প্রবাসী

রাশিয়ায় চাকরির আশায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে গোপালগঞ্জের তিন যুবক

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নির্মাণ খাতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গোপালগঞ্জের তিন যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় তাদের একজনের বাবা ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সি জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন জানিয়েছেন।

তবে পুলিশ অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে না নিয়ে আগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটির) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছে।

 

অন্যদিকে বিএমইটি বলছে, মামলার জন্য তাদের সংশ্লিষ্টতা লাগবে না। পুলিশ মামলা না নেওয়ার যে কারণ দেখিয়েছে, তা ‘অযৌক্তিক’।

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে জীবন নিয়ে চরম সংশয়ের মধ্যে পড়া এ যুবকরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. জামিল শেখের ছেলে পলাশ শেখ, সুতিয়ারকুল গ্রামের নুরুল ইসলাম ফকিরের ছেলে রনি ফকির ও বলাকৈড় গ্রামের কবির মোল্লার ছেলে সৌরভ মোল্লা

 

পলাশ শেখের বাবা মো. জামিল শেখের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকার জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান গোপালগঞ্জের তিন যুবককে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে রাশিয়ায় কনস্ট্রাকশন সাইটে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। পরে প্রত্যেকের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা করে আদায় করেন।

গত ৭ মে গোপালগঞ্জের তিনজনসহ মোট ৩০ জন বাংলাদেশিকে একটি ফ্লাইটে রাশিয়ায় পাঠান হয়। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতারণা করে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে ‘বিক্রি করে’ দেওয়া হয় বলে জামিল শেখের অভিযোগ।

পলাশরা ‘খুব কষ্টে আছে’ জানিয়ে অভিযোগে বলা হয়, তারা রুশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। তাদের দিয়ে যুদ্ধ করানো হবে বলে জানিয়ে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, সামরিক পোশাকের মাপ নেওয়া হয়েছে। তাদের বুট জুতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তাদের মোবাইলও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

পলাশ শেখের ফুপাতো ভাই আবু সালেহ বলেন, “পলাশকে প্রো টেকনোলজি কোম্পানিতে চাকরির কথা বলে রাশিয়ান আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে এক বছরের চুক্তিতে বিক্রি করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

তার অভিযোগ, এ বিষয়ে জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের লোকজন ‘আগে থেকেই জানত’।

সুতিয়ারকুল গ্রামের রনি ফকিরের স্ত্রী তৃষা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। দালালের মাধ্যমে তার জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।

“তারা তাকে রাশিয়া নিয়ে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনে নির্মাণকাজের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।”

তৃষা বলেন, ৭ লাখ টাকা পরিশোধের পর ৭ মে একটি ফ্লাইটে তার স্বামীকে রাশিয়া নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়।

মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য তাদের হাতে মোবাইল দেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ পেয়ে এসএমএস ও অডিও বার্তায় রনি জানিয়েছেন, তাদের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে, চুল কেটে ফেলা হয়েছে।

“ওদের বন্দুকের মুখে জিম্মি করে সীমান্তবর্তী ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে।”

গত সোমবার শেষবার রনির সঙ্গে যোগাযোগ হয় জানিয়ে তৃষা বলেন, রনি রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি একটি সেনা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন। সেখানে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। জীবন নিয়ে সংশয় ও আতংকের মধ্যে আছেন তিনি।

বলাকৈড় গ্রামের সৌরভ মোল্লার চাচি লিমা আক্তার সুখী বলেন, ঢাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা দিয়ে সৌরভকে বিদেশে পাঠানো হয়। ৭ মে সকাল ১১টায় ছিল তার ফ্লাইট।

১৭ মে সৌরভের সঙ্গে পরিবারের কথা হয়। পরে ভিডিও কলে তাকে ‘সামরিক পরিবেশে’ দেখা গেছে বলে তার চাচির ভাষ্য।

লিমা আক্তার বলেন, সৌরভের মাকে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়নি, কারণ তিনি অসুস্থ। সৌরভের বাবা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। তাদের একমাত্র দাবি, সন্তানকে যেন নিরাপদ ও সুস্থ অবস্থায় দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমরা শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

“একই সঙ্গে সবাইকে এ ধরনের ঘটনায় সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে এই অভিজ্ঞতা থেকে অন্যরা সতর্ক হতে পারে।”

এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

পুলিশ যা বলছে

রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন বলছেন, মঙ্গলবার জামিল শেখের করা অভিযোগটি তারা নথিভুক্ত করেছেন, এখনো মামলা হিসেবে গ্রহণ করেননি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “তারা এজেন্সির মাধ্যমে গেলেও বিএমইটির (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) মাধ্যমে বৈধ শ্রমিক হিসেবেই গেছেন। যাওয়ার পরে সেখানে কী হয়েছ, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। তাই আগে বিএমইটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাতে হবে।

“অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকে, তাহলে বিএমইটিতে অভিযোগ দায়ের করে সেই কপি আমাদের কাছে আনলে আমরা মামলা নেব।”

