ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর মোদেনায় এক ভয়াবহ ও আকস্মিক হামলায় অন্তত সাতজন পথচারী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার বিকেলে একটি ব্যস্ততম রাস্তায় এক চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়ে এবং পথচারীদের ওপর গাড়িটি তুলে দেয়। এখানেই শেষ নয়, গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর চালক গাড়ি থেকে নেমে হাতে ছুরি নিয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে তাড়া করতে শুরু করে।
মোদেনার মেয়র মাসিমো মেজেত্তি স্থানীয় গণমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা আনসাকে জানিয়েছেন, আনুমানিক ত্রিশ বছর বয়সী ওই চালক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফুটপাত লক্ষ্য করে গাড়ি চালিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গাড়িটি প্রথমে একটি বাইককে ধাক্কা মারে এবং এরপর এক নারীর ওপর সরাসরি আছড়ে পড়ে, যার ফলে তার দুটি পা-ই মারাত্মকভাবে পিষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত গাড়িটি একটি দোকানের কাচের তৈরি শো-রুমে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। গাড়ি থামার পরপরই চালক হাতে ছুরি নিয়ে বের হয়ে আসে এবং লোকজনকে আঘাত করার চেষ্টা করে। তবে সৌভাগ্যবশত সে কাউকে ছুরিকাহত করতে পারেনি।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই চালককে গ্রেফতার করে এবং বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
টেলিভিশন চ্যানেল রাইনিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মেজেত্তি নিশ্চিত করেছেন যে, আহত সাতজনের মধ্যে চারজনের অবস্থা খুবই গুরুতর। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শনিবার বিকেলের ব্যস্ত সময়ে এমিলিয়া চেন্ট্রো নামের ওই সড়কটিতে গাড়িটি তীব্র গতিতে ধেয়ে আসে।
তিনি বলেন, আচমকা মানুষের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার শব্দ শুনে তিনি কোনোমতে মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের জীবন বাঁচান, তবে তার মাথা কেটে রক্তপাত শুরু হয়। ওই প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, চালককে দেখে কোনো স্বাভাবিক অবস্থায় আছে বলে মনে হচ্ছিল না, সম্ভবত সে মদ্যপ বা তীব্র মাদকাসক্ত ছিল। গাড়ি দুর্ঘটনার পর চালক যখন ছুরি উঁচিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল, তখন রক্তাক্ত অবস্থাতেই ওই ব্যক্তি এবং আরও কয়েকজন পথচারী সাহস করে তাকে তাড়া করেন এবং তার হাত থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে তাকে বাগে আনেন।
এই ঘটনার পর চরম সাহসিকতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেয়র মাসিমো মেজেত্তি। তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই বর্বরোচিত ঘটনার পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এটি যদি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হয়ে থাকে, তবে তা আরও বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পুরো ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আট দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন এক ব্যক্তি। দীর্ঘ ও জটিল উদ্ধার অভিযানের পর নিরাপত্তারক্ষী হার্নান গিলকে জীবিত বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। ২৪ জুন আঘাত হানা যমজ ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়ার পর প্রায় ১৪০ টন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন গিল। পাঁচ দিনের বেশি সময় আগে তার অবস্থান শনাক্ত করা গেলেও বিপুল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিরাপদে তাকে বের করতে আরও কয়েক দিন লেগে যায়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এক চিলিয়ান দমকলকর্মী বলেন, এটি তার কর্মজীবনের সবচেয়ে জটিল ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি। কোস্টারিকার রেড ক্রসের প্যারামেডিক অ্যালান মাদ্রিগাল জানান, রোববার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে গিলের ক্ষীণ কণ্ঠে সাহায্যের আবেদন শুনতে পান তিনি। প্রথমে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে সহকর্মীও একই শব্দ শুনলে নিশ্চিত হন যে ধ্বংসস্তূপের নিচে একজন জীবিত রয়েছেন। এরপরই শুরু হয় তাকে উদ্ধারের প্রাণান্তকর চেষ্টা। জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় রাজধানীর কাছে কাতিয়া লা মার এলাকার গালেরিয়াস প্লায়া গ্রান্দে শপিংমলের পাশের পার্কিং এলাকার বেজমেন্টে একটি ছোট কংক্রিটের নিরাপত্তা বুথে দায়িত্ব পালন করছিলেন গিল। ধসের সময় বুথটি তার চারপাশে এক ধরনের সুরক্ষাবলয় তৈরি করায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্য, গিল জানিয়েছেন তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত লাগেনি। ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকাকালে তাকে পানি সরবরাহ করা হয় এবং শিরায় স্যালাইনও দেওয়া হয়। ভেনেজুয়েলা, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদর, মেক্সিকো, পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে এ অভিযানে অংশ নেয়। উদ্ধারকাজের সময় তৈরি করা প্রবেশপথ কয়েকবার ধসে পড়ায় অভিযান আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অবশেষে ছোট একটি ক্যামেরার মাধ্যমে গিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে তাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়। ২৪ জুনের ওই যমজ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বেঁধে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে দলটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১ জুলাই) সকালে স্টেশন বাজার এলাকায় স্থানীয়রা মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিটি কালো কাপড় বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কংগ্রেস পরিচালিত কাটোয়া পৌরসভা মূর্তিটি স্থাপন করেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কালো কাপড় সরিয়ে ফেলে। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কাটোয়ার মহকুমা শাসক রীনা ঘোষ জানান, মূর্তির ওপর স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে এক গৃহহীন ব্যক্তি মূর্তিটির মুখ ও হাতে কালো কাপড় বেঁধে দেন। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কাটোয়ার সাবেক বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, যারা এ কাজ করেছে তারা দেশবিরোধী। তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপির সহসভাপতি অনিল দত্তও ঘটনাটিকে জঘন্য উল্লেখ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আহ্বান জানান। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির মুখে কালো কাপড় বেঁধে তাঁর আদর্শ বা নীতিকে মুছে ফেলা যাবে না। তাঁর ভাষায়, গান্ধী শুধু ভারতের নয়, সারা বিশ্বের পথপ্রদর্শক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা আসলে গান্ধীর আদর্শকে ভয় পায়। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। এতে বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে সাগাইং অঞ্চলে জান্তাবিরোধী দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। চলমান সহিংসতার মধ্যে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ মিয়ানমার ছেড়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। রাখাইনের বুথিডং উপজেলায় যুদ্ধবিমান থেকে শহরের আশপাশের গ্রামগুলোতে একের পর এক বোমা হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করেছে জান্তা বাহিনী। এতে বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাগাইং অঞ্চলের মোনিওয়া শহরে জান্তাবিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজি) অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্সের (পিএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পিএসএফের কয়েকটি ক্যাম্পে পিডিএফের আকস্মিক অভিযানের পর এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। চলমান সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং জান্তা সরকারের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়াতে দেশ ছাড়ছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমারের নাগরিক প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন। নিরাপত্তা সংকট, জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থাই এই দেশত্যাগের প্রধান কারণ। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বর্তমানে এশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি এবং প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে দেশটিতে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন, যার প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও।