সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। তালেবান কর্তৃপক্ষ বলছে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। তবে পাকিস্তান দাবি করেছে, তাদের বাহিনীও তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ‘তীব্র সংঘর্ষ’ শুরু হয়।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, পাকিস্তানের সামরিক মহলের ‘পুনঃপুন উসকানি ও সীমান্ত লঙ্ঘনের’ জবাবে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান ও স্থাপনায় ব্যাপক আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করা হয়েছে।
২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।
আফগান সামরিক একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, সংঘর্ষে ১০ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং ১৩টি চৌকি দখল করা হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন সেক্টরে তালেবান বাহিনীর গুলির জবাবে পাকিস্তানি সেনারা ‘তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া’ দিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররাম ও বাজাউর সেক্টরে তালেবান বাহিনীকে ‘শাস্তি’ দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে আফগান পক্ষের ব্যাপক হতাহতের তথ্য পাওয়া গেছে এবং একাধিক চৌকি ও সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
তবে ১০ সেনা নিহত হওয়ার আফগান দাবির বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তান সরকারের এক মুখপাত্র এক্সে লিখেছেন, কোনো পোস্ট দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রও আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ‘উসকানিবিহীন তালেবান আগ্রাসনের’ জবাবে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তজুড়ে আফগান বাহিনীর ওপর ‘তীব্র আক্রমণ’শুরু করা হয়েছে।
পৃথক এক সূত্র জানায়, পাকিস্তানের পাল্টা গোলাবর্ষণে লক্ষ্যবস্তু তিনটি স্থান থেকে কয়েকজন আফগান সেনা পালিয়ে যায়।
এর আগে রোববার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালিয়ে অন্তত ৭০ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করে। তবে আফগানিস্তান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। গত অক্টোবরে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে উভয়পক্ষে ৭০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর থেকে স্থলবন্দরগুলো অধিকাংশ সময় বন্ধ রয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আফগানিস্তান ব্যর্থ হচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান প্রকাশ্যে নাকচ করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। দুই দেশই জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনর খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং ইরান ইস্যুতে একটি বড় আঞ্চলিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কয়েকটি মুসলিম দেশকে ‘আব্রাহাম চুক্তি’-তে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তালিকায় ছিল সৌদি আরব, পাকিস্তান, কাতার, মিশর, জর্ডান ও তুরস্কের নাম। তবে সৌদি আরব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি নির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই অবস্থান তারা যুক্তরাষ্ট্রকেও পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো চুক্তিতে দেশটি যাবে না। ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থান বহুদিন ধরেই স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খাজা আসিফ আরও বলেন, পাকিস্তানের পাসপোর্টে ইসরায়েলের নাম পর্যন্ত নেই এবং দেশটি এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ‘আব্রাহাম চুক্তি’ সম্প্রসারণের চেষ্টা চালালেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ‘আব্রাহাম চুক্তি’ হলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ। ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন প্রথম এই চুক্তিতে যোগ দেয়। পরে মরক্কো ও সুদানও একই পথে হাঁটে।
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এ হামলায় আরও প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, টায়ার ও মারজাইউন জেলার কয়েকটি আবাসিক এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েল। বুর্জ আল-শেমালি, হাব্বুশ, মারাকেহ, সেলা ও কাওতারিয়াত আল-রুজসহ একাধিক শহর ও গ্রাম লক্ষ্য করে এসব হামলা হয়। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে বুর্জ আল-শেমালিতে। সেখানে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু ও তিন নারী রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। এ ছাড়া কাওতারিয়াত আল-রুজে পাঁচজন, হাব্বুশে চারজন এবং মারাকেহ এলাকায় ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল আবাসিক এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করেই অভিযান চালাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলের সীমান্তবর্তী আল-টিনা শহরে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সরকারি কর্মকর্তারা। আরব নিউজের মঙ্গলবার (২৬ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি জানান, আল-টিনা বাজারে খাবার ও চা বিক্রি করা নারীদের একটি জমায়েতকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। একজন সরকারি কর্মকর্তাও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হতাহতের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে কাজ চলছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান সংঘাতে দেশটিতে বহু বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে বাজারগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটছে। এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, মৃতের সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি হতে পারে। দারফুর অঞ্চলের আল-টিনা শহরটি চলতি বছরজুড়ে আরএসএফের নিয়মিত হামলার মুখে রয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটিতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি। এ কারণে হাজারো মানুষ ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।