জাতীয়

পরামর্শক ও শিক্ষকতা থেকে বছরে ১৬ লাখ টাকা আয় নাহিদ ইসলামের

Unknown জানুয়ারী ০১, ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। পরামর্শক ও শিক্ষক হিসেবে কাজ করে এই আয় করেন তিনি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে তার আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে।


ঢাকা-১১ সংসদীয় আসন—খিলগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের একাংশ—থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাহিদ ইসলাম। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, নিজের নামে কোনো বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি বা গাড়ি নেই। অর্থাৎ তার কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই। তবে তার অস্থাবর সম্পদের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলামের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ২৬ লাখ ৫ হাজার ৩৬৩ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে জমা আছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা। এছাড়া তার কাছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার গয়না, ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।


নাহিদ ইসলামের স্ত্রীর নামেও অস্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে হলফনামায়। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১২ লাখ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ রয়েছে ২ লাখ টাকা এবং গয়না রয়েছে ১০ লাখ টাকার।
পেশাগত তথ্যের ঘরে নাহিদ ইসলাম নিজেকে পরামর্শক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা করেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষকতা বা পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। হলফনামায় পেশা উল্লেখ করাই বাধ্যতামূলক হওয়ায় বিস্তারিত বিবরণ সেখানে নেই। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (সম্মান)।
ঋণের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তার নিজের নামে কোনো ঋণ নেই। তবে তার স্ত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন।
আয়কর সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলাম তার সর্বশেষ আয়কর রিটার্নে ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৫৮ টাকা আয় দেখিয়েছেন। এই আয়ের বিপরীতে তিনি ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। আয়কর রিটার্নে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা।


হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নাহিদ ইসলামের বয়স ২৭ বছর। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ সমন্বয়কদের একজন ছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্র প্রতিনিধিরূপে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন নাহিদ ইসলাম।


পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের তিন দিনের মাথায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, হলফনামার তথ্য অনুযায়ী নাহিদ ইসলামের আয় তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণও খুব বেশি নয়, যা চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ব্যতিক্রমী হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় ৩৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, তদন্তে পুলিশ

কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম চত্বরে অবস্থিত ৩৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোররাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ঘটনার পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শোনা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে জেলা এনসিপির নেতারাও সেখানে যান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।   কুষ্টিয়া জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, “এটি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোষীদের শনাক্ত করতে হবে।”   কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও বিভাগীয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বৈঠকের পর স্বাভাবিক ঢামেক হাসপাতাল, মন্ত্রণালয়ে হচ্ছে পরবর্তী আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিসেফ-ডব্লিউএইচও: বাংলাদেশে কমছে শুধু মাতৃদুগ্ধ পানের হার

ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী হত্যা মামলায় ১২ বছর পর স্বামীর খালাস

ছবি: সংগৃহীত
ফারাক্কা ও জলবায়ুর প্রভাবে পদ্মায় কমছে ইলিশ, শঙ্কায় রাজশাহীর জেলেরা

পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ ও গভীরতা কমে যাওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলে ইলিশের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন গবেষক ও মৎস্য বিশেষজ্ঞরা।   রাজশাহী জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় মোট ৫ দশমিক ৩৭ টন ইলিশ ধরা পড়ে। অথচ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে একই এলাকায় ইলিশ আহরণ ছিল ২৮ দশমিক ৫৫ টন। এরপর থেকেই উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে।   গবেষকদের মতে, পদ্মায় পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় নদীর গভীরতা হ্রাস পেয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে চর ও বালুর আধিক্য বেড়েছে। এতে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শামস মুহা. গালিব জানান, গোদাগাড়ী থেকে সারদা পর্যন্ত পদ্মার প্রায় ৭০ কিলোমিটার অংশে পরিচালিত গবেষণায় মাছের বহু দেশি প্রজাতির অস্তিত্ব সংকটের চিত্র উঠে এসেছে।   একই বিভাগের অধ্যাপক ইয়ামিন হোসাইন বলেন, অতীতে বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ রাজশাহী হয়ে ভারতের ভাগলপুর পর্যন্ত যেত। ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর উজানে ইলিশের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।   রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পদ্মায় এখন ছোট আকারের কিছু ইলিশ ও অন্যান্য দেশি মাছ পাওয়া যায়। অবৈধ জাল ব্যবহার রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে বেকারি মালিক আটক, মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

আগৈলঝাড়ায় ক্রসফায়ারে ছাত্রদল নেতাসহ দুই হত্যা: ট্রাইব্যুনালে পুলিশের দুই কর্মকর্তার সাক্ষ্য

ছবি: সংগৃহীত

২৭ আগস্ট শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

ছবি: সংগৃহীত
বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতির প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।   সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়েও কর্মস্থলে যোগ দেননি তারা। পরে নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   বিভাগীয় মামলায় তাদের বিরুদ্ধে বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তারা জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।   তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। এরপর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাতেও তারা কোনো জবাব দেননি।   তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের গুরুত্ব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়।   পরবর্তীতে সরকারি কর্ম কমিশন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়। এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।   স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নথিতে পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড অনুমোদনের প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   উল্লেখ্য, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং পূর্ববর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দমনপীড়নের ঘটনায় তাকে এই অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।   গোলাম রুহানী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ে ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় (ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী) ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসনে অনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করার নানাবিধ অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন।   ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতা হত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে।   রাজন কুমার দাস ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সুনামগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে নির্বিচারে বলপ্রয়োগ ও গুলির নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আন্দোলন চলাকালীন সুনামগঞ্জ শহরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ এবং শর্টগানের গুলি চালানোর ঘটনায় মাঠ পর্যায়ে তিনি অন্যতম নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   বরখাস্ত হতে যাওয়া পঞ্চম কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তার একটি বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন।   ভিডিওতে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার...।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

একক কোম্পানি নয়, সবার জন্য জ্বালানি তেলের ব্যবসা উন্মুক্ত করতে চায় সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

একমি ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন তাসনিম সিনহা

ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

'র' প্রধানের বাংলাদেশ সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: তথ্য উপদেষ্টা

0 Comments