ওসি বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা শুধু অভিযোগটি থানায় নথিভুক্ত করে রেখেছি। এখনো কোনো মামলা দায়ের করিনি, কারণ বিষয়টি মূলত বিএমইটির আওতাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে বিএমইটি কাজ করবে।”

এছাড়া ওই তিন যুবককে উদ্ধার করতে হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে জানিয়ে ওসি বলেন, “যেহেতু ভুক্তভোগীরা বিপদে আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেজন্য তাদেরকে আগে সেইফ করা প্রয়োজন। সেজন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও সহায়তার প্রয়োজন হবে। আমরা পরিবারের লোকজনকে সেখানেও আবেদন করতে বলেছি।”

মামলা না নিলেও অভিযোগ পেয়ে পুলিশ খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে বলে জানান ওসি মোহাম্মদ সোহরাব আল হোসাইন।

তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়ে সেই এজেন্সির বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি, এজেন্সির লোকজন পলাতক রয়েছেন।”

বিএমইটি যা বলছে

পুলিশ মামলা না নিয়ে বিষয়টি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দিকে ঠেললেও বিএমইটির কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা।

সরকারি এ দপ্তরের বহির্গমন শাখার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “না। মামলার জন্য আমাদের সংশ্লিষ্টতা লাগবে না। ধরেন আমাদের কাছে ভিসা যেটা দিছে, ভিসার সাথে একটা চুক্তিপত্র দিছে, আমরা তো এইটা দেখে দিয়ে দিছি (ছাড়পত্র)।

“এখন সে যদি ওই জায়গায় নিয়ে তাকে অন্য কিছুতে যুদ্ধ বা খারাপ কাজে… ফোর্সড লেবার যেটা করে, এইটা যদি হয়, তাইলে তো করা ঠিক না।”

তিনি বলেন, “এখন কথা হচ্ছে, এই মামলাটা কোন আইনে হবে? ধরেন এই যে যদি যুদ্ধে জড়িত করে থাকে, তাইলে মানব পাচার মামলাও হতে পারে।

“কিন্তু এমনিতে আমাদের কাছে আসলে, যেহেতু সে বৈধভাবে বিদেশ গেছে, আমরা এটা মানব পাচার বলব না। কিন্তু মানব পাচারের আইনে আবার এই ফোর্সড লেবার, যেটা নেওয়ার পরে, এইটা আবার মানব পাচারের ভিতরে পড়ে।

তিনি বলেন, “মামলা নেবে না–এটা তো যৌক্তিক কোন বিষয় হতে পারে না।”

এই কর্মকর্তা বলেন, “এখানে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়েছে, এটা ঠিক আছে। ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে তারপরে কী করছে? বিদেশে কী করছে সেটা আসলে এখানে বসে তদারকি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না, পুলিশেরও সম্ভব না। কারোরই সম্ভব না।”

তিনি বলেন, “যে লোকটা নিয়েছে সেও আমাদের দেশের লোক, যে গেছে সেও আমাদের দেশের লোক। যদি তার ট্রেন্ডই এই ধরনের থাকে যে, এই ধরনের জায়গায় পাঠিয়ে ভুয়া চুক্তিতে আমাদের লোকেদেরকে বিপদে ফেলে, তাইলে মানবপাচার (মামলা) দেওয়াই ভালো।

“আবার আপনি খুব ভালো নিয়তেই পাঠাইলেন, নেওয়ার পর যে এমপ্লয়ার, সে যদি তাকে ওই কাজে জোরপূর্বক নিয়োগ দেয়, তাইলে আমাদের দেশের রিক্রুটিং এজেন্সির বা সরকারের কোনো কিছু করার আছে কিনা এইটাও একটু ভাবনার বিষয়।”

এ বিষয়ে জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাকই মনে হয়েছিল। পরে জানতে পেরেছি, সেখানে গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এক ধরনের কাজের কথা বলে অন্য কাজে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”

সরকারিভাবেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে, ইনশাল্লাহ। দুদিনের মধ্যে অন্তত ৮ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে প্রায় ৩০ জন ওই ব্যাচে গিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। দূতাবাস চেষ্টা করছে তাদের উপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করে দিতে।”

যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
৭০০ কোটি টাকা মেরে পালিয়ে দেশে কাতার প্রবাসী

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কোম্পানির অন্তত ৭০০ কোটি টাকা মেরে দিয়ে কাতার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন এক ব্যবসায়ী। ইকবাল তামজু মিয়া ওরফে নাজিম মোল্লা নামের ওই ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশের উদ্দেশে কাতার ত্যাগ করেন। এরপর থেকে ওই দেশের ব্যবসায়ী ও পাওনাদাররা ইকবালের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না।     তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সেখানকার সবকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ঝুলছে তালা। চট্টগ্রাম নগরীর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় তার বাসভবনে গিয়েও কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগ করতে না পেরে পাওনাদাররা ধরনা দিচ্ছেন কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কাতারেও ফৌজদারি মামলা করেছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী।   এদিকে ইকবালের এমন প্রতারণায় কাতারে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিপাকে পড়েছেন। সেখানে দেশের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হয়েছে, তেমনই ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ভিসা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।     জানা যায়, ইকবাল কাতারে ৩০-৩৫ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। সানোয়ারা ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি বাংলাদেশ থেকে নানা ধরনের সবজি পণ্য নিয়ে সুপারশপে সরবরাহ করতেন। বাংলাদেশি, পাকিস্তানিসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীর লেনদেনে তার কাছে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা আটকে যায়। এ অবস্থায় ২৮ ডিসেম্বর তিনি গোপনে কাতার ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন এবং পাওনাদারদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, যুগান্তরের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, স্যুভেনিয়র ট্রেডিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ইকবালের কাছে পাওনা রয়েছে ৪২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৬৬ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটি ৫৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪ টাকা)। আবু জাহের ভেজিটেবল অ্যান্ড ফ্রুটস ট্রেডিং নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের পাওনা ১ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। বেস্ট কোয়ালিটি ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল ট্রেডিং পাবে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৬০৪ টাকা। ১০ মার্চ স্যুভেনিয়র ট্রেডিং-এর পক্ষে সাঈদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে ২ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৮০০ রিয়াল পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কাতারের আদালতে ইকবালের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইকবালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদরদপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে কোনো নির্দেশনা এখনো চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) আসেনি। ইকবাল কোথায় আছেন, সেই খোঁজও নেই পুলিশের কাছে।   চট্টগ্রামের স্নেহা এন্টারপ্রাইজ ও আলফালাহ ট্রেডিং নামে দুটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পাকিস্তানি কোম্পানি স্যুভেনিয়র ট্রেডিং-এর মাধ্যমে ইকবালের প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৪৬৮ টাকার পণ্য (সবজি) পাঠায়। এ টাকাও আটকে গেছে।   স্নেহা এন্টারপ্রাইজের মালিক শাহ আলম যুগান্তরকে বলেন, আমি আড়াই কোটি টাকার পণ্য পাঠিয়েছি ইকবালের প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু এক কানাকড়িও না দিয়ে ওই ব্যবসায়ী কাতার থেকে পালিয়ে এসেছেন। ইকবালের এক ভাই বলেছেন, তিনি বাসায় থাকেন না। কোথায় আছেন, তাও বলতে পারবেন না।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে ১০০ কোটি টাকার লটারি জিতলেন প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে কর্মস্থলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে অগ্রগতি, সম্মতি দিল মস্কো

ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীকে বাংলাদেশিকে মারধরের অভিযোগে ২ যুবক রিমান্ডে

মালয়েশিয়ায় এক বাংলাদেশি মুদি দোকান কর্মচারীকে মারধর ও দোকানে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় দুই যুবককে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দেশটির পুলিশ।   কুয়ালা তেরেঙ্গানু ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২১ ও ২৩ বছর বয়সী ওই দুই সন্দেহভাজনকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাদের আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কামপুং মাক কেমাস এলাকার একটি মুদি দোকানে ওই বাংলাদেশি কর্মী দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় তিনজন স্থানীয় যুবক দোকানে এসে তার পরিচয় ও পাসপোর্ট দেখতে চান।   ভুক্তভোগী কর্মী পাসপোর্ট দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে এক যুবক তাকে চড় মারেন এবং পরে রাবারের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এরপর অন্যরা যোগ দিয়ে তাকে মারধর করেন এবং দোকানের ভেতরে ভাঙচুর চালান।   হামলায় ওই বাংলাদেশি কর্মী মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত পান। তার কপালে ফোলা জখম এবং ডান হাতে কালশিটে দাগ দেখা গেছে বলে জানা গেছে।   ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৪ ও ৪২৭ ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান জুন ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী কর্মীদের মেডিকেল নিয়ে সৌদির কড়া আইন

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের সেবায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ হাইকমিশন

ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে আহত প্রবাসী বাংলাদেশির পাশে দূতাবাস

ছবি : সংগৃহীত
লিবিয়ায় অপহরণের পর বাংলাদেশি শ্রমিককে হত্যা, আড়াই মাস পর এলো মৃত্যুর খবর

লিবিয়ায় অপহৃত হওয়ার আড়াই মাস পর নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেনকে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাইক্রোবাসে করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিহত আলমগীরের ভাই লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান বলেন, আলমগীরকে অপহরণের পর তাকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় আলমগীরসহ আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ওই আস্তানা থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি মুক্তিপণ দিয়ে সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আলমগীরের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। সোমবার দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মোবাইলে থাকা ছবি দেখে আলমগীরের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো ওনার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী আমাদের কাছে মুক্তিপণও চায়নি। হঠাৎ ওনার মৃত্যুর খবর পাই। স্বামীর মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্ত্রী শাহিনা আক্তার ও শোকসন্তপ্ত পরিবার।

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: দ্রুত রায় কার্যকরের দাবিতে লন্ডনে প্রবাসীদের প্রতিবাদ সমাবেশ

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে আরাফাত রহমান কোকো টি-১৬ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতল ঢাকা ফ্রুতাস

0 Comments