ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর মোদেনায় এক ভয়াবহ ও আকস্মিক হামলায় অন্তত সাতজন পথচারী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার বিকেলে একটি ব্যস্ততম রাস্তায় এক চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়ে এবং পথচারীদের ওপর গাড়িটি তুলে দেয়। এখানেই শেষ নয়, গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর চালক গাড়ি থেকে নেমে হাতে ছুরি নিয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে তাড়া করতে শুরু করে।
মোদেনার মেয়র মাসিমো মেজেত্তি স্থানীয় গণমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা আনসাকে জানিয়েছেন, আনুমানিক ত্রিশ বছর বয়সী ওই চালক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফুটপাত লক্ষ্য করে গাড়ি চালিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গাড়িটি প্রথমে একটি বাইককে ধাক্কা মারে এবং এরপর এক নারীর ওপর সরাসরি আছড়ে পড়ে, যার ফলে তার দুটি পা-ই মারাত্মকভাবে পিষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত গাড়িটি একটি দোকানের কাচের তৈরি শো-রুমে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। গাড়ি থামার পরপরই চালক হাতে ছুরি নিয়ে বের হয়ে আসে এবং লোকজনকে আঘাত করার চেষ্টা করে। তবে সৌভাগ্যবশত সে কাউকে ছুরিকাহত করতে পারেনি।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই চালককে গ্রেফতার করে এবং বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
টেলিভিশন চ্যানেল রাইনিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মেজেত্তি নিশ্চিত করেছেন যে, আহত সাতজনের মধ্যে চারজনের অবস্থা খুবই গুরুতর। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শনিবার বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এমিলিয়া চেন্ট্রো নামের ওই সড়কটিতে গাড়িটি তীব্র গতিতে ধেয়ে আসে।
তিনি বলেন, আচমকা মানুষের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার শব্দ শুনে তিনি কোনোমতে মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের জীবন বাঁচান, তবে তার মাথা কেটে রক্তপাত শুরু হয়। ওই প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, চালককে দেখে কোনো স্বাভাবিক অবস্থায় আছে বলে মনে হচ্ছিল না, সম্ভবত সে মদ্যপ বা তীব্র মাদকাসক্ত ছিল। গাড়ি দুর্ঘটনার পর চালক যখন ছুরি উঁচিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল, তখন রক্তাক্ত অবস্থাতেই ওই ব্যক্তি এবং আরও কয়েকজন পথচারী সাহস করে তাকে তাড়া করেন এবং তার হাত থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে তাকে বাগে আনেন।
এই ঘটনার পর চরম সাহসিকতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেয়র মাসিমো মেজেত্তি। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই বর্বরোচিত ঘটনার পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এটি যদি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হয়ে থাকে, তবে তা আরও বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পুরো ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজ বহরে নতুন ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আন্তোনালদো নেভেস জানিয়েছেন, যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কোম্পানি ডাবল-ডিজিট সংখ্যক বড় উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে। তবে ঠিক কতটি বিমান কেনা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক এয়ারলাইন প্রধানদের এক সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী ১৫ জুনের মধ্যে ইতিহাদের ফ্লাইট পরিচালনা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া ইরানের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ভিসা না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির অভিযোগ, ওয়াশিংটন খেলাধুলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ নষ্ট করছে। খবর শাফাক নিউজের। এক বিবৃতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন এ পদক্ষেপকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের নীতিমালার পরিপন্থি। ফেডারেশনের মতে, কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করায় দলের প্রস্তুতি ও ম্যাচ পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি তারা বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে উত্থাপন করবে বলেও জানিয়েছে। তবে শুক্রবার ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের জন্য ভিসা অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দলটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে যায়। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি দেশটির বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। এরপর একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে ইরান।
তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক ও লেখক আলি আকবর দারেইনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং অঞ্চলটি একটি বৃহত্তর সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে তাহলে এই অঞ্চলের কেউ তা পারবে না। আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমনটি জানান তিনি। শনিবার (৬ মে) সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকারে আলি আকবর দারেইনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান কার্যকলাপ আমাদের একটি বৃহত্তর যুদ্ধের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তেও আমরা একটি স্বল্প মাত্রার যুদ্ধের মধ্যে আছি, ফলে এখন কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। ইরান তিনটি জিনিস চাইছে বলে জানান দারেইনি। বলেন, ‘প্রথমত, জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরে লারাক দ্বীপের উত্তর দিক থেকে প্রবেশ এবং দক্ষিণ দিক থেকে বের হওয়ার জন্য ইরানের নির্ধারিত করিডোর দিয়ে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরান যে পরিষেবা দিচ্ছে তার জন্য ট্যাক্স দিতে হবে এবং তৃতীয়ত, জাহাজগুলো এমন কোনো পণ্য বহন করতে পারবে না, যা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে অথবা দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান এই শর্তে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০টি জাহাজকে প্রণালি দিয়ে যেতে দিচ্ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে ইরান এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিক, আর একারণেই বাড়ছে উত্তেজনা।’ ইরানের সক্ষমতার বিষয়েও মন্তব্য করেন এই গবেষক। বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের লঙ্ঘনকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়ার চেয়ে ইরান তার প্রতিশোধের পরিধি বাড়াতেই বেশি পছন্দ করছে, এমনকি তা বড় আকারের যুদ্ধের দিকে গড়ালেও ইরান তা করবে। ইরানের রেড লাইন স্পষ্ট, আর তা হলো- ইরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তবে এই অঞ্চলের কেউই তা পারবে না।’