প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদীচী ও নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ। তিনি বলেন, এসব ঘটনা কোনো উদ্দেশ্যহীন উচ্ছৃঙ্খলতার ফল নয়; বরং সচেতনভাবে সংগঠিত সহিংসতা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশের আগে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে আয়োজকরা সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, দেশজুড়ে সংঘটিত প্রতিটি ‘মব ও সন্ত্রাসী হামলার’ তদন্ত ও বিচার, সহিংসতায় উসকানিদাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অপসারণসহ মোট ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
সমাবেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনু মোহাম্মদ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ‘নতুন সভ্যতার’ যে কথা বলা হয়েছিল, ১৮ ও ১৯ তারিখে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনাগুলো কি সেই সভ্যতারই উদাহরণ—এই প্রশ্ন আজ সবার সামনে দাঁড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এসব হামলায় আক্রমণকারীর সংখ্যা খুব বেশি ছিল না, কিন্তু তারা প্রকাশ্যে আগুন লাগিয়েছে, সম্পদ ধ্বংস করেছে এবং মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। অথচ ঘটনার সময় সামনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি।
মাঠপর্যায়ের পুলিশ বা সেনাসদস্যদের আলাদাভাবে দোষারোপ করা যায় না উল্লেখ করে আনু মোহাম্মদ বলেন, তারা ওপরের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন। প্রশ্ন হলো—উপর থেকে নির্দেশ এলো না কেন? সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেন তারা হস্তক্ষেপ করল না? কেন পুলিশ, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নীরব থাকল? এই নিষ্ক্রিয়তা রাষ্ট্র ও সরকারের পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতার সন্দেহ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাগুলো আকস্মিক মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। গত কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আক্রমণের আহ্বান ও উসকানি প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ছিল। এসব তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার অজানা থাকার কথা নয়। দেশি-বিদেশি উসকানিদাতারা দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতার ডাক দিয়ে আসছিল।
আনু মোহাম্মদের মতে, যাদের ওপর হামলা হয়েছে, তারা সবাই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসজুড়ে শোষণ, নিপীড়ন, বৈষম্য ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া মানুষ। শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের বিরুদ্ধেও তারা সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করেছেন। বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশের যে স্বপ্ন, তার ধারক-বাহক হওয়ায় তারাই এই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।
সমাবেশে উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে—শরিফ ওসমান হাদি, দীপু চন্দ্র দাশ ও আয়শা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, উদীচী, ছায়ানট, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ দেশজুড়ে সংঘটিত সব মব ও সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত ও বিচার করা।
এছাড়া সহিংসতায় উসকানিদাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা, মতপ্রকাশের অধিকার ও জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সকল সহিংস ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
দাবির মধ্যে আরও রয়েছে—জননিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অপসারণ এবং ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন।
সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য, নীলক্ষেত ও কাঁটাবন হয়ে পুনরায় শাহবাগ অতিক্রম করে উদীচী কার্যালয়ের সামনে গিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, বর্তমান সরকার কৃষকের সরকার ও কৃষিবান্ধব। কৃষকরা আমাদের জীবনের অংশ। তাদের উৎপাদিত শস্যে আমাদের জীবন চলে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কবি নজরুল মিলনায়তনে বীজ ও সার বিতরণ শুরু করা হয়। কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, কৃষকরা যদি ফসল উৎপাদন বন্ধ রাখে তাহলে দেশ খাদ্যহীন হয়ে যাবে। সেজন্যই বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েই কৃষকদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। চাষাবাদের সুবিধার জন্য খাল খনন প্রকল্প শুরু করেছে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে কৃষক কার্ড চালু করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বির সভাপতিত্বে ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান বক্তব্য রাখেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, কৃষক প্রতিনিধি হেদায়েত হোসেন। উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার ভূমি সাকিব হাসান খান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম, মুরাদনগর থানার ওসি মাসরুরুল হক, বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূইয়া, যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, মহিলা দলের সভাপতি কাজী তাহমিনা। এ বছর মুরাদনগর উপজেলার ১৬ হাজার ২০০ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হচ্ছে।
অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) ৫টি ইউনিটের মধ্যে ২টি ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পানির অভাবে কেন্দ্রের ৩টি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রের সব ইউনিট সচল থাকলেও পানির অভাবে তা চালানো সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে পানি স্বল্পতার কারণে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১ ও ২ নং ইউনিটের প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩৫ মেগাওয়াট, যেখানে সব ইউনিট সচল থাকলে ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব। কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, বর্তমানে লেকে পানি থাকার কথা ৮৫.৮০ এমএসএল (মিন সী লেভেল), কিন্তু আছে মাত্র ৮১.০২ এমএসএল। ফলে পানি স্বল্পতায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিপজ্জনক সীমা ধরা হয় ৬৮ এমএসএল। যদি লেকের পানি এই সীমার নিচে নেমে আসে, সম্পূর্ণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। হ্রদে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। কাপ্তাই লেকে পানি কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। লেকের সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচ উপজেলা—বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি—এর নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেকের বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা চরে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া লেকের বিভিন্ন অংশে পলি জমে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে লেকের ওপর নির্ভরশীল কর্মজীবি ও ব্যবসায়িক মানুষের কর্মসংস্থানও বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এক যুবকের মেরুদণ্ডের জটিল অপারেশন। এ সফলতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোববার রোগীকে সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে উদযাপন করেন এবং অপারেশন টিমকে সম্মাননা জানিয়েছেন। স্বল্প খরচে করা এ অপারেশনের মাধ্যমে হাঁটতে না পারা এই যুবক এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে পারছেন। জানা যায়, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চকনূর গ্রামের মৃত আবু বক্কারের ছেলে মেরাজুল ইসলাম (২৪) গত ২ মার্চ গাছ কাটতে গিয়ে পিঠের ওপর পড়লে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে ভর্তি করা হয়। যেখানে তিনি ১৮ মার্চ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলেও সেখানে অপারেশনের জন্য দীর্ঘ সিরিয়াল ও প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচের কথা বলা হলে পরিবারটি পুনরায় সিরাজগঞ্জে ফিরে আসে। এরপর ২৮ মার্চ আবার তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অর্থোপেডিক্স বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ৭ এপ্রিল অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে মাত্র ১ লাখ টাকার মধ্যে সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। পুরো টাকাটাই লেগেছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। রোগী মেরাজুল ইসলাম বলেন, আমি কাজ করতে গিয়ে পিঠের উপর গাছ পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর থেকে হাঁটতেই পারছিলাম না৷ এখন অপারেশনের পরে আমি হাঁটতে ও বসতে পারছি। মেরাজুল ইসলামের মা মোছা. মহারানি বলেন, আমার ছেলে গাছ কাটতে গিয়ে মেরুদণ্ডের হাড্ডি ভেঙে গিয়েছিল। সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়েছিলাম। অনেক টাকা চাওয়ায় আবার সিরাজগঞ্জ নিয়ে আসি। সিরাজগঞ্জে ভালো চিকিৎসা হওয়ায় আমার হাঁটতে না পারা ছেলে এখন হাঁটতে পারছে। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রোগী এসে যখন ভর্তি হয়, তখন আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। যে অপারেশনের প্রয়োজন ছিল, সেটি আসলে আমাদের হাসপাতালে হয় না। তবে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অপারেশন করার জন্য মনস্থির করি। এরপর তারা ঢাকা গেলেও পুনরায় হাসপাতালে ফিরে আসেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমার নেতৃত্বে মেরুদণ্ডের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের মতো সফলতা পেয়েছি। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, আমাদের হাসপাতালে সফলভাবে মেরুদণ্ডের হাড়ের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের অপারেশনে এমন সফলতায় আমরা গর্বিত। স্বল্প খরচে সিরাজগঞ্জেও এখন থেকে এই অপারেশন যেন করার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে, সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট থাকব।