ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের প্রবণতা অনুযায়ী, বিজেপি অনেকটা এগিয়ে।
প্রাথমিক ফলাফলে বিজেপি এগিয়ে ১৬৮ আসনে। আর তৃণমূল ১১৩ আসনে।
এদিকে আসামে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৯৪ আসনে। আর তৃণমূল এগিয়ে আছে ২৪ আসনে।
সোমবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়েছে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তাই আজ ২৯৩ আসনে ভোট গণনা চলছে। কলকাতাসহ ২৩ জেলায় স্থাপিত ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে এই ভোট গণনা শুরু হয়।
প্রথমে গণনা করা হচ্ছে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। এরপর গণনা করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নেওয়া ভোট।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘অনুরোধ’ করেছিলেন। এই বক্তব্যকে মেলোনি ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। শুক্রবার (১৯ জুন) মেলোনি বলেন, তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যে বিস্মিত এবং তার কথা সম্পূর্ণ বানোয়াট। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের প্রতি তিনি যতটা নমনীয়, দীর্ঘদিনের মিত্রদের ক্ষেত্রে ততটা নন। ট্রাম্পের মন্তব্যে ইতালির সরকারেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের গুরুতর ও অপমানজনক মন্তব্য পুরো ইতালিকেই অপমান করেছে। এই নতুন বাকযুদ্ধ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন জি–৭ সম্মেলনের পর দুই নেতার সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের ভিডিওতে দেখা যায়, মেলোনি ও ট্রাম্প একটি ছোট সোফায় পাশাপাশি বসে গভীরভাবে কথা বলছেন। কিন্তু পরে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি কেবল সৌজন্যবশত তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে ‘অনুকম্পা’ করেছেন। ইতালীয় টিভি চ্যানেল লা৭-কে দেয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘সে (মেলোনি) সম্ভবত খুশি যে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমাকে কথা বলতেই হতো না।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘সে আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিল… আমি মায়া দেখিয়ে ছবি তুলেছি।’ তবে চ্যানেলটি মূল অডিও প্রকাশ করেনি, শুধু ডাব করা সংস্করণ প্রচার করেছে। এর জবাবে মেলোনি এক কঠোর বিবৃতিতে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া। আমি সত্যিই বিস্মিত। আমি বুঝতে পারি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন; এটা প্রথমবার নয়।’ মেলোনি আরও বলেন, ‘এটা হতাশাজনক যে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের প্রতি বেশি নমনীয়তা দেখান, অথচ তাদের নেতাদের সঙ্গে অনেক বেশি সহনশীল আচরণ করেন। একটি বিষয় তিনি মনে রাখবেন: আমি বা ইতালি—কেউই কখনো ভিক্ষা করি না।’ এই মন্তব্যের পর ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্সে (সাবেক টুইটার) ঘোষণা দিয়ে জানান, ট্রাম্পের ‘গুরুতর ও অপমানজনক’ বক্তব্যের প্রতিবাদে তার যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এবার উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির দিকে মনোযোগ দিতে চান বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। শুক্রবার (১৯ জুন) জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে লি জে মিয়ং বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে জানিয়েছেন যে ‘উত্তর কোরিয়া ইস্যুর প্রতি মনোযোগ দেওয়ার সময় এসে গেছে।’ খবর আল জাজিরার। লি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হচ্ছে না। তিনি পিয়ংইয়ং ও মস্কোর ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘রাশিয়ার সামান্য সহায়তাও উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় ধরনের উপকার।’ সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তায় তিনি সৈন্য ও গোলাবারুদ পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি তিনি পিয়ংইয়ংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানান। এর আগে বেইজিংয়ে শি জিনপিং ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছিলেন। তবে উত্তর কোরিয়া ও চীনের সরকারি বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বেইজিংয়ের নীরব সমর্থনের ইঙ্গিত হতে পারে। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। সে সময় তিনি এক পর্যায়ে বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ‘ভালো সম্পর্ক’ গড়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি অর্জনে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। গত বছর এশিয়া সফরের সময় ট্রাম্প আবারও কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসতে ‘শতভাগ প্রস্তুত’ বলে জানান। তবে সেই প্রস্তাবের কোনো জবাব দেয়নি পিয়ংইয়ং। এদিকে সম্প্রতি ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে ‘পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র’ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া গত রোববার তিনি ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে সমালোচনা করায় ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের কট্টরপন্থী মন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করছেন না।’ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সমালোচনার বাইরে রাখলেও তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগতভাবেও আক্রমণ করেছেন।’ ভ্যান্স আরও বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থানে রয়েছেন। আর তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশের নেতা।’ ইসরায়েলি মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হতাম, তাহলে আমার একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করতাম না।’ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, গত তিন মাসে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের দুই-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়েছে এবং সেগুলোর অর্থ জুগিয়েছেন মার্কিন করদাতারা। তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, ইরানের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের কিছু কট্টরপন্থী নেতার মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতি নিজের সমর্থনের বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে তার নির্ধারিত সফর স্থগিত করেছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার একটি দফায় নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। এর আগে ভ্যান্স ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি নতুন আলোচনার সময়কাল শুরু হয়েছে।