তুরস্ক ২০টি কান ব্লক-১০ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের শেষের দিকে এগুলো তুর্কি বিমানবাহিনীতে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (তুসাস) কর্তৃক তৈরি এই যুদ্ধবিমানটি একটি দ্বৈত ইঞ্জিনের পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট, যা ম্যাক ১. ৮ গতিবেগে ছুটতে সক্ষম। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা ৫৫,০০০ ফুট এবং সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন ৩৪,৭৫০ কেজি।
তুরস্ক তার নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান 'কান'-এর জন্য একটি চূড়ান্ত ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার অধীনে ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০টি বিমান তুর্কি বিমানবাহিনীকে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এই চুক্তিটি ব্লক-১০ কনফিগারেশনের ২০টি বিমানের জন্য করা হয়েছে। 'উলু সাভুনমা'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম বিমানটি ২০২৮ সালে সরবরাহ করা হবে এবং পুরো ব্যাচটি ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে। 'ব্লক-১০' হলো প্রাথমিক উৎপাদনের একটি মানদণ্ড—এটি এমন একটি প্রাথমিক কনফিগারেশন যা সাধারণত আরও উন্নত ভ্যারিয়েন্ট বা ব্লকের আগে আসে। এই পরবর্তী ব্লকগুলোতে আরও সক্ষম সিস্টেম, উন্নত অস্ত্র সংহতি এবং সফটওয়্যার আপগ্রেড যুক্ত থাকে।
তুরস্ক যখন তাদের প্রথম ধাপের উৎপাদন নিশ্চিত করছে, তখন সমান্তরালভাবে আরও উন্নত সক্ষমতাসম্পন্ন পরবর্তী ব্লকগুলোর উন্নয়ন কাজও চালিয়ে যাচ্ছে।
'কান' তৈরি করেছে তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (তুসাস)। এর মাধ্যমে তুরস্ক সেই স্বল্পসংখ্যক দেশের তালিকায় নাম লেখাল, যারা নিজস্ব শিল্পভিত্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণভাবে একটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নকশা, উন্নয়ন এবং উৎপাদন করতে সক্ষম। এটি একটি দ্বৈত ইঞ্জিনের, নিম্ন-দৃশ্যমান মাল্টিরোল প্ল্যাটফর্ম, যা আকাশপথে আধিপত্য বিস্তার থেকে শুরু করে গভীর আক্রমণ পর্যন্ত সব ধরণের মিশনের জন্য উপযুক্ত।
বিমানটির শারীরিক কাঠামো এটিকে বৃহৎ ও শক্তিশালী ফাইটার জেটের সারিতে দাঁড় করিয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ২০.৩ মিটার, উইংসপ্যান (পাখার বিস্তার) ১৩.৪ মিটার এবং উচ্চতা ৫ মিটার।
কানের দুটি আফটারবার্নিং টার্বোফ্যান ইঞ্জিন প্রয়োজনীয় 'থ্রাস্ট-টু-ওয়েট' রেশিও প্রদান করে, যা বিমানটিকে ম্যাক ১.৮ গতিতে উড়তে এবং ৫৫,০০০ ফুট উচ্চতায় কার্যকর থাকতে সাহায্য করে।
তুসাস 'কান'-এর নকশায় কেবল গতি বা উচ্চতা নয়, বরং আরও অনেক আধুনিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করেছে। লো অবজারভেবিলিটি বা রাডারের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এর নকশার মূল ভিত্তি। এছাড়া আফটারবার্নার ছাড়াই সুপারসনিক গতিতে ওড়ার ক্ষমতা, উচ্চতর কৌশল প্রদর্শনের ক্ষমতা এবং বর্ধিত অপারেশনাল রেঞ্জ এর অন্যতম লক্ষ্য। এর অ্যাভিওনিক্স আর্কিটেকচারে রয়েছে সেন্সর ফিউশন, উন্নত ডেটালিংক কানেক্টিভিটি এবং প্রিসিশন-গাইডেড অস্ত্রের সমন্বয়।
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ফলে তুরস্ককে আমেরিকার এফ-৩৫ প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি তুরস্ককে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে আরও গতিশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'কান'-এর প্রথম প্রোটোটাইপ সফলভাবে উড্ডয়ন করে।
ইঞ্জিনের বিষয়টি এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্লক ১০ বিমানগুলোতে জেনারেল ইলেকট্রিক এফ১১০ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে (যা এফ+১৬ বিমানেও ব্যবহৃত হয়)। তবে তুরস্ক ভবিষ্যতে নিজস্ব ইঞ্জিন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে যাতে বিদেশি নির্ভরতা পুরোপুরি দূর করা যায়।
