অর্থনীতি

রপ্তানি আয়ের প্রণোদনায় বাড়ছে করের চাপ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানোর জন্য এর বিপরীতে সরকার যে প্রণোদনা দিয়ে থাকে তাতে উৎসে কর কমানো হলেও এখন সাড়ে ২৭ শতাংশ করের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।

 

নতুন অর্থবছরের বাজেটে আয়কর আইনে ন্যূনতম করের বিধান থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব আসায় এ ধরনের করের বোঝা চাপার ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা।

 

গেল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

অর্থবিল ২০২৬ এ আয়কর আইনের ১৬৩ ধারায় সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, এটি গৃহীত হলে ন্যূনতম করের ধারাটি উঠে যাবে।

 

এর ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে শুরু করে রপ্তানি পণ্যের প্রণোদনা পর্যন্ত সব আয়ই, মোট আয় হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

 

সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয় ও প্রথম করের ধাপ ১০ শতাংশ হওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষ কিছুটা সুফল পাবেন, কিন্তু রপ্তানি প্রণোদনায় এমন কোনো করহার বা ধাপ না থাকায় পুরো আয়ের ওপরই রপ্তানিকারককে সাড়ে ২৭ শতাংশ কর দিতে হবে।

 

বর্তমানে রপ্তানি খাতের প্রণোদনায় উৎসে কর একজন করদাতার ন্যূনতম কর হিসেবে চূড়ান্ত কর বা করদায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

আইন অনুযায়ী, রপ্তানি প্রণোদনার বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার বিধান রয়েছে; এটি কাটার পর করদাতাকে এর জন্য আর কর দিতে হতো না। এটিই আইনের ভাষায় ন্যূনতম কর হিসেবে চূড়ান্ত কর বা করদায়।

 

আগামী করবর্ষের জন্য উৎসে কর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ শতাংশ। অর্ধেক কমে যাওয়ার বিষয়টি দৃশ্যমান হলেও আয়করের নতুন বিধান অনুযায়ী উৎসে কর অগ্রিম আয়কর হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

 

অর্থাৎ রপ্তানিকারকের প্রণোদনা আয়ের ওপর যে পরিমাণ কর প্রযোজ্য তার থেকে ৫ শতাংশ বাদ দেওয়ার পরে বাকি কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে যাচ্ছে।

 

আয়কর আইন অনুযায়ী, এটি রপ্তানি আয় নয় বরং রপ্তানির জন্য প্রাপ্ত প্রণোদনা থেকে আসা আয়; যেখানে সাধারণ আয়ের হিসাবে সাড়ে ২৭ শতাংশ করপোরেট করহার প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বর্তমানে একজন রপ্তানিকারক রপ্তানি আয়ের বিপরীতে এক কোটি টাকা প্রণোদনা পেলে সেখানে ১০ লাখ টাকা উৎসে কর ছিল, অর্থাৎ ১০ শতাংশ কর প্রযোজ্য। এটিই তার ন্যূনতম কর।

 

নতুন বিধান হলে, এক কোটি টাকার রপ্তানি প্রণোদনার বিপরীতে উৎসে কেটে রাখ ৫ লাখ টাকা হবে অগ্রিম আয়কর; বাকি সাড়ে ২২ লাখ টাকা দিতে হবে বাড়তি কর। অর্থাৎ তার ওপর সাড়ে ২৭ শতাংশ করভার পড়ল।

 

এ বিষয়ে এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস এর পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, “দেখুন, এমনিতেই গার্মেন্টসের অবস্থা খারাপ। অনেকদিন টানা কমে যাচ্ছে রপ্তানি। এরমধ্যে রপ্তানিকারকদের এই মুহূর্তে দাবি ছিল উৎসে করটা কমিয়ে দেওয়া।

 

তো উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু দিনশেষে আপনি যখন চূড়ান্ত কর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, এটাকে ‘স্ট্যান্ডার্ড রেটে’ নিয়ে আসবেন, তখন তাদের ওপরও বোঝাটা থাকবেই। অর্থাৎ আপনি রপ্তানির জন্য একটা প্রণোদনা পাচ্ছেন, তার ওপরে এখন সাড়ে ২৭ শতাংশ কর দিতে হবে।

 

সাড়ে ২৭ শতাংশ কেন কর হবে, এ প্রশ্নে কর নীতির এই বিশ্লেষক বলেন, “রপ্তানিকারকদের খাত হিসেবে বলা হয়েছে তাদের রপ্তানি আয়ের ওপরে ১০ শতাংশ বা ১২ শতাংশ করপোরেট কর। যেহেতু সেটা রপ্তানি আয়।

 

কিন্তু এটা তো আসলে রপ্তানি আয় না। এটা কর প্রণোদনা। আয়কর আইন অনুযায়ী এটার ওপর ‘স্ট্যান্ডার্ট রেটে’ কর হবে। সুতরাং এটার প্রভাব কিন্তু অনেক। প্রভাব অনেক বেশি হয়ে যাবে।

 

ন্যূনতম করের ‘রেজিম’ থেকে বেরিয়ে আসার দাবি থাকলেও কোনো খাত বা ব্যক্তিকে এর থেকে বের করে আনার আগে ফল কী হবে তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

 

এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এটা উচিত ছিল- এটার ‘ইমপেক্ট স্টাডি’ করা। ওই শিল্পের লোকজনের সাথে আলোচনা করা যে এটা তাদের শিল্পকে কী পরিমাণ ‘এফেক্ট’ করবে।

 

একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত চলতি অর্থবছরের আয়ের ওপর করায় রপ্তানিকারকদের ওপর ‘রেট্রোস্পেক্টিভ’ প্রভাব পড়বে বলেও তিনি তুলে ধরেন।

 

এই বিশ্লেষক বলেন, যারা বছরান্তে হিসাব করে থাকে তারা ২০২৫ এর শেষেই তাদের প্রথম ছয়মাসের হিসাব-নিকাশ শেষ করে ফেলেছে; আর যারা জুনে তাদের ব্যবসার হিসাব করে, তাদের হাতে রয়েছে আর মাত্র পনের দিন। এ সময় সরকারের এ সিদ্ধান্ত তাদের ওপর নেতিবাচক চাপ তৈরি করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
৩০ ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষ তলব

একসঙ্গে ৩০টির বেশি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও এনপিএসবি-সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল লেনদেন সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সুইচিংসহ কার্ড-সংশ্লিষ্ট সব সেবা দ্রুত পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে ৩০টির বেশি ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন সেবা বিঘ্নিত হয়। এতে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, গ্রাহকদের স্বার্থ ও আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কিউ-ক্যাশ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতি দ্রুত সুইচিংসহ কার্ড-সংশ্লিষ্ট সব সেবা পুনরায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   তবে এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রোভাইডার এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক লেনদেন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত BACPS, BEFTN ও RTGS-সহ দেশের অন্যান্য পরিশোধ ব্যবস্থার কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিকল্প পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বন্ডবাজারে অস্থিরতা ও নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের বাজার

সংগৃহীত ছবি

চলতি মাসের প্রথম ৫ দিনেই ৫১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি : অর্থমন্ত্রী

