ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনাল রাউন্ড ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড সিজন-৪’। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘ইউথ ইন অ্যাকশন, স্মার্টার ফার্মিং ইন মোশন’। ২০২০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজনটি করে আসছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াড। এবারের আসরে পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিল আই ফার্মার এশিয়া।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। ফাইনাল রাউন্ডে ৯টি ক্যাটাগরিতে প্রায় ১৫০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে তিনজন করে বিজয়ী নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি সেরা সংগঠক ও সেরা ক্যাম্পাসকেও সম্মাননা দেওয়া হয়।
এবারের অলিম্পিয়াডে ছিল অ্যাগ্রিকালচার, ফিশারিজ, লাইভস্টক প্রোডাকশন, অ্যাগ্রিবিজনেস অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইকোনোমিকস, ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স, অ্যাগ্রিকালচারাল ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি, ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এবং অ্যানিম্যাল হেলথ অ্যান্ড বায়োসিকিউরিটি— এই ৯টি ক্যাটাগরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা জুয়েল রানা। এছাড়া জাতীয় স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ বিজয়ী কৃষিবিদ ড. এম এ রহিমকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন আই ফার্মার, আপিজ ভেঞ্চার ও গেইনের প্রতিনিধিরা। সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. আতিকুর রহমান সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
অলিম্পিয়াডে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজয়ী হন। অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আইইউবিএটি এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘বেস্ট ক্যাম্পাস’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।
এবারের আয়োজনের সহযোগী হিসেবে ছিল প্রাণ, প্রিমিয়াম ফ্রুটস, স্পাইস এফএম ৯৬.৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, নাগরিক টেলিভিশন, ঢাকা পোস্ট, কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘দেশের জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০টি এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে ডায়ালিসিস মেশিন বসাবে সরকার।’ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আবার যেসব মেশিন আনা হয়েছিল, তা ব্যবহার অযোগ্য। শুধুই টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তিনি জানান, এবারই প্রথম স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে সরকার। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ কিছুটা কমবে। এদিকে সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশির ভাগ সময় মানুষ বুকের ব্যথাকে গ্যাসের ব্যথা ভেবে অবহেলা করে। তবে যেকোনো ধরনের বুকের ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান, তামাক, অতিরিক্ত লবণ ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন উপপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে। বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়ম কিংবা গুরুতর কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁও বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের মিড-টার্ম রিভিউ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কোন প্রকল্প কোন পর্যায়ে রয়েছে, কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে এবং বিলম্বের কারণ কী—এসব বিষয় নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলা প্রকল্পগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যেসব প্রকল্প পিছিয়ে রয়েছে কিংবা যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না, সেসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, হিট প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল নির্ধারিত কার্যক্রম সম্পন্ন করা নয়; এর মূল উদ্দেশ্য দেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তব, দৃশ্যমান ও টেকসই পরিবর্তন আনা। শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর সংযোগ স্থাপন, শিক্ষক উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল রূপান্তর—এসব উদ্যোগ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর বিভিন্ন কারণে ব্যয় হয়ে গেছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অবশিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতির ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে প্রকল্পের সময় বাড়ানোর বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনা, স্মার্ট ক্লাসরুম ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ ও একাডেমিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সফট ও হার্ড স্কিল উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি হবে। শিক্ষক উন্নয়নের বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হিট প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার শিক্ষককে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নবীন ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উন্নয়নের এসব কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি স্থায়ী উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে হিট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১৮০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল যেন দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকরভাবে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু গবেষণা পরিচালনা নয়, গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে একটি ন্যাশনাল রিসার্চ রিপোজিটরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের গবেষণা কার্যক্রমের একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান প্রদান ও গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার ড. শেরেজাদ লতিফ মোনামী বলেন, হিট প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে হিট প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বব্যাংক আশা করে। গবেষণা ও উদ্ভাবন, ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনসহ হিট প্রকল্পের আওতায় নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে হিট প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, অর্জন, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান। এ সময় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও হিট প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামানসহ ইউজিসি, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল, হিট প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বৈরতান্ত্রিকতা রোধে কোনো ব্যক্তির দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে সরকার সমর্থন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত রবিবার ও আজ দুই দিনব্যাপী গণমাধ্যমের সম্পাদক, টিভি চ্যানেল ও অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে কমিটি। সেখান থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তর প্রস্তাব পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে অনেকে মত দিয়েছেন, এটি অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী। কিন্তু আমাদের দলের পক্ষ থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন যেন কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন। স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া ঠেকাতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমরা আমাদের সেই অবস্থান থেকে এখনো সরিনি। তবে সংসদে বিরোধী দল বা অন্য কারও পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংবিধানের অন্যান্য সংশোধনীর প্রস্তাব সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা (প্রিয়াম্বল) ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা কী হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রস্তাব প্রয়োজন যা পরবর্তীতে পার্লামেন্ট বিবেচনা করবে। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে বলা আছে বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র (ইউনিটারি গভর্মেন্ট)। এখানে অঙ্গরাজ্যের কোনো সিস্টেম নেই। তাই দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা, সে বিষয়ে কেউ কেউ মতামত দিয়েছেন। তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় আমরা সেভাবেই এগোতে চাই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টই নেবে। সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ও ‘জুলাই সনদে’ তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে বিরোধী দলকে আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আলোচনায় আসেন। জুলাই সনদের কোনো বিষয়ে তাদের ভিন্নমত থাকলে সমঝোতার ভিত্তিতে তা আলোচনা করা যেতে পারে, তবে তার জন্য তো তাদের আলোচনায় আসতে হবে।