২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সরবরাহ শুরু হলে তুরস্কের পুরনো এফ-১৬ বিমানগুলো অবসরে যাওয়ার সময় একটি শক্তিশালী বিকল্প তৈরি হবে। যদিও ২০টি বিমান একটি বড় বিমানবাহিনীর তুলনায় খুব বেশি নয়, তবে এটি নতুন এই প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো—যেমন পাইলট প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী এবং গ্রাউন্ড সাপোর্ট সিস্টেম তৈরির জন্য যথেষ্ট।
তথ্যসূত্র: ডিফেন্স ব্লগ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লেবানন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর ইসরায়েলের কয়েকটি এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠার পর বিমানবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। পরে লেবানন থেকে ছোড়া দুটি প্রজেক্টাইল ইসরায়েলি আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ‘পারিবারিক কলহের জেরে’ এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে সন্দেহভাজনসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ‘ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো’ মাস্কাটিন শহরের দুটি বাড়ি ও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর এনডিটিভির। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা কিছুক্ষণ পরই একটি পথচারী সেতুর কাছে আত্মঘাতী গুলির আঘাতে আহত ম্যাকফারল্যান্ডকে খুঁজে পান। পুলিশ কর্মকর্তা ও প্যারামেডিক কর্মীরা তাকে চিকিৎসাসেবা দেন, কিন্তু ঘটনাস্থলে তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। তদন্ত এগোনোর মধ্যেই কর্মকর্তারা পরবর্তীতে মিল স্ট্রিটের অন্য একটি বাড়ির ভেতর থেকে আরেক ব্যক্তিকে খুঁজে পান, যিনি দৃশ্যত গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন। আরও তল্লাশির পর কর্মকর্তারা গ্র্যান্ডভিউ অ্যাভিনিউয়ের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছান, যেখানে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরেক ব্যক্তিকে মৃত পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে এই গুলির ঘটনা একটি পারিবারিক বিবাদের জের ধরে ঘটেছে, কারণ ভুক্তভোগী সকলেই সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিবারের সদস্য ছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলছাড়া কোনো চুক্তি গ্রহণ করা হবে না। রোববার (৩১ মে) ইরানের পার্লামেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুনর্নির্বাচিত স্পিকার হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গালিবাফ বলেন, কোনো আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতির ওপর ইরান ভরসা করবে না। তিনি বলেন, ‘শত্রুর কথা ও প্রতিশ্রুতির ওপর কোনো আস্থা নেই।’ তার মতে, ইরানের একমাত্র মানদণ্ড হলো—নিজেদের কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগে চুক্তি থেকে বাস্তব, যাচাইযোগ্য এবং কার্যকর ফল পাওয়া নিশ্চিত করা। এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও অনাস্থারই প্রতিফলন। দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে নানা বিষয়ে উত্তেজনা ও মতবিরোধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে ‘আস্থা নেই’ গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণভাবে ফলাফলনির্ভর। তিনি বলেন, ‘আমরা পালটা কোনো প্রতিশ্রুতি পূরণের আগে বাস্তব ফলাফল অর্জন করাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখি।’ তিনি আরও জানান, ইরানের ঘোষিত শর্তগুলো পূরণ হয়েছে—এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান কোনো চুক্তির পথে এগোবে না। এতে বোঝা যায়, আলোচনার ক্ষেত্রে দেশটি এখন আরও সতর্ক ও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ইরানের আলোচক দল তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতেও ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের এই অবস্থান দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং প্রয়োজন হলে জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতিও তাদের রয়েছে। এমন সময়ে এই বক্তব্য এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরোক্ষ। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।