‘দিন যাচ্ছে আর দাম বাড়ছে, হিসাব মেলানোই কষ্ট’: রাজধানীতে সবজির বাজারে হাহাকার

  শীতের আগমনী বার্তা মিললেও রাজধানীর বাজারে এর কোনও প্রভাব পড়েনি সবজির দামে। অধিকাংশ সবজি ৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন করে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে। মাছ-মাংসের দামও রয়েছে চড়া। ফলে বাড়তি বাজার খরচে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।    সবজির বাজার   আজকের বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা,গোল বেগুন ১২০, শিম ২০০ টাকা, দেশি শসা ৮০-৯০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কাকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ৯০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা। প্রতি পিছ লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।    শীতের আগমনী উপলক্ষে বাজারের এসেছে জলপাই এতেও স্বস্তি নেই। বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। কাচা মরিচে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।    বাজার করতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরীয়ত উল্লাহ বলেন, ‘কী বলবো ভাই, দিন যাচ্ছে আর সব সবজি, মাছ মাংসের দাম বাড়ছে। এখন প্রতি মাসের হিসাব মেলানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে শুধু টিউশনি করিয়ে সব সামলে নিতাম কিন্তু এখন বাড়ি থেকেও টাকা আনা লাগে। এইভাবে আমাদের জন্য কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’     সবজি বিক্রেতা আকাশ রহমান বলেন, ‘কী বলবো মামা, আমরা তো চাই কম দামে সবকিছু বিক্রি করতে, আমাদেরও তো বাঁচা লাগবে। যেভাবে কিনি সেভাবেই বিক্রি করি। সবকিছুর দাম বাড়তি। সামনে শীত আসছে হয়তো একটু কমতে পারে সবকিছুর দাম।’     মুরগি আগের দামেই, ডিমের দাম ১০ টাকা বাড়তি    আজকে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, কক মুরগি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২৫০ টাকা কেজি।    প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১৬০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামে বেড়েছে ডজনে ১০ টাকা। প্রতি হালি নিলে গুনতে হচ্ছে ৫৫ টাকা।    ডিম বিক্রেতা আদনান মিয়া বলেন, ‘আমরা জানি না ডিমের দাম কেন বেশি। বেশি দামে কিনি, বেশি দামেই বিক্রি করি। সবকিছুর দাম বাড়ছে তাই হয়তো ডিমের দাম বাড়ছে।’    মাছেও স্বস্তি নেই    এছাড়া আজকের বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী, ইলিশ ১২০০-২৭০০ টাকা, রুই মাছ ৪০০- ৬০০ টাকা, কাতল মাছ ৩৫০-৬৫০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০-১৮০০টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, কৈ মাছ ২৬০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-১২০০টাকা, টেংরা মাছ ৬০০-৮০০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ২২০ -২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।    মাছ কিনতে আসা শেখ রাসেল বলেন, ‘আগে ব্যাগ ভরে মাছ কিনতাম, এখন মাছ কিনতে গেলে হিসেব করে কেনা লাগে। শুধু মাছই নয় সবকিছুর দাম বাড়তি। এখন হিসেব করে বাজার কারতে হায়। কিন্তু আগে কোনও হিসাব ছাড়াই বাজার করতাম।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৬, ২০২৬

মিরসরাইয়ে ১৯.৬৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে র‌্যানকন লুব্রিকেন্ট

বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবে নতুন জেবিসিসিআই বোর্ড

ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

সংগৃহীত ছবি
১৯ ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা ৬ দিন সাময়িক বন্ধ

সিস্টেম আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দেশের ১৯টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএমসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রায় ছয় দিন বন্ধ থাকবে। ফলে এ সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা উত্তোলন, কার্ডে কেনাকাটা ও অনলাইন লেনদেনে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।     ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন কার্যক্রমের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।       এ সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করা যাবে না। একইভাবে পিওএস মেশিনে কার্ড দিয়ে কেনাকাটা, কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন এবং এনপিএসবি ও ই-কমার্সভিত্তিক কিছু লেনদেনও বন্ধ থাকবে।       সেবা বন্ধ থাকা ব্যাংকগুলো হলো—ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক।     ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক-সংশ্লিষ্ট সেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটবে। এর ফলে কার্ড ও এটিএমের পাশাপাশি পিওএস, কিউআর, এনপিএসবি এবং ই-কমার্সভিত্তিক লেনদেনেও প্রভাব পড়বে।       তবে ব্যাংকের অন্যান্য শাখাভিত্তিক সেবা এই ঘোষণার আওতায় রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পৃথক নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।       ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে এসব সেবা স্বাভাবিক হবে।       সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় লেনদেন আগেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে আসছে ১৪ ডাচ কোম্পানি

ছবি: সংগৃহীত

জনতা ব্যাংকের ইউএই ঋণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন, ৩০৪ কোটি টাকার হিসাব ঘিরে ভিন্ন বক্তব্য

ছবি: সংগৃহীত

সুতা আমদানিতে জটিলতা, বিপাকে পোশাক কারখানার মালিকেরা

0 Comments