চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার প্রশাসনিক সদর ভৌগোলিকভাবে উপযুক্ত ও জনসেবাবান্ধব স্থানে নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা ফেনী-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার হেয়াঁকো এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাদের হাতে দাবি-সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন ছিল। বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণ করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে ফেনী-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হেয়াঁকো এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নবগঠিত উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত এবং বাস্তব পরিস্থিতিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রাসেল আহমদ ভূঁইয়া বলেন, অতীতেও উত্তরাঞ্চলের মানুষের দাবি উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এবারও যদি একইভাবে ভূজপুরে সদর দপ্তর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
পরে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দিনের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে কর্মসূচি পালন করছেন। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। এ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ৬ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে বিষয়টি শুনানির জন্য ৬ জুলাই তারিখ ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এদিকে, সুনির্দিষ্ট কোনো মামলায় সম্পৃক্ততা ছাড়া তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার না দেখানো এবং হয়রানি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়ে গত ১৭ মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় গত ১২ মে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। পরে তার আইনজীবীরা দাবি করেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরবর্তীতে, গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিনের পর তাকে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় ৩০ জুন হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন স্থগিতের আবেদন করলে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন। এর আগে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা পাঁচ মামলাসহ মোট আটটি মামলায় তার জামিন বহাল রয়েছে। এর মধ্যেই বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) পরিদর্শন করবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ঢামেক পরিদর্শনে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ক্যান্সার আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার লক্ষ্যে ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহ করা হয়েছে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়বে এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ভ্যাকসিন, রি-এজেন্ট ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে দ্রুত মোবাইল হাসপাতাল চালুর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
‘স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি ২০২৫-২৬ এবং কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) গাজীপুরস্থ মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ব্রির মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আফসারী খানমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. রাশিদা ফেরদৌস। কর্মশালায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) মির্জা আশফাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. আমিনুল ইসলাম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও ব্রির ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো. আনোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধে তিনি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি ২০২৬-২৭ সালের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। প্রকল্প পরিচালক জানান, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে তিনটি নতুন ধানের জাত ব্রি ধান১১৬, ব্রি ধান১১৭ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান১০ উদ্ভাবন ও অবমুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ত এবং জলাবদ্ধ জমিতে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন করে ১০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতাধীন প্রযুক্তি গ্রামগুলো কৃষকদের জন্য প্রদর্শনী প্লট, প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং গবেষণা-সম্প্রসারণ সংযোগ শক্তিশালী করার একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। প্রযুক্তি গ্রামগুলোতে আউশ, আমন এবং বোরো মৌসুমে রাইস গার্ডেন স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষক গবেষক সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়েছে, যা কৃষকের আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের গতি আরও ত্বরান্বিত করছে। মূল প্রবন্ধের ওপর উন্মুক্ত আলোচনা অধিবেশন পরিচালনা করেন ব্রির মহাপরিচালক আফসারী খানম। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের অর্জন, চলমান কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের কার্যক্রম সময়মতো ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েও আলোচনা করা হয়। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক ও ব্রির হাইব্রিড রাইস বিভাগের সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার ড. আফছানা আনছারী। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. রাশিদা ফেরদৌস বলেন, ‘এলএসটিডি প্রকল্পের অর্জিত স্থানভিত্তিক গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তি কৃষকপর্যায়ে প্রসারের মাধ্যমে ধানের লাভজনক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের অর্জনসমূহ ভবিষ্যৎ গবেষণা পরিকল্পনা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষি উন্নয়ন নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও কার্যকর সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হবে।’ এসময় প্রকল্পের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার আহ্বান জানান তিনি। কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে ব্রির মহাপরিচালক আফসারী খানম এলএসটিডি প্রকল্পের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পের মাধ্যমে ধানের স্থানীয় জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং কৃষকদের মাঝে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’ তিনি প্রকল্প যথাসময়ে শেষ করা এবং যে উদ্দেশ্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল তা সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্মশালায় ব্রি প্রধান কার্যালয়, আঞ্চলিক কার্যালয় এবং স্যাটেলাইট স্টেশনে কর্মরত বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা, নার্সভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী, কৃষক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক কার্যালয় ও স্যাটেলাইট স্টেশনগুলো স্থানীয় পরিবেশ, মাটি ও জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যমান গবেষণা অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং দেশের বিভিন্ন কৃষি-প্রতিবেশগত অঞ্চলের উপযোগী স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ব্রির গবেষণা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। প্রকল্পটির মেয়াদ জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৮ পর্যন্ত।