প্রবাসী

পুনরায় চালু হলো অন অ্যারাইভাল ভিসা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পুনরায় চালু করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সব বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে নির্দেশনা পাঠানো হয়। এর ফলে বিদেশি নাগরিকরা আবারও পূর্বের নিয়মে বাংলাদেশে পৌঁছার পর বিমানবন্দরেই অন অ্যারাইভাল ভিসা গ্রহণ করতে পারবেন।

 

সরকারি সূত্র জানায়, ভিসা স্থগিতাদেশ ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকার কথা ছিল; তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বাংলাদেশ দূতাবাসও নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিসা চালু হলেও আগত বিদেশিদের নথিপত্র, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করতে ইমিগ্রেশন বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সন্দেহভাজন যাত্রীকে ফেরত পাঠানোর ক্ষমতা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি উন্নত দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু রাষ্ট্রের নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে পর্যটন, ব্যবসা, বিনিয়োগ বা চাকরির উদ্দেশ্যে অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পেয়ে থাকেন। নির্বাচনের আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সুবিধা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল।

 

সরকারি ব্যাখ্যায় জানানো হয়, নির্বাচনকালীন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নিয়ন্ত্রিত ও সতর্ক পরিবেশ বজায় রেখে অন অ্যারাইভাল ভিসা পুনরায় চালু করা সম্ভব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল পাচারের শিকার ৩৩ বাংলাদেশি

ভারতে কারাভোগ শেষে পাচারের শিকার ৩৩ জন বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশুকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   রবিবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে আনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচাররোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছে। ফেরত আসা এসব ব্যক্তি বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সাজাভোগ শেষে তারা ভারতের বিভিন্ন সেফ হোমে ছিলেন। পরে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে তাদের দেশে ফেরানো হয়। কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাদের হস্তান্তর করে। এ সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি, স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি, ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বেনাপোলে কর্মরত শফিকুল ইসলাম জানান, দালালের মাধ্যমে পাচারের শিকার এসব বাংলাদেশিকে ভারতীয় বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফেরা এসব নারী, পুরুষ ও শিশুকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জার্মানিতে জমজমাট প্রবাসী ঈদ, ছিল নানা আয়োজন

ছবি: সংগৃহীত

সাইপ্রাসে দুঃস্বপ্নের দিন-রাত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

ছবি : সংগৃহীত

সাইপ্রাসে যুদ্ধ ও বেকারত্বে বিপর্যস্ত বাংলাদেশিরা!

ফিনল্যান্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন

ফিনল্যান্ড-এ বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। রাজধানী হেলসিংকি ও এস্পোসহ বিভিন্ন শহরে সুশৃঙ্খলভাবে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।   রাজধানী হেলসিংকি-এর রইহুপেলতো এলাকায় বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্যোগে তিনটি পৃথক জামাতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এসব জামাতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণ ছিল, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হন।   অন্যদিকে এস্পো মুসলিম সেন্টারেও বড় পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পরিবারসহ প্রবাসীরা অংশ নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পাশাপাশি মাইল্লিপুরো এলাকার এরিনা সেন্টারেও একাধিক জামাতে নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।   নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও এই আয়োজন মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজেই ঈদের নামাজ আদায় করলেন বাংলাদেশি নাবিকরা

ছবি : সংগৃহীত

প্রবাসী আয়ে বাড়ছে রিজার্ভ, স্বস্তিতে অর্থনীতি

ছবি : সংগৃহীত

সংকট পেরিয়ে ইরান থেকে ফিরলেন ২৮২ বাংলাদেশি

ছবি : সংগৃহীত
সাইরেন, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার ঈদ বাহরাইন প্রবাসীদের

“আমরা শান্তিতে ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে যে কোনো সময় বড় বিপদ হতে পারে। ঈদের দিনেও সবাই আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন যুদ্ধ থেমে যায়।” কথাগুলো বলছিলেন বাহরাইন প্রবাসী নুরুল আমিন; সাইরেনের শব্দ, হামলার আতঙ্ক আর সোশাল মিডিয়ার গুজবের মধ্যে চাঁদরাতেও ঘুম হয়নি তার। নুরুল আমিনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে ক্লিনিং সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করেন। তার মত বাহরাইন প্রবাসী দেড় লাখ বাংলাদেশির সবাই কমবেশি আতঙ্কে আছেন। শুক্রবার ঈদের দিনও তাদের কাটছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায়। সিলেটের আব্দুল মালেক বাহরাইনে গাড়ি চালকের চাকরি করেন। অন্য সবার মত শুক্রবার সকালে তিনিও বৃষ্টির মধ্যে ঈদের নামজ পড়তে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও আতঙ্ক পিছু ছাড়েনি। মালেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগেও উত্তেজনা দেখেছি, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। চাঁদরাত ছিল আতঙ্কের, ঈদের দিনও সবাই দ্রুত বাসায় চলে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বড় কিছু হতে পারে, ভয় কাজ করছে।” ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ গড়িয়েছে ২১তম দিনে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতির থাকায় আমিরাতের মত উপসাগরীয় দেশগুলোকেও এ যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে ইরান। বাহরাইন সরাসরি যুদ্ধের ময়দান না হলেও চারপাশের অস্থিরতা, আকাশপথের অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে শান্তি নেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে। অনেকের কর্মস্থল সাময়িকভাবে বন্ধ, কারো কাজ কমে গেছে। ফলে ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ঈদের দিনেও উৎসবের সেই আমেজ নেই তাদের জীবনে। স্বজনদের থেকে দূরে, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই তাদের দিন কাটছে। শুক্রবার সকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে বাহরাইনে। তার মধ্যেই মানুষ মসজিদে গেছে ঈদের নামাজ পড়তে। ঈদের প্রধান জামাত ছিল স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে সেই জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। বাহরাইনের নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করা মো. জাহিদুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লায়। ঈদের দিন নিজের দুশ্চিন্তার কথা তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন। “আমরা তো যুদ্ধ চাই না, কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকদিন ধরে। হাতে টাকা কমে যাচ্ছে, দেশে পরিবার নিয়ে চিন্তায় আছি। ঈদের দিনেও কোনো আনন্দ নেই।” নরসিংদীর মো. রাকিব হোসেন প্রবাসী জীবনে একটি সুপারশপে সেলসম্যানের কাজ করেন। তিনিও বললেন অনিশ্চয়তার কথা। “রাত হলেই ভয় লাগে। পরিবার ফোন করে কাঁদে, বলে দেশে ফিরে যেতে। কিন্তু এখন ফ্লাইটও ঠিকমতো নেই। ঈদের দিনেও মনে হচ্ছে আমরা বন্দি হয়ে আছি।” চট্টগ্রামের শাহীন আলম কাজ করেন মানামার একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানেও পড়েছে যুদ্ধের ছায়া। “আমাদের রেস্তোরাঁয় কাস্টমার কমে গেছে। রমজান আর ঈদের দিনেও ব্যবসা নেই। মালিকও দুশ্চিন্তায়—কীভাবে বিল, ভাড়া দেবে, কেউ জানে না।” মাদারীপুরের মো. সোহেল রানা পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান। যুদ্ধের কারণে দোটানার মধ্যে পড়ে গেছেন তিনি। “প্রতিদিন খবর দেখি, ভয় পাই। পরিবার বলছে ফিরে আসতে, কিন্তু এত বছর পর সব ছেড়ে যাওয়া কঠিন। ঈদের দিনও নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই।” মাজহারুল ইসলাম বাবু বাহরাইনে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রবাসে আছেন ১৭ বছর ধরে। তিনি বললেন, “আসলে কী হতে যাচ্ছে বা কী হবে তা নিয়ে কারও সঠিক ধারণা নেই। আমাদের সকলের দিন কাটছে এক ধরনের ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। “তবে বাহরাইন সরকারকে ধন্যবাদ, তারা স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও সমানভাবে সাপোর্ট দিচ্ছে। পর্যাপ্ত শেল্টারের ব্যবস্থা আছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।”

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

আমিরাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সীমিত আয়োজনে কুয়েতে ঈদ, নেই বড় জামাত ও অনুষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে টানা ৫ দিনের ঈদ ছুটিতে যাচ্ছে ওমান

0 Comments