অন্যান্য

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি, হাবিবসহ ৩ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি ও আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন এবং আরেকজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

রোববার (২৮ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১'র চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চানখাঁরপুলের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায়ও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। তারা তিনজনই পলাতক।

 

এ ছাড়া পলাতক রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং গ্রেপ্তার রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

 

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি পঞ্চম মামলার রায়। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়।

 

অভিযোগগুলো হলো- ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা; একই দিন বনশ্রী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করে গুরুতর আহত করা ও একইদিন বিকেলে বনশ্রী এলাকায় সাত বছর বয়সী বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে গুলি। সেই গুলিতেই দাদি মায়া ইসলামকে হত্যা।

 

গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মামলার পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২৮ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

 

চলতি বছরের ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর রায়টি পিছিয়ে যায়।

 

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই বছরের ৭ আগস্ট ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

 

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চালানো পুলিশের গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে থাকা একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। ওই সময় পুলিশও তার পিছু পিছু যায়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে জীবন বাঁচলেও গুরুতর আহত হন তিনি।

 

একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ হন মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসাও। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও এখনও কথা বলতে পারছে না শিশুটি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
স্ত্রী দাবি করা নারীসহ গাজী নজরুল ইসলাম ও উম্মে সালমা। ছবি : সংগৃহীত
দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি চাকরির সুপারিশ? ভাইরাল ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডাকসু নেত্রী

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিতর্কে এবার প্রশ্ন ছুড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ক্যাফেটেরিয়া ও রিডিং রুম সম্পাদক উম্মে সালমা।   মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।   ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে উম্মে সালমা এমনভাবে প্রশ্ন সাজিয়েছেন যে, পাঠকদের অনেকেই সেটিকে ‘ওপেন বুক পরীক্ষা’ বলেও মন্তব্য করছেন।   পোস্টজুড়ে তিনি ভিডিওর সত্যতা নিয়ে রায় না দিয়ে বরং একের পর এক জবাবদিহির প্রশ্ন তুলেছেন।   উম্মে সালমার প্রথম প্রশ্ন, যদি ভাইরাল ভিডিওতে থাকা তরুণী সত্যিই এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী হন, তবে বিয়ের পরপরই তার চাকরির জন্য সুপারিশের প্রয়োজন পড়ল কেন? আর যদি চাকরির প্রতিশ্রুতি সম্পর্ক তৈরির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এরপর তিনি তরুণীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, যদি ওই তরুণী সদ্য এসএসসি পরীক্ষার্থী হন, তাহলে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা সরকারি নথির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া উচিত। অন্যথায় বিষয়টি শুধু সামাজিক বিতর্ক নয়, আইনি প্রশ্নও তৈরি করতে পারে।   রাজনৈতিক দিক থেকেও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসু নেত্রী। তার দাবি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলে গুরুতর অভিযোগ উঠলে অন্তত সাংগঠনিক তদন্ত বা সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু এখানে দল যদি শুরু থেকেই নেতার পক্ষে অবস্থান নেয়, তাহলে দলের নৈতিক অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়বে।   পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির কোনো নেতার ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হলে তা নিয়ে তুলনামূলক কম আলোচনা হয়, কারণ বিএনপি নিজেদের রাজনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ধর্মীয় নৈতিকতার দাবি করে না। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী নৈতিকতা ও চরিত্রকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে তাদের নেতাদের ক্ষেত্রে জনসাধারণের প্রত্যাশাও বেশি থাকে বলে মত দেন তিনি।   ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে উম্মে সালমা জানান, ইসলামে বিবাহ প্রকাশ্যে করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোপন বিয়ে বা সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়েও তিনি স্বচ্ছতার আহ্বান জানান।   নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করতে চান না। তবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের জবাবদিহির মান সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি হওয়া উচিত।   তার মতে, ব্যক্তিগত জীবন ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নমুক্ত না হলে সমাজকে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে যায়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সরকার পরিচালনায় শরিকদের পরামর্শ নেবে বিএনপি

ছবি - সংগৃহীত

দেশের স্বার্থে সংস্কারের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

বিচারপ্রার্থীর মামলায় সততা ও দায়িত্বশীলতার তাগিদ প্রধান বিচারপতির

ছবি: সংগৃহীত
হান্নান মাসউদের কাছে হেরে এবার নতুন দায়িত্বে বিএনপি নেতা

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে বিএনপির এক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার নাম মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।   রবিবার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক চিঠিতে তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে এই দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে ৬৩ জেলা পরিষদে প্রশাসক বসলো। বাকি রয়েছে কেবল ঠাকুরগাঁও জেলা। জানতে চাইলে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে জেলা পরিষদের আওতাধীন এলাকায় উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাব।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছিলেন মাহবুবের রহমান শামীম। তবে আসনটিতে জয়ী হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২০, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

