তুরস্ক ২০টি কান ব্লক-১০ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের শেষের দিকে এগুলো তুর্কি বিমানবাহিনীতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (তুসাস) কর্তৃক তৈরি এই যুদ্ধবিমানটি একটি দ্বৈত ইঞ্জিনের পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট, যা ম্যাক ১. ৮ গতিবেগে ছুটতে সক্ষম। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা ৫৫,০০০ ফুট এবং সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন ৩৪,৭৫০ কেজি।
তুরস্ক তার নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান 'কান'-এর জন্য একটি চূড়ান্ত ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার অধীনে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০টি বিমান তুর্কি বিমানবাহিনীকে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এই চুক্তিটি ব্লক-১০ কনফিগারেশনের ২০টি বিমানের জন্য করা হয়েছে। 'উলু সাভুনমা'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম বিমানটি ২০২৮ সালে সরবরাহ করা হবে এবং পুরো ব্যাচটি ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 'ব্লক-১০' হলো প্রাথমিক উৎপাদনের একটি মানদণ্ড—এটি এমন একটি প্রাথমিক কনফিগারেশন যা সাধারণত আরও উন্নত ভ্যারিয়েন্ট বা ব্লকের আগে আসে। এই পরবর্তী ব্লকগুলোতে আরও সক্ষম সিস্টেম, উন্নত অস্ত্র সংহতি এবং সফটওয়্যার আপগ্রেড যুক্ত থাকে।
তুরস্ক যখন তাদের প্রথম ধাপের উৎপাদন নিশ্চিত করছে, তখন সমান্তরালভাবে আরও উন্নত সক্ষমতাসম্পন্ন পরবর্তী ব্লকগুলোর উন্নয়ন কাজও চালিয়ে যাচ্ছে।
'কান' তৈরি করেছে তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (তুসাস)। এর মাধ্যমে তুরস্ক সেই স্বল্পসংখ্যক দেশের তালিকায় নাম লেখাল, যারা নিজস্ব শিল্পভিত্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণভাবে একটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নকশা, উন্নয়ন এবং উৎপাদন করতে সক্ষম। এটি একটি দ্বৈত ইঞ্জিনের, নিম্ন-দৃশ্যমান মাল্টিরোল প্ল্যাটফর্ম, যা আকাশপথে আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে গভীর আক্রমণ পর্যন্ত সব ধরণের মিশনের জন্য উপযুক্ত।
বিমানটির শারীরিক কাঠামো এটিকে বৃহৎ ও শক্তিশালী ফাইটার জেটের সারিতে দাঁড় করিয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ২০.৩ মিটার, উইংসপ্যান (পাখার বিস্তার) ১৩.৪ মিটার এবং উচ্চতা ৫ মিটার।
কানের দুটি আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন প্রয়োজনীয় 'থ্রাস্ট-টু-ওয়েট' রেশিও প্রদান করে, যা বিমানটিকে ম্যাক ১.৮ গতিতে উড়তে এবং ৫৫,০০০ ফুট উচ্চতায় কার্যকর থাকতে সাহায্য করে।
তুসাস 'কান'-এর নকশায় কেবল গতি বা উচ্চতা নয়, বরং আরও অনেক আধুনিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করেছে। লো অবজারভেবিলিটি বা রাডারের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এর নকশার মূল ভিত্তি। এছাড়া আফটারবার্নার ছাড়াই সুপারসনিক গতিতে ওড়ার ক্ষমতা, উচ্চতর কৌশল প্রদর্শনের ক্ষমতা এবং বর্ধিত অপারেশনাল রেঞ্জ এর অন্যতম লক্ষ্য। এর অ্যাভিওনিক্স আর্কিটেকচারে রয়েছে সেন্সর ফিউশন, উন্নত ডেটালিংক কানেক্টিভিটি এবং প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্রের সমন্বয়।
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ফলে তুরস্ককে আমেরিকার এফ-৩৫ প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি তুরস্ককে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে আরও গতিশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'কান'-এর প্রথম প্রোটোটাইপ সফলভাবে উড্ডয়ন করে।
ইঞ্জিনের বিষয়টি এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্লক ১০ বিমানগুলোতে জেনারেল ইলেকট্রিক এফ১১০ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে (যা এফ+১৬ বিমানেও ব্যবহৃত হয়)। তবে তুরস্ক ভবিষ্যতে নিজস্ব ইঞ্জিন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে বিদেশি নির্ভরতা পুরোপুরি দূর করা যায়।
২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সরবরাহ শুরু হলে তুরস্কের পুরনো এফ-১৬ বিমানগুলো অবসরে যাওয়ার সময় একটি শক্তিশালী বিকল্প তৈরি হবে। যদিও ২০টি বিমান একটি বড় বিমানবাহিনীর তুলনায় খুব বেশি নয়, তবে এটি নতুন এই প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো—যেমন পাইলট প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী এবং গ্রাউন্ড সাপোর্ট সিস্টেম তৈরির জন্য যথেষ্ট।
