জাতীয়

রিজার্ভ চুরি: ৩ সাবেক গভর্নরের নথি তলব দুদকের

মারিয়া রহমান জুলাই ০১, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির আলোচিত ঘটনার অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগটির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তিন সাবেক গভর্নরের কার্যক্রম ও তাদের ব্যক্তিগত নথি চেয়ে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


তিন সাবেক গভর্নর হলেন ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আবদুর রউফ তালুকদার।


বুধবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, রিজার্ভ চুরির অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ওইসব নথি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনাসহ ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়মের দুর্নীতি সম্পর্কিত নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।


রিজার্ভ চুরির নথিসহ ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সব ধরনের নীতিগত ও ঋণসংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। রিজার্ভ চুরির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টেকনিক্যাল দায়িত্বে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিক সম্পর্কিত নথিপত্রও পাঠাতে বলা হয়েছে। 


আকতারুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া সংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত কপি, এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন সংক্রান্ত নথিসহ আরও কিছু অনিয়মের নথি চাওয়া হয়েছে। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহা সম্পর্কিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপিও পাঠাতে বলেছে দুদক।


তিনি আরও বলেন, একক গ্রাহকের ঋণসীমা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত অর্থ ছাড়, এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে নগদ সহায়তা প্রদান ও বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার নামে বেআইনি ঋণ সুবিধাসহ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে দুদকের কাছে।


দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম, রণজিৎ কুমার কর্মকার ও উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ একটি টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ঢামেকে ডেঙ্গুতে এ বছর ৪২ মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে ভর্তি ১ হাজার ৪০৩

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৮৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ১৮১ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর ৫৭৯ জন চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে নিজ দায়িত্বে হাসপাতাল ছেড়েছেন।   হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ঢামেকে ডেঙ্গু রোগীর চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও জুলাই থেকে তা বাড়তে শুরু করে। সেপ্টেম্বরে এক মাসেই ১ হাজার ৪০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা এ বছরের মাসভিত্তিক সর্বোচ্চ।   অক্টোবরের প্রথম তিন দিনেও ডেঙ্গু নিয়ে ১২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ৬৬ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ৩১ জন নিজ দায়িত্বে হাসপাতাল ছেড়েছেন। একই সময়ে ৪০২ ও ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দুই ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।   ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত তিন ওয়ার্ড ঢামেকের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৪০২, ৫০২ ও ৭০২ নম্বর ওয়ার্ড নির্ধারিত রয়েছে। এসব ওয়ার্ডে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের মশারি সরবরাহ করলেও অনেক রোগী ও স্বজন তা ব্যবহার করছেন না বলে জানা গেছে। এতে রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনদেরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গাজীপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ১৮ বছর বয়সী ফারহান জানান, কয়েকদিন জ্বর থাকার পর স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় তাকে ঢামেকে পাঠানো হয়। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন। মশারি দেওয়া হলেও সেটি টানানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলে জানান তিনি। কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত আফরোজা আক্তার জানান, কয়েকদিন জ্বর থাকার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ঢামেকে ভর্তি হন। খাবার খেতে না পারা ও বমির সমস্যার পাশাপাশি তার প্লাটিলেট এক লাখের নিচে নেমে গিয়েছিল। বর্তমানে কিছুটা বেড়েছে। তবে হাসপাতালের ওয়াশরুম অপরিষ্কার বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মশারি ব্যবহার না করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় গরম লাগে। মশারি টানালে বাতাস চলাচলে সমস্যা হয়। নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে প্রত্যেককে মশারি দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই তা ব্যবহার করছেন না। এতে রোগীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদেরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   জুলাই থেকে দ্রুত বেড়েছে ভর্তি ঢামেকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি তুলনামূলক কম ছিল। জানুয়ারিতে ৪৫, ফেব্রুয়ারিতে ২৬, মার্চে ৩০, এপ্রিলে ৪১, মে মাসে ৭৫ এবং জুনে ১২২ জন রোগী ভর্তি হন। জুলাইয়ে ভর্তি হন ৩৭২ জন। আগস্টে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪৪ জনে। সেপ্টেম্বরে এক মাসে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪০৩ জন। অক্টোবরের প্রথম তিন দিনে ভর্তি হয়েছেন আরও ১২৭ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঢামেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৫ জন।   তিন বছরে ভর্তি প্রায় ১০ হাজার ৪০০ ঢামেকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ হাজার ৪০৯ জন। ২০২৫ সালে ভর্তি হন ৩ হাজার ৮৮৮ জন। আর চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫ জন। অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যে ঢামেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। ২০২৪ সালে আগস্ট থেকে রোগী বাড়তে শুরু করে এবং অক্টোবরে ৮৮২ জন ভর্তি হন। ২০২৫ সালে অক্টোবর ও নভেম্বরেও রোগীর চাপ বেশি ছিল। চলতি বছরে জুলাইয়ের পর থেকে আবারও হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।   চলতি বছরে সেপ্টেম্বরে মৃত্যু সর্বোচ্চ ২০২৬ সালে জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়। ফেব্রুয়ারিতে কোনো মৃত্যু হয়নি। মার্চে দুজন, এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে দুজন এবং জুনে একজন মারা যান। জুলাই ও আগস্টে ১০ জন করে এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম তিন দিনে মারা গেছেন আরও দুজন। ফলে চলতি বছর ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ঢামেকে ডেঙ্গুতে মোট ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তুলনায় ২০২৫ সালে ঢামেকে ডেঙ্গুতে ১১৮ জন এবং ২০২৪ সালে ৯৫ জন মারা গেছেন। দুই বছরে মোট মৃত্যু ছিল ২১৩ জন।   বর্তমানে হাসপাতালে ২৯৮ ডেঙ্গু রোগী ৩ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢামেকে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ২৯৮ জন। তাদের মধ্যে ১৪১ জন পুরুষ, ৮৯ জন নারী এবং ৬৮ জন শিশু। ২১–৩০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের হার বেশি চলতি বছর ঢামেকে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি। এই বয়সসীমায় ভর্তি হয়েছেন ৮৬২ জন। এর পর ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৬২২ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৫৬৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ১০ বছর পর্যন্ত ৩৭৫ জন, ৪১–৫০ বছর বয়সী ৩২৭ জন, ৫১–৬০ বছর বয়সী ২০৫ জন, ৬১–৭০ বছর বয়সী ৯৪ জন, ৭১–৮০ বছর বয়সী ২৭ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।   চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৪২ জনের মধ্যে ৪১–৫০ বছর বয়সী ৯ জন, ২১–৩০ বছর বয়সী ৭ জন এবং ৩১–৪০ বছর বয়সী ৬ জন। এছাড়া ১০ বছর পর্যন্ত ৫ জন, ১১–২০ বছর বয়সী ৫ জন, ৫১–৬০ বছর বয়সী ৫ জন, ৬১–৭০ বছর বয়সী ৪ জন এবং ৭১–৮০ বছর বয়সী একজন মারা গেছেন। ৮০ বছরের বেশি বয়সী কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য নেই। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডেঙ্গু-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আশরাফুল আলমকে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপপরিচালক ডা. আশরাফুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চার প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের অভিযান, মদ-জাফরানসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ

ছবি: সংগৃহীত

সোনারগাঁয়ে ছাত্রদলের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিতে দেশজুড়ে অভিযান

ছবি: সংগৃহীত
শীতলক্ষ্যায় নৌকা বাইচ, কাঞ্চনে উৎসবের আমেজ

শীতলক্ষ্যা নদীতে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন এলাকায়। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে কাঞ্চন পৌর এলাকায় পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।   আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন আকারের প্রায় ২৫টি নৌকা অংশ নেয়। শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঞ্চন বাজার ঘাট পর্যন্ত নদীর নির্ধারিত অংশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু।   তিনি বলেন, নৌকা বাইচ দেশের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বিনোদনের সুযোগ তৈরি হয়। ভবিষ্যতে কাঞ্চনবাসীর অংশগ্রহণে এ ধরনের আয়োজন আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।   প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ীদের মোটরসাইকেল, ফ্রিজ ও টেলিভিশারসহ বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়।   আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করাই নৌকা বাইচ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।   নৌকা বাইচ উপলক্ষে আয়োজক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ফাইল ছবি

দেশের উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য : তথ্যমন্ত্রী

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। সংগৃহীত ছবি

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদন

শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : ত্রাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বাংলাদেশকে উৎপাদক হতে হবে: বিজ্ঞানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল ভোক্তা হিসেবে না রেখে নিজস্ব উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।   তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল সেবাসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।   শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।   ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞান ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও গবেষণায় সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।   তরুণ উদ্ভাবকদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণদের মধ্যে উদ্ভাবনী সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই। বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখে তারা নিজেদের মেধা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সমাধান তৈরি করছেন।   তিনি বলেন, দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, নিজস্ব উদ্ভাবন এবং কার্যকর প্রযুক্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।   সম্প্রতি চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব এআই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ, জ্ঞান বিনিময়, সাশ্রয়ী সংযোগ ও ডিজিটাল জনকল্যাণমূলক প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, তরুণ উদ্ভাবকদের বিভিন্ন উদ্যোগেও এ ধরনের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হচ্ছে।   মন্ত্রী আরও বলেন, পুরস্কার পাওয়া উদ্ভাবনগুলো দেশের জন্য গর্বের বিষয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন সহজ করার পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে এসব উদ্যোগে।   তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একটি উদ্ভাবনকে সফল বাণিজ্যিক পণ্য এবং পরবর্তী সময়ে শিল্পে রূপ দিতে গবেষণা, বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকার উদ্ভাবকদের পাশে থাকবে।   ৪৪ উদ্ভাবন পেল স্বীকৃতি এবারের বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডসে বিভিন্ন খাত থেকে মোট ৩৫৫টি উদ্ভাবনী প্রকল্প জমা পড়ে। দুই দিনের মূল্যায়ন শেষে ৪৪টি প্রকল্পকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শিল্প, শিক্ষা, ব্যাংকিং, সরকারি প্রশাসন ও স্টার্টআপ খাতের ৪০ জন বিচারক প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করেন। এর মধ্যে ৯টি চ্যাম্পিয়ন, ১০টি উইনার এবং ২৫টি মেরিট পুরস্কার দেওয়া হয়।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইসিটি অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলমাস কবীর। আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী এবং বিআইআইএনের নির্বাহী পরিচালক রুবাবা দ্দৌলা মতিন।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের কাছে এখনো অস্ত্র রয়েছে’

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকদের পেনশনের টাকা লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ইশরাকের

ছবি: সংগৃহীত

আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

0 Comments