ফেস ভেরিফিকেশনে ধরা প্রক্সি জালিয়াতি, সচিবালয়ে এসে কারাগারে ৪ জন

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ বর্জনের ঘোষণা জমিয়তের

ছবি: সংগৃহীত

‘যারা পালিয়ে যায়, তারা আর ফেরে না’: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন
হাসিনার পতন হলেও বহাল তার রেখে যাওয়া শাসনকাঠামো: আখতার হোসেন

চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময়টাতে বাংলাদেশের মানুষের দুটি লক্ষ্য ছিল। একটি ছিল বাংলাদেশটাকে হাসিনামুক্ত করা, আরেকটি ছিল তার তৈরি শাসন কাঠামো ভেঙে ফেলা। প্রথম লক্ষ্য অর্জিত হলেও দ্বিতীয় লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক তেঁতুলতলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। গণ–অভ্যুত্থান বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময়টাতে বাংলাদেশের মানুষের দুটি লক্ষ্য ছিল, এক. বাংলাদেশটাকে হাসিনামুক্ত করা। দুই. বাংলাদেশটাকে হাসিনার কাঠামোমুক্ত করা। আমরা বাংলাদেশটাকে হাসিনামুক্ত করতে পেরেছি, আওয়ামী লীগ–মুক্ত করতে পেরেছি, শাসনকাঠামো থেকে তারা পরাজিত হয়ে দিল্লিতে গিয়ে তারা আশ্রয় নিয়েছে, পালিয়ে গেছে, তারা বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে; কিন্তু এখনো যে নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে হাসিনা দেশটা পরিচালনা করত, সেই নিয়মকানুন এখনো বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে।’  তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সংস্কার চেয়েছিল। এটা শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত ছিল না, জনগণেরও সিদ্ধান্ত ছিল। রাজনৈতিক দলগুলো আগে একমত হয়েছে, পরে গণভোটে দেওয়া হয়েছে। সেই গণভোটেও ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেই সংস্কার তারা বাস্তবায়ন করতে চায় না। সংস্কার বিষয়ে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেই সংস্কার বাংলাদেশে তারা বাস্তবায়ন করতে চায় না। তারা সংবিধান সংশোধন কমিটির কথা বলে। আমরা তো সংবিধান সংশোধনের মধ্যে থাকতে চাইনি। আমরা এই সংবিধানের আমূল পরিবর্তন চেয়েছি। এই সংবিধানের ভিত্তিগুলোর পরিবর্তন চেয়েছি। এই সংবিধানে ফ্যাসিবাদের যত বীজ রয়েছে, সবকিছুকে উৎপাটন করে গণমানুষের সংবিধানে পরিণত করতে চেয়েছি। আমরা কুসুম কুসুম সংশোধনী না, আমরা বিপ্লবী সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটার পরিবর্তন চেয়েছি।’  তিনি অভিযোগ করেন, তারা যদি সংস্কার মেনে নেয়, তাহলে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। তাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটা স্থানীয় সরকারের কাঠামোতে একদলীয় শাসন শুরু করার পায়তারা করছে। এসময় তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের প্রতিটি স্থানীয় সরকারের কাঠামোতে তারা একদলীয় শাসন করার পাঁয়তারা করছে। গোটা বাংলাদেশে যতগুলো জেলা পরিষদ আছে, সব জেলা পরিষদের প্রশাসক বিএনপির পদধারীরা। সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক বিএনপির পদধারীরা। বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে তারা বিএনপির পদধারীদের প্রশাসক বানানোর পাঁয়তারা করছে।  বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে উদাত্ত কণ্ঠে আহ্বান জানাই, এই বাংলাদেশটাকে সবার হতে দেন, এই বাংলাদেশটাকে জনগণের হতে দেন। এই বাংলাদেশকে আর আগের নিয়মে চালানো যাবে না। এই বাংলাদেশকে আবু সাঈদরা যে লক্ষ্য নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন, সেই লক্ষ্যের ওপরে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সেই লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের শাসনকাঠামো পরিচালনা করতে হবে।’ আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের ক্রেডিট নেয়। কিন্তু স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতিনিধি বসানোর মধ্য দিয়ে তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র থেকে সরে গিয়ে একদলীয় শাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৯, ২০২৬
বয়স ৬৫ পার হলে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই | ছবি: সংগৃহীত

৬৫ পেরোলেই যেসব ১০ খাবার এড়িয়ে চলা ভালো

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ঢাবিতে প্রবেশে জরুরি নির্দেশনা

তানিম রেজা বাপ্পি। ছবি : সংগৃহীত

অবশেষে ধরা পড়ল সুব্রত বাইনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বাপ্পি

0 Comments