারে।

 

অর্থছাড়েও বড় ধাক্কা

 

শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব অর্থছাড়েও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।

 

চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে অর্থছাড় হয়েছে ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে অর্থছাড় হয়েছিল ৫৬০ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ অর্থছাড় কমেছে ১০৩ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ডলার।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, ক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতা, প্রশাসনিক বিলম্ব এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতির শ্লথগতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ সময়মতো ছাড় করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

ফলে একদিকে নতুন ঋণ কম আসছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে—যা বৈদেশিক অর্থায়নের ভারসাম্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

 

কারা সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে

 

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি প্রায় ৯৬ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে।

 

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া, যারা প্রায় ৯৩ কোটি ডলার ছাড় করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি ডলার, চীন ৫৩ কোটি ডলার, জাপান ৪৩ কোটি ডলার এবং ভারত ২৫ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেছে।

 

এ থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে এখনো বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

 

সামনে কী ঝুঁকি

 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, আগামী কয়েক বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে। কারণ বড় প্রকল্পগুলোর ঋণ পরিশোধের মূল সময় এখন শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বছরে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

 

তার মতে, রাজস্ব আদায়, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যাপ্ত হারে না বাড়লে ঋণ পরিশোধের চাপ অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

 

অপরদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের( সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, এখন থেকে ঋণ গ্রহণে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। শুধু ঋণ নিলেই হবে না, সেই ঋণের অর্থ এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে হবে যেখান থেকে অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যায় এবং যা ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে।

 

সতর্কবার্তা অর্থনীতির জন্য

 

বাংলাদেশ এখনো ঋণ সংকটে পড়েনি। বৈদেশিক ঋণের অনুপাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—নতুন ঋণের প্রবাহ কমছে, অনুদান কমছে, অথচ ঋণ পরিশোধের চাপ দ্রুত বাড়ছে।

 

ফলে উন্নয়ন অর্থায়নের যে সুবিধা বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়ার কথা, তার বড় অংশই এখন পুরোনো দায় পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, উন্নয়ন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

 

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এখন সময় এসেছে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ নয়, বরং ঋণের গুণগত ব্যবহার, প্রকল্পের অর্থনৈতিক ফলন এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার। কারণ ঋণ তখনই টেকসই হয়, যখন সেই ঋণ ভবিষ্যতে নিজেই নিজের পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি করে। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য সেটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ৪১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেবে ১৭ ব্যাংক

বন্ধ কলকারখানা চালু এবং স্থবির অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে ১৭টি ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।   প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থ দিতে সম্মত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, ব্র্যাক, সিটি, যমুনা, ডাচ্-বাংলা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, উত্তরা, প্রাইম, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি, পূবালী, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট ও সাউথইস্ট ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৩ মে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কলকারখানা চালু, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থবির অর্থনীতিকে সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে।   সে সময় এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, এই প্যাকেজটি মূলত একটি ‘উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার’ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   প্রণোদনা প্যাকেজের ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।   প্যাকেজের সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য। এ তহবিল থেকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের গড়ে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৭, ২০২৬

২৬ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৩ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে টানা তিন দিন পর কমল স্বর্ণের দাম

ছবি: সংগৃহীত

আইএমএফের শর্ত থেকে দূরে সরছে সরকার

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের (একীভূত পাঁচ ব্যাংক) গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজ নিজ হিসাব থেকে টাকা তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে আমানতের মুনাফায় কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন করা হবে না— বিষয়টি গ্রাহকদের স্পষ্টভাবে অবহিত করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।     মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার সাক্ষাৎ করতে গেলে এ নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।   যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।     গভর্নর বলেন, জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সব আমানতকারীকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে তাদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।   তিনি আরও জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ‘আল-ওয়াদিয়াহ’ চলতি হিসাব, ‘মুদারাবা’ সঞ্চয়ী হিসাব এবং ‘মুদারাবা’ মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   গভর্নর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।     এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহমেদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাস কারখানা লে-অফের সিদ্ধান্ত ফুয়াং ফুডের

ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে আসছে ২০টি আধুনিক ব্রডগেজ বগি, যুক্ত হচ্ছে যাত্রীবাহী রেলের বহরে

বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ১১০ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আগস্টের ২২ দিনেই ২১৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

চলতি আগস্টের প্রথম ২২ দিনে দেশে ২১৪ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৬ হাজার ৪২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।   রোববার (২৩ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি আগস্টের ২২ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫ সালের ১-২২ আগস্ট দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭১ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর চলতি বছরে একই সময়ে এসেছে ২১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় ২৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।   এদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ৫০০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪১৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের শুরু থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৮১ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।   ব্যাংকারদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হওয়ায় দেশে প্রবাসী আয় বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬

রাজস্ব আদায় কমায় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বাড়ছে সরকারের ঋণনির্ভরতা

দেশের বাজারে আরও এক দফা বাড়ল সোনার আকাশছোঁয়া দাম

ছবি: সংগৃহীত

এত স্বর্ণ কোথায় রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, যেসব তথ্য মিলল

0 Comments