ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে হওয়া আলোচনার অংশ হিসেবে নিহত সেনাদের মৃতদেহ নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাশিয়া ও ইউক্রেন তাদের সেনাদের মৃতদেহ এক অপরকে ফিরিয়ে দিয়েছে, যা চলতি বছরে দুই যুদ্ধরত দেশের মধ্যে এ ধরনের প্রথম বিনিময়। খবর জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেন ৩৮ রাশিয়ান সেনার মৃতদেহ গ্রহণ করেছে। ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির সদস্য শামসাইল সারালিয়েভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া ইউক্রেনের সদর দপ্তর যুদ্ধবন্দিদের চিকিৎসার জন্য বিনিময় কার্যক্রমও নিশ্চিত করেছে। তারা টেলিগ্রামে জানায়, ‘আজ প্রত্যাবাসনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যার ফলে এক হাজার মৃতদেহ ইউক্রেনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী তদন্তকারীরা ইউক্রেনীয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় প্রত্যাবাসিত মৃতদের শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
তবে বিনিময়ের স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর থেকে নিহত সেনাদের ফেরত পাঠানো এবং যুদ্ধবন্দিদের বিনিময় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সহযোগিতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের মধ্যে অন্যতম। এর আগে ২০২৫ সালে মস্কো ও কিয়েভ মোট ১৪ বার মৃতদেহ বিনিময় করেছে, যার মধ্যে ১৪,৪৮০টি মৃতদেহ ইউক্রেনে এবং ৩৯১টি মৃতদেহ রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার দিনে অন্তত ২১ হাজার শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। একইসঙ্গে লাখো শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (০২ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধের এক হাজারতম দিনে পৌঁছেও গাজার শিশুরা শান্তির স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু তারা ঘরবাড়ি, বিদ্যালয় এবং নিরাপত্তাবোধ হারিয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের। সেভ দ্য চিলড্রেনের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক আহমাদ আহেন্দাউই বলেন, ‘গত এক হাজার দিনের প্রতিটি দিনেই বিশ্ব গাজার ১০ লাখ শিশুকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। শিশুদের হত্যা ও পঙ্গুত্ব ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ সংস্থাটির দাবি, এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ হাজার শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বহু মরদেহ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সংস্থাটি জাতিসংঘের একটি সাম্প্রতিক তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেরও উল্লেখ করে। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। সেভ দ্য চিলড্রেন অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর, কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পৃথকভাবে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম বড় কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগ। খবর আল-জাজিরা। বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ও প্রতিনিধিদল এই পরোক্ষ আলোচনায় মার্কিন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বা স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অংশ নেননি; ইরানের কারিগরি দলের প্রধান ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি তেহরানের পক্ষে আলোচনা পরিচালনা করেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, বৈঠকে মূল ফোকাস ছিল হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবানন সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ তহবিল মুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পেয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি জানান, দোহায় দুটি পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকে আমেরিকার ‘চুক্তি লঙ্ঘনের’ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় এবং যেকোনও বিরোধ তাৎক্ষণিক মেটাতে দুই পক্ষ একটি স্থায়ী যোগাযোগ চ্যানেল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। দ্বিতীয় বৈঠকটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে অবরুদ্ধ থাকা ইরানের ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) ডলার তহবিল অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার এই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কাতার জানিয়েছে, প্রথম দিনের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আনুষ্ঠানিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শোক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন (ইউএভি) হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আসন্ন একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বৃহস্পতিবার ভোররাতে শহরজুড়ে এই হামলা চালানো হয়। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তাকাচেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে প্রায় তিন ডজন স্থানে হামলা হয়েছে, যাতে আটজন নিহত হয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকোর তথ্যমতে, হামলায় আরও অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছেন। একটি ৯ তলা আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টের বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং সেখানে মানুষ আটকা পড়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন জেলেনস্কি। ডাবলিনে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘ব্যাপক রাশিয়ান হামলার’ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। নাগরিকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার ও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অর্থবহ আলোচনার জন্য প্রস্তুতির কথা জানানো হলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। পুতিন ইউক্রেন ও সমগ্র ইউরোপের বিরুদ্ধে কেবল আরও আগ্রাসনই দেখতে পান বলে মন্তব্য করেন তিনি। হামলার সময় কিয়েভের বাসিন্দারা স্লিপিং ম্যাট নিয়ে ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। এদিকে ইউক্রেনে এই ব্যাপক হামলার মুখে ন্যাটো ও ইইউ সদস্য প্রতিবেশী পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে, যদিও পরে কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটায় তা ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সূত্র: আল জাজিরা