অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতে এমন অনেক মহিলা আছেন যারা শূন্য থেকে শুরু করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের জোরে (Success Story)। তাদের কাহিনী মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগায়, বড় কিছু করার সাহস দেয়। এমনই একটি গল্প হল শশী সোনির। তিনি ১৯৭১ সালে মাত্র ১০,০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ‘দীপ ট্রান্সপোর্ট’ (Deep Transport) প্রতিষ্ঠা করে তার ব্যবসায়িক জীবনের সূচনা করেন। সফলভাবে এই ব্যবসাটি চালানোর কয়েক বছর পর তিনি মুম্বাইয়ে ‘দীপ মন্দির সিনেমা’ (Deep Mandir Cinema) নামের প্রেক্ষাগৃহটি চালু করে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। ধীরে ধীরে একাধিক ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন শশী সোনি। আজ তিনি কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মালিক। আসুন তার সাফল্যের কাহিনীটি (Success Story of Shashi Soni) জেনে নেওয়া যাক।
মাত্র ১০,০০০ টাকা দিয়ে দীপ ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠা করার পর ব্যবসা ভালই চলছিল। তবে শশী সোনি অন্য ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রসার করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ১৯৭৫ সালে মুম্বাইয়ের মুলুন্দ এলাকায় তৈরি করেন ‘দীপ মন্দির সিনেমা’। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্র শিল্পে শশীর ব্যবসা বেশ সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে। তবে এরপর থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে শুরু করে। তখন শশী মহীশূরে অক্সিজেন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি গ্যাস উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে তিনি প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও তার কাজ প্রসারিত করতে থাকেন।
২০০৫ সালে শশী ‘ইজমো লিমিটেড’ (IZMO Ltd) নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি শুরু করেন, যেটিকে ‘ইজমো’ ব্র্যান্ড নামে পরিচালনা করা হত। মহীশূর-ভিত্তিক এই কোম্পানিটি সারা বিশ্বে উচ্চ প্রযুক্তির অটোমোটিভ এবং ই-রিটেইলিং সার্ভিস অফার করে থাকে। বর্তমানে শশী সোনি এই সংস্থার চেয়ারপার্সন পদে দায়িত্বপালন করছেন। ২০২৪ সালে তার নেটওয়ার্থ ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে প্রায় ৪,৭০০ হাজার কোটি টাকার সমতুল্য।
তবে শুধু সফল ব্যবসায়ীই নয়, সমাজসেবী হিসেবেও শশী সোনি অনেক উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির সাথে জড়িত। তিনি ‘দীপ জনসেবা সমিতি’র বানিয়েছেন, যা কর্মসংস্থান থেকে পেনশন প্রকল্প, নারী শিক্ষা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ফান্ডিং জোগাড় করে।
ব্যবসা এবং সমাজকল্যাণ – উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে সসম্মানে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ভারত সরকারের তরফে শশী সোনিকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে তিনি ভারতীয় শিল্পে তার উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ‘ওম্যান অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও লাভ করেন। বর্তমানে শশী সোনি ‘অল ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (AIIGMA)-এর কমিটিরও একজন সদস্য। এছাড়াও তিনি ‘ডিরেক্টরেট অফ টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট’-এরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে প্রথম দিকের সেই তীব্র রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার জায়গাটি সময়ের সঙ্গে একটু স্থিতিশীল ভালোবাসায় রূপ নেয়—এটাই স্বাভাবিক। তবে দৈনন্দিন রুটিন ও একঘেয়েমি কাটিয়ে সম্পর্কের উষ্ণতা ও রোমান্স ধরে রাখা পুরোপুরি সম্ভব। সম্পর্ককে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখার কিছু কার্যকরী উপায় নিচে দেওয়া হলো- ১. নতুন অভিজ্ঞতার অংশীদার হোন শুরুর দিকে জুটিরা একসঙ্গে নতুন জায়গায় ঘুরতে যায় বা নতুন কিছু করে, যা মস্তিষ্কে ডোপামিন বা আনন্দের হরমোন বাড়ায়। কিন্তু সম্পর্ক পুরোনো হলে মানুষ একই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই মাঝেমধ্যে একসঙ্গে নতুন কোনো শখ শুরু করতে পারেন, অচেনা কোনো জায়গায় ঘুরতে যেতে পারেন কিংবা নতুন কোনো রান্না ট্রাই করতে পারেন। এই নতুন অভিজ্ঞতাগুলো সম্পর্কে আবার সেই পুরোনো উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনে। ২. ছোট ছোট কৃতজ্ঞতাবোধ ও প্রশংসা প্রকাশ দৈনন্দিন ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় প্রিয় মানুষটির ছোট ছোট কাজগুলোকে খুব স্বাভাবিক বা অবধারিত ধরে নিই। কিন্তু সঙ্গীর করা ছোট একটি সাহায্য, রান্না করা খাবার বা সুন্দর একটা কথার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো কিংবা একটু প্রশংসা করা সম্পর্ককে অনেক বেশি গভীর করে। প্রিয় মানুষের উপস্থিতি যে আপনার জীবনে