জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কথা বলে কোটি টাকার পণ্য পাচার, রাজস্ব কর্মকর্তাসহ আটক ৩

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এক রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিন জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)

 

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একটি সিন্ডিকেট প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পণ্য পাঠানোর নাম করে কোটি টাকার উচ্চ শুল্কের বাণিজ্যিক পণ্য পাচার করেছে। এ জালিয়াতি ও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের এক রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিন জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন-বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী (৩৮), ট্রাকের চালক মো. মহসিন আলী (৩৪) ও হেলপার মো. জাহিদ হাসান (২১)।

 

রবিবার (২১ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সময়ে বিজিবির অভিযানে উদ্ধারকৃত এবং চেকপোস্ট কাস্টমসে যাত্রীদের কাছ থেকে সিজারকৃত পণ্য বেনাপোল কাস্টমস গোডাউনে রাখা হয়। সেসব মালামাল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের পাঠানোর নাম করে চুরি করে পাচারের সময় পণ্য চালানটি বেনাপোল বাজার থেকে আটক করে বিজিবি। আট জন বিজিবি সদস্যের সফল অভিযানে ঢাকা মেট্রো-ট ২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি ট্রাকবোঝাই পণ্যের চালানটি আটক করা হয়েছে।

 

বিজিবি জানায়,গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর নাম করে একটি চক্র বিপুল পরিমাণ পণ্যের একটি চালান নিয়ে বেনাপোল বাজার পার হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল দুর্গাপুর মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে একটি ট্রাক আটক করে ক্যাম্পে আনা হয়। ট্রাকে বিপুল পরিমাণ পণ্য পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত বিভিন্ন প্রকার মালামালের হিসাব ও বাজারমূল্য নির্ধারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, মালামালগুলো বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোডাউন থেকে চুরি করে পাচার করা হচ্ছিল।

 

যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, বেনাপোল বিজিবির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে কাস্টমসের এসব পণ্যবোঝাই একটি ট্রাকসহ তিন জনকে আটক করেছে। আটককৃত পণ্যের হিসাব এবং সিজারমূল্য নির্ধারণ ও আটকদের থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
কার্গো ও রপ্তানির চাহিদা মেনে কোল্ড স্টোরেজ গড়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের পরিমাণ ও কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা বিবেচনায় সিলেট প্যাকিং হাউজ কাম কোল্ড স্টোরেজের ধারণক্ষমতা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।    তিনি বলেন, পণ্য সংরক্ষণ থেকে রপ্তানি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।   শুক্রবার সিলেট প্যাকিং হাউজ কাম কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ প্রকল্পের পর্যালোচনা বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।   বৈঠকে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, কোল্ড স্টোরেজের বিভিন্ন চেম্বারের ধারণক্ষমতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের পরিমাণ এবং কার্গোতে পণ্য পরিবহনের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একটি কার্গোতে পণ্য পাঠানোর পর পরবর্তী চালানের প্রস্তুতি যাতে ব্যাহত না হয়, সে অনুযায়ী সংরক্ষণ ও পরিবহনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।   কৃষিপণ্যের অপচয় কমাতে প্যাকিং হাউজে শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের অবশিষ্টাংশ থেকে জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শও দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে অপচয় কমানোর পাশাপাশি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।   প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ, কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রকল্পের অবকাঠামো, পরিচালন ব্যবস্থা ও রপ্তানিসংক্রান্ত সুবিধা পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে।   বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জুলিয়া জেসমিন মিলিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে বাকি আরও পরীক্ষা

সাধারণ মানুষের দল বিএনপিতে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ নেই : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

খেলাধুলার মাধ্যমেই মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাঁদের যথাযথ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।   তিনি বলেন, ‘দেশের সব নাগরিকের সার্বিক মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছি।’   আগামীকাল বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে দিবসটি পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।   তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদ্যাপনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।’   এ বছরের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার অভিজ্ঞতা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নীতিনির্ধারণ ও সেবা পরিকল্পনায় তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াই এ প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা।   রাষ্ট্রপতি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সার্বিক সুস্থতা, কর্মক্ষমতা ও জীবনমানের একটি অপরিহার্য অংশ। পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক অস্থিরতা, একাকিত্ব, মাদকাসক্তি, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রতিকূলতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। তাই শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   তিনি বলেন, ‘মানসিক সুস্থতাসম্পন্ন ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে- এ প্রত্যাশা করি।’   রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সমন্বিত করার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ সেবা পৌঁছে দিতে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’   এ ছাড়া ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তে যথাযথ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   তিনি বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৯, ২০২৬

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে, হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএনসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক এএসআই সাময়িক বরখাস্ত

ফ্যামিলি কার্ড একটি সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার উদ্যোগ: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডকে কেবল বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ হিসেবে দেখলে এর ব্যাপ্তি সীমিত হয়ে যায়। বরং বিশ্বজুড়ে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার যে প্রয়োজন তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশের এই কর্মসূচি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।   ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া-প্যাসিফিক সোশ্যাল প্রোটেকশন উইক ২০২৭’-এর উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি অধিবেশনে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে। মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় আরও জোরদার করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির গুরুত্ব শুধু দেশের অভ্যন্তরে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগের তাৎপর্য রয়েছে। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সহায়তার সমন্বয় ঘটানো। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পথও অনুসন্ধান করা সম্ভব।   তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং আয়বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন। এ ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করার সুযোগ রয়েছে।   ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব পরিবার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে কর্মসূচির সমন্বয় যত বেশি কার্যকর হবে, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য অর্জনের সুযোগও তত বাড়বে।   তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে উপকারভোগীদের প্রয়োজন চিহ্নিত করা এবং তাদের কাছে যথাযথভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কর্মসূচির আওতা ও বাস্তবায়নপদ্ধতি এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে ঝুঁকিতে থাকা মানুষ বঞ্চিত না হন। এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়ক হতে পারে।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে এ খাতে দেশের উদ্যোগ ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে বৃহত্তর বৈশ্বিক সামাজিক সুরক্ষার প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করার মাধ্যমে সর্বজনীন সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।   তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয় নয়; মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সহায়তার কার্যকর সমন্বয় ঘটানোও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে উপকারভোগীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।   ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানুষের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।   ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এডিবির ‘এশিয়া-প্যাসিফিক সোশ্যাল প্রোটেকশন উইক ২০২৭’-এর উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি অধিবেশনে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে সামাজিক সুরক্ষাকে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উদ্যোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে সর্বজনীন বৈশ্বিক প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত করে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৯, ২০২৬

ই-কমার্সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডাক বিভাগকে আধুনিকায়ন করা হবে : ডাক সচিব

ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দত্তনগর কৃষি ফার্মের উন্নয়ন প্রস্তাব বিবেচনা করবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

0 Comments