‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম পাওয়া গেলে বিভাগীয় মামলাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার।
শনিবার (১৬ মে) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনাটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১৩ মে জারি করা অফিস আদেশে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের ফিডিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রধান শিক্ষকদের সরবরাহ করা খাবার যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পচা বনরুটি, পচা ডিম, আকারে ছোট ও পচা কলা বিতরণসহ নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি। অফিস আদেশ খাবারের মান যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খাদ্যের মান যাচাইয়ের নির্দশনা
খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণের পূর্বে সরবরাহকারী কর্তৃক সরবরাহ করা খাদ্যের মান ও পরিমাণ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে; নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে (কল অব কার্যাদেশ অনুযায়ী) খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে; খাদ্যদ্রব্যের ধরণ অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে খাদ্যের গুণগত মান বজায় থাকে; বিশেষ করে বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা পরীক্ষা করতে হবে; প্যাকেজিং অক্ষত, ছিঁড়ে যাওয়া বা আর্দ্রতা মুক্ত এবং পচন, ফাঙ্গাস বা দুর্গন্ধমুক্ত হতে হবে। প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে; ডিম ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত ও পিচ্ছিলতা বা দৃশ্যমান দূষণ আছে কিনা দেখতে হবে; কলা দাগ বা পোকামুক্ত হতে হবে, বেশি পাকা বা পচা কলা গ্রহণ বা বিতরণ করা যাবে না।
এছাড়া ইউএইচটি মিল্ক ও ফটিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রে প্যাকেজিং অক্ষত, প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে; সরবরাহ করা খাদ্য সামগ্রী যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে এবং কোনোক্রমেই নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনও ধরনের গাফেলতি, শৈথিল্য ও অনিয়ম পাওয়া গেলে বিভাগীয় মামলা ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহ করলে তা গ্রহণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
‘আবরার ফাহাদ’ নামে নতুন ছাত্র হল নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অপচয় বরদাশত করা হবে না। শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে নামমাত্র বরাদ্দের বিপরীতে বর্তমান সরকার সর্বাধিক বাজেট দিয়েছে। শিক্ষা খাতের বরাদ্দকে জিডিপির বর্তমান ২ শতাংশ থেকে ক্রমান্বয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকার বাজেট বাড়াতে প্রস্তুত, তবে শর্ত হলো সেই টাকার প্রতিটি পয়সা সততার সাথে কাজে লাগাতে হবে। যারা মেধার প্রতিযোগিতা দিয়ে আজকে উচ্চশিক্ষায় আসছে, আমরা যদি তাদের থাকার ন্যূনতম আবাসন বা হলের জায়গাটুকু দিতে না পারি, তবে সেই বড় বাজেটের কোনো অর্থ থাকে না। এহছানুল হক মিলন জানান, বুয়েটের পূর্বাচল ক্যাম্পাসের জন্য বরাদ্দকৃত জমির যে বকেয়া কিস্তির টাকা রয়েছে, তা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে এককালীন পরিশোধ করে দেবে। বুয়েটকে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতো নিজে আয় করে জমি কেনার চিন্তা করতে হবে না, বরং রাষ্ট্র তার একাডেমিক প্রসারে পাশে থাকবে। একই সঙ্গে বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো বুয়েটেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ‘অ্যালামনাই কন্ট্রিবিউশন ফান্ড’ গঠনের তাগিদ দেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বুয়েটের শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, আমরা বুয়েটের মেধার অপচয় করতে চাই না, এই মেধাকে তার সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। বুয়েটের আবাসন সংকট নিরসনে এবং ক্যাম্পাসের নির্মম স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, ‘বুয়েটের মেধাবী ছাত্ররা যেন নষ্ট না হয় এবং যে নির্মম স্মৃতি বুয়েটের পাতা থেকে কোনোদিন মুছে যাবে না, সেই স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমরা বুয়েটে ‘আবরার ফাহাদ’ নামে একটি নতুন ছাত্র হল নির্মাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই হল সুনিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, হলের প্রভোস্ট, নবাগত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়, যা বিগত বছরগুলোতে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রসমূহের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নকলের কবর আগেই রচনা করেছি। এবার থেকে নয়টি শিক্ষা বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও একক প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসসংক্রান্ত কোনও পোস্ট ফেসবুকে দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং প্রমাণ চাইবে। পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের বডি চেক করে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করানোর পরও যদি আগে থেকে কেউ বইপত্র রেখে আসে, তার দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের। ডিজিটাল নকলের ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, আগে শিক্ষকদের বেশি নম্বর দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হতো। এখন র্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে বোর্ড থেকে খাতা নিয়ে মূল্যায়ন পদ্ধতি যাচাই করা হবে। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী পাস হলে বোর্ড চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আনন্দময় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেশের প্রতিটি স্কুলে মিড-ডে মিল চালু করা হবে এবং এতে কোনও অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার কোনও স্তরেই সেশনজট থাকবে না। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় দুর্বলতা। গত ২০ বছরে প্রভাব খাটিয়ে গ্রামীণ স্কুল থেকে শহরে চলে আসা শিক্ষকদের আবার নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যেতে হবে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম তৌহিদুজ্জামান। এ সময় খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক (আজীবন) নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। একই সঙ্গে তাঁকে ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ইমেরিটাস অধ্যাপকের বিপরীতে নেওয়া বেতন ও ভাতা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামালের সই করা অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেটের একজন সদস্যের প্রস্তাবে পরিপ্রেক্ষিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। একই সিন্ডিকেটে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ সংশোধন করে পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর নিয়োগ (আজীবন) দেওয়া হয়, যা বিধিবহির্ভূত। একই সিন্ডিকেট অধ্যাদেশ সংশোধন করে নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না। বিধিবহির্ভূত বিবেচিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯২তম সভায় এবিএম আবদুল্লাহর অধ্যাপক ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ (আজীবন) বাতিল করা হলো। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ। জানতে চাইলে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ৫০ বছর চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত এবং প্রায় সমান সময় চিকিৎসা শিক্ষায় নিয়োজিত। আমি মনপ্রাণ দিয়ে রোগী ও মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার লেখা বই দেশে-বিদেশে পাঠ্য। আমাকে যে ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়েছিল, তা আমার যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হয়েছিল। আমি আরও সম্মান ও সম্মাননা পেয়েছি। কিন্তু যেভাবে এটা বাতিল করা হলো, সেটি নীতিবহির্ভূত। আমি আশা করি এতে আমার সম্মান ক্ষুণ্ন হবে না।’