তথ্যসূত্র: ডিফেন্স ব্লগ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত দেশটির আটটি জেলা থেকে ৩৩২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বিষয়টি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে ২৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মৃতের সংখ্যা আরও ৪৩ জন বেড়েছে। বুধবার সকালে উজান থেকে হঠাৎ নেমে আসা প্রবল ঢলে রাসুয়া এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। ত্রিশূলি ও নারায়ণী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ভোটেকোশি নদীতেও পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। প্রবল স্রোতে নদীর আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকেও মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে। নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতও এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল। উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তৎপর রয়েছে। দুর্গম অঞ্চল ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
ইরান ও দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে চীনের বৈধ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বেইজিং। চীনের সঙ্গে ইরানের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের আওতাভুক্ত এবং তাতে তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে মনে করে দেশটি। ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। বিশেষ করে দেশটির তেল রপ্তানির একটি বড় অংশ চীনে যায়। ফলে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হলে চীনা ব্যবসা ও জ্বালানি আমদানির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় চীন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা না বাড়িয়ে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়; বরং এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত পারাসেল দ্বীপপুঞ্জের একটি ছোট দ্বীপে নতুন স্থাপনা নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এগুলো সম্ভবত রাডার বা আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে চীনের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াগং দ্বীপে নতুন নির্মাণকাজের চিত্র স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর জানায়, সর্বশেষ ছবি তোলা হয়েছে ১৭ আগস্ট। অন্যান্য ছবিতে দেখা গেছে, নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল মার্চ ও এপ্রিলের দিকে। ইয়াগং দ্বীপটি অ্যান্টিলোপ রিফের মাত্র ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। অ্যান্টিলোপ রিফে চীন এরই মধ্যে বড় ধরনের নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, সেখানে নির্মাণকাজের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ কৃত্রিম দ্বীপটির এক পাশে ৩ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সরল উপকূল তৈরি হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ভবিষ্যতে সেখানে রানওয়ে তৈরি করা হতে পারে। ইয়াগং দ্বীপের নতুন স্থাপনাগুলোর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ভ্যান্টরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, স্থাপনাগুলোর আকৃতি দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যান্য এলাকায় থাকা সামরিক রাডার ও আগাম সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে। তাই এগুলো অ্যান্টিলোপ রিফের সম্ভাব্য সামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক কলিন কোহও মনে করেন, এটি সম্ভবত একটি রাডার স্টেশন। তবে ছোট পরিসরের কারণে এটি স্বতন্ত্র কোনো পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। দক্ষিণ চীন সাগর পর্যবেক্ষণকারী ওপেন সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষক ড্যামিয়েন সাইমনও রাডার স্থাপনার সম্ভাবনার কথা বলেছেন, যদিও এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো খুব তাড়াতাড়ি হবে বলে সতর্ক করেছেন। চীন অবশ্য সেখানে নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কথা স্বীকার করেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, অ্যান্টিলোপ রিফের স্থাপনাগুলো আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হবে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এসব নির্মাণকাজের মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ১৯৭৪ সালে সাবেক দক্ষিণ ভিয়েতনামের নৌবাহিনীর কাছ থেকে পারাসেল দ্বীপপুঞ্জ দখল করে চীন। ভিয়েতনাম এখনো পুরো দ্বীপপুঞ্জের ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে। দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও আশপাশের জলসীমা নিয়েও ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ব্রুনেইয়ের দাবি রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স