কতটা অর্থবহ, তা মাঝেমধ্যে মুখে প্রকাশ করা জরুরি। ৩. প্রতিদিনের ব্যস্ততা থেকে কোয়ালিটি টাইম এক ছাদের নিচে থাকা মানেই একসঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানো নয়। সারা দিনের কাজের ফাঁকে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিন থেকে দূরে সরে অন্তত কিছুটা সময় একে অপরকে দিন। মন দিয়ে সঙ্গীর কথা শুনুন, সারা দিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন এবং নিজেদের মতো করে খোশগল্প করুন। ৪. ডেট নাইট বা একান্তে সময় কাটানোর অভ্যাস সংসার, কাজ ও দায়িত্বের ভিড়ে অনেক সময় নিজেদের রোমান্টিক সত্তাটি হারিয়ে যায়। তাই পেশাগত বা পারিবারিক ব্যস্ততার মাঝেও নিয়ম করে অন্তত সপ্তাহে বা মাসে একবার শুধু দুজনে মিলে কোথাও বাইরে ডেটে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। হতে পারে সেটা কোনো রেস্তোরাঁয় ডিনার কিংবা নিরিবিলি কোনো পার্কে কিছুক্ষণ হাঁটা। ৫. শারীরিক ও মানসিক স্পর্শের গুরুত্ব ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে শারীরিক ও আবেগপ্রবণ ছোট ছোট স্পর্শ খুব বড় ভূমিকা রাখে। হাত ধরে হাঁটা, আচমকা জড়িয়ে ধরা বা কপালে একটি আলতো চুম্বন দূরত্ব কমিয়ে মনকে কাছাকাছি আনতে জাদুকরী কাজ করে। পাশাপাশি একে অপরের মানসিক অনুভূতি ও দুর্বলতাগুলোকে বিচার না করে বোঝার চেষ্টা করা মানসিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। ৬. নিজের ব্যক্তিগত জায়গাকে সম্মান করা সম্পর্ক মানেই ২৪ ঘণ্টা একসঙ্গে থাকা বা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা নয়। সুস্থ সম্পর্কের জন্য ব্যক্তিগত স্পেস বা নিজস্ব সময়ও খুব জরুরি। নিজের বন্ধু-বান্ধবদের সময় দেওয়া, নিজের শখ বা পেশাগত কাজে মনোযোগ দেওয়া মানুষকে মানসিকভাবে সতেজ রাখে, যা প্রকারান্তরে সম্পর্ককে সুন্দর করতে সাহায্য করে।
বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট কেনায় আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের সুবিধা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট দেশের বাইরে থাকা তাদের নিজস্ব আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমেও আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে কেনা যাবে। সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এটি ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের নির্দেশনার সংশোধিত সংস্করণ। সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ ভিসা থাকা সাপেক্ষে বাংলাদেশে বসবাসকারী নাগরিকেরা বিদেশ ভ্রমণের জন্য আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে সরাসরি বিদেশি এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনতে পারবেন। আগের নিয়মে এ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রির অর্থ বাংলাদেশের কোনো অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার শর্ত ছিল। নতুন নিয়মে বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের বাইরে তাদের নিজস্ব আন্তর্জাতিক অ্যাকোয়ারিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেন করলেও আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে টিকিট কেনা যাবে। বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনাকারী ১৭টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের নিজস্ব মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহার করে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এসব বৈধ টিকিট ক্রয়ের লেনদেন শনাক্ত করবে। নতুন নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এভাবে কেনা টিকিটের খরচ কার্ডধারীর বার্ষিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কোটার বাইরে রাখা হবে। টিকিট কেনার লেনদেন যাচাই ও নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কার্ডে ব্যবহৃত অর্থের সমপরিমাণ আবার যুক্ত করতে পারবে। এ ছাড়া নির্ধারিত রিপোর্টিং পদ্ধতিতে এসব লেনদেনের তথ্য নিয়মিত বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৭ বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জাহিদুল (১৭) নামে এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটির নাম মাহিদা। সে ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মোজাম্মেল মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, জুমার নামাজের পর মাহিদাকে পানি খাওয়ানোর কথা বলে একটি ফাঁকা ঘরে নিয়ে যায় তার চাচা জাহিদুল। সেখানে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। মেয়েকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মাহিদার মা মনিরা বেগম জাহিদুলের ঘরে গিয়ে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনির হোসেন জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়রা জাহিদুলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, হত্যার অভিযোগে জাহিদুলকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।