জাতীয়

রমজানে জনগণের স্বার্থে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর : কায়কোবাদ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেছেন, দ্রব্যমূল্য কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার মুরাদনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য হিসেবে পুনঃনিবাচিত হয়ে মন্ত্রীত্ব গ্রহণের পর আজই তিনি প্রথমবারের মতো এলাকায় আসেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যেন বাড়তি চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন। রমজানকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর।’

হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, হাজিদের জন্য আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। অতীতের তুলনায় উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। হজ ব্যয়ের যৌক্তিকীকরণ এবং সেবার মানোন্নয়নেও উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় তিনি মুরাদনগরসহ সমগ্র কুমিল্লা জেলার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে এলাকার অবকাঠামো, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের পর ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। এলাকায় আগমনে বিভিন্ন স্থানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
দালালের প্ররোচনায় হাসপাতালে সময়ক্ষেপণ, পথে প্রাণ গেল রংমিস্ত্রির

নরসিংদীতে হৃদরোগে আক্রান্ত এক রংমিস্ত্রিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরও দালালের প্ররোচনায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।   রোববার (৩১ মে) বিকেলে মারা যান নরসিংদী পৌরসভার শালিধা এলাকার বাসিন্দা কবির হোসেন (৪৮)। তিনি পেশায় রংমিস্ত্রি ছিলেন।   পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে কবির হোসেনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।   স্বজনদের অভিযোগ, সদর হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর এক দালাল বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে তাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভিজিট ফি নেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং পরে আবার ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই কবির হোসেনের মৃত্যু হয়।   নিহতের ছেলে শাহিন অভিযোগ করেন, দ্রুত ঢাকায় নিয়ে গেলে তার বাবার জীবন বাঁচতে পারত। দালালের কথায় ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।   স্বজনদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টিও পরে অস্বীকার করা হয়েছে।   অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক জানান, রোগীকে যখন তিনি দেখেন তখন তার অবস্থা গুরুতর ছিল। তাই দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগী কীভাবে ওই হাসপাতালে এসেছেন বা কে নিয়ে এসেছে, সে বিষয়ে তার কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান।   অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দালাল দাবি করেন, রোগীকে সুস্থ অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার আশায় তিনি সেখানে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।   ঘটনার পর স্বজনরা দালাল চক্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   স্বজনদের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

আক্তারুজ্জামান মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পল্টনের আবাসিক হোটেলে বাবুর্চির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রেপ্তার ১

ছবি: সংগৃহীত

বরকলে নৌকাডুবি: ৮ যাত্রী উদ্ধার, এক যুবক নিখোঁজ

ছবি: সংগৃহীত
জুন থেকে ভোক্তাপর্যায়ে পেট্রোল-অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি

ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সমন্বয় করেছে সরকার। আগামী জুন মাসের জন্য পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।   রোববার (৩১ মে) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় বিক্রি হবে।   মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   এর আগে মে মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা। সে হিসাবে জুন মাসে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে।   উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

আক্তারুজ্জামান মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো সহায়তা ফিনল্যান্ডের

ছবি: সংগৃহীত

ভ্যানিটি ব্যাগে করে ৩ পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা

ছবি: সংগৃহীত

সন্ত্রাসীরা এই দুঃসাহস কীভাবে পেল

ছবি: সংগৃহীত
আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি: তাহের

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, জাতীয় সংসদে মন্ত্রীরা যদি অধিবেশন চলাকালে মাসে একবার কথা বলে। আমি অধিবেশন চলাকালে প্রতিদিন দু-তিনবার কথা বলতে পারি। অতএব, আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি। রোববার (৩১ মে) চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ঈদ পূণর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাহের বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে আমার অফিসিয়াল স্ট্যাটাস হচ্ছে প্রতিমন্ত্রী। আজকে আমার গাড়িতে পতাকা আছে। পতাকা নিয়েই আমি ঢাকা থেকে এসেছি। আমার বাসা থেকে এ পর্যন্ত আমি পুলিশ প্রটোকলে এসেছি। তাহলে প্রটোকল কারা পায়? মন্ত্রীরাই পায়। এটা আমি গর্ব নিয়ে বলছি না। বিরোধী দলে থেকেও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়া গৌরবের বিষয় না? আমরা বাংলাদেশে এখন স্ট্রং ভূমিকায় আছি। বিরোধী দলে থেকেও আমার গাড়িতে পতাকা আছে।  তিনি বলেন, চৌদ্দগ্রামের বিএনপির কিছু নেতার চাইতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার গুরুত্ব অনেক বেশি। তিনি আমাদের মূল্যায়ন করেন। আমার চৌদ্দগ্রামে একটু বেশি পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বলেছেন। আগামীতে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসবে বলে আশা রেখে তাহের বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আমাদের চেয়ে ১০ পার্সেন্ট ভোট বেশি পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন ও জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পেয়েছে। প্রধান বিরোধীদল মানে আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে।  নিজ নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্তবর্তী সরকার থাকাকালীন এ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছি। নির্বাচন অতিবাহিত হয়েছে মাত্র তিন মাস। এরই মধ্যে এলাকার উন্নয়নের আরও ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সবে সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। যদি বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে যায়, তাহলে এই বরাদ্দ আরও কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। তাহের বলেন, চৌদ্দগ্রামের মৌলিক সমস্যা কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসা। চৌদ্দগ্রামে এই দুটোর স্থান হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের ছয় মাস সময় দিলাম। আপনারা অন্য কোনো ব্যবসা খুঁজেন। ছয় মাসের পরেও যদি এই রাস্তায় থাকেন, তাহলে বুঝা গেল, আপনারা ইচ্ছে করেই এই রাস্তায় আছেন। কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি না, ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি? অবশ্যই ভালো মানুষের সংখ্যা বেশি। কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য আপনারা ঘর থেকে বের হবেন কিনা? বের হলে, সমাজ থেকে অপরাধ কমে যাবে। আমার নেতৃত্বেই কিশোর গ্যাং ও মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হবে। তাদের আর ছাড় নয়।  উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের পরিচালনায় চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সাবেক আমির আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা মহানগরী সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারের এমডি ডা. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ইসলামিক চিন্তাবিদ ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাবেক আমির সাহাব উদ্দিন, সাবেক সেক্রেটারি শাহ মো. মিজানুর রহমান, পৌরসভা আমির মাওলানা ইব্রাহীম, আবুল কাশেম, আবুল খায়ের, মোস্তফা নুরুজ্জামান খোকন, রুহুল আমিন, মমিনুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান, ইকবাল হোসেন মজুমদার, ‎বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সভাপতি শাহজালাল, উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমির কাজী ইয়াছিন, পৌরসভা সেক্রেটারি মোশাররফ হোসাইন ওপেল, শিবিরের দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম মোল্লা, উপজেলা সদর সভাপতি নাছির মিয়াজী। এ সময় চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার তের ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কর্ণফুলী নদীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, চোরাই কয়লা-গমসহ বিপুল মালামাল জব্দ

পদ্মার পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের কোনো ঠাঁই হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments